Tuesday, December 4, 2018

"সৃজন ছন্দে"

দেয়াসিনীর জন্ম, বড় হয়ে ওঠা সমস্তই পলাশপুর গ্রামের বনেদি বড়লোক বাড়িতে। মিত্র বাড়ি এমনই এক বাড়ি, যেখানে ঐশ্বর্য ও বৈভবের কোন অভাব না থাকলেও, পরিবারের কিছু কিছু সদস্যদের জন্য সব সময়ই অনেক কিছুই থেকেছে না পাওয়ার তালিকায়। সেই বিশেষ সদস্যরা সকলেই নারী। পরিবারের রক্ষণশীল তথাকথিত পুরুষসিংহেরা কেউই চাইতেন না তাঁদের পরিবারের মেয়েরা কোন স্বপ্ন দেখুক। বা নিদেনপক্ষে মুক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিক। দেয়াসিনী  ও ওর বাকি জেঠতুতো খুড়তুতো দিদি ও বোনেরা এটাকেই স্বাভাবিক, এটাই ভবিতব্য মেনেই নিয়েছিল। দিব্যি চলছিলও জীবন। এক এক করে স্কুলের গণ্ডী পার করেই বসে যেত বিয়ের পিঁড়িতে। তারপর মা কাকীমাদের মতোই অন্যের সংসারের ঘানি টানা।

এমন সময়ে এই বাড়ির বড়কর্তা দিব্যকান্তি মিত্র, অর্থাৎ দেয়াসিনীর সবচেয়ে বড় জ্যাঠার নামে এলো একটি চিঠি। বাড়ির মেয়ে, চন্দ্রিমা, যিনি পঁচিশ বছর আগে পরিবারের "মুখ কালো" করে এক ভিন্ন জাতের ছেলেকে ভালোবেসে তার সাথে পালিয়ে বিয়ে করায় ত্যাজ্য কন্যা হন, সম্প্রতি দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা গিয়েছেন। ওঁর একমাত্র ছেলে দেবদূত গ্রামের বাড়িতে এসে সকলের সাথে দেখা করতে চায়। চন্দ্রিমা দেবীর ঘটনাটি ঘটে ওঁর বাবা, রামকৃষ্ণ মিত্রের নির্দেশে। পাঁচ ভাইয়ের পর প্রথম বোন চন্দ্রিমা ছিল দাদাদের বড় আদরের। বাবার কথা অমান্য করার "শিক্ষা" কেউই পাননি বলে তাঁরা তখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে পারেননি। তবে আজ যখন সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিব্যকান্তির হাতে, তিনি দুইবার ভাবলেন না। ভাগ্নেকে সত্বর আসতে বললেন। বাকি সদস্য সদস্যারা অবাক হলেন বটে। তবে স্নেহের টানকে যে উপেক্ষা করা যায় না, এটা ভেবে সবটা মেনে দেবদূতের আগমনের আয়োজন শুরু হল।

এক সপ্তাহ পর দেবদূত এলো পলাশপুর। মামার বাড়ি এসে সে যে খুব বেশি খাতির যত্ন পাবে না, এমনটা জানত। তবুও, ওকে আনতে যে স্টেশনে মামারা লোক পাঠাবেন গাড়ি নিয়ে, সেটা ভাবতেই পারেনি। মায়ের কাছে এই বাড়ির কত গল্প শুনেছে। ছোট থেকে যখন বন্ধুরা ছুটিতে মামাবাড়ি যাওয়ার গল্প করত, মুখ চুন করে থাকত ও। আজ এতগুলো বছর পর যে সেই মামাবাড়িতে আসছে, আলাদাই অনুভূতি। শুধু যদি মা এই দিনটা দেখে যেতে পারত।

দেয়াসিনীর খুব ভালো লেগেছে এই দাদাটিকে। কী শান্ত, শোভন, ভদ্র। ওর চেনা পরিচিত এই বয়সী ছেলেদের চেয়ে অনেক ভালো, অনেক আলাদা। যদিও দেয়ার থেকে দেবদূত প্রায় বছর আটেকে বড়, তবুও দুজনের আলাপটা ভালোই জমেছে। লেখাপড়া, দেশ বিদেশের গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে দেয়ার। আর এই দাদাটিও বড় ভালো গল্প করতে পারে। একেবারে মাতিয়ে রাখে।

দেয়াসিনী ওর অন্যান্য ভাই বোনেদের থেকে একটু হলেও আলাদা। বয়স সুলভ কোন প্রগল্ভতা নেই। শান্ত, স্নিগ্ধ। পরিবারের একেবারে "আদর্শ মেয়ে"। একদিন দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর দেয়াসিনী ছাদে বসে চড়াই পাখিদের চাল খাওয়াচ্ছে, এমন সময় পায়ের শব্দে চমকে উঠল। এই সময়ে সচরাচর কেউ এদিকে আসে না। এটা ওর এক্কেবারে নিজস্ব জগত। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে দেবদূত। গলায় ক্যামেরা ঝোলানো। ঠিক বাবাই দাদার ওই বন্ধুটার মতো, যে গতবারে পুজোয় কলকাতা থেকে এসেছিল।
"কী করছ?" হাসি মুখেই জিজ্ঞেস করলো দেবদূত।
দেয়া একটু লজ্জা লজ্জা পেয়ে মুখ নামিয়ে বলল, "তেমন কিছু না। ওই একটু চড়াইগুলোকে খেতে দিচ্ছি। রোজ এই সময়ে ওদের খেতে দিই। না দিলে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে নেবে।"
দেবদূত বলল, "পাখী ভালোবাসো?"
দেয়া মাথা নাড়ল।
"আর কী কী ভালো লাগে তোমার?" দেবদূত আবার প্রশ্ন করলো।
"আর কী? কিছু না।" দেয়া উত্তর দিল।
দেবদূত নাছোড়বান্দা। আবার প্রশ্ন করলো, "তা তো হয় না দেয়া রাণী। ক্লাস টেনের মেয়ে, শখ আহ্লাদ নেই নাকি? কোন হবি নেই?"
"ওই একটু আধটু মাঝে মাঝে বাড়িতে কেউ না থাকলে বা এমনি দুপুরে ছাদে এসে টুকটাক নাচ করি। দিদিভাই বা বোনুর মতো গানও গাইতে পারি না। আবৃত্তিও পারি না। ওই একটু টিভি দেখে বা স্কুলে যেটুকু বন্ধুদের দেখি, অল্প নাচ পারি।" কথাগুলো বলেই দেয়া জিভ কাটল। বেশ ভয় ভয়েই বলল, "দেবদা, তুমি কিন্তু এই কথাটা বাড়ির কাউকে বলো না প্লিজ। ওরা জানতে পারলে কেলেঙ্কারি হবে।"
"কেলেঙ্কারি? কেন? কীসের কেলেঙ্কারি?" দেবদূত অবাক।
"তুমি জানো না দাদা। নাচ নাকি আমাদের মতো ভদ্রও বাড়ির মেয়েরা করে না। এসব নাকি ধিঙ্গিপনা। দুই বছর আগে স্কুলের ফাংশানে আমায় নাচ করতে ডেকেছিল। সেই নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড। বুড়ি দিদা মানে বাবাদের পিসি, তখন জীবিত ছিলেন। সে কী চিৎকার চেঁচামিচি।" দেয়াসিনী বলল।
"আচ্ছা, তুমি কী নাচ ভালোবাসো? ক্লাসিকাল? নাকি ফিল্ম?" দেবদূত জানতে চাইল।
"আমি সব পারি দাদা। তবে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর নজরুলগীতির সাথে বেশি ভালো লাগে।" দেবদূত লক্ষ্য করলো, দেয়ার মুখ চোখে কী অপরিসীম আনন্দ যখন ও নাচের গল্প করছিল। কোন কোন গানের সাথে ও কীভাবে স্টেপ শিখেছে, সব গল্প করতে করতে এ যেন এক অন্য দেয়া। শান্ত নির্জীব মেয়েটির মধ্যেও যে এত প্রাণখোলা ব্যাপার আছে, ওকে আজ না দেখলেই জানতেই পারত না দেবদূত।
কলকাতায় বান্ধবী প্রিয়স্মিতাকে ফোন করে সবটা বলল। প্রিয়স্মিতা নিজেও নাচ করে। রীতিমত স্টেজে প্রচুর মানুষের সামনে শো হয় ওর। ভারতনাট্যম। দেবদূত ওকে বলল, "প্রিয়া, আমার এই বোনটার জন্য কিছু কি করা যায় না?"
প্রিয়স্মিতা খানিক ভেবে বলল, "একটা কাজ করবি? আমায় একটা স্যাম্পেল পাঠাতে পারবি ওর নাচের? দেখি?"
দেবদূত খানিক ভেবে বলল, "দেখ ক্যামেরা সাথেই আছে। দেখি দেয়াকে রাজি করাতে পারি কি না।"
"ওই মিনিট দুই তিনেকের করলেই হবে। তুই দেখ। পাঠা আমায়। দেখছি কী করা যায়।" প্রিয়স্মিতা জানালো।

সেদিন বিকেলে চায়ের আসরের গল্প গুজবের এক ফাঁকে দেবদূত দেয়াকে ডেকে বলল, "শোন, আমার এক বান্ধবী খুব ভালো নাচ করে। আমি ওকে বলেছি তোমার কথা। ও খুব আগ্রহী তোমার নাচ দেখতে। তুমি আমায় তোমার নাচের ভিডিও শুট করতে দেবে প্লিজ?"
দেয়ার তো শুনেই মুখ চোখ ফ্যাকাসে হওয়ার জোগাড়। কোনমতে ফিসফিস করে বলল, "সে কী দেবদা? তা আবার হয় নাকি? বাড়ির লোকজন জানতে পারলে কেলেঙ্কারি।"
"জানবে কী করে? তুমি যেমন ছাদে এসে মাঝে মাঝে নিজের মনে নাচ করো, সেরকম করবে। আমি ভিডিও করে নেবো। কেউ জানতেও পারবে না।" দেবদূত আশ্বস্ত করলো দেয়াকে। দেয়া কথা দিল না।

দেবদূতের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে আসছে। দেয়াসিনী এখনও দ্বন্দ্বে। কী করবে? নাচতে তো ও ভালোবাসেই। নাচের ভিডিও দাদাকে করতে দেবে? যদি বাড়িতে জানাজানি হয়ে যায়? যদি বকা খায়? গেলবারে যা বকুনি দিয়েছিল জেঠু। বাবাও বাঁচাতে পারেনি। বাবা তাও ওর শখ আহ্লাদ নিয়ে ভাবে। কিন্তু জেঠুর সামনে তেমন বলতেও তো পারে না কিছু।

গল্প করে, এদিক ওদিক ঘুরে বেরিয়ে, খাওয়া দাওয়া করে কীভাবে যে দিনগুলো কেটে যায়, খেয়ালই থাকেনা। কাল দেবদূত চলে যাবে। আজ শেষবারের মতো সুযোগ। বারবার বলেছে ও দেয়াকে। দেয়া ছাদের এক কোণে চুপ করে বসে আছে। মন খারাপ। একদিকে মনে হচ্ছে নাচটা করেই ফেলে, আবার আরেকদিকে ভয়। লোক জানাজানির।

হঠাৎ টের পেল, কখন জানি পাশে এসে বসেছে বাবা। আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেবদূত।
"কী ভাবছিস রে দেয়া?" বাবা সস্নেহে জিজ্ঞেস করলেন।
"কই, কিছু না তো।" দেয়া মাথা না তুলেই উত্তর দিল।
"বললেই হল? আমি পরিষ্কার দেখছি আমার দেয়া রাণীর চোখে মুখে চিন্তা। কী হয়েছে আমায় বল?" বাবা বললেন।
"একটা কনফ্লিক্ট চলছে বাবা মনের মধ্যে।" দেয়া আস্তে আস্তে উত্তর দিল।
"দেবদূত আমায় সব বলেছে। নাচ করতে ভালবাসিস যখন, দাদা নাচ করতে বলছে, কর না। কিচ্ছু অসুবিধে হবে না। আর শোন, কেউ কিছু বললে, আমি আছি তোর সাথে।" বাবার কথায় যেন দেয়া অনেকটা ভরসা পেল। 
"ঠিক আছে দেবদা, তুমি ক্যামেরা আনো। আমি নাচ করব। এই এইদিকটায় করি? আলোটা ভালো পাবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুলগুলোও দিব্যি মানাবে। বলো?" দেবদূত বোনের উচ্ছ্বাস দেখে অবাক। কে বলবে এই মেয়েটাই অন্য সময় এমন গুটিয়ে থাকে। "বেশ। তাই হবে। তুমি এসো।"

ক্যামেরা তাক করে আলো দেখে সেটিং ঠিকঠাক করল।
দেয়াসিনী ওর মোবাইল থেকে "সৃজন ছন্দে আনন্দে" গানটি চালিয়ে শুরু করল ওর নাচ। দেয়ার বাবা মেয়ের এই অপূর্ব নাচ দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে রইলেন। দেবদূতও মুহূর্তগুলি ক্যামেরা বন্দী করতে করতে মুগ্ধ। প্রিয়স্মিতা যদি মেয়েটির এই প্রতিভার জন্য কিছু করতে পারে, তাহলে খুবই ভালো হয়। ভিডিও তুলে দেবদূত খুব সন্তুষ্ট। অনেকদিন পর।
পরেরদিন ওর ফেরার পালা। ভাই বোন মামা মামীদের ছেড়ে যেতে মন খারাপ লাগবেই। শিগগিরই আবার ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তবে ও গেল। সামনে অনেক কাজ। বোনের জন্য কিছু একটা করতে হবে।

দেবদূত চলে যাওয়ার পর প্রায় মাস খানেক কেটে গিয়েছে। এখন বাড়ির লোকেদের আলোচনার মধ্যে ওর প্রসঙ্গ আসাও প্রায় কমেই গিয়েছে। তবে সকলের সাথে ও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে, বিশেষ করে ভাই বোনদের সাথে।
ওদেরকে কলকাতায় ওর বাড়িতে আসার জন্য বারবার বলেছে। ওরা শুধু দিনক্ষণ খুঁজছে। এমন সময় বেশ অপ্রত্যাশিতভাবেই একটা সুযোগ এসে গেল। দেয়াসিনীর নাচের ভিডিওটা প্রিয়স্মিতা ওর নাচের গুরুকে দেখিয়েছিল। গুরুমার সেটা বেশ পছন্দ হয়েছিল। উনি এবারে একটা গ্রুমিং ওয়ার্কশপ আয়োজন করবেন ঠিক করেছেন। সপ্তাহব্যাপী। সেখানে যাতে প্রিয়স্মিতা এই মেয়েটিকে আনতে পারে, উনি বারবার করে বলেছেন। দেবদূত জানে, মামাবাড়িতে সবাই ওকে খুব ভালবাসলেও ওর এই প্রস্তাবে রাজি হবে না কিছুতেই। তাই ঠিক করেছে ভাই বোনেদের কলকাতা ঘোরাবার নাম করে পলাশপুর থেকে যে নিয়ে আসবে, সেটা এই ওয়ার্কশপের সময়েই। সেজো মামা, মানে দেয়ার বাবার সাথে আলাদা করে এই নিয়ে কথাও বলে রেখেছে ও। উনিই আসবেন ওদের সাথে অভিভাবক হয়ে।

আজ সক্কাল সক্কাল ভাই বোনেরা দেয়ার বাবার সাথে রওনা দিল কলকাতার উদ্দেশ্যে। গতকাল রাত্রে যখন প্রায় শুতে যাবে দেয়া, বাবা ঘরে এসে ওকে একটা নতুন কিনে আনা ঘুঙুর দিতে দিতে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "দেয়া রাণী, দুনিয়া জয় করে আয়। আমার সোনা মা।" সারা রাত উত্তেজনায় দেয়ার ঘুম হয়নি। কী আনন্দ। ও নাচ করবে। নাচের প্রশিক্ষণ পাবে। ওর স্বপ্ন সফল হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাবার আশীর্বাদ রয়েছে ওর সাথে।





Friday, November 23, 2018

সিরিয়ালঃ সিরিয়াসলি নেবেন না (লাস্ট)

#সিরিয়ালঃসিরিয়াসলি_নেবেন_না

ইয়ে মানে ইচ্ছে ছিল বেশ জমাটি একটা কমপ্লিকেটেড স্ক্রিপ্ট লিখব। খানিকটা এরকমঃ

সুপর্ণা শ্রীপর্ণার মধ্যে ঝামেলা টামেলা হবে কে রণিতকে নিজের জামাই বানাবে বলে। এই সব করতে গিয়ে শ্রীপর্ণা আবার আদিত্যর সাথে এক্সট্রা মারিটাল করবে।

রণিতের "দিভ্যা" এদিকে হঠাৎ কী করে অসুস্থ হবে। (সে বাই দি ওয়ে রণিতের বাগদত্তা) আই সি ইউ তে থাকবে। হসপিটালে। সেই হসপিটালের রিসেপশনিস্ট আবার ওই দ্বিতীয় পর্বের "অনামিকা" (আচ্ছা বেশ, ওর নামই না হয় অনামিকা হোক)। অনামিকা দেখবে রণিত দিভ্যাকে কত ভালোবাসে। সেবা যত্ন করে (আই সি ইউ তে পেশেন্ট পার্টি এমন ২৪ ঘণ্টা থাকে কি? কে জানে?)। মুগ্ধ হয়ে যাবে। রণিতকে সাপোর্ট করতে যাবে ইমোশনালি। সেই করতে গিয়ে এখন রণিতের প্রেমে হাবুডুবু খাবে।

প্রচুর যোগা খিচুরি। (অত লেখার ধৈর্য নেই। সত্যি বলছি।)

তারপর হঠাৎ "দশ বছর পর, মেগা এপিসোড"।

সেখানে দেখা যাবে

১। বুবাইয়ের সাথে রণিতের সেই আই সি ইউ বান্ধবী দিভ্যার বিয়ে হয়ে আছে। ওদের যমজ বাচ্চা আছে দুটো।

২। বিট্টুর সাথে সেই ডেলিভারি বয়ের এনগেজমেন্ট হচ্ছে। সে ছোকরা এখন আমাজনে টেকনিকাল স্পেশালিষ্ট। পড়ার খরচ চালাতে ডেলিভারির কাজ করত।

৩। বুবাইয়ের লিভিং পার্টনার অনামিকা।

৪। আদিত্য আর সুপর্ণা একসাথেই থাকে।  সপ্তাহে পাঁচদিন। উইকেন্ড কাটাতে অবশ্য শ্রীপর্ণা ওদের জয়েন করে। ওর মেয়ে মুন্নি (নাকি মুনিয়া, কী নাম ছিল জানি?) আসলে জানা যাবে আদিত্যর মেয়ে। তাই শ্রীপর্ণা মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য বাপকে দায়িত্ব নিতে বলবে।

এরা সবাই ফ্যামিলি ভেকেশনে মালয়শিয়া এসেছে (এয়ার এশিয়ায় সস্তায় টিকিট পেয়েছিল, কী করবে) । একটা রিসোর্টে একসাথে খানা পিনা চলছে।

ম্যানেজার আসবে কিছু জিজ্ঞেস করতে আদিত্যকে। সুপুরুষ, স্মার্ট, ইয়োং।

তার কথা থামিয়ে আদিত্য ওকে বলবে, "ইয়ং ম্যান, আর ইউ ম্যারিড?"
সে অবাক হয়ে বলবে, "নো স্যর।"
আদিত্যঃ বেশ। তুমি তাহলে আমার জামাই হবে। সি দ্যাট প্রিটি লেডি ইন পিঙ্ক? (মুন্নির দিকে পয়েন্ট করবে। মুন্নি কেন কে জানে পুলের ধারে পিঙ্ক লেহেঙ্গা পরে বসে আছে।) ম্যারি হার।

শ্রীপর্ণা আনন্দে ঢলে পড়বে আদিত্যর গায়ে। সুপর্ণাকে দেখা যাবে চেক-আউট করছে পাশের টেবিলে একটা সল্ট অ্যান্ড পেপার হেয়ার, দারুণ দেখতে, মাঝ বয়সী ভদ্রলোকের দিকে।

And they all lived happily ever after...(শিগগিরই টিভির পর্দায় অন্য কোন সিরিয়ালে আবার এদের সাথে দেখা হবে।)

সিরিয়াল সিরিয়াসলি নেবেন না ৩

৩।

কলিং বেল শুনে বিট্টু দৌড়ে গেল দরজা খুলতে।
"কে এলো রে? গেস্ট লিস্ট থেকে তো আর কারুর বাকি নেই আসার?" একটু অবাক হয়েই ইনিয়ে বিনিয়ে সুপর্ণা মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো। রাত্তির দশটা বাজে। ড্রয়িং রুমের ঘড়িতে বেশ একটা অ্যান্টিক গ্র্যান্ডফাদার ক্লকে ক্যামেরা ফোকাস করবে, ঢং ঢং করে আওয়াজ হবে।
"নির্ঘাত ক্যাটারিং এর ছেলেটা। দাঁড়াও না, ফোন করলে রিসিভ করবে না, বড্ড বেশি বাড় বেড়েছে এদের। আমায় চটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সহজ না। ওর ব্যবসা বন্ধ করে দেবো আমি। Just wait and watch... (বেশ চিবিয়ে চিবিয়ে পজ দিতে দিতে এরই মধ্যে পঞ্চাশ বার আঁচল ঠিক করতে করতে বিট্টু বলবে)।
"বিট্টু মাথা গরম করিস না মাম্মা, এত নিমন্ত্রিত লোকজন বাড়িতে, এখনই একটা সিন ক্রিয়েট না করলেই নয়? প্লিজ সোনা..." সুপর্ণা মেয়ের কাঁধে হাত রেখে মেয়ের মেজাজ ঠাণ্ডা করতে চেয়ে বলে।
বিট্টু দরজার দিকে এগোয়। যাওয়ার পথে usual party scene cross করে। অনেক মহিলারা ওর দিকে তাকিয়ে হাসলও (অবশ্যই ঈর্ষান্বিত হাসি)। এই এরাই আগামী কিছুদিনের মধ্যেই কিটি পার্টিতে বিট্টুর সাহসী পোশাকের ব্যাপারে মুখরোচক গল্প করবে।
বেল বাজল দ্বিতীয়বার।
খুব বিরক্ত মুখ করে বিট্টু এগিয়ে চলবে।
"আরে আসছি।" চিৎকার করে বলবে ও।
দরজা খুলেই আবার চিৎকার। "নিজেরা এত্ত লেট করে আসার বেলায় কিছু না, আর এখন এরকম অসভ্যদের মতো বারবার বেল বাজাচ্ছেন যে?"
দরজার ওপারে দেখা যাবে রণিতকে। বেশ একটা হকচকিয়ে গিয়েছে। ওর পিছনে ডেলিভারি বয় গোছের কেউ। রোগা পটকা, চুল উসকো খুস্কো, হাতে পায়ে কাদা মাখামাখি প্রায়। জামাতেও ওরকমই কিছু। দুজএন্র হাত ভর্তি বড় বড় প্যাকেট/বাসন...
রণিতঃ ম্যাডাম আপনি যা ভাবছেন তা না।
বিট্টুঃ চুপ করুন। একদম মুখে মুখে তর্ক করতে আসবেন না (আঙ্গুল তুলে, বেশ চোখ টোখ পাকিয়ে)। রাত্তির দশটা বেজে গিয়েছে। অর্ডার ডেলিভারির সময় কটা ছিল, খেয়াল আছে?
রণিতঃও ম্যাডাম, শুনুন না। বলছি যে...
বিট্টূঃ চুপ। একদম চুপ। (বেশ জমকালো কান ঝালাপালা করা মিউজিক চাই) আপনার সুপারভাইজারের সাথে কথা বলে নেবো আমি। আপনার মতো দু পয়সার এমপ্লয়ীর সাথে কথা বলা না, আমার ইমেজের সাথে যায় না। বুঝেছেন? যতসব ইনএফিশিয়েন্ট ইউজলেস ডেলিভারি বয় পাঠায়।
ইতিমধ্যে "কে রে মা? কী হয়েছে?" বলতে বলতে আদিত্য বাবু চলে আসেন। বিট্টূ ন্যাকা/রাগী মুখ করে প্রচুর চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, "বাবা দেখো না, কেটারিং এর লোকগুলো দেরি করে এসেছে। এদিকে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন কী না কী।"
আদিত্যঃ কই দেখি?
রণিতঃ আঙ্কল, অ্যাকচুয়ালি আমি কেটারিং এর স্টাফ নই। সেটা ও। (পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখায় আঙ্গুল দিয়ে)
আদিত্যঃ তুমি কেটারিং এর না?
রণিতঃ না।
আদিত্যঃ তাহলে তোমার হাতে এই এত্ত এত্ত প্যাকেট কীসের?
রণিতঃ সেটাই তো তখন তো বলতে চাইছই। ম্যাডাম কথাটা কমপ্লিট করতে দিলে তো?
বিট্টূঃ বাবা why are you wasting your time on him?
আদিত্যঃ আরে দাঁড়া না, বুঝতে ডে আমায় ব্যাপারটা। পুরোটা শুনতে ডে। হ্যাঁ তা বাবা, বলো তো কী বলছিলে? (রণিতের দিকে তাকিয়ে)
বিট্টূ বেশ বিরক্ত মুখ করে "যতসব ন্যাকামি" বলে চলে গেল একটু দূরে।
রণিতঃ আঙ্কল, আমার নাম রণিত। রণিত গাঙ্গুলি। আমি একজন অন্ত্রেপ্রেনিউর। কিছু মাস হল ইউ এস থেকে ইন্ডিয়া ফিরেছি (ইতিমধ্যে আশে পাশে শ্রীপর্ণা সুপর্ণা দুজনেই হাজির। ইউ ফেরত শুনে দুজনেরই চোখ চকচক করছে। দুজনেরই যে বিবাহযোগ্যা কন্যা আছে) আমি এক জায়গায় যাচ্ছিলাম ড্রাইভ করে। তখন এই ছেলেটির সাথে দেখা হল। রাদার, ওর বাইক স্কিড করে এক্কেবারে আমার গাড়ির সামনে এসে পড়ল। he was panicking, and yeah, so was I (বেশ নার্ভাস হাসি হেসে বলল)... ও বলল ওর কোথায় খাবার পৌঁছনর কথা। দেরি হয়ে যাওয়ায় স্পিডে বাইক চালাতে গিয়েই এই বিপত্তি। আমি ওকে আস্তে আস্তে টেনে তুললাম। বাইকটা চালানোর মতো কন্ডিশনে ছিল না। সাইড করে ওকে গাড়িতে নিয়ে আমি ফার্স্ট এড দিইয়ে তারপর এখানে এলাম।
আদিত্যঃ ওহো। এই রে। খুব খারাপ খুব খারাপ। (ছেলেটির দিকে তাকিয়ে) বাবা তোমার তো বেশ ইনজুরি দেখছি। শোনো, (ওয়ালেট বের করে, সেখান থেকে এক তাড়া নোট বের করে) এই টাকাটা ধরো। চিকিৎসা করিয়ো। ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি যেয়ো।
আদিত্য বাবু ভিতর দিকে মুখ ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে বললঃ এই বুবাই? বিট্টূ? এদিকে এসে খাবার গুলও নিয়ে যা প্লিজ।
রণিতের দিকে মুখ ঘুরিয়ে এবার বললেন, "বাবা রণিত, থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ।তোমার সাথে আলাপ করতে হবে গুছিয়ে। এসো না। we are having a aprty tonight, to celebrate my anniversary. Why don't you join us for dinner?"
রণিতঃ It's okay uncle. Happy anniversary uncle aunty.. But some other time..আমি একটা অন্য পার্টিতে যাচ্ছিলাম। ওখানে সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সো...
আদিত্যঃ তা হয় নাকি?
রণিতঃ না আঙ্কল, আমি সত্যিই পারবো না আজ।

বিট্টূ পাশ থেকে এসে বিরক্ত মুখ করে তাকাবে রণিতের দিকে। যদিও এমন সুপুরুষের প্রতি একটু কৌতূহলও হবে। কে এ?
আদিত্যঃ বেশ। কাল তাহলে আমাদের সাথে লাঞ্চ করো? ফ্রি আছো?
রণিতঃ সামনের সপ্তাহে কোন এক দিন হোক?
আদিত্যঃ শিয়োর।

রণিতের পিঠ চাপড়ে আদিত্য ওকে বিদায় জানালেন। রণিতের মুখে হাসি। বিট্টু অবাক।
শ্রীপর্ণা আর সুপর্ণা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।
"কে রে দিদি? কী হ্যান্ডসাম... (মনে মনে ভাবছে, "আমার মুনিয়ার সাথে দারুণ মানাবে।")
সুপর্ণাঃ হুম। খোঁজ নিতে হবে (মনে মনে ভাববে, "দারুণ শাঁসালো মনে হচ্ছে। বিট্টুর সাথে তো এমন জন কেই মানায়।")

(অদ্ভুত ভ্যাম্প মিউকিজ বাজবে ব্যাকগ্রাউন্ডে। আস্তে আস্তে জুম আউট করবে ক্যামেরা। লাইটস বোকে এফেক্ট হবে। তারপর স্ক্রিন ফ্রিজ)   

Thursday, November 22, 2018

সিরিয়ালঃ সিরিয়াসলি নেবেন না ২

২।

শহরের কোন ব্যস্ত রাস্তা। বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে। বেশ দামী একটা গাড়ি চালাচ্ছে বছর সাতাশ আঠাশের এক সুপুরুষ যুবা। পরনে দামী সুট। টিপটাপ, ফিটফাট। বোঝাই যাচ্ছে এবশ ভালোই উপভোগ করছে ড্রাইভটা। মুখে চোখে এতটুকুও বিরক্তি নেই। বরং মাঝে মাঝেই মুখ হাসি হাসি হচ্ছে। গাড়িতে রেডিওতে চলছে কিছু পপুলার বাংলা রোমান্টিক গান। (মাঝে মাঝে এক মোহময়ী নারী কণ্ঠের আরজের গলা শোনা যাচ্ছে। keywords শোনা যাচ্ছে "প্রেম", "বৃষ্টি", "ট্রাফিক জ্যাম" ইত্যাদি।) গুনগুন করে গলা মেলাতেও দেখা যাচ্ছে ছেলেটিকে। পাশে বসে এক যুবতী। পরনে সাধারণ সিন্থেটিক শাড়ি। কোন গয়নার দোকান বা আধুনিক বেসরকারি হসপিটালের ইউনিফর্মের মতো। চেহারা (ওই মেক আপ আর কী) দেখেই বোঝা যায় মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। হাতে একটা ঢাউস খয়েরি ব্যাগ। অনেকক্ষণ ধরেই গাড়ির জানলার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে। এমন সময়ে একটা সিগনালে গাড়িটা এসে থমকালো।
"কী ভালো weather, না?" সহযাত্রীর দিকে তাকিয়ে যুবকটি বলল।
যুবতী মুখ ফেরালো। স্মিত হাসি হাসল। আবার মুখ ঘুরিয়ে বলল, "আপনাদের যাদের লাক্সারি করার সুযোগ আছে, ঝড় বৃষ্টির মধ্যে কাদা জল জমার মধ্যে দিয়ে হেঁটে দিনের পর দিন চলাফেরা করে বা ভিড় বাসে চিঁরে চ্যাপ্টা হয়ে কাজে  যাওয়া আসা করতে হয় না, তাঁদের জন্য তো এমন ওয়েদার খুব ভালো। কী সুন্দর কাব্য করতে পারেন, গান গাইতে পারেন। কফি কাপ হাতে জানালর ধারে বসে ব্যাঙের ডাক শুনতে পারেন..."
যুবকটি কিছু একটা বলতে গিয়েও খানিক থেমে গেল। মাথাটা একটা "বড্ড স্টিরিওটাইপ করো" গোছের মুখ করে বলল, " আপনি এত সিনিকাল কেন বলুন তো?"
যুবতী এবার যুবকের চোখে চোখ রেখে বলল, "আপনি বুঝবেন না। অভিজ্ঞতা নেই তো, তাই। তবে আপনার দোষ নেই। যে যেমন কপাল নিয়ে জন্মায়।"
যুবকঃ তা যা বলেছেন। সবই ফেট, সবই ডেস্টিনি।
যুবতীঃ হ্যাঁ। একদিন এমন বর্ষার মধ্যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে গোটা দিন যাতায়াত করুন, বুঝে যাবেন আমরা যারা মিডল ক্লাস, কীভাবে দিন যাপন করি। রোজদিন বা সকলের তো এমন সৌভাগ্য হয় না যে আপানর কাছ থেকে লিফট পাবে।"
যুবক বলতে লাগল, "মে বি... আসলে দশ বছর পর আমি ইন্ডিয়ায় ফিরেছি এই কিছু সপ্তাহ আগে। (ছেলেটির ইংরেজি, বিশেষ করে উচ্চারণ অত্যন্ত ঝরঝরে হওয়া উচিত। প্রয়োজনে অ্যাক্সেন্ট থাকা উচিত। অথচ অভিনেতার ইংরেজিতে পরিষ্কার বাংলার টান বোঝা যাবে আহা,কী মাটির মানুষ!!) তার আগেস্কুল ট্যুশন যাতায়াত গাড়িতেই করেছি। সো মে বি।। এনিওয়ে...
"ওই সামনের মোড়ে আমায় নামিয়ে দেবেন প্লিজ। পরের সিগনালটার আগে..." যুবতী কথা থামিয়ে দিয়ে বলল।
যুবকটি একটু অবাক মুখ করে বলল, "সে কী? রাগ করলেন নাকি?"
"আরে না না। ও মা, সে কী কথা। আমার বাড়ি ওইদিকে। একটু টুকটাক বাজার করে ঢুকব। বাবার জ্বর হয়েছে। ভাইয়ের ফিরতে দেরিয়া ছে। আমি এখন বাজার না করে এলে মা রাঁধতে পারবে না। তাই..." বলল যুবতী।
যুবকটি একটা অদ্ভুত ভ্যাবাচ্যাকা গোছের মুখ করে বলল, "বেশ"।
গাড়িটা চলছে। পাশ দিয়ে অন্য গাড়ি বাইক ইত্যাদি সব চলছে। রেডিওতে গান বেজেই চলেছে। আলাদা করে আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দরকার নেই। খানিক দূর যাওয়ার পর গাড়িটাকে রাস্তার বাঁ দিক করে থামাল যুবক।
যুবতী সিট বেল্ট খুলতে খুলতে বলল, "আপনাকে যে কী বলে ধন্যবাদ জানাবো? আমার অনেক উপকার করলেন। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে বাস অটো কিচ্ছু পাচ্ছিলাম না। বড্ড মুস্কিলে পড়ে গিয়েছিলাম।"
যুবকঃ দ্যাটস ওকে।
যুবতী (হেসে): আসি।
যুবকঃ ভালো থাকবেন। নমস্কার।
যুবতী গাড়ি থেকে নেমে গেল। দরজা বন্ধ করছিল, যুবকটি একটু ইতস্তত করে বলেই ফেলল, " ও বাই দি ওয়ে, আমার নাম রণিত। রণিত গাঙ্গুলি।"
যুবতী হাসল। হাসলে খুব সুন্দর টোল পড়ে বাঁ গালে। তারপর পিছন ফিরে চলে গেল। রণিত একটু বোকা বোকা হাসি হেসে মাথার চুল ঠিক করতে যাচ্ছিল, এমন সময়ে মোবাইল ফোন বেজে উঠল (খেয়াল রাখতে হবে, স্পেসিফিকালি, আইফোনের রিং টোন)।  স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে, "Mom calling"। হাসি হাসি মুখেই মাথাটা একটু সবজান্তা বেড়ে পাকা অথচ ক্যাবলা মার্কা মাথা নেড়ে ফোন রিসিভ করেই বলল, "ইয়েস মম, অন মাই ওয়ে, আসছি। পার্টি জমে গিয়েছে তো?"
ওপর প্রান্ত থেকে একটা চাপা গলার স্বর শোনা যাবে। কোন তরুণীর। "হু মম? রণিত, দিস ইজ দিভ্যা (খেয়াল রাখবেন উচ্চারণে। দি-vi-য়া)। আমি নেহাত auntyর থেকে ফোনটা নিয়ে কল করলাম। আমার ফোনের চার্জ শেষ। তুই কতদূর রণিত? কাম সুন।"
রণিতঃ আসছি দিভ্যা, ভেরি সুন...অলমোস্ট দেয়ের।

ফোন ডিসকানেক্ট করে রণিত গাড়ি চালানোয় মন দেয়। ফাঁকা রাস্তা। হু হু করে স্পীড তোলে। বৃষ্টি পড়েই চলেছে। রাস্তা পিছল। হঠাৎ ক্যাচ করে ব্রেক মারার শব্দ। তিন চারবার এই শব্দ শোনা যাবে। ততক্ষণে তিন চারটে অ্যাঙ্গেল দিয়ে রণিতের মুখে ফোকাস হবে ক্যামেরা। স্পষ্টতই ভীত মুখ। সামনে দেখা যাবে একটা বাইক উল্টে পড়ে আছে। পাশে উপুড় হয়ে পড়েছে হেলমেট পরা একটি ছেলে। বেশ আবার ধুম তানা নানা মিউজিক চলছে। ক্যামেরা আস্তে আস্তে বারবার ছেলেটি ও রণিতের মুখে ফোকাস করতে করতে রণিতের মুখে সেটল করে ফ্রিজ করে যাবে।

(আবার কাল)

Wednesday, November 21, 2018

#সিরিয়ালঃসিরিয়াসলি_নেবেন_না

#সিরিয়ালঃসিরিয়াসলি_নেবেন_না

পর্ব ১

স্থানঃ একটু রুচিশীল সুসজ্জিত ফ্ল্যাটের বসবার ঘর। আবছা হলুদ আলো জ্বলছে টিউবলাইটের পরিবর্তে (প্রমাণ যে এটি এক ধনী পরিবারের বাড়ি)।

কোন এক কারণে জনসমাবেশ হয়েছে এই ঘরে (এই মুহূর্তে ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা)। প্রত্যেকেই বেশ দামী পোশাকে। পুরুষদের পরনে হয় পাজামা পাঞ্জাবী নয় সুট (শুধু শার্ট প্যান্ট বা টিশার্ট না), মহিলারা দামী দামী সিল্কের শাড়ি পরে, গায়ে এত গয়না, মনে হবে যেন গয়নার দোকানের মডেল। চড়া মেক আপ। কারুর কারুর মাথায় দামী অর্কিড, রজনীগন্ধা খবরদার না। টু মিডল ক্লাস। টেবিলে রাশি রাশি খাবারের আয়োজন। পানীয়ও রয়েছে। হার্ড সফট দুইই। গল্প টল্প চলছে। হাসির রোল উঠছে মাঝে মাঝে। (স্ক্রিনে উঠবে লেখা "মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক"।)

বছর পঞ্চাশ পঞ্চান্নর এক প্রৌঢ়, পরনে সিল্কের সাদা পাঞ্জাবী (গলায় মোটা সোনার চেন এবং পোশাকে সোনার বোতাম লাগানো), কাঁধে কাশ্মীরী চাদর, হঠাৎ সোনালী পানীয়ের গ্লাস হাতে উঠে দাঁড়ালেন আর বললেন, "বুঝলে গিন্নি, দেখতে দেখতে কেমন পঁচিশটা বছর কাটিয়ে ফেললাম বলো? কোন আফসোস নেই আমার। তোমার আছে?" (অতি নাটকীয় ভাবে, টেনে টেনে বলতে হবে কথা। ব্যাকগ্রাউন্ডে হাল্কা কোন মিউজিক বাজবে।)


আটচল্লিশ (দেখে মনে হবে আরো কম) বছরের এক "যুবতী", পরনে রানী কালারের সিল্কের শাড়ী (প্রচুর জরি দেওয়া। মনে হয় কাঞ্জিভরম।), মাথার চুল (আসলে উইগ) ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বেশ কায়দা করে খোঁপা করা, খোঁপায় ম্যাচিং রঙের অর্কিড লাগানো, ঠোঁটে উজ্জ্বল গোলাপি লিপস্টিক, মুখ ভর্তি মেক আপ, গা ভর্তি সোনার ভারী গয়না, একটু ন্যাকা ন্যাকা মুখ করে ভদ্রলোকের দিকে তাকাবে। সলজ্জ হাসি হাসবে। তারপর বলবে, "আমি তো সব সময় সকলকে বলি। গত জন্মে নিশ্চয়ই কোন পুণ্য করেছিলাম, নইলে তোমার মতো এমন এক জীবনসঙ্গী পাই?"

উপস্থিত সকলে আহা উহু বাহ বাহ ইত্যাদি করবে। ক্যামেরা জ্যুম করবে অনেকেরই মুখে। তাদের কারুর মুখে আলাদা করে কোন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাবেন না। মোটামুটি সব ক্লোন বলেই ধরতে পারেন।

"আরে আদিত্যদা, একটা গান ধরো দিদির জন্য?" প্রায় গায়ে ঢলে পড়ে এক ওই অতি সুসজ্জিতা ভদ্রমহিলা এই ভদ্রলোকটিকে বলবে।

(যাক, নাম জানা গেল। আদিত্য। পুরো নাম আদিত্য শঙ্কর মুখোপাধ্যায়। স্ত্রীর নামটা বলেই দিই। সুপর্ণা মুখোপাধ্যায়)

"বলছ?" আদিত্য একই রকম ন্যাকামি করে শালির দিকে তাকিয়ে বলবে।

শালিও ন্যাকামিতে কোনরকম কমতি না করেই বলবে "হ্যাঁ দাদা প্লিজ ধরো না।"

আদিত্য (এক্সট্রা ন্যাকামি ঢলানি ইত্যাদি সহকারে) : ধরতে বলছ যখন, ধরিই। জানি না আজ ভালো লাগবে কি না সুপর্ণার। তবে বিট্টু বুবাইয়ের ছোটবেলা অবধি কত গান শুনিয়েছি।

জনৈকা অতিথিঃ এই সুপর্ণা, আদিত্যদাকে গান গাইতে বল না। আমরাও শুনি। বেশ মেহফিল জমে যাবে।

সুপর্ণা (একটু মেকি বিরক্তি মুখ করে) বলবে, "আমি বারণ করেছি নাকি। গাক না। এই তো শ্রীপর্ণা বলল। গাইবে নিশ্চয়ই। (আচ্ছা বোঝা গেল শালি আপন শালি। নইলে এমন সুপর্ণা শ্রীপর্ণা ম্যাচ করে নাম হয়? কে জানে) "

আদিত্য (হাত থেকে উইস্কির গ্লাস নামিয়ে): বেশ, সকলের অনুরোধ যখন এত, নিশ্চয়ই গাইব। এই গানটা আজকের দিনে আমি ডেডিকেট করছি আমার সুপুকে। সুপু, দীঘায় যেবার প্রথম গিয়েছিলাম বিয়ের পরে পরে, মনে আছে, বীচের ধার দিয়ে এই গানটা গাইতে গাইতে আমরা হাঁটতাম (দীঘায় হানিমুন? হুম। তার মানে নিশ্চয়ই কোন স্ট্রাগল স্টোরি আছে।)। তুমিও গুনগুন করতে।

সুপর্ণাকে দেখা যাবে লাজে একেবারে নতুন বউয়ের মতো ব্লাশ করছে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ একটু উসখুস করবে। বিট্টূ আর বুবাই (বিট্টু মেয়ে, বুবাই ছেলে) কে দেখা যাবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটা "উফ এরা পারেও বটে" গছের লুক দেবে। বিট্টু বুবাইকে বলবে, "শোন বুবাই, মা আর বাবার এই রোম্যান্স চলছে চলুক। আমি একবার কেটারিং এর লোকগুলোকে ফোন করি। শুধু স্টারটার পাঠালো। তাও রিফিল করার কথা। দেয়নি। মেন কোর্সই বা কোথায়? সাড়ে নটা বাজে। ডিনার করবে তো লোকে। ওদের ওপর না চেঁচালে হবে না। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে না, আঙ্গুল বেঁকাতে হয়। বুঝলি?" স্পষ্টতই বিট্টু বড়লোক বাপ মায়ের আদরে বাঁদর হওয়া মেয়ে। পরনে বেশ সাহসী ব্যাকলেস কেতাদুরস্ত মেরুন ব্লাউজের সাথে ম্যাচিং মেরুন সিল্কের শাড়ি, (আঁচল মাঝে মাঝেই সরে যাবে, আর ও ঠিক করবে)সরু জরি বর্ডার। গয়না হীরের। বুবাইয়ের পরনে সিল্কের পাঞ্জাবী। জিন্স। হাতে দামী ঘড়ি। মাথার চুল একটু বড়োর দিকে। নির্ঘাত ব্যান্ডে গান বাজনা কিছু করে। কানে হীরের স্টাড।


সুপর্ণার কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, "বুবাই, গিটারটা নিয়ে আয়। তোর বাবা গান গাইবে।"

বিরক্ত মুখ করে বুবাই ঘর থেকে গিটার নিয়ে আসবে। ভগবান জানে কী না কী কর্ড ধরে টুং টাং করবে। এদিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুল ক্যারিওকে বাজতে থাকবে। কোন সারেগামাপা বা ওই ধরণের কম্পিটিশনের প্রথম দশের শেষের দিকের বা তারপরের কোন শিল্পী গান শুরু করবে।

"এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো?"

আদিত্য আর সুপর্ণা লিপ দেবে। গোটা গান চলাকালীন র‍্যান্ডম লোকজনের ক্লোজ আপ শট নেবে। এমন অপূর্ব গান। কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে শুনবে। কেউ কেউ নিজের বর/বউ/পরকীয়া পারটনার/প্রেমিক/প্রেমিকার দিকে সলজ্জভাবে তাকাবে। কেউ তাল দেবে হাতে।

গান প্রায় শেষের দিকে। কলিং বেল বাজবে। সব্বাই পিন ড্রপ সাইলেন্ট হয়ে যাবে।

অনেকজনের (র‍্যান্ডম) ক্লোজ আপ নেওয়া হবে। সবাই অবাক। কে এলো। এখন কে আসতে পারে। কী ঘটতে চলেছে? পার্টির ছন্দপতন ঘটবে? ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর ধুম তানা নানা বাজনা। তারপর আদিত্যর মুখে ক্যামেরা জুম করে ফ্রিজ হয়ে যাবে।


serial

ইদানীং ধৈর্য ধরে দুটি বাংলা সিরিয়াল দেখতে দেখতে মনে হল যে আমিও মনে হয় স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলতে পারব। দুটো সম্ভাবনা মাথায় আছে।
১। কোন একজন ব্যক্তির দুইজন স্ত্রী। প্রথমজন হয় গরীব (যদি এই ব্যক্তি বড়লোক হন) নয় খুব বড়লোক (লোকটি এই ক্ষেত্রে গরীব। তবে এই সম্ভাবনা কম, স্ট্যাটিস্টিক্স তাই বলে।)। দুই পক্ষেই ছেলে মেয়ে আছে। বছর কুড়ি পঁচিশ পর এই দুই পক্ষের ছেলে মেয়ের দেখা সাক্ষাত হবে। সময়টা যদি বসন্তকাল হয়, তাহলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে এদের দুজনের মধ্যে ভাব ভালোবাসা হবে। আর যদি ওই পুজোর সময় হয়, তাহলে ভাইফোঁটায় একজন আরেকজনকে ফোঁটা দেবে। মোদ্দা কথা, পুনর্মিলন হবে। সেই করতে গিয়ে দেখা যাবে প্রথম বিয়েটা ভাঙ্গার জন্য যে চক্রান্ত করেছিল, সে আবার ফিরে এসেছে। দু তিনটে এপিসোড অন্ধকার ঘরে শুধু তাকে সাইড ফেসে দেখানো হবে। হঠাৎ একদিন সামনে দেখাবে মুখ। তখন বোঝা যাবে আরে, এ তো অমুক মাসী, যাকে সবচেয়ে গোবেচারা লাগত, সে। এরপর ইনিয়ে বিনিয়ে এগোবে, ডিপেন্ডিং অন কারেন্ট টপিকস।
২। একটি ছেলে আর একটি মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। বেশ ভালোই চলছে সব। দুই বাড়ি থেকেই খুব খুশি মনে মেনে নিয়েছে। বিয়ে টিয়েও বোধহয় ঠিক। হঠাৎ একদিন ছেলেটা রাস্তায় যেতে যেতে হিরোইনকে দেখবে। অসহায় অবলা নারী টাইপ। গুণ্ডা বদমাইশ এদের হাত থেকে বাঁচাবে। এদিকে নিজেও আহত হবে। মাথায় লাঠির বাড়ি খেয়ে স্মৃতি চলে যাবে। হিরোইন সেবা যত্ন করে ভালো করবে। ইতিমধ্যে বাগদত্তার কথা ভুলে যাবে। এই মেয়েটির সাথেই প্রেম করবে। শুধু রাত্রে মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশের মতো স্বপ্নে বাগদত্তা আসবে। কিন্তু হিরো বুঝবে না। তারপর কোন একদিন হঠাৎ যখন বর্তমান মেয়েটির সাথে বিয়ে টিয়ে করে হানিমুনে যাবে (জিজ্ঞেস করবেন না পরিবার কোথায় ছিল ছেলেটির যখন বিয়ে হল), প্রথমজন ভ্যাম্পের মতো এন্ট্রি নেবে। উগ্র সাজে সেজে। একটা টিপিকাল থিম ম্যুজিক ট্যুজিক থাকবে। তারপর আবার যে কে সেই, ইনিয়ে বিনিয়ে চলবে।
দুর্গা পুজো, কালী পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, লক্ষ্মী পুজো, দোল, রথযাত্রা, ঝুলন, গুরু পূর্ণিমা, ইতু, মনসা পুজো, রান্না পুজো, পৌষ পার্বণ, সরস্বতী পুজো সব পালন করবে এরা। কিছু উৎসব মিস করে গেলে বলবেন। যোগ করে দেবো।
মাঝে সাঝে রবীন্দ্রসঙ্গীত, অরিজিত সিং ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজবে।
আমি জানি, অত্যন্ত জঘন্য হল ব্যাপারটা, তবে যা দেখি/বুঝি, এইগুলোই রমরম করে চলে। আমার আপানর বাড়িতে। প্রতিদিন সন্ধ্যে ৬টা সাড়ে ৬টা থেকে এক্কেবারে ১১টা অবধি। তবে কিছু ভালো সিরিয়াল যে হয়না বা হয়নি, তা বলবো না।

Monday, November 19, 2018

men's day

আজ পৃথিবীর বহু দেশে পালিত হচ্ছে "মেন'স ডে"। ৮ই মার্চ নারী দিবস নিয়ে যতটা উদযাপন হয় সর্বত্র, আজকের দিনটা যেন তুলনামূলকভাবে কম লোকে জানেন। তবুও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ক্রমশ আজকের দিনটি সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়ছে। খুবই ভালো দিক এইটি। ইন্টারনেট ঘেঁটে যেটুকু জানলাম আজকের দিন সম্পর্কে, সেই তথ্য নিয়ে এলাম।
মূলত পুরুষমানুষদের মানসিক সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে আজকের দিনটি পালন করা হয়। ষাটের দশক থেকেই এমন একটি দিনের জন্য কথা উঠলেও, ১৯৯১ এ এই দিনটির কথা ভাবা হয়। তবে ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ তেই প্রথম পুরুষ দিবস পালন করা হয়। উদ্যোক্তা ছিলেন টমাস ওয়েস্টার। সাময়িক বিরতির পর ১৯৯৯ সালে পুরুষ দিবসের পুনরুত্থান ঘটে। এইবার এটি হয় ট্রিনিডাড ও টোব্যাগো দ্বীপের এক ডাক্তার জেরোম টীলাক্সিং এর উদ্যোগে। উনি নিজের বাবার জন্মদিনের দিনে অর্থাৎ ১৯শে নভেম্বর এই দিনটিকে বেছে নেন উদযাপনের জন্য। ভারতে এই দিনটির উদযাপন শুরু হয় ২০০৭ সালে।
সাম্প্রতিক কালেই নয়, বহু বছর ধরেই সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। এ ছাড়া কিছু পুরুষের অত্যন্ত ঘৃণ্য আচার আচরণের জন্যও পুরুষ জাতের ওপর একটা বিতৃষ্ণা বা খারাপ লাগা অনেকের মধ্যেই ছিল। পুরুষ দিবস দিনটি উদযাপন করা হয় এই "স্টিগ্মা"কে দূর করতে। পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বে আত্মহত্যা, অসুস্থতা, হিংসা, একই অন্যায় করে কারাযাপন, এই সবে পুরুষদের সংখ্যা নারীর তুলনায় অনেকটাইবেশি। আজকের দিনের উদ্দেশ্যই হল সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে ব্যবধান কমানো, "জেন্ডার ইক্যুয়াল" সমাজ কাম্য। পুরুষেরাও যে বহু সময়েই নানান অন্যায় ও অবিচারের শিকার হন, সেই বিষয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে পুরুষের স্বাস্থ্য (বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য) ও সমাজে তাঁদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে করা হয়।
প্রতি বছর এই দিনটি পালনের জন্য একেকটি "থিম" বেছে নেওয়া হয়। যেমন ২০১১তে ছিল ""giving men the best possible start to their lives", ২০১২তে ছিল "Helping men and boys live longer happier and healthier lives" ইত্যাদি। এই বছরের "থিম" হল "Male role models"। IMD বা ইন্টারন্যাশনাল মেন'স ডের ওয়েবসাইট থেকে বলতে গেলে, " International Men's Day is a time to promote positive aspects of male identity based on the premise that 'males of all ages respond more energetically to positive role models than they do to negative gender stereotyping'."
আসুন আজকের দিনে আমাদের জীবনের সমস্ত প্রিয় পুরুষ মানুষদের শুভেচ্ছাবার্তা জানাই।