Friday, December 2, 2016

একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
হ্যাঁ, কর।
কী দেখে তুমি আমার প্রেমে পড়েছিলে?
কে জানে, মনে হয় আলো কম ছিল তো, তাই বোধকরি ভুল করে ফেলেছি।
মানে?
না মানে, চিরকালই তো রাজেশ খান্নাকেই আমি idolise করে এসেছি, সেখানে তোমার ওই Jitendra মার্কা সাদা trouser look দেখে যে কি করে attracted হলাম, সেটাই ভাবছি। তাই বলছি যে আলো মনে হয় কম ছিল পূর্ণ সিনেমার ব্যালকনিতে, তাই...
হুমম।
কী গো, মুখ গোমড়া করে ফেললে যে বড়?
তা ৪৪ বছর ধরে যে তুমি মনেপ্রাণে এরকম একটা আক্ষেপ নিয়ে সংসার করছ আমার সাথে, জেনে কি আমি ধেই ধেই করে নাচব?
তুমি সেই চির ক্যাবলাই রয়ে গেলে! প্রেমে পড়ার আবার কোন কারণ থাকে নাকি? থাকলে তো কারণ vanish হলেই প্রেমও vanish!
বলছ?
হ্যাঁ বলছিই তো। চল তো এবার একটু হাসি মুখ করো দেখি?

https://soundcloud.com/suchetana-gupta/kis-liye-1

Tuesday, November 22, 2016

হায়ার সেকন্ডারি পরীক্ষার আগে এই শেষবারের মতো স্কুল থেকে ফিরছে ওরা আজ। দুজনেরই মুখ ভার। কোন common tuitionও নেই যে দেখা হবে। স্কুল গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুতেই যেন যেতে ইচ্ছে করছেনা।
- শৌণক যোগাযোগ রাখিস কিন্তু। পড়ার চাপ বলে প্লীজ কাটিয়ে দিসনা।
- বাব্বাহ কে কাকে পড়ার খোঁটা দিচ্ছে দেখ! মিস গাঁতু আপনি দয়া করে ফোনটা ধরবেন call করলে।
ন্যাকা!
- ন্যাকা মানে? মনে নেই বুঝি? গত সপ্তাহে যখন call করেছিলাম তোকে, কাকীমাকে দিয়ে তো Pathfinderএর পরীক্ষার দোহাই দিয়ে ফোনের ধারেকাছেও এলিনা!
- ও তুই বুঝবি না। মা ছিল পাশে, তাই...
- কী তাই?
- আরে বললাম তো মাথামোটা, বুঝবিনা।
- আমি মাথামোটা? তুই কি তাহলে?
- তুই হলি গিয়ে ইয়ে...
- কি ইয়ে?
- উফফ।। শৌণক কেন পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছিস?
- বুঝিস না নাকি?
- বুঝি বলেই বলছি তো। ওসবে লাভ নেই।
- আমার সবজান্তা madam নাকি সব বোঝে! যা বৃষ্টি আসছে, তাড়াতাড়ি বাড়ী ফের, নইলে তো আবার জ্বরে পড়বি।
- আচ্ছা ঠিক আছে, যাচ্ছি...
- ভালো থাকিস।
- হুম।
- আরে যা রে, দাঁড়িয়ে রইলি এখনো... বৃষ্টি নামল বলে...



https://www.youtube.com/watch?v=u9VI9wpjNaE

Monday, November 21, 2016

সব চাওয়া পাওয়ার শেষে হিসেব করতে বসে মেয়েটি পেল এক নদী কান্না,
তারপর অনেক হাতড়ে নজরে এলো এক মুঠো শীতের দুপুরের মিঠে কড়া রোদ্দুর।
বলা বাকি রয়ে গেল কত সুখ দুঃখের কথা, জানানোই হল না কত ভালোবাসি।
abhi na jao chhod kar, ke dil abhi bharaa nahi..

 https://www.youtube.com/watch?v=sYsUf3IcSOs&feature=share
দেবল তুমি কী করে ভাবলে যে এতকিছুর পরেও আমি তোমার সাথে কথা বলব?
পিয়া কী হয়েছে টা কি, আমায় বললে তবে না বুঝব।
ইচ্ছে করে না জানার ভান করোনা দেবল। তোমার মা আমার সাথে আজ যেরকম ব্যবহার করেছেন, তারপরেও আমি যে তোমার সাথে কথা বলছি কেন, এটাই ভেবে আমার লজ্জা করছে।
মা? মা আবার কী বলেছে? মা তোমার সাথে বুঝি দেখা করেছে?
নাটক করছ কেনো দেবল? তুমি কি কিছুই জানোনা? জানোনা যে তোমার মা আজ আমাদের বাড়ী বয়ে এসে আমায় এবং আমার মা বাবা কে যারপরনাই অপমান করেছেন?
সত্যি বলছি পিয়া, আমি কিছু জানিনা। মা যে এরকম কিছু করবে, ভাবতেও পারিনি।
আমার জন্য নাকি তুমি টেস্ট পরীক্ষায় অঙ্কে ১০০য় ১০০ পাওনি। আমি নাকি তোমার পড়াশোনার ক্ষতি করছি। তোমার সাথে নাকি আমি এস বি স্যারের নোটসের জন্য ঘুরি।

কী হল চুপ করে আছো কেন দেবল?
দেবল? হ্যালো?


https://www.youtube.com/watch?v=3Mq9mo7eIWs

Friday, November 11, 2016

- প্লীজ আমায় একটা ম্যাঙ্গো মিল্কশেক এনে দে ফ্রিজ থেকে।
- পারব না।
- প্লীজ প্লীজ।
- বললাম তো পারবনা।
- আরে দেখছিস তো একটা কাজ করছি। একবার একটু উঠে এনে দিতে কি হয় তোর?
- excel sheet এ কত কাজ করছিস আর কত অন্য tabএ পায়েলের সাথে flirt করছিস আমার সব জানা আছে।
- বাজে কথা বলিসনা তো। নিজে কি করছিস? খেলছিস তো ওই ক্যান্ডি ক্রাশ। ফ্রিজ থেকে just গ্লাসটা আনতে হত। বানিয়েও রেখেছে এই শর্মা।
- সবই তুই করিস যখন, তখন নিজেই নিয়ে খা না। উহহ কোথাকার কোন নবাবপুত্তুর এসছে আমার!
- বড্ড বাজে কথা বলিস। ওরে বাবা রে, আউচ।
- আস্তে! অন্ধ নাকি? দেখে চলতে পারিসনা? লাগল তো টেবিলের কোণায়? চুপ করে বসে থাক, আমি বরফ নিয়ে আসছি।

- সেই উঠলি, একটু আগে উঠলেই তোর মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল যত।
- it's all about priorities baby! ওরে বাবা, আঙুলটা ফুলে গেছে তো। সত্যি, তোকে নিয়ে যে কি করি?
- জানিসই তো।
- ধুর, অসভ্য।।

Thursday, October 27, 2016

মোহরকুঞ্জ

হ্যাঁ শোনো, আজ বিকেল চারটে নাগাদ মোহরকুঞ্জে এস।
আচ্ছা বেশ। চারটেই ভালো। বাড়ীতে কেউ থাকবেনা, টুক করে বেড়িয়ে পড়ব।
হ্যাঁ তোমায় ছটার মধ্যেই ছেড়ে দেব। তোমার তো আবার পাঁচটা বাজতে না বাজতেই শুরু হয়ে যায় বাড়ী ফেরার তাড়া।
কি করব বল? বাড়ীতে যদি জানতে পারে তোমার সাথে দেখা করতে যাই, আমার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যাবে।
সে তো বুঝি গো। তাই জন্যই তো অফিস কেটে তোমার সাথে দেখা করতে আসব।
এই আমি না আজ ওই চকলেট সানডে খাব প্লীজ। না করবে না কিন্তু। এই আগে থেকে বলে রাখলুম।
তোমার না ঠাণ্ডা লাগার ধাত?
ও একদিন আইস্ক্রীম খেলে কিচ্ছু হবেনা। তুমি না করোনা।
তারপর যখন টনসিল ফুলে একাকার হবে, বুকে কফ বসবে, তখন এই শর্মাকে তো মনে মনে গাল দেবে। কী দেবে না?
আরে বাবা রে বাবা। একটা আইস্ক্রীম চেয়েছি বলে এত কথা শোনাচ্ছ, পারও বটে তুমি।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তোমায় নিজের হাতে আইস্ক্রীম খাওয়াব, হয়েছে? কিন্তু তুমিও আমায় তাহলে একটা কথা দাও?
কী কথা হে?
তুমি আজ ওই ছানা ধোয়া জলের রঙের এমব্রয়ডারি শাড়িটা পড়ে আসবে আজ?
বাব্বাহ! ছেলের দেখি খুব সাজের দিকে নজর!
সেকি কথা। গার্লফ্রেন্ডের রূপের ব্যাপারে, সাজের ব্যাপারে সচেতন হবোনা তো কিসে হব? আজ এসই না, তোমার জন্য একটা খাসা পারফিউম কিনেছি। ওটা দেবো তোমায়।
সিঙ্গাপুর থেকে আমার জন্য মোটে একখানা পারফিউম এর শিশি?
আরে বাবা, এসই না। দেখবে আরও কত কিছু এনেছি তোমার জন্য।
বেশ। ঠিক আছে। দুটো বাজতে যায়। আমি একটু বিউটি ন্যাপ দিতে যাই। দেখা হচ্ছে শিগগিরি।
হ্যাঁ। ফোনটা রাখলাম। বাই।
বাই সোনা।

ঘণ্টাখানেক পর যখন খোঁপাতে কাঁটাটা অ্যাডজাস্ট করে, কাজলটা লম্বা করে টেনে মিসেস ব্যানার্জি উবারে উঠে বললেন মোহরকুঞ্জ চল, ওনার মুখের চওড়া হাসিখানি দেখবার মত ছিল। এক মাস পরে আদরের নাতির সাথে দেখা করতে যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা।
কী গো বেরিয়েছ?
হ্যাঁ রে বাবা, আসছি আর আধ ঘণ্টায়।
নাতির ও যে আর তর সইছে না দিদিমার সাথে দেখা করার জন্য। আজ তো স্পেশাল বান্ধবীর সাথে শ্যামলীর পরিচয়টা করাতেই হবে।
মোড়ের মাথার চায়ের দোকানের রেডিও থেকে ভেসে আসছিল কিশোর কুমারের দরাজ কণ্ঠ। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। একটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আমেজ গোটা টাউনটাকে ঢেকে রেখেছে। কালী পুজোর প্রস্তুতিতে সকলে ব্যস্ত। ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ আর মোমবাতির আলো একে একে জ্বলে উঠেছে। ছেলেটি অধীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বাস স্টপে। দেখতে দেখতে ছ'টা বেজে গেছে কখন, খেয়ালই করেনি। চিরকুটে তো বিকেল সাড়ে পাঁচটা, ম্যানেজার কোয়ার্টার এর সামনে বাস স্টপ এর কথাই লিখেছিল সে। তাহলে কি তার সব প্ল্যান বাঞ্চাল? আরো প্রায় আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যখন এল না দীপালী, হেমন্ত একটু দুঃখ দুঃখ মুখ নিয়ে ফিরতে লাগল। দীপালীর জন্য আনা ছাতিম ফুলের তোড়াটা ছুঁড়ে ফেলে দিল কাল্ভারটের নীচে। চা-বাগানের কুলি বস্তির ওখানে খুব হইচই শুনতে পেল বটে, কিন্তু ওর আর ওদিকে যাওয়ার ইচ্ছেই হলনা। দীপালী কি তাহলে মোটেই ওর সাথে কথা বলতে চায় না? ও কি তাহলে ওর মনের কথা একেবারেই বোঝেনা?
সকালে উঠে খবরের কাগজের চারের পাতায় একটা ছোট্ট খবর দেখে আঁতকে উঠল হেমন্ত।
"গতকাল সন্ধ্যেয় ময়নাগুঁড়ির ডামডিম চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোর কাছে উদ্ধার হয়েছে এক বছর পঁচিশের যুবতীর রক্তাক্ত দেহ। মৃতা বিধবা, তার নাম দীপালী মুরমু। পুলিস সন্দেহ করছে ধর্ষণের পর তাকে মারা হয়েছে। মৃতার বাবা চা বাগানের কর্মচারী। ওর একটি চার বছরের মেয়ে আছে। স্থানীয় ইউনিয়ন নেতা শ্রী মাণিক ওঁরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দীপালীর মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন।"
হেমন্তর দুই পা অবশ হয়ে গিয়েছে। এক ঘণ্টা ধরে ও স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে শূন্যে। দীপালীর টানা টানা চোখ দুটি যেন ওকে এখনো টানছে।
শক্তির দেবীর আরাধনার দিনেও আরেক দেবীর জীবনদীপ নিভে গেল।