Thursday, March 21, 2019

বেগুন ভাজা

সবাই ছোটবেলায় গল্প টল্প লেখে, কবিতা লেখে। সেসব কত সাহিত্যরসে পূর্ণ থাকে। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো। ছোটবেলায় একটা টেপ রেকর্ডারে আমার লেখা ও পাঠ করা একটা গল্প শুনতাম। আশা করি ওই সময়ে আর কোন লিখিনি। ওই এক পিসই যা প্রমাণ আছে। (এখন আর ক্যাসেটগুলো আদৌ চলে কি না, জানিনা। ক্যাসেটটা আছে কোথাও হয়তো...)
যাই হোক, গল্পটা যতটা যা মনে পড়ছেঃ (বানান অপরিবর্তিত)
"একটা বেগুন ভাজা ছিল। আরো একটা বেগুন ভাজা ছিল। একদিন বাইরে খুব বিশটি পড়ছিল। ওরা বাইরে ছিল। ছাতা মাথায় হাঁটছিল। বিশটিতে ভিজে একটা বেগুন ভাজার জ্বর হয়ে গেলো। "
ব্যস। এইটুকুই।
(তখন মনে হয় বেগুন ভাজা খেতাম নিয়মিত, রুটি দিয়ে। তাই এরকম অদ্ভুত গল্পের চরিত্র। যাক গে, মনে হয় তখনের চেয়ে এখন অল্প হলেও বেটার লিখি...)
Edit: মা বললো এটা নাকি মায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। আমি আমার মতো করে রেকর্ড করেছিলাম মাত্র।
আর গল্পে বেগুনভাজাটিকে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল!☺️

World Happiness Day

- তুমি খুশি থাকো।
- তোমার পানে চেয়ে চেয়ে?
- ওর'ম তাকিয়ো না।
- তুমি এমনিই ক্যাবলা, নতুন করে আর কী হবে?
- ফেসপাম।
- ডাবল ফেসপাম।





  - তুমি খুশি থাকো, আমার পানে চেয়ে চেয়ে খুশি থাকো।

- তার চেয়ে বরং ক'টা ভালো pun বলো, হাসি পাবে।

Tuesday, March 19, 2019

জোড়া শালিক

- গুড মর্নিং
- এত তাড়াতাড়ি উঠে পড়েছিস কেন?
- কাল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম, ভুঁড়িখানা বেশ জম্পেশ তৈরি হয়েছে। একটু কমাতে হবে। তাই হাঁটতে বেরোলাম।
- সে বেশ করেছিস। তা ছাড়া তোকে একটু গোলগালই কিউট লাগে। কিন্তু তা বলে আমায় ফোন করে ওঠালি কেন?
- আরে আমি যেই পার্কে হাঁটতে এসেছি, ভীষণ সুন্দর জায়গাটা। প্রচুর গাছপালা। ফুল। আর মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি, অনেক পাখি।
- সব বুঝলাম। কিন্তু তাও, সাড়ে পাঁচটায় আমার ঘুম ভাঙালি??
- এই যে, চোখ খুলে দেখ। দেখতে পাচ্ছিস?
- আরে, দু শালিক যে।
- প্রচুর আছে। তুই দেখার জন্য হা পিত্তেশ করে থাকিস। আমার চোখে পড়ল। তাই কল করলাম। নে এবার ঘুমো।
- থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ। আজ আবার প্রেজেন্টেশন আছে। আই ব্যাডলি নিডেড দিস।
- ওই জন্যই তো।
- তুই না থাকলে যে আমার কী হতো...
- হয়েছে। যা। ঘুম দে। আমি হাঁটি।
- গল্প করতে করতে হাঁট না। এমনিও আমার ঘুম চলে গেছে।
- পারলাম না অত ঢং করতে। ঘুম ভেঙে গেলে নীচে নেমে দৌড়ে নে কয়েক রাউন্ড।
- এরকম করতে পারলি?
- হুম।
- বেশ।
- পরে কথা বলছি আবার। বাই।
- টাটা!

Monday, March 18, 2019

সংলাপ

বিরহ পর্ব চলছে। তারই সংলাপ।
(হ্যাঁ, অগ্নি আর রুমুনের...)
- বৃষ্টি থামল?
- থেমেছিল। সেই দেখে বেরোলাম। ক্যাবে উঠতে আবার শুরু হল।
- ভাগ্যিস ক্যাব পেলি। এই ওয়েদারে তো সেও এক অ্যাডিশানাল সমস্যা।
- সাত কিলোমিটার ডিস্টেন্স তিনশো পড়ল।
- ভগবান! তবে হ্যাঁ, আর কী করবি। সাইড এফেক্টস অফ সাচ আ লাভ্লি ওয়েদার।
- নিকুচি করেছে লাভ্লি।
- কেন কী হল?
- প্র্যাক্টিকালি ভাবতে গেলে এই যে এরকম অস্বাভাবিক ক্যাব ফ্যের। প্লাস রাস্তায় জল কাদা প্যাচপ্যাচ।
- কন্টিন্যু।
- আর ইমোশনালি ভাবতে গেলে যত রাজ্যের মন খারাপ এসে বাসা বাঁধছে আমার মনে।
- সে কী কেন?
- এরকম ডিপ্রেসিং ওয়েদারে আমার সব সময়ই এমন মন খারাপ লাগে।
- ডোন্ট ব্লেম দ্য ওয়েদার।
- নয়তো কী? বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ছে। আর সেই সাথে আমার মন খারাপটা এক্সপোনেনশিয়ালি বেড়েই চলেছে।
- আমার এখানে সারাদিন সূর্যের তেজ গোবি সাহারাকে বলে বলে অন্তত সাত গোল দেবে। গাছগুলোকে দিনে দু'বার ধরে জল দিতে হচ্ছে। মাটি শুকিয়ে চৌচির। এমন ঝলমলে রৌদ্রজ্জ্বল দিনেও আমার ভীষণ মন কেমন করছে। সারাদিন ভুলভাল এদিক ওদিক কত কমেডি ভিডিও দেখলা। গান শুনলাম। কিছুতেই কিছু হল না। মন যেমন ভার ছিল সকালে, এখনও তেমনই আছে। এবার বল?
- একটাই চিকিৎসা।
- কী?
- ফিরে আয়।
- আই উইশ...
- প্লীজ... আমার একটুও ভালো লাগছে না।
- আমারই কি ভালো লাগছে নাকি?
- তাহলে পড়ে আছিস কেন?
- আমার হাতে নেই তো। থাকলে তোর মনে হয় এই এতদূরে এরকম পড়ে থাকতাম...
- টেস্টিং টাইমস।
- অ্যান্ড উই উইল কাম আউট উইদ ফ্লায়িং কালারস। দেখিস?
- মিস ইউ।
(অপর প্রান্তে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দে ঢেকে যায় বৃষ্টিস্নাত ব্যস্ত শহরের ট্র্যাফিকের পাগল করা শব্দ। আরেকটা দিন কেটে যায় জীবন থেকে। অপেক্ষায়। আশায়। একটা ছোট্ট আশাকে আঁকড়ে থেকে। )

সংলাপ

অগ্নি আর রুমুনের ওয়াটসঅ্যাপের চ্যাট:
- খেয়েছিস?
- হুম। এই তো।
- বেশ।
- তা হঠাৎ?
- এমনিই।
- এমনি এমনি তো এরকম প্রশ্ন করার মেয়ে তুই নোস। কোনোদিনও করিসও না। ব্যাপারটা কী?
- ঠিক বুঝে যাস, বল?
- বল, বল।
- এই এখন ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখলাম। প্রেম ১০১। লেখা "you are not a true girlfriend if you have never messaged him 'mele babu ne thana thaya?'"
- ফেসপাম!
- আহা, সাড়ে থেকে হোল নাম্বারে প্রোমোশন পেয়ে গিয়েছিস, অথচ একদিনও এরকম মেসেজ করলাম না, তা হয়? তবে এতোটাও ঢং আমি করতে পারবো না বাবা। তাই মডিফায়েড ভার্সান।
- বুঝলাম।
- যা। কাজ কর। আমিও কাজ করি। প্রচুর ডেডলাইন্স।
- লাভ ইউ টু!
- ও হ্যাঁ। লাভ ইউ!

সংলাপ

সকাল সকাল চমক
- গুড মর্নিং!
- উমম। মঅঅর্নিং। এত সকাল সকাল? কটা বাজলো?
- আটটা। এমন কিছু সকাল সকাল না।
- হুম।
- উঠে পড়ো।
- উঠছি। দু'মিনিট একটু আড়মোড়া ভাঙি। প্লিজ।
- ঠিক আছে। দেরি করো না। আমি ব্রেকফাস্ট রেডি করেছি। টেবিল সেট করছি। চলে এসো।
- হুম।

(খানিক পরে হাত মুখ ধুয়ে ব্রাশ টাশ করে ডাইনিং রুমে প্রবেশ।)
- বসে পড়ো।
- এই এক মিনিট।
- কী?
- আমি কি কোনো ভুল করেছি? আগাম সরি!
- ধ্যাৎ। ভুল করতে যাবে কেন?
- ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে লাগছে। টেবিলে কড়া কফির সুগন্ধ ভুরভুর করছে। তার সাথে দেখতে পাচ্ছি চিকেন এন্ড এগ স্যান্ডউইচ। তোর মুখে হাসিও রয়েছে। এদিকে আবার তুমি তুমি করে কথা বলছিস সকাল থেকে। আই এম কনফিউজড!
(বেশ জোরে হেসে) - ওই জন্যই আগেভাগে সরি বললি? বাবা রে। মা রে। কান্ট স্টপ লাফিং নাউ।
- যাক। ব্যাক টু তুই। রিলিভড। কিন্তু কেসটা কী হয়েছিল বল?
- একচ্যুয়ালি আমি ওয়াটসআপে আমাদের সেই প্রাচীন চ্যাটগুলো পড়ছিলাম।
- পাঁচবছর আগের চ্যাট এখনও কোথায় পেলি?
- চ্যাট তো আমি ডিলিট করিনা। আমাদের চ্যাট উইন্ডোতে স্ক্রল করছিলাম। কাল মাঝরাত্রে ঘুম ভেঙে গেল। আর ঘুম আসছিল না। কী করব। তাই।
- ভগবান। ওই জন্যই তোর এত ডার্ক সার্কলস। না ঘুমিয়ে ওয়াটসআপ।
- তা কী করবো? তুই ভসভস করে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছিস পাশে। টায়ার্ড ছিলি। আর ডিস্টার্ব করিনি। তাই বসে বসে চ্যাট পড়ছিলাম। আর ভয়েস নোটগুলো শুনতে শুনতে তবে ঘুম এলো।
- ফেসপাম! তা যাক গে। চ্যাট পড়ে কী হলো?
- হলো এই যে দেখলাম শুরুর এক মাস আমরা কীরকম তুমি তুমি করে কথা বলতাম নিজেদের মধ্যে। এত হাসি পেয়ে গেল!!! তাই ভাবলাম, লেট মি রি-লিভ দোজ ডেজ। তাই।
- তুই পাগল জানতাম। তা বলে এতটা, ভাবতে পারিনি।
- চমকে গেছিলি তো?
- তা আর বলতে?
- যাক। মাঝে মাঝে চমকে দেওয়া ভালো। প্রেম অটুট হয়।
- এটা কোন মহান ব্যক্তির বাণী?
- হবে কোনো করণ জোহরের সিনেমা টিনেমা।
- ডাবল ফেসপাম।

আক্ষেপ

এক বন্ধুকে এয়ারপোর্টে ছাড়তে এসেছিল রুমুন আর ওর আরো কটা বন্ধু। এবার ফেরার পালা। বাকি বন্ধুরা খেয়াল করেছে। কীরকম জানি ঝিম মেরে গেছে ও।
আসলে এয়ারপোর্টে এলেই রুমুনের মনটা এলোমেলো হয়ে যায়। হুড়মুড়িয়ে কত অনুভূতি, কত মুহূর্তেরা ভিড় করে এসে ওর গোছানো মনটাকে এক্কেবারে নেড়ে ঘেঁটে দিয়ে চলে যায়। এদিক ওদিক এত অচেনা মানুষের মধ্যে থেকেও একা লাগে বড়। কী করবে? সাথে যে অগ্নি নেই। কর্মসূত্রে দুজনে দুই শহরে। রোজ ভিডিও কলে 'দেখা' হলেও, দিনের শেষে একটু আঙুলের ফাঁকে আঙুল জড়িয়ে বসা যায় না। বা ইচ্ছে হলে ব্যের হাগ দিতে পারে না।
আজও তেমনই হয়েছে রুমুনের।

ভাল্লাগছেনা কিচ্ছুটি। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। যতবার চোখ পড়েছে, দেখেছে ডিসপ্লে বোর্ডে উঠছে বারবার, 6E 6385 সঠিক সময়ে উড়বে। খুব ইচ্ছে করছিল। খুউব। টুক করে একটা টিকিট কেটে এক্ষুণি চলে যায় ওর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির কাছে। কিন্তু... কিন্তু, বাস্তবতার শিকলে যে ওদের হাত পা বাঁধা। কেন যে বড় হয়...
বেশ তো চলছিল। আবার সব উল্টে পাল্টে গেল।
ভাল্লাগেনা।
ধুর।
আবার সারা রাত বালিশ ভিজবে। আবার। আবার।
আবার...