Monday, December 23, 2019

মিউট জীবন।

অনেকদিন পর এত বেলা করে ঘুম ভাঙল রেবার। অথচ কী আশ্চর্য, কোনদিকে তেমনভাবে কোনো ব্যস্ততা, হুড়োহুড়ি কিচ্ছুটি টের পাচ্ছে না ও। হলো টা কি? অন্যদিন তো সকাল থেকে এমনিতেই এই স্নেহালয় এপার্টমেন্টে হয় হট্টগোল লেগেই থাকে। সাতটার মধ্যেই ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে কাজের লোকেরা চলে আসে। উঠোন ঝাঁট দেওয়ার ওই কর্কশ শব্দ, বাসনের ঝংকার, বাড়ির ছেলেদের "কই গো, বাজারের ফর্দ দাও", মায়েদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যস্ততা। দোতলার ফ্ল্যাটে বেডরুমে শুয়ে শুয়ে প্রতিদিন রেবার ঘুম ভেঙে যায় ওই শব্দে। এমনিতে রেবার সারা রাত ঘুম আসে না, ওষুধ খেয়েও। ভোরের দিকেই যা একটু চোখে ঘুম নেমে আসে, তবে প্রত্যেকদিন এই ভোরের আওয়াজ মেলায় বিচ্ছিরি ভাবে ঘুম ভাঙে ওর। আর ব্যস, সারাদিন মাথা ধরে থাকা। এই নিয়ে সারাদিন গজগজ গজগজ করতে থাকে রেবা। "ঈশ্বর, কালা করে দাও না আমায়। আর এই এত আওয়াজ, সহ্য করতে পারিনা।"

রেবা বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় গেলো। ব্যাপারটা কী, বুঝতে। দেখলো, বাহাদুর সিং এপার্টমেন্টের উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে, রাজু বিশ্বাসদের গাড়ি ধুচ্ছে। বাসন্তী হড়বড় করে গেট ঠেলে ঢুকলো এই মাত্র। কিন্তু কী আশ্চর্য, একটুও শব্দ নেই কেন? অন্যদিন এই গেটের আওয়াজের ঠ্যালায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায়। জলের বালতি দুবার উল্টায়। আজকে যেন মনে হচ্ছে, টিভি দেখছে, মিউট করে। অবাক হয় রেবা। কানের কোনো সমস্যা হলো নাকি? বার কয়েক কান খোঁচায়, ইয়ার বাড বের করে। তাতেও কিছু উপকার হয়না। অদ্ভুত ব্যাপার।

দিন গড়াতে থাকে। রেবার অবস্থার কোনোই উন্নতি হয়না। ছেলে মেয়েরা বারবার ফোন করে করে সাড়া পায়না। হোয়াটসআপে মেসেজ পেয়ে তাদের শান্ত করে রেবা, কিন্তু ঘটনাটা কিচ্ছু জানায়না। আজ আবার বড়দিন। ডাক্তার বদ্যিও পাবেনা। কাল ই এন টি দেখাবে স্থির করে রেবা। সারাদিন নিজের মতো কাজ নিয়ে থাকে। মন্দ কাটেনা শব্দবিহীন। বেশ যেন স্তব্ধতা, শান্তি। বই পড়ে ঘরের কাজ করে দিন কাটে। শুধু একটাই আক্ষেপ, ক্রিসমাস ক্যারল শোনা হলো না ওর। ফোনেও গল্প হলো না। নাতি নাতনীদর মিষ্টি কলকাকলিও শোনা হয়না। রাত্রে শোয়ার আগে রেবা ভাবতে বসে, সারাদিন কেমন গেল। মন্দ নয়, কিন্তু এই কি ভালো? একটুও শব্দ নেই, পাখির গান নেই, রেডিওর বকবক নেই, রোজের জীবন যেন নীরস। নাঃ, ঘুম হয়তো ভালো হবে, বা হবে না। কিন্তু দিন মোটেই ভালো যায়নি। কে জানে, কাল ডাক্তার কী বলেন। ভাবতে ভাবতে রেবা শুয়ে পড়ে। রাত্রে স্বপ্নে স্যানটা বুড়ো হাজির। হাসিমুখে বলে, "কী? খুব তো শখ ছিল কালা হওয়ার, ভালো লাগেনি তো? কাল সকালে উঠে দেখবে সব আবার আগেরমত। আর হ্যাঁ, বুঝেশুনে উইশ করো। বুঝলে রেবারানী?"

(৫)
- তখন ফোনটা রেখে দিলি কেন?
- ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদে চলেছিস, ফোন ধরে থেকে কী করবো? এখন আর জিও টু অন্য নেটওয়ার্ক ফ্রি নেই রে।
- তা বলে তুই ফোন ছেড়ে দিবি?
- আহা, ফোনই তো ছেড়েছি, তোকে তো আর না।
- একদম বাটারিং করবি না। আমি সব জানি। সব বুঝি।
- হ্যাঁ, আমার সমঝদার ম্যাডাম এসেছেন। একদিন ঝগড়া হলো, তারপর দশদিন মুখ দেখাদেখি, কথা বলাবলি সব বন্ধ?
- তুইও তো ফোন করিসনি। আমার মেসেজের উত্তর দিসনি।
- ফাইনালি কল তো আমিই করলাম কাল। তুই তারপর কাঁদতে শুরু করে দিলি। আমি কোথায় যাই?
- ঝগড়া করবো তোর সাথে। জমিয়ে ঝগড়া করবো। অনেক অনেক পেন্ডিং আছে। প্রায়োরিটি লিস্টে আমি কেন এত নীচে, সেটা জানতে চাইতেই অমনি ওরকম করবি? কার না কার ওপর রাগ, তার গোঁসা আমার ওপর দেখবি? ইয়ার্কি না? ওইসব চলবে না।
- আচ্ছা। সরি।
- ইউ বেটার বি। কালকেই ঝগড়া করতাম। কিন্তু তার মধ্যে কেঁদে ফেলতাম অবধারিত। জানিসই তো, আই ক্রাই এট দ্য ড্রপ অফ আ হ্যাট।
- সে জানি।
- কাল ওরকম হলে অমনি ডাকওয়ার্থ লুইসের দোহাই দিয়ে আমি জিতেছি বলে অপবাদ দিতি।
- সে দিতাম। কিন্তু তুই বল, কী করে শিওর হলি যে তুইই জিততি?
- এখনো সন্দেহ আছে?
- তা আছে।
- হয়ে যাক তাহলে। এমনিও প্রচুর রাগ জমে আছে আমার। অনেক অনেক পয়েন্টস। লিখে রেখেছি।
- আপাতত শীতকাল। ওইসব তোলা থাক বরং। এখন না হয় একটু নলেন গুড়ের মতো মাখোমাখো প্রেম করি? ঝগড়াগুলো গ্রীষ্মের জন্য তোলা থাক? কেমন?
- হতভাগা। ঠিক সেই ম্যানেজ দিয়ে ফেলিস।
-হারকে জিতনে ওয়ালো কো বাজীগর কেহতে হ্যায়, গুরু বলে গেছেন! আমি হলাম তাই।
- ঢং যত্তসব।
(শেষ)
#অগ্নি-রুমুন
#সীজন২

Sunday, December 22, 2019



(৪)

হাতে কফির কাপ। উদাসিনী বেশে, বারান্দায় বসে। নিজের হাতে গড়া সবুজালির মধ্যে, একটু মনকে শান্ত করতে। ঠিক এমন সময় হাতে রাখা ফোনটা বেজে উঠলো। চেনা রিংটোনে। এতদিন পর। ফোনের ভাইব্রেশনের সাথে বুকের ধুকপুকানি রেসোনেট করছে। সত্যিই কি তাহলে অগ্নি ফোন করলো? কাঁপা কাঁপা হাতে সবুজ আইকনটা স্লাইড করলো রুমুন। বললো,
- হ্যালো?
- বলছি শোন, আমি কিন্তু খুব ভালো চিকেন মোমো আর থুপ্পা বানাতে পারি।
- কী?
- বলছি যে আমি মোমো আর থুপ্পাটা ভালোই রাঁধতে পারি।
- হঠাৎ?
- না মানে আজ ওলা শেয়ারে আসতে আসতে শুনলাম একজন আরেকজনকে ফোনে বলছে, তার খুব আক্ষেপ। তার বর রাঁধতে পারেনা কিছু। এমনকী চা পর্যন্ত পারে না। গরম জলে টিব্যাগ চুবিয়ে চা খায়!
- সো?
- সো, আই এম এশিউরিং ইউ। বিয়ের পর তোর কোনো সমস্যা হবে না। আমি তোকে দিব্যি রেঁধে বেড়ে খাওয়াতে পারবো। হয়তো হ্যাঁ, আমার মায়ের মতো ভালো পোলাউ বানাতে পারবো না, বা কাকিমার মতো চিতল পেটিও না। কিন্তু জ্বর হলে স্যুপ থুপ্পা সব যত্ন সহকারে রেঁধে খাওয়াতে পারবো। কাজেই, ইউ আর ইন গুড হ্যান্ডস।
-
- কীরে কিছু বল?
-
- কীরে রুমুন?
-
- ওমা, কাঁদছিস কেনো? ধুর পাগলী। এই, এই রুমুন...


#রুমুন_অগ্নি
#সীজন২





আচ্ছা ধরুন আগামী দুইদিন আপনার প্রচন্ড কাজের চাপ, অসংখ্য ডেডলাইনসের পিছনে ছুটতে হবে। আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই সেইসব কাজকর্মই করবেন, তাই না? কিন্তু আমি? আমি হলাম সে যে তখন উশখুশ করবে, কখন কয়েক লাইন লিখে ফেলি। সে প্রেমের গল্প হোক বা মজার কিছু। রোজ কিছু না কিছু না লিখলে হজম হবে না।
আচ্ছা, রাস্তাঘাটে এমন কখনো হয়েছে যে আপনি কাউকে দেখে হাসলেন, কথা বললেন, খুব চেনাও লাগলো। কিন্তু কিছুতেই নাম মনে করতে পারলেন না? আমি ঠিক ওই স্যাম্পল। এত বেশি বকি, এত বকি, এতজনের সাথে আলাপ, জাস্ট ট্র্যাক রাখতে পারিনা আর!
এই বকবকের সূত্রেই বলে রাখি বাপু, বন্ধুমহলে agony aunt হিসেবেও কিন্তু খুব খ্যাতি। আবার প্রচুর পজিটিভ ভাইবস ছড়াতেও এক্সপার্ট। বেসিকালি, প্রিয় রঙ হলুদের মতোই আমিও সব সময় ঝকঝকে, হাসিখুশি প্রাণবন্ত থাকতে ভালোবাসি।
এই তো, অনেক বললাম। আর বাকিটা চিনতে হলে, আলাপ বাঞ্ছনীয়। কী, হবে নাকি একসাথে এক কাপ কফি?

Friday, December 20, 2019



3






মায়ের শাড়ি শাল ধার করে বিয়েবাড়ির সাজগোজ সম্পূর্ণ করলো রুমুন। আজ ছোটবেলার প্রিয় বান্ধবী, কস্তুরীর রিসেপশন। মা বাবারও নেমন্তন্ন রয়েছে, তবে ওঁরা যাচ্ছেন না। মাকে সাজটা দেখাতে গেলো রুমুন। অবশ্য মায়ের যে কী রিঅ্যাকশন হবে, সেটা মোটামুটি ও জানতো। মায়ের মুখ গম্ভীর। বক্তব্য এই যে, সব্বাই দিব্যি বিয়ে করে থিতু হয়ে যাচ্ছে। ও কবে করবে। মা বাবাকে এখনও পুরো ব্যাপারটা ভালো করে বলেইনি রুমুন। তাই ওঁরাও দ্বিধায়, দ্বন্দ্বে। অবশ্য, বলবেই বা কী? ও কি নিজেই আদৌ জানে? অগ্নির সাথে সম্পর্কটা এখন কোথায় গিয়ে যে দাঁড়িয়েছে...


বিয়েবাড়িতে ভারী মজা হলো। বরপক্ষের বেশ কিছু নিমন্ত্রিতদের সাথে বিয়ের দিনেই আলাপ হয়েছিল রুমুনের। বিশেষ করে বাসর রাত জাগার সময় সবাই মিলে দারুণ আনন্দ করেছিল। আজ বৌভাতের অনুষ্ঠানেও সেই আলাপ ঝালিয়ে নিয়েছিল রুমুন আর ওর বাকি বান্ধবীরা। তাই সন্ধ্যের অনুষ্ঠানেও খাতির যত্ন আলাপ আড্ডা কোনটারই অভাব হলো না। বরের বন্ধুদের মধ্যে সঙ্কল্প বলে ছেলেটি, ডাক্তার, বেশ মিশুকে। তার সাথে রুমুনের ভালোই বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি চলেছে। বাসরের রাতে গান বাজনাও ভালোই হয়েছে। রিসেপশনে দেখা হতেই এক গাল হাসি। "বাঃ, তোমাকে তো বেশ লাগছে দেখতে!" রুমুন একটু ব্লাশ করেই ধন্যবাদ জানায়। বান্ধবীরা কিন্তু কেউ মিস করেনি এই কথা। সারা সন্ধ্যে তারা লক্ষ্য করে গেলো, সঙ্কল্প যেন রুমুনের চারিদিকেই থাকার সঙ্কল্প নিয়েছে। কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। সারাক্ষণ ওদের সাথেই রইলো। একসাথে ছবি টবিও উঠলো। হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ারও হলো, স্টেটাসও হলো।


ফিরতি পথে রুমুন আর ঋত্বিকা একটা ওলা ধরলো। ঋত্বিকা জমিয়ে রুমুনের পিছনে লাগতে থাকল। "কী রে, তাহলে সঙ্কল্প?"


রুমুন একবার তাকায় বান্ধবীর দিকে, কিছু বলেনা। কিন্তু বান্ধবী, সেই কোন ছোট্টবেলার। মুখ চোখ দেখেই বুঝে যায় সব। বলে, "এখনও মিটলো না তোদের?" রুমুন মাথা নাড়ে উত্তরে। ঋত্বিকা প্রশ্ন করে, "তোদের হলো টা কী?" রুমুন বলে, "জানি না রে। আই অ্যাম স্টিল সারচিং ফর অ্যান আনসার।" ঋত্বিকা কথা বাড়ায় না। শুধু বন্ধুর হাতটা স্নেহের পরশে চেপে ভরসা জোগায়। ওর বাড়ি এসে গেলে, ও নেমে পড়ে। রুমুন চলতে থাকে ক্যাবে।


ক্যাবে তখন বাজছে


"Kaisi Teri Khudgarzi


Na Dhoop Chune Na Chhaaon


Kaisi Teri Khudgarzi


Kisi Thor Tike Na Paaon...






Ban Liya Apna Paigambar


Tar Liya Tu Saat Samandar


Phir Bhi Sookha Mann Ke Andar


Kyun Reh Gaya


Re Kabira Maan Jaa


Re Faqeera Maan Jaa


Aaja Tujhko Pukaare Teri Parchhaaiyan


Re Kabira Maan Ja..."






একবার ফোনটা হাতে বের করে। হোয়াটসঅ্যাপে খোলে অগ্নির চ্যাটটা। মেসেজ করবে? কী লিখবে?


বোঝে না। আবার ফোন বন্ধ করে ব্যাগে রেখে দেয়।






****************






অগ্নি প্রতিদিনের মতো চ্যাট উইন্ডো দেখে। রুমুন অনলাইন। অপেক্ষায় থাকে মেসেজের। আসে না...














#রুমুন_অগ্নি


#সীজন২

Thursday, December 19, 2019



(২)

"কীরে, চুপ করে বসে কেন? ফোনের অপেক্ষা নাকি?" বন্ধু অমৃতর ডাকে অগ্নি পিছন ফিরে তাকালো। মাথা নেড়ে না বললো ও। ফোন? কেই বা করবে? বাবা মা জানে ওরা এখন পার্টি করছে। আজকের মত কথা হয়ে গিয়েছে। আর করবে না। অফিসের কলও নেই। উইকেন্ড মোডে সকলে। কেই বা আর করবে ওকে ফোন?
কোরমঙ্গলায় অমৃতর ব্যাচেলর্স প্যাডে আজ ওদের পাঁচ বন্ধুর গেট টুগেদার। অমৃত, অগ্নি, শুভঙ্কর, পল্লব আর সম্রাট। সেই স্কুলবেলার বন্ধু। আজ কর্মসূত্রে একেক শহরে একেকজন। অনেকদিন পর ওরা পঞ্চ পাণ্ডব এক হয়েছে। উদ্দেশ্য তাই আজ সারা রাত জেগে চুটিয়ে গল্প, আড্ডা। অমৃতই সমস্ত আয়োজন করেছে। সকাল থেকে ফ্ল্যাটটা সাজিয়েছে আলো দিয়ে। খাবার দাবার আনানো হয়েছে। পানীয়ও রয়েছে। গল্পের ফোয়ারা বইছে। স্পিকারে বেজে চলেছে পরপর কিছু রেট্রো গান। কিশোর আশা লতা রফি মান্না।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে উইস্কির গ্লাস হাতে অন্যমনস্ক হয়ে বাইরে তাকিয়েছিল অগ্নি। দূরে ব্যাঙ্গালোর শহরের ঝাঁ চকচকে রাস্তা, স্ট্রিট লাইট, ঝড়ের বেগে ছুটে চলা গাড়ি। এমন সময়ে কানে এলো, আশা ভোঁসলে গাইছেন,
"তু রুঠা তো ম্যায় রো দুঙ্গি সনম
আজা মেরে, বাহো মে আ।।"

মুহূর্তে একটা পরিচিত কণ্ঠের কাতর অনুনয় মাখা হোয়াটসআপ ভয়েস নোট মনে পড়ে গেলো। ফোনে ঢুকেছিলো গত সপ্তাহে। হ্যাঁ। ঠিক গত বৃহস্পতিবার, রাত দশটা পঁচিশে। যেই মেসেজটি রোজ কম করে অন্তত দশবার শোনে ও। অথচ, মেসেজের রিপ্লাই দেয়নি।

"কীরে অগ্নি, ভিতরে আসবি না? বাইরে কেন? আয়।"
এইবারে আর সম্রাটের ডাককে অগ্রাহ্য করেনা অগ্নি। হাতের মুঠো থেকে ফোনটা পকেটে ভরে রেখে ঘরে ঢোকে। হোয়াটসআপটা খোলাই থেকে যায়।

কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে বসে রুমুন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে চ্যাট উইন্ডোতে। 'অনলাইন'। কিন্তু 'টাইপিং' আসে না।

#রুমুন_অগ্নি
#সিজন২


1

ট্যাক্সিতে উঠে সশব্দে দরজা বন্ধ করে রুমুন বললো, "চলুন দাদা।" গাড়িতে এফ এম চলছে। রেট্রো গান। কিন্তু রুমুনের এখন সেইসব দিকে কান যাচ্ছে না। টানা আটচল্লিশ ঘন্টা অফিসে কাজ করে ও বিধ্বস্ত। কাল ক্লায়েন্ট মিটিং, এদিকে এখনো টীম প্রেজেন্টেশন নিয়ে তৈরি না। রুমুন ওদের ফোনে সাপোর্ট দেবে এই আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফিরছে। ওর ক্লান্ত শরীরে আর দিচ্ছেনা। এরই মধ্যে অবিনাশের ফোন এলো। রুমুন যথাসাধ্য নির্দেশ দিলো ওকে। এরপর ফোনটা ছেড়ে জানলার কাঁচে মাথাটা এলিয়ে দিলো ও। আড়চোখে দেখতে পেলো শহরের রাস্তা। গভীর রাত। শুনশান রাজপথ। একটা দুটো গাড়ি সোঁ সোঁ করে পাশ দিয়ে ছুটে চলেছে। হলুদ নিয়নের আলোর আলাদা মাদকতা। রুমুন ট্যাক্সির সীটে শরীরটাকে এলিয়ে দিয়ে চোখ বোজে।

এতক্ষণে কানে ঢোকে এফ এম স্টেশনের গান।




"hum Ko Mili Hai Aaj

ye Ghadiya Naseeb Se

jee Bhar Ke Dekh Leejiye

humko Kareeb Se

phir Apke Naseeb Mein

ye Baat Ho Na Ho

shayad phir Is Janaam Mein

mulakaat Ho Na Ho"




বন্ধ চোখে ভেসে ওঠে একটা মুখ। বহু পরিচিত, বড় আপন, বড্ড কাছের সেই জন। কতদিন দেখেনি সেই মানুষটাকে, মনে পড়ে যায় রুমুনের। দু চোখ ভরে আসে জলে।




#রুমুন_অগ্নি

#সীজন২