Saturday, January 11, 2020

এক মুঠো রোদ

রোদটা একদম ভালো করে উঠছেইনা কদিন ধরে। কাপড়জামা যে কীভাবে শুকোবে, কিচ্ছু ভেবে পায়না চন্দ্রিমা। ধুর, এরকম করে কদিন যে চলবে? এগুলো না শুকোলে লাগেজে কী প্যাক করবে? ভেবে পায় না ও। এই তো আজ গেলো তেরো, আগামী সতেরোয় তো ওর বেরোনো। এখনও গুচ্ছের টুকটাক কেনাকাটি, প্যাকিং সব বাকি। অবশ্য আদৌ কি চন্দ্রিমার ট্রিপটা সম্ভব হবে? সব কিছুই হঠাৎ করে এমন এলোমেলো হয়ে গেলো...  এক মাসের জন্য চন্দ্রিমার প্রাগে যাওয়ার কথা। একটা উইন্টার স্কুল অ্যাটেন্ড করতে। কলেজে পড়ানোর চাকরিটা পাওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। প্রথম যেদিন আমন্ত্রণপত্র হাতে আসে, বা বলা ভালো ইমেলে আসে, খুশীতে বেশ একটা ছোটখাটো নাচ নেচে ফেলেছিল ও। সেই মাস্টার্স পড়ার সময় থেকে যেই প্রেস্টিজিয়াস উইন্টার কোর্সে যাওয়ার জন্য চন্দ্রিমা মুখিয়ে থাকতো, যেখানে সিলেকশন পর্ব নিয়েই রীতিমতো সাড়া পড়ে যেতো, আজ সেখানে লেকচার দেওয়ার সুযোগ এসেছে। চন্দ্রিমার দুর্দান্ত আনন্দ হওয়ার কথা। হচ্ছিলোও। কিন্তু হঠাৎ করেই ওর জীবনে নেমে এলো গভীর ঝঞ্ঝা।

সীতাংশু সেদিন অফিস থেকে ফিরে দিব্যি খোশ মেজাজেই তো ছিল। অফিসে একটা ভালো ডিল ক্র্যাক করেছে, সেই খুশীতে সেলিব্রেশন করবে বলে দুজনে ঝটপট তৈরি হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরলো লং ড্রাইভে। উদ্দেশ্য, হাইওয়ে ধরে অনেকটা দূর যাওয়া, তারপর ওদের প্রিয় পাঞ্জাবি ধাবায় রুটি পনীর চিকেন কাবাব আর লস্যি সহ জমিয়ে ডিনার করা। সেদিন খাওয়াদাওয়াটা হয়েওছিল বেশ ভালো। ফেরার পথে দুজনেই গাড়ির স্টিরিওতে পুরনোদিনের গান চালিয়ে গল্প করতে করতে ফিরছিল। সীতাংশুই চালাচ্ছিল গাড়ি। অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। শুনশান রাস্তা। শুধু মাঝে মাঝে কিছু মালবাহী ট্রাক যাচ্ছে পাশ দিয়ে, উল্টো দিক দিয়ে। চন্দ্রিমার আসন্ন প্রাগ সফরের শেষে সীতাংশু ওখানে পৌঁছে যাবে, তারপর দুজনে মিলে সপ্তাহখানেক ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরবে। এমনটাই প্ল্যান চলছিল। এমন সময় কোথা থেকে যে কী হয়ে গেলো। উল্টোদিক থেকে আসা একটা ব্রেক ফেল করা লড়ি, তার চোখ ধাঁধানো হেডলাইট, সীতাংশুর ভয়ে ফ্যাকাশে হওয়া মুখ, প্রাণপণে স্টিয়ারিং উইল ঘুরিয়ে দেওয়া, একটা বিশাল ঝাঁকুনি।

চন্দ্রিমার জ্ঞান ফিরেছিল একদিনের মধ্যেই। চোট বেশি পায়নি ও, ভাগ্য ভালো। একটা ছোট ফ্র্যাকচার আর কপালে কেটে যাওয়া। কিন্তু সীতাংশুর চোট বেশ গুরুতর। দুদিনের মধ্যে জ্ঞান ফিরলেও, ডাক্তাররা খুব একটা সুবিধের কথা বলছেন না। অপারেশন হয়তো করতে হতে পারে। নিজে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও চন্দ্রিমা প্রত্যেকদিন সকাল বিকেল সীতাংশুর কাছেই থেকেছে, ওর যত্ন আত্তি করেছে। সীতাংশু যদিও ওকে বারবার কলেজ কামাই না করতে বলেছে, তবুও। চন্দ্রিমা ওকে ছেড়ে যাবেই না। সীতাংশুর শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছেনা। ডাক্তাররা এইবারে যেন বেশ চিন্তিত। ইতিমধ্যে একটা মেডিকেল বোর্ড বসেছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তাই নিয়ে আলোচনা করতে। একেই এইরকম বিচ্ছিরি আবহাওয়া। সারাদিন এই অকালের বৃষ্টি। তার উপর সীতাংশুকে নিয়ে টেনশন। ভালো লাগেনা কিচ্ছু চন্দ্রিমার। মনমরা মেয়েটাকে দেখে সীতাংশুরও ভারী কষ্ট লাগে। কোথায় এখন ওদের প্রাগ ভ্রমণ নিয়ে মুখিয়ে থাকার কথা, তা না। তবুও, এরই মাঝেই সীতাংশুরই জোর করায়, চন্দ্রিমা রোজ হাসপাতালে বসেই ল্যাপটপে নিজের প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছে। যদি ঈশ্বরের কৃপায় সীতাংশুর উন্নতি হয় স্বাস্থ্যে, যদি চন্দ্রিমা যেতে পারে।

ডাক্তাররা আর রিস্ক নিতে রাজী নন। এতদিন হয়ে গেল, মাথার ক্লটটা ঠিকমতো মিলিয়ে যাচ্ছেনা। এইবারে সার্জারি করতেই হবে। সীতাংশু চাইছিল না। বারবার বলছিল, "দেখো, সামনের সপ্তাহেই তোমার যাওয়া। এর মধ্যে আর এইসব অপারেশনের ঝক্কি নিয়ো না। ওষুধ খেয়ে তো কমছে। একটু ধৈর্য্য ধরি। কমে যাবে। তুমি বরং ঘুরে এসো। ডোন্ট মিস দ্য চান্স চন্দ্রিমা।" চন্দ্রিমা এইসব কথা শুনে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতে থাকে। বলে, "তুমি কি আমায় এরকম ভাবো বলো? তোমার শরীর আগে না আমার লেকচার? উঁহু। কক্ষনো না। তোমার সার্জারি হবেই। ডাক্তার যখন বলেছেন, হতেই হবে। ওঁরা তোমার চেয়ে বেশি বোঝেন। প্লিজ। আর না করো না।" সীতাংশু অনেক তর্ক বিতর্কের পর শেষমেশ রাজি হয় একটা শর্তে। সার্জারিটা যেন চন্দ্রিমার যাওয়ার দিন চারেক আগেই হয়ে যায়। আর সবকিছু ঠিকঠাক চললে, চন্দ্রিমা যেন প্রাগ যাওয়া বাতিল না করে।

গতকাল অপারেশনটা হলো। ডাক্তার তো বলেছেন, সাকসেসফুল। চব্বিশ ঘন্টা না কাটলে অবশ্য কিছু বলা যাবে না। আজ পনেরো। পরশুর টিকিট। হাসপাতালে সীতাংশুর সাথে দেখা করতে চন্দ্রিমা বের হয়। আজ অনেকদিন পর আকাশের মেঘ কেটেছে। রোদ উঠেছে। সীতাংশুর সার্জারিটা ভালোয় ভালোয় মিটেছে, চন্দ্রিমা অনেকটা নিশ্চিন্ত। কাল রাতে সীতাংশুর জ্ঞান ফেরেনি, তাই কথা হয়নি। আজ দেখা হবে। কথা হবে। বড্ড স্পেশাল। তাই বিশেষ করে সীতাংশুর পছন্দসই গোলাপী শাড়ি পরেছে। চোখে টেনেছে আই লাইনারের ছোঁয়া। ঠোঁটে লিপস্টিক। একদম টিপটপ সাজ। সীতাংশুর কেবিনের সামনে পৌঁছে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায় চন্দ্রিমা। হালকা টোকা দিয়ে ঘরে ঢোকে। সীতাংশু উঠে বসেছে, নার্সকে ভর দিয়ে। আরেকজন নার্স ওকে ব্রেকফাস্ট খাওয়াচ্ছে। মাথার কাছের জানলা দিয়ে সকালের নরম রোদ্দুর এসে পড়েছে বিছানায়। সীতাংশু সেই রোদের আদরে মাখামাখি। চন্দ্রিমাকে দেখে থমকে গেল খানিক। তারপর আস্তে আস্তে বললো, "প্রেজেন্টেশন রেডি? লাগেজ প্যাক? এই যাত্রায় তোমার যাওয়াটা তাহলে হচ্ছেই। আমাদের ইউরোপ ভ্রমণটা নাহয় মুলতুবি থাক। কিন্তু হবেই। কথা দিলাম। তুমি নিশ্চিন্তে ঘুরে এসো। বিশ্বজয় করো। আমি তো রইলাম।" চন্দ্রিমা কিচ্ছু বলতে পারে না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সীতাংশুর দিকে। শুধু টের পায় দুই গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল। আনন্দের। ছুটে গিয়ে সীতাংশুর কাঁধে লুটিয়ে পড়ে। সীতাংশু হালকা করে "আঃ" বলে দু হাত দিয়ে জাপ্টে ধরে চন্দ্রিমাকে। ভালোবাসার, ভরসার আলিঙ্গনে।

Wednesday, January 8, 2020

je kawta din.. reprise version Anupam Roy

"যে কটা দিন তুমি ছিলে পাশে কেটেছিল নৌকার পালে চোখ রেখে, যে কটা দিন তুমি ছিলে পাশে কেটেছিল নৌকার পালে চোখ রেখে, আমার চোখে ঠোঁটে গালে তুমি লেগে ছিলে.. আমার চোখে ঠোঁটে গালে তুমি লেগে ছিলে। যেটুকু রোদ ছিল লুকনো মেঘ বুনেছিলাম তোমার শালে ভালোবাসা, আমার আঙ্গুল হাতে কাঁধে তুমি লেগে ছিলে.. আমার আঙ্গুল হাতে কাঁধে তুমি লেগে ছিলে। চিন্তার অনুপ্রবেশ রেজার ব্লেডের ধারে বিন্দু বিন্দু মেশে সিন্ধু স্রোতে বাড়ে, মাঠের প্রান্তে যে লোক একলা বাঁশির সুরে সকাল বিকেল ডাকে এমনি ভবঘুরে, স্থানীয় সংবাদে তাই কেউই শিরোনামে নেই। যেভাবে নিঃশব্দে ফেলেছে পা রূপকের সাহায্যে আরও দূরে চলে গেলে। আমার অলস জোছনাতে তুমি লেগেছিলে.. আমার অলস জোছনাতে তুমি লেগেছিলে। যে কটা দিন তুমি ছিলে পাশে কেটেছিল নৌকার পালে চোখ রেখে, আমার চোখে ঠোঁটে গালে তুমি লেগে ছিলে.. আমার চোখে ঠোঁটে গালে তুমি লেগে ছিলে। আমার আঙ্গুল হাতে কাঁধে তুমি লেগে ছিলে.. আমার আঙ্গুল হাতে কাঁধে তুমি লেগে ছিলে।"

Sunday, December 29, 2019

হ্যাপি নিউ ইয়ার

হিমাচল প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম কসোল। পাহাড়ের কোলে এই গ্রাম। পাশ দিয়ে কুলকুল করে বয়ে চলেছে পার্বতী নদী, আপন মনে। কিছু বছর হলো পর্যটকদের অতি প্রিয় জায়গা হয়েছে কসোল। যার ফলে গ্রামবাসীরা অনেকেই তাই ট্যুরিজমকে করে নিয়েছে জীবিকা। অনেকেই এখন নিজেদের বাড়ির দু তিনটে ঘরকে সাজিয়ে গুছিয়ে হোম -স্টে হিসেবে ভাড়াও দিচ্ছে।

বিশ্বনাথ ভার্মা বয়স সত্তরের ওপর। এক কালে কুলুতে সরকারি হোটেলে ম্যানেজারি কাজ করেছেন। এখন অবসর জীবন কাটাতে গ্রামে ফিরে এসেছেন। স্ত্রী মারা গিয়েছেন বছর দশেক আগেই। এখন ছেলে বৌমা আর নয় বছরের নাতিকে নিয়েই সংসার। ছেলেও বাপের মতোই চাকরি করে, শিমলাতে। নামী হোটেলের খাস বাবুর্চি। নামডাক ভালোই। রোজগারপাতি মন্দ নয়। ছেলের পাঠানো টাকা, নিজের পেনশন এই দিয়েই দিব্যি সংসার চলে যায়। বৌমা লক্ষ্মী নামেও লক্ষ্মী, কাজেও তাই। নিজের হাতে সংসারটা যত্ন করে রেখেছে, গুছিয়ে ঘরকন্না করে। নাতি অর্জুন ঠাকুর্দার ন্যাওটা।

দোতলা কাঠের বাড়ির বারান্দায় এক চিলতে রোদ এসে পড়ে সকাল থেকেই। ঠান্ডা কাটাতে বিশ্বনাথ সকল হতেই সোয়েটার টুপি মোজাতে নিজেকে ভালো করে মুড়ে বসে থাকেন সেই রোদে। রোদের ওমটুকু শুষে নিতে। লক্ষ্মী ঠিক সময়মতো হয় নিজে নয় অর্জুনের হাত দিয়ে নাস্তা, কয়েক কাপ চা পাঠিয়ে দেয় ওপরে। পাশে রাখা পুরোনো টেবিলে ততোধিক পুরোনো রেডিওতে বিবিধ ভারতী চ্যানেলে হিন্দি গান চলতে থাকে। খবরের কাগজ, টুকটাক বই পড়া আর রাস্তা দিয়ে চেনাপরিচিত কেউ গেলে দুটো কথা বলা। এই করতেই সকালটা দিব্যি কেটে যায় বিশ্বনাথের।

আজ অবশ্য রুটিনে একটু ব্যাঘাত ঘটেছে। অন্যন্যদিন যখন ঠিক সকাল আটটার সমাচার প্রভাতী শুরু হয়, তখনই বৌমা দিনের প্রথম চায়ের কাপ এসে পৌঁছে যায় বিশ্বনাথের কাছে। আজ সমাচার শেষ। শুরু হয়ে গিয়েছে স্থানীয় সংবাদ। কিন্তু চায়ের দেখা নেই। অথচ বৌমা তো সেই কোন সকাল থেকে উঠে রান্নাঘরে কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে। টুকটাক টুংটাং শব্দ পেয়েছেন বিশ্বনাথ। অর্জুনেরও ঘুম কখন ভেঙে গিয়েছে। হুটোপুটি করছে। তাহলে, চাটা এলো না কেন এখনো? একবার হাঁক পাড়বেন? নাকি নিজেই নামবেন? ভাবতে থাকেন বিশ্বমনাথ। বেলা গড়ায়। শিউনাথ, হরকিষেন সবাই কাজেকর্মে বেরিয়ে পড়ে। রাস্তা থেকে বিশ্বনাথকে হাত জোড় করে প্রভাতী শুভেচ্ছা জানায়।

বিশ্বনাথ ভাবেন, কী হলো ব্যাপারটা, সরেজমিনে দেখতে হবে। লাঠি হাতে টুকটুক করে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগলেন, ধীরে ধীরে। লাঠি ও পায়ের শব্দ শুনে অর্জুন আর লক্ষ্মী দৌড়ে এগিয়ে আসে। জিজ্ঞেস করে, "কী হলো বাবুজি, আপনি নীচে নামছেন কেন? কিছু সমস্যা?" অর্জুন এগিয়ে এসে দাদুর হাত ধরে ওঁকে নামতে সাহায্য করে। বিশ্বনাথ একটা চেয়ারের ওপর বসেন। একটু হাঁফ ছেড়ে বললেন, "লক্ষ্মী বেটি, আজ চা পাঠালি না? ব্যস্ত?" শুনেই লক্ষ্মী দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখে, ঘড়ির কাঁটা নটা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বেশ লজ্জা পেয়ে জিভ কেটে লক্ষ্মী উত্তর দেয়, " মাফ করবেন বাবুজি। একদম খেয়াল করিনি। আমি এক্ষুণি চায় নাস্তা আনছি। আসলে রান্নাঘরে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম..." বিশ্বনাথ বলেন, "আরে ঠিক আছে। এক আধ দিন হতেই পারে। তুই ধীরে সুস্থে নিজের সুবিধে মতো কর। কিন্তু বল, আজ রান্নাঘরে বিশেষ ব্যস্ততা কেন রে?" লক্ষ্মী মুচকি হেসে উত্তর দেয়, "আপনার মনে নেই বাবুজি? আজ কত তারিখ?" বিশ্বনাথ খানিক চুপ থাকেন। তারপর মনে পড়ে যায়। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, "আরে, আজ তো একত্রিশ। আজ তো বিষ্ণু বেটার আসার কথা। আমি ভুলেই গিয়েছি!" লক্ষ্মী হাসি হাসি মুখে বলে, "হ্যাঁ বাবুজি। ওই জন্যই একটু খাস নাস্তা বানাচ্ছি। ওর তো দশটার বাসে আসার কথা। এসে যাতে ওর সবচেয়ে পসন্দের খাবার পায়, তাই ক্ষীর, পুরি আর সব্জি করছি। আপনাকে গরম গরম ভেজে দিচ্ছি এক্ষুণি। একটু ততক্ষণ চায় বিস্কিট খান।" অর্জুন মাকে হাতে হাতে কাজে সাহায্য করে। ভালো ছেলে তৈরি হয়েছে ও। ও রান্নাঘরের তাক থেকে বিস্কুটের টিন নামিয়ে দাদুর জন্য কয়েকটা মিষ্টি বিস্কুট বের করে প্লেটে সাজায়। লক্ষ্মী চায়ের জল গরম বসায়। বিশ্বনাথ বলেন, "বেটা, তুই আমার জন্য তাড়াহুড়ো করিস না। এই তো চা খাবো। ওষুধটা খেয়ে নেব এরপরেই। তারপর বিষ্ণু এলে একসাথে বসে চারজনে নাস্তা করবো। কী বলিস অর্জুন বেটা?" বিশ্বনাথ হাসিমুখে নাতির পানে চেয়ে থাকেন। লক্ষ্মী "জী ঠিক আছে" বলে ঝটপট কাজে লেগে যায়।

বিশ্বনাথ চায়ের কাপ হাতে বসে থাকেন রান্নাঘরের সামনে দাওয়ায়। সকালের নরম রোদ এসে পড়ে গায়ে। বুড়ো হাড়ে ভালোই আরাম লাগে। আয়েশ করে দেখতে থাকেন সুখের সংসারে। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানান প্রতিনিয়ত। কামনা করেন পরিবারের সুস্বাস্থ্যের। এমন সময় রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে নাতি অর্জুন। হাতে ছোট্ট বাটিতে একটু ক্ষীর। দাদুর হাতে ধরিয়ে বলে, "মা বললো একটু চেখে দেখতে। মিঠা ঠিক আছে কি না বলো।" বিশ্বনাথ নাতির হাত থেকে বাটি নিয়ে বলেন, "তুমিই বলো দাদুভাই। তুমি খাও।" অর্জুন মাথা নেড়ে বলে, "নাঃ। তুমি খাও। জলদি জলদি খাও। তাহলে একটা সিক্রেট বলবো। বাবা বারণ করেছে বলতে। বলেছে তোমায় সারপ্রাইজ দেবে।" রান্নাঘর থেকে ছেলের কথা শুনতে পেয়ে দৌড়ে আসে লক্ষ্মী। ছেলেকে থামিয়ে দিয়ে বলে, "আরে আরে, বাবা বলেছে না সিক্রেট। তুই বলে দিলে আর সারপ্রাইজ কী করে হবে?" বিশ্বনাথ বেশ আমোদ পান এতে। হাসিখুশি মুখে বলেন, "কী সিক্রেট বেটি যা বলবি না আমায়?" লক্ষ্মী মাথা নিচু করে বলে, "ও আপনার ছেলে এসে বলবে বলেছে। আমরা বলে দিয়েছি জানলে রাগ করবে।" এই বলে লক্ষ্মী রান্নাঘরে ফেরত যায়। বিশ্বনাথ চামচ করে পায়েসের স্বাদ নেন। আঃ। যেন অমৃত। বৌমাকে রান্নার প্রশংসা জানান। অর্জুন বাটি নিয়ে চলে যায়। বিশ্বনাথ চোখ বুজে রোদের আরাম নেন। ভাবতে থাকেন, কী হতে পারে সারপ্রাইজ। নির্ঘাত ছেলে কোনো বড় চাকরি পেয়েছে। বাঃ। খুব ভালো হয় তাহলে। মাইনে বাড়বে। ইজ্জত বাড়বে। অর্জুন বড় হচ্ছে। খরচা বাড়ছে সংসারের। বিষ্ণু যদি এর মধ্যে ভালো চাকরি পায়, খুব আনন্দের। তবে একটাই আক্ষেপ। হয়তো আরো দূরে চলে যেতে হবে। এখন যেমন মাসে একবার আসে, তখন হয়তো সেটা কমে যাবে। মন কেমন করে বিশ্বনাথের। যত বয়স বাড়ছে, তত যেন বেশি করে পরিবারকে আঁকড়ে থাকতে ইচ্ছে করে। সব সময় মনে হয়, সব্বাই মিলে একসাথে থাকতে পারলে, কী ভালোই না হতো।

সোয়া দশটার দিকে হইহই করে বিষ্ণু বাড়ি ফেরে। অর্জুন তো বাবাকে দেখে যেন হাতে চাঁদ পেয়েছে। এই ঘর ওই ঘর দৌড়াদৌড়ি করে বাড়ি মাত করে ফেলে ও মুহূর্তেই। লক্ষ্মীর চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক স্পষ্ট। হবেই তো। কত মাস পরে বাড়ি এলো বিষ্ণু। সেই পনেরই আগস্টের পর একবার এসেছিল। তারপর আর ছুটি পায়নি। এই সময়টা ঘোর টুরিস্টের মরসুম। হোটেলে মেলা কাজ। তাই ছুটিও বিরল। বিষ্ণু এসে তার বাবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে কুশলবার্তা জানতে চায়। বাবুজির পায়ের ব্যথা, হাঁপানি সব কেমন আছে, ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, সব। লক্ষ্মী তাড়া দেয় এর মধ্যে, "গরম জল করে দিয়েছি। আপনি হাত মুখ ধুয়ে আসুন শিগগিরই। একসাথে নাস্তা করবো সবাই। বাবুজি না খেয়ে বসে আছেন। আপনার অপেক্ষায়।" বিষ্ণু বাবাকে বলে, "কেন বাবুজি? তুমি খেয়ে নাওনি কেন? এতক্ষণ না খেয়ে থাকলে হয়?" বিশ্বনাথ ছেলের কাঁধে হাত রেখে বলেন, "বেটা, এই তো একদিনই এরকম করছি। কতদিন পর দেখা হলো। একসাথে খাই। সব্বাই মিলে। ভালো লাগে।"

বিষ্ণু তড়িঘড়ি পোশাক পাল্টে হাত মুখ ধুয়ে নীচে চলে আসে। লক্ষ্মী ইতিমধ্যে খাবার বেড়ে রেখেছে। অনেকদিন পর সপরিবারে একসাথে খেতে বসা। গরম গরম পুরি ক্ষীর পেয়ে বিষ্ণু খুব খুশি। অর্জুনও এতদিন পর বাবার সান্নিধ্য পেয়ে মহানন্দে। বিশ্বনাথ পুরির টুকরো মুখে পুরে বলেন, "হ্যাঁ রে অর্জুন। তুই যে বললি তোর বাপ কী সিক্রেট সারপ্রাইজ দেবে আমায়, কই, এখনো কিছু বুঝলাম না তো?" বিষ্ণু ক্ষীরের চামচ চেটে নামিয়ে বাবার দিকে তাকায়। বলে, "সত্যিই কিছু বোঝোনি?" বিশ্বনাথ অবাক হয়ে বলেন, "কই না তো। কী?" বিষ্ণু এইবার একবার লক্ষ্মী, একবার অর্জুনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। তারপর বাবার দিকে ফিরে বলে, "দেখলে না এই এত লটবহর নিয়ে ফিরলাম? সব মালপত্র নিয়ে চলে এলাম। বাবা, চাকরিটা ছেড়েই দিয়েছি। আর তোমাদের ছেড়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল না। পারছিলামও না।" হতভম্ব বিশ্বনাথ ভেবে পান না কী বলবেন। খানিক চুপ করে চেয়ে থাকেন ছেলের দিকে। তারপর একটু ধাতস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করেন, "তাহলে? এরপর?" বিষ্ণু উত্তর দেয়, "অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করলাম। তোমার আমার যা অভিজ্ঞতা ট্যুরিজম নিয়ে, আর লক্ষ্মীর যা হাতযশ, কসোলের হোম-স্টে ব্যবসায় আমরাও নেমে পড়ি। নাকি?" বিশ্বনাথ বলেন, "কিন্তু তার জন্য তো অনেক ইনভেস্টমেন্ট লাগবে। পারমিশনের ব্যাপারও আছে। সেগুলো?" বিষ্ণু বলে, "এক মিনিট", উঠে হাত ধুয়ে ব্যাগ থেকে বের করে একটা গোলাপি ফাইল। ওপরে জ্বলজ্বল করছে লেখা, "ভার্মা এন্ড সন হোম-স্টে, কসোল"। বিশ্বনাথের হাতে ধরিয়ে বলে, "এই যে। সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। নতুন বছরে এটাই তোমাকে আমার গিফট। ঠিক যেমন তুমি আমায় দিতে, ছোট থেকে?"

বিশ্বনাথ আনন্দে বিহ্বল। কী বলবে, কিচ্ছু বোঝে না। আনন্দে আত্মহারা। দুই চোখ ছলছল করে আনন্দে। আজ উনি এক গর্বিত পিতা। সপরিবারে একসাথে থাকার এই যে পাকাপোক্ত ব্যবস্থা, এর চেয়ে ভালো নববর্ষের উপহার বুঝি আর কিচ্ছুটি হয় না। সত্যিই আজ "হ্যাপি নিউ ইয়ার।"

Monday, December 23, 2019

মিউট জীবন।

অনেকদিন পর এত বেলা করে ঘুম ভাঙল রেবার। অথচ কী আশ্চর্য, কোনদিকে তেমনভাবে কোনো ব্যস্ততা, হুড়োহুড়ি কিচ্ছুটি টের পাচ্ছে না ও। হলো টা কি? অন্যদিন তো সকাল থেকে এমনিতেই এই স্নেহালয় এপার্টমেন্টে হয় হট্টগোল লেগেই থাকে। সাতটার মধ্যেই ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে কাজের লোকেরা চলে আসে। উঠোন ঝাঁট দেওয়ার ওই কর্কশ শব্দ, বাসনের ঝংকার, বাড়ির ছেলেদের "কই গো, বাজারের ফর্দ দাও", মায়েদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যস্ততা। দোতলার ফ্ল্যাটে বেডরুমে শুয়ে শুয়ে প্রতিদিন রেবার ঘুম ভেঙে যায় ওই শব্দে। এমনিতে রেবার সারা রাত ঘুম আসে না, ওষুধ খেয়েও। ভোরের দিকেই যা একটু চোখে ঘুম নেমে আসে, তবে প্রত্যেকদিন এই ভোরের আওয়াজ মেলায় বিচ্ছিরি ভাবে ঘুম ভাঙে ওর। আর ব্যস, সারাদিন মাথা ধরে থাকা। এই নিয়ে সারাদিন গজগজ গজগজ করতে থাকে রেবা। "ঈশ্বর, কালা করে দাও না আমায়। আর এই এত আওয়াজ, সহ্য করতে পারিনা।"

রেবা বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় গেলো। ব্যাপারটা কী, বুঝতে। দেখলো, বাহাদুর সিং এপার্টমেন্টের উঠোন ঝাঁট দিচ্ছে, রাজু বিশ্বাসদের গাড়ি ধুচ্ছে। বাসন্তী হড়বড় করে গেট ঠেলে ঢুকলো এই মাত্র। কিন্তু কী আশ্চর্য, একটুও শব্দ নেই কেন? অন্যদিন এই গেটের আওয়াজের ঠ্যালায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায়। জলের বালতি দুবার উল্টায়। আজকে যেন মনে হচ্ছে, টিভি দেখছে, মিউট করে। অবাক হয় রেবা। কানের কোনো সমস্যা হলো নাকি? বার কয়েক কান খোঁচায়, ইয়ার বাড বের করে। তাতেও কিছু উপকার হয়না। অদ্ভুত ব্যাপার।

দিন গড়াতে থাকে। রেবার অবস্থার কোনোই উন্নতি হয়না। ছেলে মেয়েরা বারবার ফোন করে করে সাড়া পায়না। হোয়াটসআপে মেসেজ পেয়ে তাদের শান্ত করে রেবা, কিন্তু ঘটনাটা কিচ্ছু জানায়না। আজ আবার বড়দিন। ডাক্তার বদ্যিও পাবেনা। কাল ই এন টি দেখাবে স্থির করে রেবা। সারাদিন নিজের মতো কাজ নিয়ে থাকে। মন্দ কাটেনা শব্দবিহীন। বেশ যেন স্তব্ধতা, শান্তি। বই পড়ে ঘরের কাজ করে দিন কাটে। শুধু একটাই আক্ষেপ, ক্রিসমাস ক্যারল শোনা হলো না ওর। ফোনেও গল্প হলো না। নাতি নাতনীদর মিষ্টি কলকাকলিও শোনা হয়না। রাত্রে শোয়ার আগে রেবা ভাবতে বসে, সারাদিন কেমন গেল। মন্দ নয়, কিন্তু এই কি ভালো? একটুও শব্দ নেই, পাখির গান নেই, রেডিওর বকবক নেই, রোজের জীবন যেন নীরস। নাঃ, ঘুম হয়তো ভালো হবে, বা হবে না। কিন্তু দিন মোটেই ভালো যায়নি। কে জানে, কাল ডাক্তার কী বলেন। ভাবতে ভাবতে রেবা শুয়ে পড়ে। রাত্রে স্বপ্নে স্যানটা বুড়ো হাজির। হাসিমুখে বলে, "কী? খুব তো শখ ছিল কালা হওয়ার, ভালো লাগেনি তো? কাল সকালে উঠে দেখবে সব আবার আগেরমত। আর হ্যাঁ, বুঝেশুনে উইশ করো। বুঝলে রেবারানী?"

(৫)
- তখন ফোনটা রেখে দিলি কেন?
- ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদে চলেছিস, ফোন ধরে থেকে কী করবো? এখন আর জিও টু অন্য নেটওয়ার্ক ফ্রি নেই রে।
- তা বলে তুই ফোন ছেড়ে দিবি?
- আহা, ফোনই তো ছেড়েছি, তোকে তো আর না।
- একদম বাটারিং করবি না। আমি সব জানি। সব বুঝি।
- হ্যাঁ, আমার সমঝদার ম্যাডাম এসেছেন। একদিন ঝগড়া হলো, তারপর দশদিন মুখ দেখাদেখি, কথা বলাবলি সব বন্ধ?
- তুইও তো ফোন করিসনি। আমার মেসেজের উত্তর দিসনি।
- ফাইনালি কল তো আমিই করলাম কাল। তুই তারপর কাঁদতে শুরু করে দিলি। আমি কোথায় যাই?
- ঝগড়া করবো তোর সাথে। জমিয়ে ঝগড়া করবো। অনেক অনেক পেন্ডিং আছে। প্রায়োরিটি লিস্টে আমি কেন এত নীচে, সেটা জানতে চাইতেই অমনি ওরকম করবি? কার না কার ওপর রাগ, তার গোঁসা আমার ওপর দেখবি? ইয়ার্কি না? ওইসব চলবে না।
- আচ্ছা। সরি।
- ইউ বেটার বি। কালকেই ঝগড়া করতাম। কিন্তু তার মধ্যে কেঁদে ফেলতাম অবধারিত। জানিসই তো, আই ক্রাই এট দ্য ড্রপ অফ আ হ্যাট।
- সে জানি।
- কাল ওরকম হলে অমনি ডাকওয়ার্থ লুইসের দোহাই দিয়ে আমি জিতেছি বলে অপবাদ দিতি।
- সে দিতাম। কিন্তু তুই বল, কী করে শিওর হলি যে তুইই জিততি?
- এখনো সন্দেহ আছে?
- তা আছে।
- হয়ে যাক তাহলে। এমনিও প্রচুর রাগ জমে আছে আমার। অনেক অনেক পয়েন্টস। লিখে রেখেছি।
- আপাতত শীতকাল। ওইসব তোলা থাক বরং। এখন না হয় একটু নলেন গুড়ের মতো মাখোমাখো প্রেম করি? ঝগড়াগুলো গ্রীষ্মের জন্য তোলা থাক? কেমন?
- হতভাগা। ঠিক সেই ম্যানেজ দিয়ে ফেলিস।
-হারকে জিতনে ওয়ালো কো বাজীগর কেহতে হ্যায়, গুরু বলে গেছেন! আমি হলাম তাই।
- ঢং যত্তসব।
(শেষ)
#অগ্নি-রুমুন
#সীজন২

Sunday, December 22, 2019



(৪)

হাতে কফির কাপ। উদাসিনী বেশে, বারান্দায় বসে। নিজের হাতে গড়া সবুজালির মধ্যে, একটু মনকে শান্ত করতে। ঠিক এমন সময় হাতে রাখা ফোনটা বেজে উঠলো। চেনা রিংটোনে। এতদিন পর। ফোনের ভাইব্রেশনের সাথে বুকের ধুকপুকানি রেসোনেট করছে। সত্যিই কি তাহলে অগ্নি ফোন করলো? কাঁপা কাঁপা হাতে সবুজ আইকনটা স্লাইড করলো রুমুন। বললো,
- হ্যালো?
- বলছি শোন, আমি কিন্তু খুব ভালো চিকেন মোমো আর থুপ্পা বানাতে পারি।
- কী?
- বলছি যে আমি মোমো আর থুপ্পাটা ভালোই রাঁধতে পারি।
- হঠাৎ?
- না মানে আজ ওলা শেয়ারে আসতে আসতে শুনলাম একজন আরেকজনকে ফোনে বলছে, তার খুব আক্ষেপ। তার বর রাঁধতে পারেনা কিছু। এমনকী চা পর্যন্ত পারে না। গরম জলে টিব্যাগ চুবিয়ে চা খায়!
- সো?
- সো, আই এম এশিউরিং ইউ। বিয়ের পর তোর কোনো সমস্যা হবে না। আমি তোকে দিব্যি রেঁধে বেড়ে খাওয়াতে পারবো। হয়তো হ্যাঁ, আমার মায়ের মতো ভালো পোলাউ বানাতে পারবো না, বা কাকিমার মতো চিতল পেটিও না। কিন্তু জ্বর হলে স্যুপ থুপ্পা সব যত্ন সহকারে রেঁধে খাওয়াতে পারবো। কাজেই, ইউ আর ইন গুড হ্যান্ডস।
-
- কীরে কিছু বল?
-
- কীরে রুমুন?
-
- ওমা, কাঁদছিস কেনো? ধুর পাগলী। এই, এই রুমুন...


#রুমুন_অগ্নি
#সীজন২





আচ্ছা ধরুন আগামী দুইদিন আপনার প্রচন্ড কাজের চাপ, অসংখ্য ডেডলাইনসের পিছনে ছুটতে হবে। আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই সেইসব কাজকর্মই করবেন, তাই না? কিন্তু আমি? আমি হলাম সে যে তখন উশখুশ করবে, কখন কয়েক লাইন লিখে ফেলি। সে প্রেমের গল্প হোক বা মজার কিছু। রোজ কিছু না কিছু না লিখলে হজম হবে না।
আচ্ছা, রাস্তাঘাটে এমন কখনো হয়েছে যে আপনি কাউকে দেখে হাসলেন, কথা বললেন, খুব চেনাও লাগলো। কিন্তু কিছুতেই নাম মনে করতে পারলেন না? আমি ঠিক ওই স্যাম্পল। এত বেশি বকি, এত বকি, এতজনের সাথে আলাপ, জাস্ট ট্র্যাক রাখতে পারিনা আর!
এই বকবকের সূত্রেই বলে রাখি বাপু, বন্ধুমহলে agony aunt হিসেবেও কিন্তু খুব খ্যাতি। আবার প্রচুর পজিটিভ ভাইবস ছড়াতেও এক্সপার্ট। বেসিকালি, প্রিয় রঙ হলুদের মতোই আমিও সব সময় ঝকঝকে, হাসিখুশি প্রাণবন্ত থাকতে ভালোবাসি।
এই তো, অনেক বললাম। আর বাকিটা চিনতে হলে, আলাপ বাঞ্ছনীয়। কী, হবে নাকি একসাথে এক কাপ কফি?