Friday, May 17, 2019

রুমুন বাড়ি ফিরে অবাক। এ কী? না হয় ভোটের বাজারে চারিদিক গরম, কিন্তু ওর বাড়িতে এমন চিৎকার চেঁচামিচি কীসের?
"ধর ধর। ওই তো। মার ব্যাটাকে।"
"ওই যে, মীনা, ওইদিকে। যা মার।"
"পারলি না? আরে ওই তো..."
"এর মধ্যে পঁচিশটাকে মেরেছি। একটাও যেন আস্ত না থাকে। ধরে ধরে মার।"
মায়েরই তো গলা। উঠোন দিয়ে বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে এইসব শুনে রুমুনের চমকে যাওয়ার অবস্থা।
কিন্তু, কই কাউকে দেখা যাচ্ছে না যে?
ব্যাগ থেকে সদরের চাবিটা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখে মা আর মীনাদি ঝ্যাঁটা হাতে। রণং দেহী মূর্তি দুজনেরই।
একটু খোঁজ খবর করতে জানা গেলো, ব্যাপার আর কিছু না।
মা ভার্সেস আরশোলা ওয়ার্ল্ড ওয়ার চলছে। "কালা হিট" স্প্রে হয়েছে। নিরীহ জীবগুলো ছোটাছুটি করছে প্রাণের দায়ে।

চোখে পড়ল এতক্ষণে। দরজার বাইরে ডাস্টবিনে সারি সারি মৃতদেহ। আরশোলার।
রেস্ট ইন পিস!!

(অগ্নিকে খুঁজবেন না প্লিজ! রুমুন দেখলেই অগ্নিকে চাই নাকি?? :P )

Thursday, May 16, 2019

গ্রীষ্ম চরিত ২

# সকাল থেকে এই নিয়ে বোধহয় পঞ্চাশটা বাড়ি গিয়ে গিয়ে চিঠি বিলি করলো সুশান্ত। এই গরমে, তেতে পুড়ে। বাড়ির লোকগুলো কলিং বেলের আওয়াজে বিরক্ত। এসির আরাম ছেড়ে বেরোতে ভালো লাগে নাকি?
কুরিয়ারের ছেলেটাকে এক গ্লাস ঠান্ডা জল দিতেও মনে পড়ে না বিরক্তিতে।

# রোব্বার ভোটটা মিটলে বাঁচে বলবন্ত সিং। এই রোদে পোলিং বুথের বাইরে উর্দি পরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা...

# "বৌদি, কাল আসবো না। এতো গরম পড়েছে, রাত্রে ঘুমোতে পারি না। কাল একটু বেলা করে উঠবো তাই।"
"ইশ, আগে বলবে তো দিদি। দাদাকে দিয়ে একটু বেশি সব্জি আনিয়ে রাখতাম। আরেকটু বেশি করে রাঁধিয়ে রাখতে পারতাম তোমায় দিয়ে। এখন এই গরমে আমায় কাল আবার হেঁশেল ঠেলতে হবে। ধুর ধুর।"


ভালোবাসিস?
খুউউব।
ছেড়ে যাবি না?
কোনোদিনও না।
কথা রেখেছে। রয়ে গেছে ফেসবুক জিমেলের পাসওয়ার্ড হয়ে।

Wednesday, May 15, 2019

# সাইকেলে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া মুর্গিগুলো দেখে খারাপ লাগছিল ছাগলটার। খেয়াল করেনি, পিছনেই দাঁড়িয়ে কসাই বিষ্টু।
# বৃদ্ধাশ্রমের ফোনটা কিছুতেই ধরছেনা কেন, কী হলো মায়ের?
ওমা, এক্কেবারে দেখতে ছুটে চলে এলি খোকা?
# ওয়েটিং লিস্ট টিকিট। দরজার সামনে চাদর পাত। কয়েক রাউন্ড টুএন্টি-নাইন। ২৯ঘন্টা কবেই সাবাড়!
# বাবু, একবার শুনে যা।
আবার কী?
এমনি। মুখটা দেখতে ইচ্ছে হলো।
উফ।
...............
মা, ওমা। সাড়া দাও।
# আজ বাজারে কী পেলে?
মেয়ের পছন্দের আনারস।
আর বাবার পছন্দের হিমসাগর?
হবে না হয় পরে!
শুনলাম এখন বুঝি দশ শব্দের গল্প বলার ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। 
***********************************
$ সুখ কারে কয়?
গরম আলু ভাতে, ঘি আর লঙ্কা পিঁয়াজ।
$রেজাল্টটা শেষমেশ পজিটিভই এলো। এক বুক হতাশা। পরীক্ষার পেপারটা HIV।
$বাজতে বাজতে টেলিফোনটা থেমে গেলো। নম্বর অপরিবর্তিত থাকে, সম্পর্কেরা পাল্টায়।
$ঝড় উঠেছে ঈশান কোণে। ঝড় উঠেছে বুকে। প্রেম-বৃষ্টি ঝরে।
$যুদ্ধ শেষে মৃত প্রান্তরে সাদা পতাকাটা ব্যাঙ্গের হাসি হাসে।
$গরমের ছুটিতে কোথায়? দীপুদা?
উহু। ফেলুদা। ঘনাদা। টেনিদা।
$কালবৈশাখী। ছাদ। এক আকাশ তারা। তোর হাতে মাথা রাখার আরাম।
গ্রীষ্ম চরিত।

# "কোয়ালিটি, অ্যাই কোয়ালিটি।" ডাকতে ডাকতে আজও চলে যায় সেই পরিশ্রান্ত দেহ ঘেমো কাকুটা। একটা দিনও যার নিজের জোটেনা একটা স্টিক বা কাপ...

# জলের কলের লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই অনেকটা শৈশব কেটে যায় ছোট্ট রুমির। কীই বা করবে, সারাদিন পর মা ঘেমে নেয়ে যখন বাড়ি ফেরে, টাইম কলের জল ততক্ষণে শেষ। আগে মা পারত। এখন পারে না। একটা বাড়ি এক্সট্রা রান্নার কাজ জুটেছে। নিতেই হল। ফ্যাক্টরিতে লক-আউটের পর থেকে একা মায়ের রোজগারেই যে সংসারটা চলছে।

# একটু খাবারের আশায় বেপাড়ায় গিয়েছিল পটলা। যে দিদিভাইটা ওকে রোজ আদর যত্ন করে দুবেলা খেতে দেয়, আজ তিনদিন হলো ওরা তালা চাবি মেরে কোথাও গেছে, তল্পিতল্পা গুটিয়ে। সামার ভেকেশন না কী বলে বোধহয়। বেপাড়ার যত উটকো কুকুরগুলো দাঁত মুখ খিঁচিয়ে তাড়া করে পটলাকে পাড়া ছাড়া করলো। পটলা কোনমতে বারান্দার ছায়ায় বসেছে। পটলা ধুঁকছে। খিদেয়। তেষ্টায়।

# অনেক কষ্টে পুরনো ত্রিপলটা জোগাড় করেছিল সুন্দরী। গতকালের কালবৈশাখীতে সেটাও উড়ে গেলো। আবার মাথার ওপর ছাদ জোটানোর লড়াই শুরু।

# ঋজুর স্কুলটা বন্ধ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তবুও শান্তি নেই। সেই প্রতিদিন টিউশন ক্লাসে যেতে হচ্ছেই। যেহেতু গত পরীক্ষায় নম্বর কম পেয়েছে, আবার এখন এক্সট্রা ক্লাস। খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, এবারের ছুটিতেও অধরাই রয়ে গেলো।
#জিরো_থ্রি_থ্রি

সায়েন্স কলেজ থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেলেই একটা উল্টোদিকের বাস ধরে চলে যেতাম হাতিবাগান। বা কখনো কখনো হাঁটতে হাঁটতেও পৌঁছে গিয়েছি। সেই অলস দুপুর। শতাব্দী প্রাচীন বাড়ির বারান্দাগুলো তখন ঝিম মেরে আছে। পলেস্তারা খসা গোলাপি সবুজ রেলিংয়ে সামনের কৃষ্ণচূড়ার ছায়া। ফুটপাথের হকার দাদারাও তখন একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। তারই মধ্যে ঘুরে ঘুরে কুর্তি সালোয়ারের সাথে মিলিয়ে মিশিয়ে হরেক রঙের হরেক ডিজাইনের ঝুমকো দুল। অল্প দরদাম। টুকটাক প্রসাধনী। তারপর আবার গুটগুট করতে করতে রাস্তা পেরিয়ে অপেক্ষা। ২৩৪/১ এর। খুব খিদে পেলে কোনো রাস্তার সাধারণ টিমটিমে দোকান থেকে অসাধারণ স্বাদের নরম পাকের শাঁখ বা আম সন্দেশ কিনে খাওয়া। বাস আসতে চটপট উঠে পড়া। ফাঁকা বাস। পছন্দসই পিছনের দিকের টু-সিটার লেডিজ সিট। কানে ইয়ারফোনে তখন এভারগ্রিন গান। কিশোর আর ডি লতা।
বাস চলতে থাকে। প্রাচীন কলকাতার বুক চিরে। ঠনঠনিয়ায় কালীবাড়ির সামনে ঠিক একবার সিগনাল খাবেই। আলতো করে কপাল ছুঁয়ে প্রণাম। মা গো, ভালো রেখো। বৌবাজারের রোশনাই পেরিয়ে চলতে থাকি। বাসও, আর এফ এম এ আর জে ও। বাম্পার টু বাম্পার। চারটে বাজলো। এইবার ঘরে ফেরার পালা।

"There's nothing like Calcutta!"