Saturday, March 21, 2020

রঙ রুট (৯)
সুচেতনা

গাড়ি চলছে। অরিজিৎ সিংয়ের গানও সমান তালে চলছে। বেশিরভাগ গানই বড্ড দুঃখের। এবং বিরহের। শুভঙ্করের সেইসব পছন্দ হচ্ছে না। ওরা যখন শিলিগুড়ি ঢুকছে, শুভঙ্কর বললো, "বস, খিদে পেয়েছে খুব। ভালো দেখে কোনো ধাবায় থামিয়ো তো। গরমাগরম আলুর পরোটা খেতে ইচ্ছে করছে। সাথে চাই ধূমায়িত এক কাপ চা। ক্লাসিক দার্জিলিং টি। আর হ্যাঁ তারপর মুড সেরা হয়ে যাবে। তখন প্লিজ গাড়িতে অন্য গান দিয়ো। কিছু আনন্দের গান। বা ডান্স মিক্স। এইসব বিরহ টিরহ অনেক হলো। আর না। ভাই, তুমি এই এইটুকু ছেলে, এখনই কীসের এত বিরহ বলো তো? আর এই যে এই ম্যাডাম। উনি মুখে বলছেন না বটে, তবে আমি জানি। ওঁরও মোটেই পছন্দ হচ্ছে না গানটা।" এতক্ষণ অবধি ঠিকই চলছিল সব। জাহ্নবী শুনে মাথা নেড়ে সায় দিচ্ছিল। খিদে তো ওরও পেয়েছে। এবং কে জানে কেন, এই যাত্রাপথে ধবার ধারে খেতে গেলে আলু বা পনির পরোটা পেলে একেবারে দিলখুশ হয়ে যায়। তবে গানের ব্যাপারে যেই ওর নাম এসে গেল, ব্যস। রেরে করে উঠলো ও। বললো, "এ কী, না না। আমার মোটেই অপছন্দ না। অরিজিৎ সিংকে খুবই ভালো লাগে। মস্ত মগন গানটা শুনেছেন? ওইটা আমার অল টাইম ফেভারিট।" শুভঙ্কর হতাশ হয়ে মাথা নেড়ে বললো, "ধুর ধুর। দাঁড়ান, খেয়ে আসি। দেখবেন, আমার কাছে একটা সেরা প্লেলিস্ট আছে। ওইটা চালাবো। তখন বলবেন। বন্ধুমহলে আমার মিউজিকের টেস্ট বেশ সুখ্যাত ও বিখ্যাত।" এরপর আর কথা বাড়ানোর মানে হয় না। ওরা ধাবা দেখে গাড়ি থেকে নামে।
খাওয়াটা ছিল জম্পেশ। পুরু মাখন মাখানো পরোটা। সাথে চা। অবশ্য দার্জিলিং চা বোধহয় না। ছিল দুধ চা। খেতে খেতে শুভঙ্কর অনেক গল্প বলতে লাগল। ওর বেড়ানোর নেশার কথা, বিভিন্ন বয়সে বন্ধুদের সাথে নানান দুষ্টুমি, স্কুল কলেজের মজার মজার সব কীর্তি। একেকটা শুনতে শুনতে তো জাহ্নবী প্রায় হেসে কুটিপাটি যাওয়ার জোগাড়। সত্যিই, শুভঙ্কর ভারী মজার মজার কথা বলে।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে ওরা গাড়িতে ফেরে। শুভঙ্কর জাহ্নবীকে বলে, "আমি বন্ধুমহলে বাচাল বলে পরিচিত। দেখছি ব্যাপারটা ইউনিভার্সাল। আপনিও গোটা সময়টা চুপ করে আমার বকবকের অত্যাচার শুনে গেলেন। নিজের কথা কিছুই বললেন না।" জাহ্নবী হেসে উত্তর দিলো, "বাবাঃ, বন্ধুমহলে আপনি তো খুবই বিখ্যাত দেখছি। গানের টেস্ট, বাচাল, কত ব্যাপারে আপনার খ্যাতি!" শুভঙ্কর বললো, "চাটুন চাটুন। এই চাট খেতেও আমি বিখ্যাত। তা বন্ধুত্ব যখন, এক তরফ থেকে সব গল্প করলে ব্যাপারটা কেমন ইনকমপ্লিট হয় না? তাই আর কী। আপনার সম্পর্কে কিছুই তো বললেন না।" জাহ্নবী বললো, "ভয় পাচ্ছেন? ভাবছেন, এ কার পাল্লায় পড়লাম? ডাকাত নয় তো?" শুভঙ্কর ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো, "আই বেগ টু ডিফার। এমন সুন্দরী ও সফিস্টিকেটেড ডাকাত, আমাদের দেশে অসম্ভব।" কথাটা শুনে জাহ্নবী হো হো করে হেসে উত্তর দিলো, "এবার কি শুনবো যে বন্ধুমহলে আপনার ফ্লার্টিং স্কিলসও বিখ্যাত?" শুভঙ্করও হাসি না চেপেই বললো, "দিন দিন। প্যাঁক দিন। আমি শুধু আপনার কথা শুনতে চাইছিলাম। আপনি মানুষটা কেমন, কেমন সব অভিজ্ঞতা আপনার।" জাহ্নবী জবাব দিলো, "আমি খুব বোরিং ও সাধারণ একটি মেয়ে। দিল্লীতে থাকি, মায়ের সাথে। চাকরি করি। গান শুনি। বই পড়ি। সিনেমা কম দেখি। ব্যস। এর চেয়ে বেশি আর কিচ্ছু নেই। আমার লাইফে কোনো ইন্টারেস্টিং বা হ্যাপেনিং ঘটনাই নেই।" শুভঙ্কর বলে, "তাই বুঝি? তা বেশ তো। লেটস মেক দিস ট্রিপ হ্যাপেনিং!" জাহ্নবী হাসে। জানলার বাইরে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। খানিকটা যাওয়ার পর মুখ না ফিরিয়েই বলে, "শুভ, তুমি যে বলছিলে তোমার গানের স্টক ভালো। কই? আমরা শুনবো না?"
শুভঙ্কর জাহ্নবীর দিকে ফিরে তাকায়। অদ্ভুত এক হাসি। যুদ্ধজয়ের? কে জানে। উত্তরে কিছু না বলে নিজের ব্যাগ থেকে পেনড্রাইভ বের করে। অরিজিৎকে সেটা ধরিয়ে দিয়ে বলে, সেকেন্ড ফোল্ডারটা চালাও বস। ম্যাডাম পরীক্ষা নেবে বলছে।"
গাড়ি এগিয়ে চলে। স্টিরিও প্লেয়ারে বাজতে থাকে "মুসাফির হু ইয়ারো। না ঘর হ্যায়, না ঠিকানা।" জাহ্নবীর পছন্দ হয়েছে গান। বেশ পছন্দ। মাথা নেড়ে তাল দিতে থাকে গানে।

(ক্রমশ)

Friday, March 20, 2020

রঙ রুট ৮
সুচেতনা

চালকের নাম অরিজিৎ। বয়স ওই একুশ। ডিগ্রি কলেজে পড়ে। সাথে প্রয়োজন মতো হোম স্টের হয়ে গাড়িও চালিয়ে দেয়। আসলে হোম স্টের চালক ওর বাবা, সুরজিৎ। তবে বর্তমানে উনি মালিকের সাথে কোনো কাজে গৌহাটি গিয়েছেন। তাই অরিজিতের দায়িত্ব পড়েছে জাহ্নবী আর শুভঙ্করকে নিয়ে আসার। এইসব কথাই এক নাগাড়ে ও নিজেই বললো জাহ্নবীকে। জাহ্নবীও খুশি মনেই শুনলো। নিজের নামের সাথে মিল অরিজিৎ সিংএর। অরিজিৎ নিজেও গান ভালোবাসে। তাই জাহ্নবী গাড়িতে উঠতেই মিউজিক প্লেয়ারে চালিয়ে দিলো বেস্ট অফ অরিজিৎ। হালকা খিদে পেয়েছে। তাই জাহ্নবী হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটা চকোলেটের বার বার করে নিজেও নিলো দুটো টুকরো, অরিজিৎকেও দিলো।
অরিজিৎ হাসি মুখে "থ্যাংক ইউ দিদি" বলে সাগ্রহে তা গ্রহণ করলো। ইতিমধ্যেই নিজের লাগেজ নিয়ে হাজির শুভঙ্কর।
অরিজিতের সাথে করমর্দন করে বলল,"কী ভাই অরিজিৎ, ডিকিটা খুলে দাও। সুটকেস রাখি।" জাহ্নবী মুখ তুলে জানলার বাইরে তাকিয়ে দেখলো শুভঙ্করকে। একটা হলুদ সাদা শর্ট ঝুলের চেক শার্ট , নীল জিন্স আর উডল্যান্ডসের জুতো। চোখে নীলচে কেতাদুরস্ত সানগ্লাস। দেখলেই কেমন একটা বিদেশ ফেরত মনে হয়।
জাহ্নবী হাসিমুখে শুভঙ্করকে চকোলেট এগিয়ে দিয়ে বলল, "নিন। যাত্রার শুরুতেই মিষ্টি মুখ। যাত্রা শুভ হবে।"
শুভঙ্কর ততক্ষণে গাড়ির সামনের সিটের দরজা খুলে  উঠতে যাচ্ছে, চকলেটটা নিয়ে মুখে পুরে উত্তর দিলো, "সে ম্যাডাম, আমার নামেই শুভ। যাত্রা তো শুভ হবেই। দ্যাট রিমাইন্ডস, আপনিও আমাকে শুভ বলেই ডাকতে পারেন। অনেক বেশি ইনফরম্যাল হবে। আফটার অল, বেশ কিছুদিনের ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপার যখন, খুব বেশি ফরম্যালিটি বজায় রাখলে বেশ মুশকিল।"
জাহ্নবী কয়েক সেকেন্ড ভাবলো। তারপর অরিজিতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "অরিজিৎ, এই দাদা কিন্তু রাত্রে এয়ারপোর্টে ঘুমাননি। ভোরের ফ্লাইটেও না। কাজেই জার্নিতে ঘুমিয়ে পড়ার হাই চান্সেস। তাহলে তো তোমার পাশে সামনের সিটে বসা উচিত না। বলো?"
অরিজিৎ ব্যাপারটা ভালো বুঝলো না। একটু বোকা বোকা হাসি হেসে বললো, "সে কোনো প্রব্লেম না দিদি।"
জাহ্নবী বললো, "উঁহু। তোমার প্রাণের মায়া না থাক। আমার আছে। আমি ছাড়া আমার মায়ের আর কেউ নেই। কাজেই আমার প্রাণের মূল্য আছে। পাহাড়ি রাস্তায় তাই নো রিস্ক। শুভঙ্কর বাবু, আপনি বরং ব্যাগটা সামনের সিটে রেখে এই পিছনে এসে বসুন আমার এখানে। আমি অত মোটাও নই। আর ইনোভার স্পেস বেশ ভালোই। জায়গা হয়ে যাবে। আরামসে।"
শুভঙ্কর বুঝি এই আমন্ত্রণের অপেক্ষাতেই ছিল। তড়িঘড়ি পিছনের সিটে বসে বেজায় খুশি মনে বলল, "এইবার যাত্রা সত্যিই শুভ হবে। চলো অরিজিৎ, চলো।"
অরিজিৎ গাড়িতে স্টার্ট দেয়। গাড়ি গুটিগুটি পায়ে এগোতে থাকে এয়ারপোর্ট থেকে, দার্জিলিংয়ের পথে।
জাহ্নবী জানলার বাইরে চেয়ে দেখে। একটা নতুন সকাল। নরম আলো। নিজের আচরণে নিজেই আশ্চর্য, কিন্তু খুব আনন্দ হয় ওর। ব্যাগ খুলে ডায়রি বের করে ঝটপট লিখে রাখে মনের কথা, ভাব। আজ মনে হয় দিনটা বেশ ভালোই যাবে ওর।

(ক্রমশ)

Wednesday, March 18, 2020

রঙ রুট (৭)
সুচেতনা


III


বাগডোগরা এয়ারপোর্টের লাগেজ ক্যারুজেল থেকে নিজের সুটকেসটা নিয়ে বেরোনোর উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো জাহ্নবী। ভাগ্যিস ওরটা আগে এসেছে, নইলে আবার ওই শুভঙ্করের সাথে কথা বলতে হতো। বাপ রে, কীভাবে যে দিল্লী এয়ারপোর্টে বাকিটা সময় ওকে অ্যাভোয়েড করে কাটিয়েছে জাহ্নবী, তা ওইই জানে। তারপর কপাল ভালো, প্লেনেও দূরে দূরে সীট পড়েছিল। কলকাতা এয়ারপোর্টে ঘুমের কারণ দেখিয়ে সময় কাটিয়েছে। আসলে শুধু শুভঙ্কর বলেই না, জাহ্নবী যে কোনো অচেনা মানুষ, বা অনেক সময় চেনা মানুষের সাথেও খুব একটা ভালো করে মিশতে বা কথা বলতে পছন্দ করে না। অস্বস্তি হয়। একটা অদ্ভুত বাজে অনুভূতি হয়। ও চায় এই ব্যাপারটা এড়াতে, এই ভয়কে জয় করতে। এই নিয়ে তাই ও ওর কাউন্সেলর, ডক্টর আস্থানার সাথে বেশ অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছে। ডক্টর ওকে নানান টোটকা দিচ্ছেন, কিন্তু জাহ্নবী পারছে না। যেমন, ওর খুব ইচ্ছে ছিল, কলকাতা এয়ারপোর্টে বসে গল্প করবে শুভঙ্করের সাথে। সেই জন্য নিজে থেকে আগ্রহ দেখিয়ে শুভঙ্করের পাশে বসেছিল, নিজের স্যান্ডউইচ অফার পর্যন্ত করেছিল, কিন্তু তারপর ওই, যেই শুভঙ্কর একটু হেসে আড্ডা জুড়তে বসেছে, অমনি কী যে হলো। বুকের ভিতর ধড়পাকড়, হাত পা ঘামতে থাকা। কোনমতে ঘুমের অজুহাত দেখিয়ে কানে ইয়ারফোন গুঁজে চোখ বন্ধ করে ছিল।
জাহ্নবী অনেক পড়াশোনা করেছে এই নিয়ে ইন্টারনেটে। জেনেছে যে এই সমস্যা ওর একার নয়। এই সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতেই পারে। যেহেতু সিঙ্গল পেরেন্টের কাছে মানুষ, সেটাও কোন কারণ হয়তো হতেই পারে। তবে জাহ্নবী এও জানে যে চেষ্টা করলেই এই ভয়টাকে কাটানো যায়। ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কাটাবেই। থেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী বাগডোগ্রার ফ্লাইটে বসে ও সাথে রাখা নোটবইতে এই ঘটনা, মানসিক টালমাটাল অবস্থা, সমস্তটা লিখে রেখেছে। লিখলে নাকি উপকার হয়। অনেক বেশি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা যায়। শেষের কলামে ও লিখেছে, কী করে এই অবস্থা কাটাবে? না, বাগডোগ্রা থেকে দার্জিলিং, এই রাস্তাটা ও শুভঙ্করের সাথে একদম স্বাভাবিকভাবেই কাটাবে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে, গল্প করবে, ওর কথা শুনবে। ভয় ও পাবে না। এম্নিও এক গাড়িতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। সন্দীপের সাথে কাল কথা বলে জেনে গিয়েছে। হোম স্টের নিজস্ব গাড়ি একটাই আপাতত। তাই দুই গেস্টের জন্যই একি ব্যবস্থা। সন্দীপ খুব করে ক্ষমা চেয়েছে জাহ্নবীর কাছে। প্রথমে ভয়ানক রেগে থাকলেও পরে জাহ্নবী বুঝেছে, এ ছাড়া সত্যিই আর কোনো উপায় ছিল না। ও নিজে সন্দীপের জায়গায় থাকলেও হয়তো একই কাজ করত। অগত্যা...
মোবাইল বের করে ও সন্দীপকে ফোন করে জানালো। সন্দীপ উত্তরে বলে দিলো যে গাড়ি এয়ারপোর্টের বাইরেই রয়েছে। ও ড্রাইভারকে জানিয়ে দিচ্ছে সামনে চলে আসতে। জাহ্নবী যেন গাড়িতে অপেক্ষা করে। জয় মা, জয় মা মনে মনে বলে জাহ্নবী এগোলো। WB21J2305 গাড়ির নম্বর। গাঢ় লাল ইনোভা। দরজা খুলে ওর লাগেজ ডিকিতে রেখে এক গাল হাসি মেখে নমস্কার জানালো এক কিশোর। পরনে জিন্স ও রঙ বেরঙের টিশার্ট। "নমস্কার দিদি। আপনি বসুন গারিতে। দাদা আসছেন। আমার সাথে ফোনে কথা হয়ে গিয়েছে।"
চালকের হাসিটি বড্ড মিষ্টি। কিছু কিছু মানুষ হয় না, যাদের দেখলেই ভালো লাগে? এও মনে হয় সেইরকম। জাহ্নবী খুশি হয়।




(ক্রমশ)
‍‍

Tuesday, March 17, 2020

রঙ রুট (৬)
সুচেতনা

জাহ্নবী একটু অবাক হয়েই এদিক ওদিক তাকালো, তারপর বলল, "সে বসলে বসুন।" যুবকটি স্মিত হেসে "ধন্যবাদ" বলে চেয়ারটা টেনে বসলো। জাহ্নবী নিজের কফির কাপে মনোযোগ দিল। সবে এক চুমুক কফি মুখে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে এই আগন্তুকের "আমি শুভঙ্কর" গলার স্বরে জাহ্নবী চমকে, বিষম খেয়ে একাকার। সে কী কাশি, চোখ মুখ লাল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। আগন্তুক রীতিমত অপ্রস্তুত। নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে জাহ্নবীকে জল অফার করে বলল, "আই অ্যাম সরি। আমি বুঝতে পারিনি আসলে যে এরকম রিঅ্যাক্ট করবেন আপনি।"
জাহ্নবী মনে মনে অত্যন্ত লজ্জিত বোধ করে। এ বাবা, কী যে সব কাণ্ড কারখানা বাধিয়ে ফেলে ও, না চাইতেই। ছি ছি, উনি কী ভাবলেন। কতটা লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়ালো গোটা মুহূর্তটা।
জাহ্নবী অন্তর্মুখী মেয়ে। আর তাই তখন লাউঞ্জে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলার ভয়ে কফিশপে এলো। আর এখানেই এসেও এই। কী যে করবে, ভেবে পায় না। কফি এখনো পড়ে আছে কাপে। বেশ খানিকটা। এখন এখান থেকে উঠেও যাওয়া যায় না। খুবই খারাপ দেখায়। কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, "না না। ইটস ওকে। আই অ্যাম অলরাইট। আপনি ব্যস্ত হবেন না। আর হ্যাঁ, আমিও সরি। এরকম হলো বলে। আসলে আমি অন্যমনস্ক ছিলাম কিছুটা। তাই আর কী..." জাহ্নবীকে থামিয়ে দিয়ে আগন্তুক বলে, "ও ঠিক আছে। যাক সেসব মিটে গেলো। লেটস স্টার্ট অ্যাফ্রেশ?" জাহ্নবী আর কীই বা বলে, নিরুপায় হয়েই বলল,"ইয়েস অফ কোর্স। ওকে।" আগন্তুক নিজের ডান হাতটা জাহ্নবীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, "হাই, আমি শুভঙ্কর।" জাহ্নবী নিজের ডান হাতটা একটু কিন্তু কিন্তু করেই এগিয়ে দিয়ে উত্তরে জানালো, "আমি জাহ্নবী।"
কয়েক সেকেন্ডের হ্যান্ডসেক। তারপর জাহ্নবীই নিজে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিল। এইবারে আর শুভঙ্কর ভুল করেনি। অপেক্ষা করল জাহ্নবীর কফিটা ঢোঁক গেলা অব্ধি, তারপর বলল, "সরি, তখন আপনার কথা ওভারহিয়ার করে ফেললাম। তবে নেহাতই কোয়েন্সিডেন্স, তাই নিজেকে সামলাতে না পেরে আলাপ করব ভাবলাম। তার মধ্যেই দেখি আপনি লাউঞ্জ থেকে কফিশপের দিকে চলে এলেন। অগত্যা..."
"অগত্যা, আপনিও আমার পিছু পিছু এলেন, তাই তো?" জাহ্নবী নিজের মনেই বলল কথাগুলো। অবশ্য সামনাসামনি শুধুই হাসি। উঁহু, অস্বস্তি হচ্ছে। কী আবার কোয়েন্সিডেন্স?
শুভঙ্কর জাহ্নবীর কৌতূহলের উত্তর দিল সঙ্গে সঙ্গে। বলল, "আপনি তো হ্যাপি হিল হোম স্টেতে যাচ্ছেন? আমিও। ইন ফ্যাক্ট আমাদের সেম শিডিউল। আমাদের দুজনেরই সেম ত্র্যাল আইটিনারি।"
জাহ্নবী অবাক। এ যে দেখি কোয়েন্সিডেন্সেরও বড় ব্যাপার। বলে কী? লোকজনের ফ্লাইট এক হয়, এ দেখি গন্তব্য পর্যন্ত এক।
শুভঙ্কর বোধহয় মুখের ভাব ভালোই পরতে জানে। জাহ্নবীর মুখ দেখে এইবারে হেসে বলল, "আসলে এই হোম স্টেটার ওনার আমার বন্ধু অভি। ওই বলেছিল আমায় যে একই দিনে আপনিও ট্র্যাভেল করছেন। তখনো আমার ফ্লাইট টিকিট কাটা ছিল না। তাই একই ফ্লাইটের টিকিট কাটতে জানায় আমায়। যাতে একই সাথে ওরা পিক-আপ করতে আসতে পারে।"
জাহ্নবী কিন্তু এই কথা শুনে বেশ বিরক্ত হলো। এ কেমন হোম স্টে, মানলাম না হয় ওদের ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্টে সুবিধে হবে। কিন্তু তাই বলে ওকে না জিজ্ঞেস করে এরকম ওর ট্র্যাভেল শিডিউল জানিয়ে দিল? এবং ওর সাথে কথা না বলেই একই সাথে ট্র্যাভেল প্ল্যান পর্যন্ত? দিস ইস সো নট ডান। এর একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে। সন্দীপের সাথে কথা বলতেই হবে। ঢকঢক করে কফিটা শেষ করে, শুভঙ্করের সাথে আর একটি কথাও না বলে, হতভম্ব শুভঙ্করকে কফিশপে ফেলে নিজের লাগেজ নিয়ে গটগট করে এগিয়ে গেল, এয়ারপোর্টের নির্ধারিত ডিপারচার গেটের দিকে।
শুভঙ্কর ঘড়ি দেখল। বোর্ডিং শুরু হতে এখনো মিনিট কুড়ি বাকি। ও হতবাক। এই মেয়েটা এত কথায় কথায় পালিয়ে যায় কেন?
ধুর, এই ভেবে নিজেও তাড়াতাড়ি নিজের কাপ থেকে চা শেষ করে উঠতে যাবে, তাড়াহুড়োয় পড়ে থাকা চা চলকে পড়লো জিন্সে। ধ্যাত্তেরিকা।

(ক্রমশ)
রঙ রুট (৫)
সুচেতনা

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটা এক্ষুণি জানালো, ডিলেয়েড। পরিবর্তিত সময় রাত নটা। জাহ্নবীর অবশ্য অসুবিধে নেই এতে। এমনিতেও ওকে রাত্রে কলকাতা এয়ারপোর্টেই সময় কাটাতে হতো। এখন না হয় সেটা একটু কমলো। মোবাইলটা ব্যাগ থেকে বের করে সুভদ্রাকে জানিয়ে দিল ও। তারপর ওর ফ্লাইটের নির্দিষ্ট গেটের কাছে, লাউঞ্জের এক কোণে একটা খালি চেয়ার পেয়ে গুছিয়ে বসলো। হাতে অনেকটাই সময়। গতবারের দিল্লী বইমেলা থেকে মায়ের কিনে দেওয়া "সেই সময়" উপন্যাসটা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে। যদিও ওজন বেশ ভালোই, তবুও, পড়তে পড়তে একটা নেশা লেগে যায়, ছাড়তেই ইচ্ছে করেনা। তাই সেটিই সঙ্গে এনেছে। এখন হাতে যা সময়, অন্তত ঘন্টা দুইয়েক ও পড়তে পারবে, নিশ্চিন্তে।
বই পড়ছে জাহ্নবী। ইতিমধ্যে কখন যে ওর পাশের মানুষটি উঠে চলে গিয়েছেন, খেয়াল করেনি ও। সম্বিৎ ফিরল মোবাইলের আওয়াজে। স্ক্রিনে নাম লেখা সন্দীপের। সন্দীপ হ্যাপি হিল হোম স্টের ম্যানেজার। বুকিং, গাড়ি, সব ওই তদারকি করেছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে জাহ্নবী ফোনটা রিসিভ করলো। সন্দীপ গাড়ির নম্বর, ফ্লাইটের ডিটেলস এইসব আরো একবার কনফার্ম করতেই ফোন করেছিল। জাহ্নবী সমস্ত ডিটেল জানালো। এবং সাথে কথায় কথায় দিল্লী কলকাতা ফ্লাইটের ডিলের কথাও জানালো। কথা বলতে বলতেই নজরে এলো, উল্টোদিকে এক যুবক। ওরই দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এই রে, জাহ্নবী কি একটু বেশি জোরেই কথা বলে ফেললো? যাঃ, এই এক সমস্যা ওর। কথা বলতে বলতে এমনই বিভোর হয়ে যায় যে স্থান কাল পাত্র বজায় রাখতেই হিমশিম খেয়ে যায়।
একটু সঙ্কুচিত হয়েই ফোনটা ছেড়ে জাহ্নবী উঠে দাঁড়ায়। উঁহু, একটু দূরে গিয়েই বসবে না হয়। ফ্লাইটের তো দেরি আছে এখনো। বোর্ডিং শুরু হতে আরো আধ ঘন্টা। একটু কফি খেয়ে এলে হয় না? মায়ের দেওয়া স্যান্ডউইচ এখনো খোলেনি। ওটা কলকাতা এয়ারপোর্টের জন্য তোলা রইলো। কেক খেয়েছে অবশ্য। মায়ের স্পেশাল ক্যারোট কেক। বেশ ভারীও। তাই খিদে বিশেষ নেই। একটু কফিই তাই আপাতত যথেষ্ট। প্লেনে উঠলেই তো ডিনার দেবেই। এদিক ওদিক দেখতে দেখতে একটা কফি শপ নজরে পড়লো। ব্যাকপ্যাকটা পিঠে আর ক্যামেরার ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে জাহ্নবী এগোলো সেদিকে। কাউন্টারে টাকা দিয়ে একটা ক্যাপুচিনো অর্ডার করে ও বসল। দোকানে ভিড় তেমন নেই। অন্তত বসার জায়গায়। সবাই প্রায় ওই আসছে, কফি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দোকানদার কফির কাপটা রেখে গেলেন। জাহ্নবী চিনির প্যাকেটটা ছিঁড়ে ফেলছে, এমন সময় কানে এলো, "হাই। আমি কি এখানে বসতে পারি?"
হঠাৎ করেই বাংলা শুনে জাহ্নবী চমকে উঠলো। মাথা তুলে দেখে, সামনে দাঁড়িয়ে লাউঞ্জের সেই ছেলেটি।

(ক্রমশ)

Sunday, March 15, 2020

রঙ রুট (৪)
সুচেতনা

II

জাহ্নবী আজ হাফ ডে নিয়েছে অফিসে। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় ওর ফ্লাইট। দিল্লী থেকে বাগডোগরা ডাইরেক্ট ফ্লাইট পায়নি। তাই এক রাত্তির কলকাতায় থেকে, সোজা পরেরদিন সক্কাল সক্কাল গন্তব্য। বাগডোগরাতে গাড়ি বলা আছে। হোম স্টে থেকেই পাঠিয়ে দেবে। তাই চিন্তার বা অসুবিধের কোনো ব্যাপার নেই। তবুও, দেশের যা অবস্থা, যা দিনকাল পড়েছে, সুভদ্রা নিশ্চিন্ত হতেই পারেন না। বারবার মনে কুডাক ডাকে, মেয়েকে যেতে এই যে অনুমতি দিলেন, এটা ঠিক করলেন কি আদৌ? পরে আফসোস হবে না তো? মায়ের মন। অথচ মেয়েকে বলতেও দ্বিধা করছেন। যদি জাহ্নবী রাগ করে? কিছু যদি বলে?
মেয়ের জন্য স্যান্ডউইচ আর কেকের টুকরো প্যাক করতে করতে বারবার সুভদ্রার চোখ চলে যাচ্ছে বড় ঘড়িটার দিকে। তিনটে সাড়ে তিনটে নাগাদ ও বেরোবে। আর মোটে কয়েকটা ঘন্টা। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, এরই মধ্যে নিতে হবে। আলমারি থেকে টিফিন বাক্স বের করতে গিয়ে একবার থমকে দাঁড়ালেন। কী মনে হতে সোজা চলে গেলেন মেয়ের ঘরে। জাহ্নবী তখন আলমারি খুলে কী কাপড় জামা পরে যাবে আজ, তা খোঁজাখুঁজি করছে। মাকে দেখে বললো, "মা, ওভারনাইট তো এয়ারপোর্টে বসে থাকতে হবে। ঠান্ডা পাবো, বলো? তাহলে বরং আমি সোয়েটশার্ট পরেই যাই। কী বলো?" সুভদ্রা মাথা নেড়ে খানিক তাকিয়ে থাকেন। তারপর বেরিয়ে যায়। কিছু বলতে পারেন না। আবার মিনিট দশেক পর ফিরে যান জাহ্নবীর ঘরে। প্রশ্ন করেন, "বাবু, গরম জামা ঠিক করে নিয়েছিস তো? সোয়েটার? মাফলার?" জাহ্নবী মাকে আশ্বস্ত করে। সব নিয়েছে ও। এক্কেবারে লিস্ট মিলিয়ে প্যাক করেছে সে। সুভদ্রা আবার ফিরে যান ডাইনিং হলে। কেকের টুকরোগুলো বক্সে ভরে, তা হাতে নিয়েই চলে আসেন আবার। মেয়ের ঘরে ফেরত। জাহ্নবী মুখ তুলে প্রশ্ন করে, "কী হলো?" সুভদ্রা একটু ইতস্তত করে বলেন, "শোন মা, ওখানে কিন্তু বৃষ্টি হয় হঠাৎ হঠাৎ। মোজা ভিজে যেতে পারে। নিয়েছিস সঙ্গে এক্সট্রা মোজা?" জাহ্নবী মায়ের হাত ধরে এনে বসায় নিজের খাটে। নিজে হাঁটু গেড়ে বসে সামনে। তারপর মায়ের দুটো হাত নিজের নরম দুই হাতের ভিতর শক্ত করে ধরে বলে, "তোমার কী হয়েছে বলো তো মা? সামথিং ইস বদারিং ইউ, না?" সুভদ্রা এবার কাঁদো কাঁদো হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, "আমার তোকে নিয়ে খুব টেনশন হয় রে মা। তোর যদি কিছু হয়ে যায়... আমার তো কেউই নেই আর মা। সেই জন্যই..."
"বুঝেছি। সেই জন্যই তুমি বারবার আষ্টেপৃষ্টে আমার কাছে থাকার জন্য নানান অজুহাতে ঘরে আসছো। তাই তো?"
সুভদ্রা উত্তরে চুপ থাকেন।
জাহ্নবী বলল, "মা, দেখো। আমি তোমার জাহ্নবী যমুনা হলেও বিগলিত করুণা নই। আমি তোমার ট্রেনিংয়ে শক্তপোক্ত মেয়ে। নিজের যত্ন, নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে পারি। তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, আই উইল বি সেফ। কিন্তু তবুও, যদি তুমি চাও, তাহলে আমি যাবো না। নাথিং এট দ্য কস্ট অফ ইয়োর হ্যাপিনেস মা।"
সুভদ্রা ভেবে পান না কী বলবেন। নিজের ভয়ের জন্য মেয়ের এই আনন্দে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন? হতেই পারে না। নাঃ। ভয়কে জয় করতে হবেই। জাহ্নবী তাঁর মেয়ে। তাঁরই মতো লড়াকু। ভয় পেলে চলবে না।
হাসিমুখে সুভদ্রা এগিয়ে গেলেন ডাইনিং রুমের দিকে। মেয়েকে বলে গেলেন, "বাবু, রেডি হয়ে যে তাড়াতাড়ি। বেরোতে দেরি করিস না। ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে শেষে!"

জাহ্নবী অবাক হয়ে চেয়ে থাকে মায়ের দিকে।

(ক্রমশ)

Friday, March 13, 2020

রঙ রুট
সুচেতনা

(৩)
"কী হল মা? কিছু বলছ না কেন?" জাহ্নবীর প্রশ্নে সম্বিৎ ফেরে সুভদ্রার। দার্জিলিং। নামটার সাথে যেন কত অজস্র স্মৃতি জড়িয়ে। সেই কুয়াশা মাখা সকালগুলো, উঁচু নিচু রাস্তা, জলাপাহাড়ের দিকে উঠে যাচ্ছে, সেই সোনালী আলো মাখা ম্যাল, আর সেই খয়েরি কালো চেক চেক মাফ্লার। সব মনে পড়ে যাচ্ছিল সুভদ্রার। জাহ্নবীর ডাকে অন্যমনস্কতা কাটিয়ে জবাব দিলো, "এত জায়গা থাকতে সেই দার্জিলিং?" জাহ্নবী উত্তর দিল, "কেন? দার্জিলিঙে কী সমস্যা? তাছাড়া, আমি অবশ্য ঠিক দার্জিলিং যাচ্ছি না। আমি যাচ্ছি লেপচাজগত। তবে তুমি যে বলো দার্জিলিং খুবই সুন্দর? তাহলে?"
সুভদ্রা কী বলবে বুঝে ওঠেন না। সময় নিয়ে কফির কাপে চুমুক দেন। জাহ্নবী ছাড়ার পাত্রী নয়। ছাড়েও না। আবার মাকে জিজ্ঞেস করে, "কী গো? বলো?"
সুভদ্রা আর কোন উপায় খুঁজে পান না। অনেক বছর পর আবার ফিরতে হয় জীবনের সেই ফেলে আসা অধ্যায়ে। সেই অতীত, যেখানে ফিরতে একটা সময় ভীষণ কষ্ট হতো, চাননি ফিরতে। কফির কাপটা নামিয়ে রেখে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, "দার্জিলিং। এবং সেই ফাল্গুন মাস। সেইবার কলেজের পরীক্ষার পর গিয়েছিলাম দাদা বৌদির সাথে। দার্জিলিং বেড়াতে। সেখানে গিয়েই তোর বাবার সাথে দেখা হলো। আর তারপর..." কথায় ক্ষণিকের বিরতি দিয়ে আবার বলতে থাকেন সুভদ্রা, "আর তারপর তো তুই জানিসই। আমার সর্বনাশ। তাই চাই না তুই যাস। তুই গেলে তোরও যদি... "
মাকে থামিয়ে দিয়ে জাহ্নবী বলে, " প্রথমত, ওটা সর্বনাশ না। অই ভদ্রলোকের সাথে দেখা না হলে, আজ আমি থাকতাম না। আমায় ছাড়া এই নাকি তোমার আর কেউ নেই, তাহলে? সেই ঘটনাকেই বলছ সর্বনাশ? আর সেকেন্ডলি, মিস্টার অর্জুন রাঠোড়ের মত অমন চারমিং ভদ্রলোক আর দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ বেশ কঠিন মা। কাজেই, স্টে রেস্ট অ্যাশিয়রড, আমি তোমার হিস্ট্রি রিপিট করব না। আর যদি করেও ফেলি, আমার সাপোর্ট সিস্টেম তোমার সিস্টেমের চেয়ে ঢের বেশি স্ট্রং। কাজেই, আমি সামলে নেব। আমরা সামলে নেব। বুঝেছ? আর থার্ড পয়েন্ট, মোস্ট ইম্পরট্যান্ট, আমি লেপচাজগত যাচ্ছি। দার্জিলিং না। রডোডেন্ড্রনের সন্ধানে। রঙের সন্ধানে। বাংলা রঙ। ইংরেজির কোন রঙ রুটে ভুলেও যাবো না। বুঝলে?"
সুভদ্রা আধুনিকা। জানেন মেয়ে বড় হয়েছে। ওর ইচ্ছেকে স্বাধীনতাকে মর্যাদা দেওয়াটা কর্তব্য। তাই আর দেরি না করে বললেন, "বেশ। যাবে। তবে হ্যাঁ, সব ডিটেলসে জানিয়ে যাবে আমায়। কবে কোথায় যাচ্ছ, থাকছ কোথায়, সব। আর শুনে রাখো, লেপচাজগত যাও যতই, মনে রেখো তোমার জগত কিন্তু এই আমি। দিল্লীতে বসে হাঁ করে অপেক্ষায় থাকবো। কেমন?"

"লাভ ইউ মা" এই বলে খুশীতে ডগমগো জাহ্নবী মায়ের গলা জড়িয়ে ফেলে আদরে, আহ্লাদে।


(ক্রমশ)


পুনশ্চঃ শনি রবি ছুটি। লেখা না আসারই চান্স বেশি। পুরো প্যাকড শিডিউল উইকেন্ডে।