Friday, July 14, 2017

প্রতিশোধ (শেষ অংশ)

শৌণক আর দীপান্বিতা এসেছে ওদের annual health check-up করাতে, প্রতি বছরের মতই, ওদের চেনা হসপিটালে।


- আপাতত যা যা টেস্ট খালি পেটে করার ছিল, হয়ে গেল। এরপরে পি পি টা বাকি আছে। আপনাকে গ্লুকোস জল দেবে। তারপরে দু ঘণ্টা পরে আবার রক্ত নেব।

- বেশ।
- মাধব, ওনার গ্লুকোজ জলটা এনে দে।
- এখুনি বানিয়ে এনে দিচ্ছি দাদা।




******************************************************************************** 

 


- উফফ। কি ক্যাটক্যাটে মিষ্টি। খেতেই পারছিলাম না।
- কি করে আর পারবে? ওই সারাক্ষণ তো ব্ল্যাক কফি চিনি ছাড়া খেয়ে খেয়ে অভ্যেস।
- তা ঠিকই বলেছ দীপু। ধুর, এসব হেলথ চেকাপ ফেকাপ যত পয়সা নষ্ট। I am perfectly fine, কম করে অন্তত আরো ৪০ বছর টেনে দেব দেখো।
- আহ শৌণক, এতগুলো টাকা এলো একাউন্টে। এখনো কিপ্টেমি করছ? টাকা টাকা করে কি হবে যদি ভোগই না করা যায়?
- আরে, সবে ৩০। Life begins at thirty darling!
- দেখলে তো সিদ্ধার্থ দা কে। কিরকম টুক করে ব্যাঙ্কোয়েট ডিনার নিতে পারল না হার্ট। টস্কে গেল।
- হুম।
- সে যাই হোক। চল loungeএ গিয়ে বসি।
- হুম। Let's plan for the trip দীপু।



************************************************************************** 


- এই দীপু, তুমি একটু বসো, আমি আসছি বাথরুম থেকে।
- আবার? কি হলোটা কি? এই নিয়ে তিনবার, লাস্ট এক ঘণ্টায়।
- আরে পেট টা ঠিক নেই। কামড়ে উঠছে।
- ওই জন্যই বলি, ওরকম রাক্ষসের মত খেয়োনা।
- আরে এমন বেশী কি খেয়েছি।
- চুপ করো। কাল বারবিকিউতে ওই অত খেলে বলে পেট খারাপ হয়েছে। কতবার করে বারণ করলাম ওই শেলফিশ খেয়োনা। তখন কে শোনে কার কথা। ঠিক করে পরিষ্কার করে কি কে জানে।
- শোনো খুব পেটে ব্যাথা করছে, আমি এসে কথা বলছি।

********************************************************************************* 


- দীপু একটু আমার সাথে বাথরুমে যাবে প্লীজ? বমি বমি পাচ্ছে।


- একি! রক্ত বমি তো।
- মনে হচ্ছে ভালো মত ফুড পইজনিং হয়েছে। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
- চল চল। ভাগ্যিস হসপিটালেই আছি। তুমি একটু বসো, আমি খোজ নিচ্ছি ভর্তির।
- ওই তো ওই ছেলেটি আসছে। ওকে জিজ্ঞেস করোনা। ও জানবে।
- চুপটি করে বসো।


- ও ভাই, আমার husband এর মনে হচ্ছে ফুড পইজনিং হয়ে গিয়েছে। লাস্ট এক ঘণ্টায় তিন চারবার বাথরুম ছুটতে হয়েছে। রক্ত বমি হল এখুনি। কোথায় কার কাছে যাই?
- এটা তো এমারজেন্সি কেস দিদি। আপনি রিসেপশনে কথা বলুন। আমি ততক্ষণে খবর পাঠাচ্ছি এমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে।


******************************************************************************



একটা ছোট্ট এস এম এস : 
দিদি কাজ হয়েছে।




***************************************************************************** 


- সিস্টার পেশেন্ট তো কোলাপ্স করছে। Breathe করতে পারছেনা। এক্ষুণি intubation করতে হবে।
- আমি anasthesia tray ready করে রেখেছি স্যার।
- হুম, কুইক।

অতি দক্ষ হাতে ডঃ সান্যাল IV চ্যানেল করে সাক্স পাঠালেন শৌণকের রক্তে। মুহূর্তের মধ্যেই সমস্ত muscle relax করে প্যারালিসিস হল। ডাক্তার নিশ্চিন্ত হলেন। এইবারে breathing tubeটি লাগিয়ে ফেলতে পারলেই এ যাত্রায় নিশ্বাস প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। Oxygen supply বেশ normal ভাবেই শুরু হল। মনে হয় পেশেন্ট survive করে যাবে।

- সিস্টার প্যাথলজিতে খবর দিন।  Toxicity tests করতে হবে। Urgently।
- খবর পাঠাচ্ছি।




খানিক বাদে Beep beep beep beep শব্দে এমারজেন্সি রুম ভরে গেল। আশেপাশে সমস্ত মেশিন থেকে alarm toneএ ঘর কাঁপছে।

- এ কি? Patient is sinking, সমস্ত vital parameters ভুলভাল চলছে।  কি করে হয়?

*********************************************************************************

দুই মাস পরেঃ



- মাধব, তোমাদের পেশেন্টের কি খবর?
- দিদি শৌণক এখন কোমাতে পড়ে আছে।
- কোনরকম কোন enquiry হয়নি হাসপাতালে?
- কিসের enquiry দিদি? Anasthesia complications কেসের আবার কি enquiry? ও তো rare কিছু না।
- এই জন্যই আমাদের দেশে ক্রাইম করা কতটা সোজা। হুহ! Oxygen supply এর valveটা তারপরে ঠিক করে দিয়েছিলে তো?
- সে আর বলতে দিদি?
- Thank you, নিতাই দা যোগ্য লোকেরই সন্ধান দিয়েছিল আমায়। তুমি যদি আমায় হসপিটাল রেকর্ড থেকে রেগুলারলি ওদের এপয়েন্টমেন্টের খবর না দিতে, আমার পক্ষে খুব কঠিন হত।
- টাকা দিয়েছেন, করে দিয়েছি। তাছাড়া ওই ইতরটার শাস্তি দরকার ছিল। আপনাকে কম জ্বালায়নি। নিতাই দা আমায় সমস্ত বলেছে।
- হ্যাঁ, বাবা মা মারা যাওয়ার পরে নিতাই দাই তো আমার একমাত্র অভিভাবক।


*****************************************************************************




কৌশাণির BPharm পড়াকালীন poison and antidotes এর ওপর করা thesisটা আবার পুরনো বইয়ের তাকে ফেরত গেল। লাইব্রেরী গিয়ে Robin Cookএর বইটা ফেরত দিতে হবে। এতদিনে প্রায় পাঁচশ টাকা ফাইন হয়ে গেছে। অবশ্য আফসোস নেই কৌশাণির। শেষ হাসিটা যে ওই হাসল। এবার আর বাঁচার কোন উপায় নেই।  



********************************************************************************

ইয়াহু মেসেঞ্জারে একটা নতুন মেসেজ ঢোকার নোটিফিকেশন শব্দে কৌশাণির চোখ গেল ম্যাকবুকে।



                 *****************************************************************************



পুনশ্চঃ এমন বহু বিষ আছে যা খুব সহজলভ্য জিনিস দিয়ে বাড়িতে বসে বানানো যায়। যেমন রাইসিন। এবংএগুলো শরীরে গেলে খুবই সাধারণ ভাবে তার manifestation হয়, বিষক্রিয়া হয়েছে যে, অনেক সময়ে বোঝাও যায়না। If left untreated, they may prove to be fatal.
সাক্স বা succinyl choline একটি muscle relaxant, anasthesia করতে গেলে এটা ব্যাবহার করা হয়। পেশেন্টের শরীরের সমস্ত skeletal muscles paralysed হয়ে যায়। ওই অবস্থায় intubation করা হয়। বাইরের থেকে oxygen supply  করে breathing normalise করা হয়। কোনভাবে যদি oxygen supplyতে কোনরকম গণ্ডগোল হয়, ব্রেনে অক্সিজেন না পৌঁছয় অল্পক্ষণের জন্যও, irreversible damage হয়ে যায়। পেশেন্ট তখন কোমাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এবং এটা trace করা মুস্কিল এই জন্যই যে সাক্স normal anasthesia procedureএই পড়ে। আর কি কারণে ব্রেনে অক্সিজেন পৌঁছয়নি, সেটাকে ঠিক pinpoint করা যায় না।



Disclaimer: All information has been gathered from internet and "Coma" by Robin Cook. Trying to copy any of them is inadvisable.




Thursday, July 13, 2017

When shall I grow up?When shall I have all the freedom in the world to do anything and everything?


Aren't these typical questions so familiar? I mean everyone of us have asked this question at some point of our childhood.Even I had these questions in my mind. And now that I am a grown up (legally I mean), I was under the illusion that oh life would now be a really enjoyable and pleasant experience.

Oh how untrue was my thought.How much mistaken was I..
Different day to day experiences have rudely shaken me to reality.
Now I sit and wonder and appreciate the wonderful years gone by. Childhood was so much fun. Except a few tests and results in school,there was nothing to worry at all.Life was what I wanted it to be. I had the company of a wonderful family and fantastic friends who never made me feel alone and lonely.But gradually as I have now grown up,I realise that everyone's so busy.Now we don't have the time to be with each other.
Most of my friends have gone out of the city for acdemics and job. This will be the first time that only 3 of us will go pandal hopping. And what's worse is that this will be the last time that I'll be going pandal hopping with friends.And so even when the entire city is rejoicing at the onset of the festive season, I'm unhappy.

 Now there's so much more to worry about. Career plans, health of family members, friends moving out
MEMORIES OF PRIMARY SCHOOL
Posted on December 20, 2008


The other day as I sat listening to a wonderful show on the radio where the
host was talking about his schooldays,memories of my childhood came into my
mind and I started reminiscing about my childhood.
Those were the golden days of my life with so much joy,carefree
life,innocence,togetherness....will they ever come back?
I know the answer is "no",but......I wish......
Like most of the kids,I loved to go to school.The teachers of my school
were truly like mothers.In Lower & Upper Kindergarten(which we fondly
referred to as LKG & UKG),we had classes from 7:45 to 11:15.I remember as
the last period approached,tears would start streaming down my cheeks,the
reason was that as both my parents were working,I had none to look after me
at home,so I had to go to a creche situated just a few houses away from
home,and due to some unknown reason,I never liked going there.I would wail
in the class demanding to go home.My teachers tried to pacify me by even
drawing my sorrowful face on the blackboard,but it was of no avail.My class
teacher in LKG,a certain Maria Miss even complained to my parents on the
"parent-teacher" meeting!She not being well versed with bengali would sound
so funny when she tried repeating my wails.It was like this:I'd cry as "AMI
BARI JABO and she'd get the verb form mixed up and say"AMI BARI JABE"!!! In
UKG,our class teacher,Babli Miss went on leave and we had another
teacher,Soma Miss who lived near my school and she offered to keep me at
her place after school everyday till my mother would return from office.I
sincerely appreciate her act and wonder if more and more children get the
priviledge to have such fabulous human beings as their teachers.coming back
to Babli Miss,I had a "GET WELL SOON" card ready for her,which I'd planned
to send her through one of the teachers,but somehow it didn't materialise
and till a few years back the card remained with a note written in my
childish writing.
Primary school began with different timings,11:30 to 4:15.I remember the
school bus would drop us to school by 11:15 and we'd rush to our classrooms
to leave our bags and then run down to play in the grounds.Our playground
was huge compared to our sizes then!We'd play all kinds of games like "hide
and seek","catching","colourman","racing","help sister","lock and key";we'd
also pretend having mystery to solve in imitation of the "famous five"!Then
as the bell would go,we'd again rush back to class where we had a prayer
session.Everyday a girl would recite the prayer verse from the office room
which would be played in each classroom through the sound boxes,then our
principal Sister Reshma would sing a verse which would be sung by all of
us.I still remember the first few words of the morning prayer:"Our Father
in Heaven,Holy be thy name,Thy kingdom come,Thy will be done.Give us today
thy Holy Bread...."
Music lessons with dear Philip sir was fun.He'd play beautiful songs on the
piano for us.From him we learnt innumerable melodies.Of them my favourite
continues to be "I have a dream" till today.The words were so inspiring.



I have a dream, a song to sing
To help me cope with anything
If you see the wonder of a fairy tale
You can take the future even if you fail
I believe in angels
Something good in everything I see
I believe in angels
When I know the time is right for me
Ill cross the stream - I have a dream

I have a dream, a fantasy
To help me through reality
And my destination makes it worth the while
Pushing through the darkness still another mile
I believe in angels
Something good in everything I see
I believe in angels
When I know the time is right for me
Ill cross the stream - I have a dream
Ill cross the stream - I have a dream

I have a dream, a song to sing
To help me cope with anything
If you see the wonder of a fairy tale
You can take the future even if you fail
I believe in angels
Something good in everything I see
I believe in angels
When I know the time is right for me
Ill cross the stream - I have a dream
Ill cross the stream - I have a dream

I still remember the blackboard where Sir would write down the words of the
song that we were supposed to learn that day.He would even explain them to
us.Another very favourite song was "Do it now".It had inspiring words too.

Ours was a Convent school,so we had much music throughout the year with
prayer songs topping our list.Christmas meant a lot of celebrations with
fun,frolic and more music.Either Philip Sir or Ashit Sir-our dance teacher
would dress as Santa on the day our school closed for winter vacations,it
would be usually on the 23rd or 22nd December.We would be taught the
practice of sharing with others and we had a gift giving session when each
of us would carry gifts in the form of
biscuits,jams,pickles,clothes,blankets,etc to be donated to the poor and
the needy.
The teachers who loved me a lot and were equally loved by me
were Nisha Miss,our class teacher in class III and IV, Sushmita Miss, our
Bengali teacher(she loved my handwriting and often praised me!),Philip
sir,Reba Miss,our Games teacher.The Games periods were our favourite,we'd
do a few rounds of routine marching and then we had the liberty to play as
much as we wanted to.
Nisha Miss was such a favourite with us that I remember feeling very sad on
being promoted to class IV because it meant losing her as our class
teacher.I remember walking up to her with my friend Nandini to thank her
for being a lovely teacher,and you can imagine our joy to see her as our
class teacher again in class IV!
In class II,our class teacher was Mrs.Chandana Kar who was a very
sophisticated lady and wanted to make us one too and she taught us to greet
her in the morning as "Good Morning Mrs.Kar" instead of our usual "good
morning miss" and in the evenings we had to say "Thank You Mrs.Kar,Good
evening Mrs.Kar And Bye-Bye Mrs.Kar"!
I have very vague memories of classI,don't know why but probably because
our class teacher,Mrs.Rekha Bhattacharya wasn't that friendly with us and
she'd always be scolding all of us! But I remember sitting beside Somhrita
and Ritwika and we'd play "doctor-doctor" where I'd invariably agree to
play the patient (being the submissive one always) ,Somhrita,the doctor and
Ritwika,the nurse. I remember carrying bread to school everyday for tiffin
and Ritwika carried apples and neither of us liked our tiffin and would
feed the crows from the windows.I remember our bengali teacher,a certain
Bibha Miss who taught us to write essays.She would write the essay on the
board and we had to copy them down in our notebooks.
Our school had a lot of events lined up for us to participate in.I always
took part in the writing and speech competetions and often won accolades
for them.I also did well in the "flower arrangement" competetion having
stood 1st in successive years.In the functions,I'd always take part in
music,dance was something that I just couldn't and was allergic too! So the
Dance lessons were my least favourite ones!
I had so many wonderful friends in school-Roma,who was in the same section
always with me till we left school from UKG(when she
joined),Sootrisa,Madhurima,Sukanya,Mahmootha,Ritwika.....they remain close
friends of mine even today.I remember once in class IV,our principal,
Sr.Reshma,who used to take our Moral science classes,punished me and
sootrisa by sending us out of the classroom for giggling during the
prayer.We were giggling over a very silly thing,i remember it but I won't
divulge that!Let that remain one secret from my schooldays.
We had regular "Parent-teacher meetings" and though every time the teachers
spoke well of me,I always felt nervous attending them!Being a very
goody-goody,studious girl,I was always in my teachers' good books.May be
that's why I loved my school all the more and still feel so nostalgic when
I see some child in the same blue frock or white shirt and blue skirt with
navy blue socks and black ballerina shoes.........

প্রতিশোধ

ভালোবাসা তোকে দিলাম ছুটি ২

- ম্যাডাম আসতে পারি?

- আরে নিতাই দা যে। আসুন আসুন। বসুন। কেমন আছেন বলুন।

- ভালো আছি। আপনি ভালো? স্যার?

- হ্যাঁ হ্যাঁ সবাই ভাল।

- একটা দরকারে এসছিলাম আপনার কাছে ম্যাডাম।

- হ্যাঁ বলুন নিতাই দা। কি দরকার?

- আচ্ছা আপনাদের তো গারমেন্ট এক্সপোর্ট ইমপোর্টের ব্যাপার। কোন লেদারের এক্সপোর্ট ইমপোর্টের জানাশোনা আছে কেউ?

- কেন কি ব্যাপার নিতাই দা?

- আসলে আমাদের কোম্পানী একটা বিরাট বড় অর্ডার পেয়েছে। একটা বিদেশী কোম্পানীর থেকে। সেই জন্য আর কি আমরা লোক খুঁজছি।

- একটু ডিটেলে বলবেন? আসলে আপনাদের আশীর্বাদে আমাদের এস ডি এন্টারপ্রাইজ এখন এস ডি এক্সপোর্ট নামে আরেকটি কোম্পানি খুলেছে। আমরা লেদারেরও লেনদেন করি।

- ও তাই? কিন্তু আসলে আমাদের অনেকটা বড় অর্ডার। আপনারা আদৌ সামলাতে পারবেন?

- আপনাদের কি দরকার, বলুন। আমরা দেখি।

- বেশ তো, তাহলে একটা মিটিং ফিক্স করা যাক। একদম সামনাসামনি গুছিয়ে বসে ডিল করা যাবে।

- সেই ভালো। পরশুদিন আসুন? আমরা লাঞ্চে মিট করে ঠিক করি?

-ডান। আপনারা এতদিনের পরিচিত। আপনাদের সাথে কাজ করতে পারলে খুবই ভালো লাগবে।

*********************************************************************************

- নিতাই দা আসুন।

- স্যার ম্যাডাম আপনারা বুঝি অনেকক্ষণ এসেছেন? সরি একটু দেরী হয়ে গেল। রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল।

- না সে ঠিক আছে। ওটা বুঝি আমরা।

- থ্যাঙ্ক ইউ। আচ্ছা আলাপ করিয়ে দিই। ও সিদ্ধার্থ, আমাদের কোম্পানীর সিনিয়ার ম্যানেজার সেলস। ওই আপনাদের ব্রিফ করবে কি কি দরকার ঠিক আমাদের।

- আচ্ছা বেশ তো। বলুন। কথাবার্তা শুরু করা যাক।

- আরে তুমি কি গো? ভাল কাজ শুরু করতে চলেছি, মিষ্টিমুখ হবে না আগে? একটু কিছু অর্ডার করি।

- আমাদের জন্য শুধু জুস। একবার একসাথে কাজ শুরু হোক, তারপরে মিষ্টি হবেখন।

- বেশ। বলুন।

- প্রথমেই বলুন, আপনাদের কোম্পানীর এনুয়াল টার্নওভার কত?

- দেখুন আমাদের ছোট কোম্পানি, ওই ৩০ লাখের বেশী কখনো হয়নি।

- নিতান্তই ছোট। আমাদের যতটা দরকার, জানিনা, পারবেন কিনা। আমাদের মোট  ১ কোটি টাকার ডিল করতে হবে।

- আপনি চিন্তা করবেন না স্যার। ওটা ঠিক হয়ে যাবে। আপনি আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।

- ঠিক আছে শৌণক বাবু। আগে আপনারা পুরোটা শুনে দেখুন। তারপরে আপনাদের আমি এক সপ্তাহ টাইম দেব। তার মধ্যে একটা ব্লু প্রিন্ট চাই কিভাবে এগোনোর প্ল্যান করছেন। যদি আমাদের বোর্ডের পছন্দ হয়, তাহলে আমরা ডিল ফাইনালাইজ করব। বুঝতেই পারছেন এত টাকার ব্যাপার, হেলাফেলা করা যায়না।

- হ্যাঁ সে তো অবশ্যই সিদ্ধার্থ বাবু। আপনি বলুন।

- হুম। শুনুন। ..................

*********************************************************************************

- তুমি হুঠ করে তো বলে দিলে যে পারবে। এবার এতগুলো টাকার আয়োজন করবে কি করে?

- ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেব। দেখো দীপু কোম্পানির যা হাল, এইরকম একটা বড় অর্ডার না পেলে আমরা কিন্তু আবার ডুবে যাব। কাজেই এই ডিলটা ক্র্যাক করতেই হবে। যেনতেন ভাবে। তার জন্য তোমায় যদি ওই সিদ্ধারথর সাথে শুতেও হয়, তাও শোবে। KM World খুব নামকরা কোম্পানি। আমি খোঁজ নিয়েছি।

- কে দেবে তোমায় এত লোন? আগেরবারের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে কোন ব্যাঙ্ক সাহস পাবে না।

- আরে ব্যাঙ্কে আমার চেনাজানা আছে। ফেলো কড়ি মাখো তেল। একটা কাট মানি নেবে, কিন্তু ঠিক লোন স্যাঙ্কশন হবে।

-  দেখো হলে তো খুবই ভালো। ভাল লাভ হবে। ফ্ল্যাটটা তাহলে বুক করতে পারব আমরা। এই গলির মধ্যে যেন আর থাকতে পারছিনা।

- বুঝি দীপু। আমিও তো আমাদের সুখের কথা ভেবেই চেষ্টা করছি। ডিল হলে শুনলে তো, ২০ লাখ এডভান্স। সেটা দিয়ে দিব্যি ফ্ল্যাটের প্রথম কিস্তি হয়ে যাবে।

- তুমি কালকে সক্কাল সক্কাল ব্যাঙ্ক যাবে।

- উহু। আমি না দীপু। যাবে তুমি।

- আমি? আমি পারব বলে মনে হয় না।

- তুমিই পারবে দীপু। লোন সেকশনে যিনি আছেন, সে ব্যাটার মিড লাইফ ক্রাইসিস চলছে। তুমি সেই মত বুঝে শুনে যেয়ো। কাজ হাসিল হবেই।

- এমন করছ যেন কাটতি নেবে না!

- নেবে না না। কম নেবে। টাকা ছাড়া কিছু হবেনা।

- ঠিক আছে। আমি কালই যাব।

*********************************************************************************

- হ্যাঁ দীপু, বল।

- হুম, কথা হল। বুড়োর তো হেবি রস গো।

- আয় এম সরি, আমার জন্য তোমায় এসব করতে হচ্ছে। দেখো, একটু ব্যাবসা সামলে নিই, আর তোমায় দিয়ে এসব করাবো না।

- শৌণক সেসব পড়ে হবে। আগে কথাটা শোনো। বুড়ো বলছে এমনি রেট ১০%, আমায় নাকি স্পেশাল ডিস্কাউন্টে ৭.৫%এ দেবে। মানে সাড়ে সাত লাখে করে দেবে।

- স্কাউন্ড্রেল। দাঁড়াও না। ও ব্যাটা কোনদিন জেলে যাবে। খাঁই বেড়ে গিয়েছে বড়, আগে ২% নিত। এখন এত। মরণ ঘনিয়ে এসছে।

- শোনো যেখানে এত টাকার ডিল, এইটুকু খসাতে হবেই। চিন্তা করে লাভ নেই। বলেছে টাকাটা হাতে পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে লোন স্যাঙ্কশন লেটার এসে যাবে। সেটা দেখালে কিন্তু সিদ্ধার্থ বাবু ডিল সাইন করে দেবেন। তেমনি তো বলেছিলেন।

- হুম। কিন্তু এই মুহূর্তে সাড়ে সাত কোথায় পাব ভাবছি।

- কেন? কম্পানির কি একেবারে হাড়ির হাল নাকি?

- প্রায় তাই। তিনটে পেমেন্ট আটকে আছে এই জি এস টির চক্করে।

- অন্য কথাও থেকে লোন করবে?

- কি এসেট আছে আমাদের যে কেউ হুঠ করে অত টাকা লোন করবে?

- তাহলে?

- একটা উপায় অবশ্য আছে।

- কি?

- সোনার মুর্গি।

- কৌশাণি?

-ইয়েস!

- তুমি কি পাগল হলে নাকি?

- কেন?

- আগেরবারের ১৮ দিয়ে যে ঠকান ঠকেছে ও, তুমি কি করে ভাবছ যে ও আবার টাকা দেবে?

- শোনো, সে আমার ওপরে ছেড়ে দাও। স্কুল কলেজ জুড়ে স্টেজ কাঁপিয়ে নাটক করেছি। এইটুকু পারব না, হয় নাকি?

********************************************************************************

- অনলাইন আছে দেখছি, পিং করি।

- দুগগা দুগগা!

ওয়াটস্যাপঃ

- মৌ, কেমন আছ?

- শৌণক আবার? এবার কত টাকা চাই তোমার বল?

- প্লীজ মৌ, আমায় ক্ষমা করে দাও?

- তোমার লজ্জা করে না? আগেরবারে একটা ছোট্ট বাচ্চার নামে মিথ্যে বলে এতগুলো টাকা আমার থেকে নিলে। আবার এখন কেমন আছ বলে মেসেজ?

- আমি খুব বড় ভুল করে ফেলেছিলাম মৌ।

- মৌ প্লীজ। একটা লাস্ট চান্স দাও আমায় শুধরোনোর।

- কি চাও তুমি বল?

- আমার ব্যাবসাটার অবস্থা ভালো না। এদিকে দীপুর সিভিয়ার এনিমিয়া হয়েছে। গত মাসে একটা মিসকেরেজ হয়ে গেল। ওর চিকিৎসার জন্য অনেক খরচ হচ্ছে। তাই তোমার থেকে অর্থনৈতিক সাহায্য চাই।

- না শৌণক, আমি একই ভুল বার বার করিনা।  আমি তোমায় বিশ্বাস করি না। প্লীজ আর আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করোনা।

- যাহ্‌ শালা। পাখী চালু হয়ে গেছে!

- কি বলল দেবে না?

- হুম।

- দাঁড়াও আমি দেখি।

ওয়াটস্যাপঃ

- কৌশাণি দিদি আমি দীপান্বিতা। শৌণক তোমায় আসল সত্যিটা পুরো বলেনি।

- শোনো আমি তোমাদের এই ছকবাজিতে আর থাকতে চাই না।

- দিদি বিশ্বাস করো প্লীজ। আমার চিকিৎসার পিছনে জলের মত টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শৌণক অসুস্থ। ই সি জি করে ডাক্তার বলেছেন একটা এঞ্জিওপ্লাস্টি করতে হবে ইমিডিয়েটলি। টাকার অভাবে করাতে পারছিনা। বাজারে আমাদের অনেক দেনা। নতুন করে কেউ ধার দিচ্ছেনা। পুরোনো পাওনার টাকা আটকে আছে। এই সময়ে তুমি ছাড়া কে বাঁচাবে আমাদের বল?

-  এক বছরে পুরো টাকাটা উড়িয়ে ফেললে?

- দিদি প্লীজ। ওই টাকা আগের দেনা চুকাতে গিয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি দিদি, আমার মাথার দিব্যি। প্লীজ এবারে সাহায্য করে দাও। পুরো টাকা শোধ করে দেব। সময় লাগবে, কিন্তু দেবই। টাকাটা না পেলে যে শৌণক হয়ত আর...

-ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের একটা কপি আমায় পাঠাও। আমি দেখব।

- পাঠাচ্ছি দিদি।

- এই শিগগিরি ল্যাপ্টপ চালাও। ফটোশপ খোলো। প্রেসক্রিপশন বানাতে হবে। ম্যাডাম চেয়েছেন। মনে হচ্ছে হাত খুলবে।

ওয়াটস্যাপঃ

- দিদি এই দেখো।

- দেখলাম। কোন ডাক্তার দেখছে?

- আর এন টেগরে দেখাচ্ছি।

- ব্যাঙ্ক ডিটেল একই আছে?

- হ্যাঁ দিদি।

- কত লাগবে?

- সাড়ে সাত লাখ দিদি।

-পাঠিয়ে দিচ্ছি।

- দিদি তোমার কাছে চির কালের জন্য কেনা হয়ে রইলাম। তুমি প্রাণে বাঁচালে আমাদের।

- অনেক হয়েছে। থাক। আর ফোন করো না।

- হেহে, সাড়ে সাত ক্রেডিটেড। কাল সক্কালে বুড়োর সাথে কথা বল। লোন স্যাঙ্কশন লেটারটা চাই যত শিগগিরি পার।

- হুম। চল সেলিব্রেট করি। চিলি চিকেন আনাই।

- ইল্লি? আমার না হার্টের ব্যামো?

- এই দেখো দেখো, চিড়িয়া ফেসবুকে কি লিখেছে! " কে জানে এবারও ভালবাসার কি মূল্য দিতে হবে।"

- কে মৌ?

- আবার কে! তাতে আবার লাইকের বন্যা বয়ে চলেছে।

- দাঁড়াও দেখি আমিও একটা কমেন্ট করে দিই।  এ-ই দিলাম! দেখো।

- " পৃথিবী তে এখনো পুরো অন্ধকার হয়ে যায়নি মৌ।" হুহ! আদিখ্যেতা!!!!

- শুধু ভাবছি, মৌ এতটা ভালোবাসতো আমায়? সামনের জন্মে এর প্রতিদান দিতে হবে বুঝলে দীপু। এই জন্মে শালা হারামি হয়েই রয়ে গেলাম।

*************************************************************************************

- সিদ্ধার্থ বাবু নমস্কার।

- ও দীপান্বিতা ম্যাডাম। নমস্কার। বলুন।

- আমাদের ব্যাঙ্ক লোন এপ্রুভড। ব্লু প্রিন্টও রেডি। কবে নাগাদ দেখা করা যাবে বলুন?

- ভালো কাজে দেরী করে লাভ নেই। আজ তাহলে চারটে নাগাদ বসা যাক? আপনাদের অফিসে আসি?

- হ্যাঁ বেশ তো। চলে আসুন। আর হ্যাঁ, ডকুমেন্ট নিয়ে আসবেন সব। সই সাবুদ হয়ে যাবে।

- ঠিক আছে। দেখা হচ্ছে বিকেলে। নমস্কার।

***********************************************************************************

- যাক দীপু, ডিলটা তাহলে শেষমেশ ফাইনাল হল। একাউন্টেও এডভান্স ২০ লাখ এসে গিয়েছে।

- শোনো তুমি এখুনি কাজারিয়াদের কাছে যাও। আগে ফ্ল্যাট বুক করো। আমার কিন্তু সাউথ ফেসিং পেন্ট হাউসটা চাই-ই চাই।

- সব হবে সোনা। আমি যাচ্ছি। আজই টাকাটা দিয়ে আসছি।

- লাভ ইউ।

- মি টু।

************************************************************************************

(দুইদিন বাদে। )

- শৌণক সাংঘাতিক কেস হয়ে গিয়েছে।

- কি হয়েছে?

- তুমি এখুনি স্টার আনন্দ খোলো। আমাদের ব্যাঙ্কে বিরাট পুলিশি রেড হয়েছে। অনেক অফিসিয়াল নাকি গ্রেপ্তার।

- সে কি? বুড়োও নাকি?

- তা আমি জানিনা। এবার কি হবে?

- দাঁড়াও আমি খোঁজখবর নিই।

- কি হবে এবার শৌণক?

- যদি বুড়ো ফাঁসে তো আমরা শেষ। লোন নিয়ে সমস্যা হয়ে যাবে। দাঁড়াও দীপু, আমি জানাচ্ছি।

************************************************************************************

- হুম, বুড়ো গ্রেপ্তার। ব্যাঙ্কে নতুন লোক সেকশন ইন চার্জ হয়েছে। সে নাকি সমস্ত খুঁটিয়ে দেখবে, বহু লোন ক্যান্সেল হবে।

- হায় ভগবান।

- আর ভগবান ভগবান করে কি হবে। দেখা যাক কি আছে কপালে। কি আবার ইমেল এলো দেখি।

- দীপু, যা সন্দেহ করেছিলাম, ঠিক তাই। ব্যাঙ্কের ইমেল। হার্ড কপি শিগগিরি আসবে। শোনো কি লেখা।

Dear Mr. Sounak Basu

With great regret we inform you that your previously sanctioned loan amount of Rs. 1 crore has been cancelled as of now due to legal issues. Sorry for the inconvenience.

Thanks

Koushani Mukhopadhyay

General Manager (Finance)

- কৌশাণি দিদি?

- ইয়েস।

- ও মাই গড! এই রকম ভাবে একটা ধাক্কা দিল??

- এইবারে?

- শোনো সিদ্ধারথ বাবুকে তো টাকাটা এখুনি ফেরত দেওয়া যাবেনা। হাতে কিচ্ছুটি নেই। কোনভাবে দুটো মাস কাটাতে হবে। Meanwhile আমি অন্যও কোন ব্যাবস্থা দেখছি। পিয়ালী, সোমা আমায় ভালোবাসে কিনা দেখি। তোমার কোন নাগর পাও কি খোঁজো।

*************************************************************************************

(মাস খানেক পরের ঘটনা )

 - নমস্কার দীপান্বিতা দেবী। আমি সিদ্ধারথ বলছি।

- হ্যাঁ বলুন।

- আচ্ছা কাজ কিরকম চলছে? একটা আপডেট চাই যে।

- হ্যাঁ সে ভালোই চলছে।

- তাহলে আজ একবার আসুন আমাদের অফিসে? আমার বস ও থাকবেন। ওনার সামনেই একটা প্রেজেন্টেশন দেবেন।

- আচ্ছা আমি এক ঘণ্টার মধ্যে জানাচ্ছি।

- ধন্যবাদ।

**************************************************************************************

- কি হবে এবারে? বস নাকি আপডেট চেয়েছে। কি বলব?

- দেখো বলতে তো হবেই। চাইলে আর একটু এডভান্স জোগাড় করতে হবে। আমি ম্যানেজ করব। তুমি টাইম ফিক্স করো দীপু।

*********************************************************************************************************

- এত জায়গা থাকতে গলফ গ্রীন সি সি ডি?

- তাতে কি হয়েছে?

- কিছুই না। ভালোই হবে। রাস্তায় মৌয়ের বাড়িটা পড়বে। দেখিয়ে দেবো। আমাদের সোনার মুর্গির ডেরা।

- ওসব পরে হবে শৌণক। আগে মিটিং ঠিকঠাক চলুক। আমার নার্ভাস লাগছে।

****************************************************************************************************************************************************

- আসুন শৌণক বাবু, আসুন দীপান্বিতা ম্যাডাম। বসুন। ব্লু লেগুণ বলি আপনাদের জন্য?

- তাড়া কিসের? আপনার বস আসুক। তারপরে একসাথে।

- বস আসছেন বলে। কাছেই আছেন।

- আচ্ছা। উনি আসুন।

- শৌণক দীপান্বিতা কেমন আছ? হার্টের অবস্থা ভালো?

- মৌ তুমি?

- হ্যাঁ, আমি। তোমার হার্টের অবস্থা কেমন বললে না যে?

- হুম ঠিক আছি।

- ঠিক থাকতেই হবে। কারণ এখন যা যা কথা তোমায় বলব, তা নিতে এবশ মজবুত একটা হৃদযন্ত্র লাগবে।

- মানে?

- মানে আর কি?এতদিন ধরে, to be precise, last 75 days ধরে ঠিক যা যা ঘটেছে, মানে নিতাই দার তোমার বৌয়ের সাথে দেখা করা থেকে শুরু করে এই মুহূর্তে সি সি ডি তে আমাদের দেখা হওয়া, পুরোটাই আমার orchestrated।  যে K M World এর সাথে কোটি টাকার ব্যাবসা করার রঙিন স্বপ্ন তুমি দেখছিলে, আমি সেই K M Worldএর কর্ণধার। বাবার ব্যাবসাটা এখন অনেক বড় হয়েছে। ট্রাভেল ছাড়াও আমরা অনেক কিছুই ডিল করি। তা ছাড়া ব্যাঙ্কের চিঠিতে নিশ্চয়ই দেখেছ? এই ব্যাঙ্কের GMও বটে।

- কি হল? এইটুকুতেই চুপ করে গেলে?

- তুমি কি বদলা নিচ্ছ মৌ?

-  এখনো তো আমার কথাই শেষ হল না। আরও বাকি আছে।

- আর কি বাকি?

- কিছুই তো করিনি। এবার করব। সিদ্ধারথ চিঠিটা বের করো।

- শৌণক এই নাও। টারমিনেশন লেটার। তোমাদের কোম্পানির সাথে আমাদের ডিলটা ক্যান্সেল করলাম। আর এর সাথে সাথেই এডভান্সের কুড়ি লাখ আর আমার থেকে পারসোনালি যে সাড়ে সাত লাখ নিয়েছিলে, সেইগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেবে।

- মৌ প্লীজ। এরকম করো না প্লীজ। আমি ডুবে যাব।

- আমার কথা শেষ হয়নি। গত বছর আমার থেকে যে আঠারো লাখ টাকা নিয়েছিলে, সেইটা within the next two months আমার ফেরত চাই। নইলে তোমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নিতে বাধ্য হবো। ভুলে যেয়ো না আমার কাছে সমস্ত চ্যাট, ব্যাঙ্ক ট্রান্সাকশন প্রুফ রয়েছে। কৌশাণি বার বার ঠকে না। অনেক নাটক তো করেছও, পড়েছ। এটা জানো না?  “Heaven has no rage like love to hatred turned / Nor hell a fury like a woman scorned.”

               ****************************************

Tuesday, July 11, 2017

দিল কা আলাম

- বুঝলি ভাই, আর বেঁচে থেকে কোন লাভ নেই।
- উফ, নাটক শুরু হল আবার।
- নাটক বলিস না রে। তোর পারমিতা আছে, তুই আর কি বুঝবি।
- শোন লঙ ডিস্টেন্সের অনেক চাপ।
- চুপ কর, দিনের শেষে একবার তো ফোনে কারুর সাথে কথা বলতে পারিস। আমার তো ভীষ্ম পিতামহ কেস হয়ে রয়েছে। শালা যাকেই মনে ধরে, সেই ব্যাটা নাকি কমিটেড। এদিকে দেখো যে ছেলেকেই জিজ্ঞেস করি, সেই বলবে তার গার্লফ্রেন্ড নেই। লজিকটা কি বস?
- তোর স্যামপ্লিংটা ঠিক হচ্ছেনা। কত করে বললাম টিন্ডার জয়েন কর। একদিন কি খুটুর খুটুর করলি, ব্যাস, আনইন্সটল। অত তাড়াহুড়ো করলে হয় নাকি? কষ্ট করলে তবে কেষ্ট, থুড়ি রাধিকা মেলে।
- ওসব ছাড়। তোর হাতে কোন স্টক আছে কি না বল।
- শালা আমায় কি চুণীবাবু পেয়েছিস নাকি? স্টক আবার কি?
- আরে ধুর গাধা। ওষুধ আছে কি জিজ্ঞেস করছি।
- পুড়িয়া না মাদার টিঙ্কচার?
- যা হোক হলেই হবে। রক্তে ওষুধ গেলেই হল।
- চলে আসিস রাত্রে ঘরে। জার্মান মাল আছে। ওসব ব্যাথা ফ্যাথা উবে যাবে!

ভাই ও মামণি

- এ ভাই ব্যাস্ত আছিস?
- না। বসে বসে ইউটিউবে ঢিনচ্যাঁক পূজার ভিডিও দেখছি।
- চল একটু ফিনিক্স মল থেকে হাওয়া খেয়ে আসি। হোস্টেলে হেব্বি গরম লাগছে।
- আরে না, ৫০টা এসাইনমেন্ট আছে কারেক্ট করতে হবে। গাইডগুলো তো ব্যাটারা করতে দিয়েই খালাস। বাচ্চাকাচ্চাগুলোর উইকেন্ড মারে। তারপরে আমাদের মারে। আর ওদিকে দেখো, নিজেরা এই রিসোর্ট সেই পার্ক করে বেড়াচ্ছে। যতসব। জালি সিস্টেম।
- ভাই ওইসব কাঁদুনি গেয়ে কোন লাভ নেই। মাস গেলে ওই যে স্টাইপেন্ডটি ঢোকে, তার জন্য একটু ঘাম ঝড়াতেই হবে।
- শালা মাথা গরম করিস না আমার। কাজ করতে দে।
- আরে এসে কাজ করবি। চল ফিনিক্সে। চোখের আরাম করে আসবি। সারাক্ষণ ওই #include <stdio.h> আর #include<math.h> করে করে তো পচছিস। একটু বসন্তের হাওয়া বাতাস খা। মন মেজাজ ফুড়ফুড়ে হয়ে যাবে।
- তুই শালা বহুত ঘ্যানরঘ্যানর করিস ভাই। আচ্ছা আসছি দশ মিনিটে। গেটে দাঁড়া।




(মলে গিয়ে)

- ভাই আজ এত ভিড় কেন? চারিদিকে তো শুধু ক্যাচর ম্যাচর।
- আরে End of season sale চলছে কিনা।
- সব কিছুতেই ডিস্কাউন্ট দিচ্ছে নাকি? 
-  আরে একটু ভালো করে খুঁজলে পরে সেলেও ভালো আইটেম পাওয়া যায়। চল ভাই ফুড কোর্টে বসি। মন ভরে খাই।


- ভাই ছটা কুড়ি দেখ।
- আরিব্বাস, এ তো পুরো ঝিঙ্কু!
- তাহলে? হে হে। এমনি এমনি আসতে বললাম এখানে?
- ভাই KFC'র সামনেটা একবার  দেখ। পুরো বৌদি!
- চোখ ভালোই ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে দেখছি!
- তা গুরুদেব থাকলে শিষ্য একটু আধটু শিখবে না? 
- বুকে আয় ভাই, বুকে আয়।  

Monday, July 10, 2017

বিরিয়ানির দম

- ভাই চ অন্ধ্র মেস যাই। বিরিয়ানি খাব।
- এই না ভাই, আজ হবে না। হেব্বি বাইরে খাওয়া হয়ে যাচ্ছে রোজ রোজ।
- তা কি হয়েছে?
- না শুক্র শনি রবি সোম চারদিন পরপর ডিনার বাইরে খেয়েছি। আজ আর না। তুই যা।
- ভালোই তো, আজও খাবি। নাকি তুই আবার মঙ্গল-শনি কেস?
- আরে ধুস, তা কেন হতে যাবে। আসলে একগাদা টাকা খরচা হয়ে যাচ্ছে। একাউন্ট গড়ের মাঠ।
- ধুর কোথা থেকে এসেছে আমার বাল গণেশ। টাকা টাকা করে কি হবে। কুবের হয়ে যাবি তো দুদিনে।  তারপর যপযন্ত্র বেরোবে তোর ভুঁড়ির ছবিকে লোগো বানিয়ে!
- এই ভাল আইডিয়া কিন্তু, রয়াল্টি পাব।
- তাহলে? চল চল। উফ দম বিরিয়ানির সরু চাল আর সুস্বাদু মাংস। ভাই তার এগেন্সটে ভাব মেসের ওই "আলুহীন কাঁচা কাঁচা আলুর পরোটা", সাথে রাজমা।
- উফ, কেন যে লোভ দেখাস। জানিস ইকো পার্কের ছবিগুলি দেখে পারমিতা কি ক্ষেপে গেছে। বলেছে পুজোয় যখন বাড়ি যাব, যেন ভুঁড়ি কমিয়ে যাই। নইলে বলেছে আমার সাথে নাকি ঘুরতে যাবেনা।
- আলবাত যাবে। ওসব ভাই কথার কথা। চ মেলা সময় নষ্ট না করে। ফেরত এসে আমায় ল্যাব যেতে হবে। ডেডলাইন আছে।
- আবার খরচা।
- টাকা টাকা করে কি হবে বল তো? টাকা মাটি। শ্রী শ্রী বলে গেছেন না!
- জানিস আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড, চাকরীর এক বছরের মাথায় একটা সিডান কিনে ফেলেছে।
- ও মাল নিশ্চয়ই পি এইচ ডি করে না?
- না। ও আই টি তে আছে।
- ওই জন্যই। শালা আমাদের গাড়ি হবেনা এই আঠাশ হাজারে। কিন্তু কুছ পরোয়া নেই। আস্ত গাড়ি না হোক, অন্তত মধ্য প্রদেশে দু তিনটে টায়ার তো রেডি!
- চল। তাহলে অন্তত দুই চাকা থেকে চার চাকায় নামি। দরকার হলে স্টেপ্নিও রেডি করে ফেলব।
- পথে এসো বাপধন!