পুঁ: Ma what was that???
স: কেন কি করলাম?
পুঁ: কি করোনি সেটা বল! এই একটা প্রোগ্রাম শিডিউল হল??
স: পঞ্চমীতে আনন্দমেলা, ষষ্ঠীতে উদ্বোধনী। সপ্তমী টু নবমী সাংস্কৃতিক। এর চেয়ে বেশী কি হবে?
পুঁ: মা where' the DJ? Where's the Dandiya???
স: DJ Dandiya দুর্গাপুজোয় কেন হবে? শোন, আমরা বাঙালী, কালচারে নেই ওসব।
পুঁ: But মা, আমার কলেজের বন্ধুরা অবাঙালি। ওরা এত excited পুজো নিয়ে। ওরা
কি দেখবে এসে? এরকম একটা bland lifeless programme!! কোন নাচগান নেই
কিছুনা।
স: গান নেই? এত আর্টিস্ট আছে তালিকায়, তাদের গানে গলা মেলাও। ব্যান্ড আছে, নাচ। আর শোন পুঁটি, ওরা পুজো দেখতে চায়, পুজো দেখা। বাঙালী
অনুষ্ঠানে গুজরাটি নাচ কেন হবে? অদ্ভুত বোকাবোকা expectation তোর।
পুঁ: ওই তো যত performers, কিশোরকণ্ঠী লতাকণ্ঠী। আর ব্যান্ড, হাসালে!!!
স: যা বাজেট, এতে এর বেশী হবেনা। This is not some politician's
patronised পুজো। পছন্দ হলে থাকবে, নইলে না। ছোট থেকে বড় হলে এই পুজোয়,
প্রথম স্টেজ শো এখানে আর দুই মাস কলেজ যেতে না যেতেই যত পাখনা। This is
very uncool পুঁটি।
পুঁ: এরকমভাবে react করছ কেন? I'm not criticising you and the Pujo. All I am saying is কি একটু modern হও।
স: Modern হওয়া মানে নিজের ঐতিহ্য ভোলা না। যেই ডাণ্ডিয়া ডাণ্ডিয়া করে
লাফাচ্ছ, গুজরাটিরা কি তোমার কথামত modern হয়ে ধুনুচি নাচ করছে? Be proud
of your roots পুঁটি। কিছু কিছু ব্যাপারে সাবেকিয়ানা বেশী মানায়। বেহালার
ঠাকুর আর কসবার ঠাকুর কে কি হল, hardly a month মনে থাকে। কিন্তু
বাগবাজারের ডাকের সাজ, that is the epitome of ভক্তি। অনেকগুলো কথা বললাম,
এবার যা পারো কর। সামনেরবার থেকে না হয় young brigade পাড়ার পুজোটা
সামলিও। We will gladly hand over the reins.
Thursday, July 6, 2017
Wednesday, July 5, 2017
সরপুঁটি ১
পুঁটিঃ Ma do you mind giving me the cold shoulder please?
সরযুঃ cold shoulder? কেন রে? তোকে হঠাৎ cold shoulder দিতে যাব কেন?
পুঁটিঃ আরে আমি চাইছি বলে!
সরযুঃ খামোখা চাইছিসই বা কেন?
পুঁটিঃ আরে দরকার, তাই।
সরযুঃ আহা তোর সাথে কি আমার কোন ঝগড়া হয়েছে বল?
পুঁটিঃ ঝগড়া কোত্থেকে এলো মা?
সরযুঃ তা মন কষাকষি না হলে বেমক্কা cold shoulderএর প্রশ্ন আসছে কেন? কেন মা হয়ে তোকে আমি কথা নেই বার্তা নেই cold shoulder দিতে যাব?
পুঁটিঃ উফফ মা! cold shoulder is the top that I bought last week. তাকিয়ে দেখো, তোমার পাশে রয়েছে বিছানায়। ওটা দিতে বলছি তো তখন থেকে।
সরযুঃ বললেই হল? এখন কথা ঘোরাচ্ছিস কেন? আমি english এ MA, বুঝেছ? আমায় idioms শেখাতে এসো না।
পুঁটিঃ আরে বাবা। নিজের নামের মত নিজের backdated চিন্তাধারাটা পালটাও তো। Cold shoulder একটা নতুন স্টাইল, যেমন bell-bots, তেমন। তোমার এই প্রাচীন চিন্তাধারার জন্য nickname ও দিয়েছও কেমন দেখো... পুঁটি। নিজেও দেখো নিজের নামঃ স-র-যু।। উফফ। Disgusting!
সরযুঃ এইটে? আমি তো ভাবলাম বুঝি হাতের কাছে সেলাই খুলে গিয়েছে, আমায় মেশিনে সেলাই করে দিতে রেখেছিস বের করে। এও আবার স্টাইল?? তা হাত কাটা জামা পড়লেই হল! এরকম hybrid পদার্থের কি দরকার?
পুঁটিঃ মা আসলে আমার তো killer eyes এর জায়গায় pillar arms, তাই পুরো sleeveless পড়তে সাহস পাইনা। hence, the cold shoulder.
সরযুঃ কত কি যে দেখতে হবে। বাবা রে। আর হ্যাঁ, আমার নাম নিয়ে কি বললি রে? backdated?? আমার নাম সা-রা-য়ু। আর তুমি কিনা ছোট থেকে পুঁটি মাছ ছাড়া খেতে না, তাই তোমার এমন ডাকনাম। বুঝেছ? ভারী এসছে আমার modern মেয়ে। হুহ!
Tuesday, July 4, 2017
আজ গল্প লিখছিনা। কয়েকদিন ধরে একটি বই পড়ছি। প্রতিভা রায়ের লেখা, প্রদীপ
ভট্টাচার্যের অনুবাদঃ "যাজ্ঞসেনী"। সেটি পড়ে কিছু কথা মনে হল। সেটিই বলি।
রামায়ণে দেখি শ্রীরামচন্দ্র তার প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী (ছোটবেলায়, মাধ্যমিকেই বোধহয়, সিলেবাসে একটা কবিতা ছিল, 'রামের বিলাপ', সেখানে তো ওনার "সীতা বিনা আমি যেন মণিহারা ফণী " প্রচণ্ড বিখ্যাত লাইন ছিল। ছেলেপুলেরা রামচন্দ্রকে রীতিমতো idolise করত পত্নী প্রেমের জন্য) কে প্রথমত অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ান। তারপরে উনি সেই পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও রাজ্যবাসীর কথা ভেবেচিন্তে বনবাসে পাঠান গর্ভবতী অবস্থায়। প্রশ্ন হল, কেন অগ্নিপরীক্ষা দেওয়াবেন??
রামায়ণে দেখি শ্রীরামচন্দ্র তার প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী (ছোটবেলায়, মাধ্যমিকেই বোধহয়, সিলেবাসে একটা কবিতা ছিল, 'রামের বিলাপ', সেখানে তো ওনার "সীতা বিনা আমি যেন মণিহারা ফণী " প্রচণ্ড বিখ্যাত লাইন ছিল। ছেলেপুলেরা রামচন্দ্রকে রীতিমতো idolise করত পত্নী প্রেমের জন্য) কে প্রথমত অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ান। তারপরে উনি সেই পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও রাজ্যবাসীর কথা ভেবেচিন্তে বনবাসে পাঠান গর্ভবতী অবস্থায়। প্রশ্ন হল, কেন অগ্নিপরীক্ষা দেওয়াবেন??
মহাভারতে দেখি কুন্তী তার পুত্রদের বললেন পাঞ্চালীকে নিজেদের মধ্যে ভাগ
করে নিতে। পাণ্ডবদের কাছে মাতৃ আজ্ঞাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল। তখন ধর্মরাজ
যুধিষ্ঠিরের ন্যায়, অর্জুনের পত্নীপ্রেম সব কোথায় ছিল? তারপরে
মহাপ্রস্থানের পথে যখন দ্রৌপদী প্রথম থেমে গেলেন, বা বলা যায় পড়েই গেলেন,
তখন তো পাঁচ স্বামীর কেউ এগিয়ে এলেন না। উল্টে কুরুক্ষেত্রর যুদ্ধে এত যে
প্রাণ গেল, সেই যুদ্ধের জন্যও দায়ী করা হল তাঁকে। কি করে এটাকে justify করা
হবে? কই যখন ভরা রাজসভায় বস্ত্রহরণ হল, একটা কেউ তো টু শব্দটি করেনি!
আসলে আমাদের তথাকথিত epicগুলিতে কিছু কিছু এমন ঘটনা রয়ে গিয়েছে যা যুগে যুগে মানুষ নিজের সুবিধার্থে interpret করেছে। আমার তো মনে হয় ঘটনাগুলি এই জন্যই দেওয়া যাতে লোকে বোঝে যে জিনিসগুলি অন্যায়। তা না, লোকে নারী নির্যাতন করে এবং তারপরে দোহাই দেয় যে রামায়ণ মহাভারতে যা আছে, তাই করছি।
সত্যি, কি বিচিত্র চিন্তাধারা।
আসলে আমাদের তথাকথিত epicগুলিতে কিছু কিছু এমন ঘটনা রয়ে গিয়েছে যা যুগে যুগে মানুষ নিজের সুবিধার্থে interpret করেছে। আমার তো মনে হয় ঘটনাগুলি এই জন্যই দেওয়া যাতে লোকে বোঝে যে জিনিসগুলি অন্যায়। তা না, লোকে নারী নির্যাতন করে এবং তারপরে দোহাই দেয় যে রামায়ণ মহাভারতে যা আছে, তাই করছি।
সত্যি, কি বিচিত্র চিন্তাধারা।
Monday, July 3, 2017
শতায়ু
আজকে বলব আমার এক বন্ধুর কথা। ওর নাম শতায়ু। আমরা একসাথে শিবপুর বেসুতে MSc
পড়তাম। মানে আমি ওখানে মোটে সাতদিন ক্লাস করেছিলাম, তারপরে যাদবপুরে চান্স
পেয়ে চলে যাই। ও ওখানেই কন্টিনিউ করে। এক ক্লাসে পড়লেও সাতদিনে তেমন আলাপ
বন্ধুত্ব্ব হয়নি। শেষদিন যখন আমি ক্লাসের সকলকে goodbye জানিয়ে বেরোচ্ছি,
তখন নিজে যেচে আমার ফোন নম্বর নিয়েছিল আর নিজেরটা দিয়েছিল। সেই থেকে শুরু
আমাদের SMS এ গল্প, আড্ডা মারা।
যাদবপুরে কোর্সে কি পড়লাম নতুন, কারা বন্ধু হল, সিনিয়ররা কে কেমন, কার ওপর ক্রাশ হল সমস্ত আলোচনা হত। ওর দিক থেকেও খবর পেতাম। তখন ছিল বোধহয় অরকুটের যুগ, ফেসবুক ততটাও দাপানো শুরু করেনি। মনে আছে ওর অ্যালবামগুলিতে আনতাব্রি কমেন্ট করতাম, খ্যাপাতাম। মোটামুটি ও ছিল আমার যাকে বলে ভীষণ কাছের বন্ধু। জীবনের সুখ দুঃখ সমস্ত সময়ে ওকে পাশে পেয়েছি।
২০১২ সালের পুজোতে মনে আছে দশমীর দিন আসানসোলে কোন কারণে বন্ধ ছিল। আমার পিসি কাকা সবাই ওইদিকে থাকত। ওদের থেকেই খবর পাওয়া। দর্পণে বিসর্জনের পরে SMS করলাম "শুভ বিজয়া"। প্রায় ওই দুপুরবেলা নাগাদ, বারোটার আশেপাশে। কোন উত্তর পাইনি। মনে পড়ল, ওর ঠাকুমার শ্রাদ্ধের কাজ ছিল, বুঝলাম সেই নিয়ে ব্যাস্ত।
মাঝ রাত্রে আমার বান্ধবী, ও-ও বেসুতেই পড়ত, আমায় মেসেজ করেছিল, শতায়ু আর নেই। ঘুমের মধ্যে অভ্যেসবশত আমি মেসেজটি ডিলিট করে দিই। সকালবেলা উঠে পরেরদিন কোন আর কারুর থেকে খবর নেই। ভাবলাম মনের ভুল। আর ব্যাপারটা এমনই অদ্ভুত, ওরকম ডাইরেক্টলি কাউকে জিজ্ঞেসও করা যায়না। বান্ধবীকে আবার মেসেজ করলাম বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে। তখন ও আমায় বলল। আগেরদিন দুপুরে ওর ঠাকুমার কাজের পরে ফুলপাতা ইত্যাদি ফেলতে দামোদর নদে গিয়েছিল। তখন হঠাৎ বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়ায় ওদের নৌকোটি টাল সামলাতে পারেনি, ও নৌকো থেকে পড়ে ভেসে যায়। অনেক রাত্রে ওর নিথর মৃতদেহ বহু দূরে পেয়েছিল। ডাক্তার লেখেন "ম্যাসিভ হার্ট এটাক"।
যেইটুকু জেনেছিলাম, যখন ঘটনাটি ঘটে, সময় ওই বারোটার আশেপাশে। যখন কিনা ওকে আমি SMS করছিলাম। সেইদিন কিন্তু ওই সময়ে আমি আর কাউকে SMS করিনি। আজও বুঝিনি, কোন টানের বশে ঘটেছিল। লোকে বলে যে প্রিয়জন যখন বিদায় নেয়, দোসরের সাথে দেখা করে যায়। হয়তো...
https://www.youtube.com/watch?v=AoFgEqjO2kg
যাদবপুরে কোর্সে কি পড়লাম নতুন, কারা বন্ধু হল, সিনিয়ররা কে কেমন, কার ওপর ক্রাশ হল সমস্ত আলোচনা হত। ওর দিক থেকেও খবর পেতাম। তখন ছিল বোধহয় অরকুটের যুগ, ফেসবুক ততটাও দাপানো শুরু করেনি। মনে আছে ওর অ্যালবামগুলিতে আনতাব্রি কমেন্ট করতাম, খ্যাপাতাম। মোটামুটি ও ছিল আমার যাকে বলে ভীষণ কাছের বন্ধু। জীবনের সুখ দুঃখ সমস্ত সময়ে ওকে পাশে পেয়েছি।
২০১২ সালের পুজোতে মনে আছে দশমীর দিন আসানসোলে কোন কারণে বন্ধ ছিল। আমার পিসি কাকা সবাই ওইদিকে থাকত। ওদের থেকেই খবর পাওয়া। দর্পণে বিসর্জনের পরে SMS করলাম "শুভ বিজয়া"। প্রায় ওই দুপুরবেলা নাগাদ, বারোটার আশেপাশে। কোন উত্তর পাইনি। মনে পড়ল, ওর ঠাকুমার শ্রাদ্ধের কাজ ছিল, বুঝলাম সেই নিয়ে ব্যাস্ত।
মাঝ রাত্রে আমার বান্ধবী, ও-ও বেসুতেই পড়ত, আমায় মেসেজ করেছিল, শতায়ু আর নেই। ঘুমের মধ্যে অভ্যেসবশত আমি মেসেজটি ডিলিট করে দিই। সকালবেলা উঠে পরেরদিন কোন আর কারুর থেকে খবর নেই। ভাবলাম মনের ভুল। আর ব্যাপারটা এমনই অদ্ভুত, ওরকম ডাইরেক্টলি কাউকে জিজ্ঞেসও করা যায়না। বান্ধবীকে আবার মেসেজ করলাম বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে। তখন ও আমায় বলল। আগেরদিন দুপুরে ওর ঠাকুমার কাজের পরে ফুলপাতা ইত্যাদি ফেলতে দামোদর নদে গিয়েছিল। তখন হঠাৎ বাঁধের জল ছেড়ে দেওয়ায় ওদের নৌকোটি টাল সামলাতে পারেনি, ও নৌকো থেকে পড়ে ভেসে যায়। অনেক রাত্রে ওর নিথর মৃতদেহ বহু দূরে পেয়েছিল। ডাক্তার লেখেন "ম্যাসিভ হার্ট এটাক"।
যেইটুকু জেনেছিলাম, যখন ঘটনাটি ঘটে, সময় ওই বারোটার আশেপাশে। যখন কিনা ওকে আমি SMS করছিলাম। সেইদিন কিন্তু ওই সময়ে আমি আর কাউকে SMS করিনি। আজও বুঝিনি, কোন টানের বশে ঘটেছিল। লোকে বলে যে প্রিয়জন যখন বিদায় নেয়, দোসরের সাথে দেখা করে যায়। হয়তো...
https://www.youtube.com/watch?v=AoFgEqjO2kg
Saturday, July 1, 2017
গল্প হলেও সত্যি
****গল্প হলেও সত্যি****
আজ ভেবেছিলাম একটু লেখা থেকে ব্রেক নেব, কিন্তু এমন একখানা কাণ্ড ঘটে গেল, লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ঘটনাটি এই রসেবশে গ্রুপ নিয়েই।
মেঘে মেঘে তো বয়সটা নেহাত কম হয়নি, বিয়ে-থা করার চেষ্টা চলছে। সেই সূত্রে আজ এক "প্রস্পেক্টিভ পাত্রের" সাথে ডেটে গিয়েছিলাম। মেনল্যাণ্ড চায়না। চাইনীজ আমার খুবই প্রিয়। মেনু কার্ড দেখে আমি প্রায় হামলে পড়লাম (আসলে হোস্টেলে থাকি, প্রায় অভুক্তই থাকে বলতে পারেন)। স্যুপ, স্টারটার, মেন কোর্স, সাইড ডিশ সব অর্ডার দিয়ে ততক্ষণে উল্টো দিকে যেই ভদ্রলোক বসেছেন, তার সাথে কথা বলতে শুরু করেছি। সেই কথোপকথনের মোটামুটি একটা খসড়া এই রকমঃ
আমিঃ আমি না আপনাকে প্রায় জিজ্ঞেস না করেই সব অর্ডার দিলাম, আশা করি আপনি মাইন্ড করেননি।
সেঃ না না, আপনি দেখলাম বেশ খাদ্যরসিক, খুব সুন্দর সব রকম আইটেম দিব্যি অর্ডার করে দিলেন। আমি না মেনু কার্ড দেখে কিরকম একটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই।
আমিঃ না মানে আমি জোম্যাটো থেকে অল্প বিস্তর দেখে আসি কোথায় কোন খাবার ভাল, সেই অনুযায়ী অর্ডার করি।
সেঃ আপনি যে ভালই খান, আপনার লেখা দেখে বোঝা যায়।
আমিঃ আমার লেখা? আমার লেখা আপনি কোথায় পেলেন? কোন লেখা?
সেঃ ওই যে, এসো বসো আহারে।
আমিঃ ও আপনি বুঝি রসেবশেতে আছেন? ( আসলে এই ভদ্রলোকটি কে তো তখনো ফেসবুকে যোগ করিনি, অন্য কোন সুত্রে লেখাটা পাওয়ার কথা না।)
সেঃ হ্যাঁ, আমি আপনার লেখার বেশ নিয়মিত পাঠক।
আমিঃ ও আচ্ছা। আসলে ওখানে এত মেম্বার, সবার সাথে ঠিক আলাপ পরিচয় নেই, যারা আমার লেখায় লাইক কমেন্ট করেন বা রেগুলারলি লেখেন, তাদের নামে চিনতে পারি। আপনি বোধহয় খুব একটা এক্টিভ না, তাই না?
ইতিমধ্যে লেমন কোরিয়েন্ডার প্রন স্যুপ ও ক্র্যাব কেক এসে গিয়েছে। খাওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।
সেঃ উমম, বেশ সুন্দর তো টেস্ট, বেশ একটা টক টক খেতে। আপনি অর্ডার ভাল করেছেন।
আমিঃ থ্যাঙ্ক ইউ। হ্যাঁ, খুব ট্যাঙ্গি একটা ফ্লেভার। তা যা বলছিলাম, আপনি বেশী এক্টিভ না গ্রুপে, না?
সেঃ না। মানে আমি মোটামুটি সকলের লেখা পড়ি। তবে ওই লাইক কমেন্ট করিনা। সামহাউ ইচ্ছে করেনা।
আমিঃ ও আচ্ছা। আসলে লাইক কমেন্ট বা যে কোন ফিডব্যাক না পেলে আমরা যারা লিখি, তারা বুঝিনা পাঠক কি চাইছেন। তাই পারলে এরপর থেকে মন্তব্য, নিদেনপক্ষে ভাল লাগলে একটা লাইক করবেন।
সেঃ আচ্ছা বেশ। আমার না একটা প্রশ্ন আছে।
আমিঃ হ্যাঁ বলুন, তবে নুডলসটা খান। জব্বর বানিয়েছে। প্যান ফ্রায়েড, বেশ মুচমুচে।
সেঃ ফিশটাও টেস্টি।
আমিঃ হ্যাঁ। কি প্রশ্ন আছে করে ফেলুন।
সেঃ বলছি আপনার জীবনে অর্ক কে?
আমিঃ অর্ক? কোন অর্ক?
সেঃ না মানে ওই এসো বসো আহারেতে সেদিন লিখলেন পায়েল আর অর্কর গল্প। তারপরে সেদিন ওই মোমোর গল্প লিখলেন। ওগুলো তো আপনারই নিজের ঘটনা নিশ্চয়ই?
আমিঃ পাগল? না না। নিছকই গল্প।
সেঃ আর ওই গানে গল্পের ব্রেকাপটা? ইলেক্ট্রনিক সিটিতে কে থাকে?
আমিঃ শুনুন মশাই, ইলেক্ট্রনিক সিটি ফেজ ১ ও ২ মিলিয়ে প্রচুর প্রচুর লোক থাকেন। কিন্তু আমি গোট্টিগেড়েতে থাকিনা। ওটাও নিছকই গল্প। পাতি ব্যাঙ্গালোর টাইমস খুলে পরপর দুটো ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনে এই নামগুলো পেলাম।
সেঃ এ বাবা।
আমিঃ এত ডিসাপয়েন্টেড হলেন যে?
সেঃ না আসলে আপনার লেখা গুলো দেখে খুব কৌতূহল হত, তাই যখন ম্যাট্রি প্রোফাইলে আপনার নাম দেখলাম, ভাবলাম দেখি চেষ্টা করে, যদি সামনাসামনি কথা বলে গল্পগুলির পিছনের সত্যিটা জানা যায়। সেই জন্যই আরো আসা আজ।
আমিঃ ও না না, ওগুলো সবই আমার মজা করে লেখা। ইন ফ্যাক্ট রোহিণীর গল্পটাও বানানোই।
সেঃ বুঝলাম।
স্বাভাবিকই এরপরে বেশী আর কথা এগোয়নি। উনি এতটাই মর্মাহত হলেন (ভেবেছিলেন কি নতুন কোনো স্কুপ পাবেন? রসেবশেতে গল্প লিখবেন? মিউচ্যুয়াল ট্রান্সফারের ব্যাকগ্রাউণ্ডের মত এসো বসো আহারের ব্যাকগ্রাউণ্ড? কে জানে!) যে এরপরে আর আইস্ক্রীমও খাওয়া হলনা, যদিও লিচু আইস্ক্রীম ছিল মেনুতে। দেখে রেখেছিলাম!
********************************************************************************
পুনশ্চঃ রসেবশেতে লেখা এ যাবত সমস্ত গল্পই আমার কল্পনা! বাস্তবের সাথে মিল খুঁজতে যাওয়া সময় নষ্ট।
আজ ভেবেছিলাম একটু লেখা থেকে ব্রেক নেব, কিন্তু এমন একখানা কাণ্ড ঘটে গেল, লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ঘটনাটি এই রসেবশে গ্রুপ নিয়েই।
মেঘে মেঘে তো বয়সটা নেহাত কম হয়নি, বিয়ে-থা করার চেষ্টা চলছে। সেই সূত্রে আজ এক "প্রস্পেক্টিভ পাত্রের" সাথে ডেটে গিয়েছিলাম। মেনল্যাণ্ড চায়না। চাইনীজ আমার খুবই প্রিয়। মেনু কার্ড দেখে আমি প্রায় হামলে পড়লাম (আসলে হোস্টেলে থাকি, প্রায় অভুক্তই থাকে বলতে পারেন)। স্যুপ, স্টারটার, মেন কোর্স, সাইড ডিশ সব অর্ডার দিয়ে ততক্ষণে উল্টো দিকে যেই ভদ্রলোক বসেছেন, তার সাথে কথা বলতে শুরু করেছি। সেই কথোপকথনের মোটামুটি একটা খসড়া এই রকমঃ
আমিঃ আমি না আপনাকে প্রায় জিজ্ঞেস না করেই সব অর্ডার দিলাম, আশা করি আপনি মাইন্ড করেননি।
সেঃ না না, আপনি দেখলাম বেশ খাদ্যরসিক, খুব সুন্দর সব রকম আইটেম দিব্যি অর্ডার করে দিলেন। আমি না মেনু কার্ড দেখে কিরকম একটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই।
আমিঃ না মানে আমি জোম্যাটো থেকে অল্প বিস্তর দেখে আসি কোথায় কোন খাবার ভাল, সেই অনুযায়ী অর্ডার করি।
সেঃ আপনি যে ভালই খান, আপনার লেখা দেখে বোঝা যায়।
আমিঃ আমার লেখা? আমার লেখা আপনি কোথায় পেলেন? কোন লেখা?
সেঃ ওই যে, এসো বসো আহারে।
আমিঃ ও আপনি বুঝি রসেবশেতে আছেন? ( আসলে এই ভদ্রলোকটি কে তো তখনো ফেসবুকে যোগ করিনি, অন্য কোন সুত্রে লেখাটা পাওয়ার কথা না।)
সেঃ হ্যাঁ, আমি আপনার লেখার বেশ নিয়মিত পাঠক।
আমিঃ ও আচ্ছা। আসলে ওখানে এত মেম্বার, সবার সাথে ঠিক আলাপ পরিচয় নেই, যারা আমার লেখায় লাইক কমেন্ট করেন বা রেগুলারলি লেখেন, তাদের নামে চিনতে পারি। আপনি বোধহয় খুব একটা এক্টিভ না, তাই না?
ইতিমধ্যে লেমন কোরিয়েন্ডার প্রন স্যুপ ও ক্র্যাব কেক এসে গিয়েছে। খাওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।
সেঃ উমম, বেশ সুন্দর তো টেস্ট, বেশ একটা টক টক খেতে। আপনি অর্ডার ভাল করেছেন।
আমিঃ থ্যাঙ্ক ইউ। হ্যাঁ, খুব ট্যাঙ্গি একটা ফ্লেভার। তা যা বলছিলাম, আপনি বেশী এক্টিভ না গ্রুপে, না?
সেঃ না। মানে আমি মোটামুটি সকলের লেখা পড়ি। তবে ওই লাইক কমেন্ট করিনা। সামহাউ ইচ্ছে করেনা।
আমিঃ ও আচ্ছা। আসলে লাইক কমেন্ট বা যে কোন ফিডব্যাক না পেলে আমরা যারা লিখি, তারা বুঝিনা পাঠক কি চাইছেন। তাই পারলে এরপর থেকে মন্তব্য, নিদেনপক্ষে ভাল লাগলে একটা লাইক করবেন।
সেঃ আচ্ছা বেশ। আমার না একটা প্রশ্ন আছে।
আমিঃ হ্যাঁ বলুন, তবে নুডলসটা খান। জব্বর বানিয়েছে। প্যান ফ্রায়েড, বেশ মুচমুচে।
সেঃ ফিশটাও টেস্টি।
আমিঃ হ্যাঁ। কি প্রশ্ন আছে করে ফেলুন।
সেঃ বলছি আপনার জীবনে অর্ক কে?
আমিঃ অর্ক? কোন অর্ক?
সেঃ না মানে ওই এসো বসো আহারেতে সেদিন লিখলেন পায়েল আর অর্কর গল্প। তারপরে সেদিন ওই মোমোর গল্প লিখলেন। ওগুলো তো আপনারই নিজের ঘটনা নিশ্চয়ই?
আমিঃ পাগল? না না। নিছকই গল্প।
সেঃ আর ওই গানে গল্পের ব্রেকাপটা? ইলেক্ট্রনিক সিটিতে কে থাকে?
আমিঃ শুনুন মশাই, ইলেক্ট্রনিক সিটি ফেজ ১ ও ২ মিলিয়ে প্রচুর প্রচুর লোক থাকেন। কিন্তু আমি গোট্টিগেড়েতে থাকিনা। ওটাও নিছকই গল্প। পাতি ব্যাঙ্গালোর টাইমস খুলে পরপর দুটো ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনে এই নামগুলো পেলাম।
সেঃ এ বাবা।
আমিঃ এত ডিসাপয়েন্টেড হলেন যে?
সেঃ না আসলে আপনার লেখা গুলো দেখে খুব কৌতূহল হত, তাই যখন ম্যাট্রি প্রোফাইলে আপনার নাম দেখলাম, ভাবলাম দেখি চেষ্টা করে, যদি সামনাসামনি কথা বলে গল্পগুলির পিছনের সত্যিটা জানা যায়। সেই জন্যই আরো আসা আজ।
আমিঃ ও না না, ওগুলো সবই আমার মজা করে লেখা। ইন ফ্যাক্ট রোহিণীর গল্পটাও বানানোই।
সেঃ বুঝলাম।
স্বাভাবিকই এরপরে বেশী আর কথা এগোয়নি। উনি এতটাই মর্মাহত হলেন (ভেবেছিলেন কি নতুন কোনো স্কুপ পাবেন? রসেবশেতে গল্প লিখবেন? মিউচ্যুয়াল ট্রান্সফারের ব্যাকগ্রাউণ্ডের মত এসো বসো আহারের ব্যাকগ্রাউণ্ড? কে জানে!) যে এরপরে আর আইস্ক্রীমও খাওয়া হলনা, যদিও লিচু আইস্ক্রীম ছিল মেনুতে। দেখে রেখেছিলাম!
********************************************************************************
পুনশ্চঃ রসেবশেতে লেখা এ যাবত সমস্ত গল্পই আমার কল্পনা! বাস্তবের সাথে মিল খুঁজতে যাওয়া সময় নষ্ট।
Thursday, June 29, 2017
তুঝসে নারাজ নহি জিন্দগি
- কি গো, রিপোর্টটা পেয়েছ?
- একটা ফোন করবে না পেয়ে?
- জানানোর মত কিছু হলে নিশ্চয়ই জানাতাম।
(খানিকের নীরবতা)
- এবারও নেগেটিভ তাহলে? ডঃ মিত্রর সাথে কবে দেখা করব তাহলে, পারলে কথা বলে এসো।
- বাড়ী গিয়ে কথা বলব। এখন রাখছি।
- ঠিক আছে। কখন ফিরবে?
- জানিনা। দেরী হবে।
রাত এগারোটার পরে আধা মদ্যপ অবস্থায় মুকুলের প্রবেশ বাড়ীতে।
- হাত মুখ ধুয়ে এসো, আমি খাবার বাড়ছি।
- খেয়ে এসেছি। তুমি ঘরে এসো। কথা আছে।
- আমি খাইনি এখনো, চট করে খেয়ে আসছি।
- হুম।
- শোনো সুমি, অনেক তো হল। আর কেন ফালতু লোক হাসাতে বারবার আমায় প্যাথোলজি সেনটারে পাঠাবে বলোতো?
- কি বলছ মুকুল? লোক হাসানো কেন বলছ একে?
- নয়তো কি? তুমি কেন একসেপ্ট করছ না সত্যিটা?
- দেখো এত সহজেই হাল ছাড়লে চলবে নাকি? ডঃ মিত্র তো বলেছেন, সময় লাগবে।
- সেটা উনি তিন বছর আগে বলেছিলেন।
- আশা তো ছাড়েননি।
- বাজে কথা বলো না। ফালতু ফালতু ডাক্তারের পিছনে টাকার শ্রাদ্ধ করে যাচ্ছি। যা হবার না, তা নিয়ে কেন পড়ে আছ?
- তাহলে চল দত্তক নিই? প্লীজ মুকুল, না করো না।
- আবার শুরু হল ওই। মা আর আমি অনেকবার বলেছি তো। কোথাকার কোন পাপীর রক্ত, বেজন্মা আমাদের বংশে আসবে না।
- মুকুল আমারও তো মা হতে ইচ্ছে হয়।
- আমারও বাবা হতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু নিজের সন্তানের। এরকম আস্তাকুড়ের ভাগাড়ের থেকে তুলে আনা না।
- তুমি আমার সাথে একদিন চল অরফানেজে, দেখবে...
- আর একটা কথা হবেনা এই নিয়ে। মা ঠিকই বলে। অনেক আগেই তোমার মত বাঁজা মেয়েকে ডিভোর্স করে আরেকটা বিয়ে করা উচিত ছিল। Good for nothing, তাও যদি অন্যভাবেও সুখে রাখতে আমায়। জীবনটা হেল করে ছাড়লে।
(কিছু মাস পরে, কলকাতা থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে, কুসুম কানন অনাথ আশ্রম।)
- মামণি আমি তোমায় ছেড়ে যাবনা। তুমি সিস্টারকে বলে দাও।
- আরে সোনা, তুই নতুন মাম্মাম পাপা পাবি।
- না আমি তোমাদের, তোমাকে ছেড়ে যাব না কোথাও।
- মামাই জেদ করেনা। ওই নতুন মাম্মাম তোকে কত ভালবাসবে, কতো বড় বাড়িতে থাকবি। টিভিতে ডোরার যেমন বাড়ি দেখিস, সেই রকম সাজানো বাড়ি হবে তোর। কি আনন্দ বল তো।
- না সেখানে তুমি থাকবে না মামনি।
- লক্ষ্মী মা আমার, আমি যাব তো মাঝে মাঝে দেখা করতে। আমরা সবাই যাব। দিয়া দিদির বাড়ি সবাই যাই না বল?
- প্রমিস?
- গড প্রমিস। নে চল, ব্যাগ গুছিয়ে দিই। মাম্মাম পাপা এসে গিয়েছেন।
পাঁচ বছরের রিনিকে তার নতুন বাবা মায়ের কাছে সঁপে দিতে গিয়ে মনে হল যেন নিজের হৃদয়ের একটা টুকরো খসে গেল। তবে এটা ভেবে একটা অদ্ভুত ভালোলাগা হয় যে অন্তত আরেকটা পরিবার সন্তান পেল, বেঁচে থাকার মানেটা পেল। এই কয়েক মাসেই অনাথ আশ্রমের বাচ্চাগুলো কতটা আপন হয়ে গিয়েছে সুমির। এখন ওর একটা নয়, দুটো নয়, চল্লিশ জন সন্তান। প্রতিদিন ভোরবেলা ওদের ঘুমন্ত চেহারায় নরম সূর্যের আলোর রশ্মি দেখতে দেখতে সুমি বোঝে, একেই বুঝি বলে স্বর্গ সুখ।
- একটা ফোন করবে না পেয়ে?
- জানানোর মত কিছু হলে নিশ্চয়ই জানাতাম।
(খানিকের নীরবতা)
- এবারও নেগেটিভ তাহলে? ডঃ মিত্রর সাথে কবে দেখা করব তাহলে, পারলে কথা বলে এসো।
- বাড়ী গিয়ে কথা বলব। এখন রাখছি।
- ঠিক আছে। কখন ফিরবে?
- জানিনা। দেরী হবে।
রাত এগারোটার পরে আধা মদ্যপ অবস্থায় মুকুলের প্রবেশ বাড়ীতে।
- হাত মুখ ধুয়ে এসো, আমি খাবার বাড়ছি।
- খেয়ে এসেছি। তুমি ঘরে এসো। কথা আছে।
- আমি খাইনি এখনো, চট করে খেয়ে আসছি।
- হুম।
- শোনো সুমি, অনেক তো হল। আর কেন ফালতু লোক হাসাতে বারবার আমায় প্যাথোলজি সেনটারে পাঠাবে বলোতো?
- কি বলছ মুকুল? লোক হাসানো কেন বলছ একে?
- নয়তো কি? তুমি কেন একসেপ্ট করছ না সত্যিটা?
- দেখো এত সহজেই হাল ছাড়লে চলবে নাকি? ডঃ মিত্র তো বলেছেন, সময় লাগবে।
- সেটা উনি তিন বছর আগে বলেছিলেন।
- আশা তো ছাড়েননি।
- বাজে কথা বলো না। ফালতু ফালতু ডাক্তারের পিছনে টাকার শ্রাদ্ধ করে যাচ্ছি। যা হবার না, তা নিয়ে কেন পড়ে আছ?
- তাহলে চল দত্তক নিই? প্লীজ মুকুল, না করো না।
- আবার শুরু হল ওই। মা আর আমি অনেকবার বলেছি তো। কোথাকার কোন পাপীর রক্ত, বেজন্মা আমাদের বংশে আসবে না।
- মুকুল আমারও তো মা হতে ইচ্ছে হয়।
- আমারও বাবা হতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু নিজের সন্তানের। এরকম আস্তাকুড়ের ভাগাড়ের থেকে তুলে আনা না।
- তুমি আমার সাথে একদিন চল অরফানেজে, দেখবে...
- আর একটা কথা হবেনা এই নিয়ে। মা ঠিকই বলে। অনেক আগেই তোমার মত বাঁজা মেয়েকে ডিভোর্স করে আরেকটা বিয়ে করা উচিত ছিল। Good for nothing, তাও যদি অন্যভাবেও সুখে রাখতে আমায়। জীবনটা হেল করে ছাড়লে।
(কিছু মাস পরে, কলকাতা থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে, কুসুম কানন অনাথ আশ্রম।)
- মামণি আমি তোমায় ছেড়ে যাবনা। তুমি সিস্টারকে বলে দাও।
- আরে সোনা, তুই নতুন মাম্মাম পাপা পাবি।
- না আমি তোমাদের, তোমাকে ছেড়ে যাব না কোথাও।
- মামাই জেদ করেনা। ওই নতুন মাম্মাম তোকে কত ভালবাসবে, কতো বড় বাড়িতে থাকবি। টিভিতে ডোরার যেমন বাড়ি দেখিস, সেই রকম সাজানো বাড়ি হবে তোর। কি আনন্দ বল তো।
- না সেখানে তুমি থাকবে না মামনি।
- লক্ষ্মী মা আমার, আমি যাব তো মাঝে মাঝে দেখা করতে। আমরা সবাই যাব। দিয়া দিদির বাড়ি সবাই যাই না বল?
- প্রমিস?
- গড প্রমিস। নে চল, ব্যাগ গুছিয়ে দিই। মাম্মাম পাপা এসে গিয়েছেন।
পাঁচ বছরের রিনিকে তার নতুন বাবা মায়ের কাছে সঁপে দিতে গিয়ে মনে হল যেন নিজের হৃদয়ের একটা টুকরো খসে গেল। তবে এটা ভেবে একটা অদ্ভুত ভালোলাগা হয় যে অন্তত আরেকটা পরিবার সন্তান পেল, বেঁচে থাকার মানেটা পেল। এই কয়েক মাসেই অনাথ আশ্রমের বাচ্চাগুলো কতটা আপন হয়ে গিয়েছে সুমির। এখন ওর একটা নয়, দুটো নয়, চল্লিশ জন সন্তান। প্রতিদিন ভোরবেলা ওদের ঘুমন্ত চেহারায় নরম সূর্যের আলোর রশ্মি দেখতে দেখতে সুমি বোঝে, একেই বুঝি বলে স্বর্গ সুখ।
Wednesday, June 28, 2017
তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে momo
|||তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে momo|||
- হেলো।
- হেলেছি।
- আমি আজ উল্টে পড়ে গেছি একটু আগে।
- ও, তাই বল। আমি ভাবলাম আবার ভূমিকম্প হল না কি।
- হ্যালো?
- (silence)
- আরে হ্যালো।
- কথা বলব না তোর সাথে।
- কেন??
- আমি পড়ে গিয়েছই শুনে এই তোর রিএকশন?
- তা কি করব?
- অন্তত জিজ্ঞেস করবি তো কি হল, চোট পেলাম কিনা। বেঁচে আছি কি মরে গেছি তাতে তো তোর কোন যায় আসেনা।
- এক নম্বরঃ বেঁচে না থাকলে তোর ফোন পেতাম না। অবশ্য তুই ভূত, থুড়ি শাঁকচুন্নি হয়েও আমায় যে জ্বালাবি না, তার কোন গ্যারান্টি নেই। দুই নম্বরঃ পড়ে গেলে কম বেশী চোট তো পাবিই। তা অত বড় শরীর বানিয়েছিস, ধপাধপ করে পড়বিই। কতবার বলি একটু এক্সারসাইজ কর, তা না। উনি খালি খেয়েই যাবেন।
- তোকে ফোন করাটাই আমার ভুল হল। আর কক্ষনও করবও না। আড়ি।
- কি fickle minded রে তুই? এই বললি আর কথা বলবি না, আর ওমনি ফোন within an hour? একটু ভাও খা, তা না। কিছুই শিখলি না।
- ন্যাকা। By the way, thank you for the momos. কি করে জানলি আমার এখন মোমো খেতে ইচ্ছে করছে?
- Dil ka connection madam
- আর তাও আবার pan fried.. I love you পুচু।
- হ্যাঁ হ্যাঁ, me too। যা এবার খা। তোর তো pan fried momo ঠাণ্ডা একদমই রোচে না। আর হ্যাঁ, পেনকিলারটা খেতে ভুলিসনা। Fitness level বাড়া! আমি ফেরত আসি সামনের মাসে, দেখ কী দৌড় করাব।
- কচু পোড়া। দৌড়ে দৌড়ে ওই ফুচকাওয়ালা অবধি ঠিক আছে। হুহ।
- হেলো।
- হেলেছি।
- আমি আজ উল্টে পড়ে গেছি একটু আগে।
- ও, তাই বল। আমি ভাবলাম আবার ভূমিকম্প হল না কি।
- হ্যালো?
- (silence)
- আরে হ্যালো।
- কথা বলব না তোর সাথে।
- কেন??
- আমি পড়ে গিয়েছই শুনে এই তোর রিএকশন?
- তা কি করব?
- অন্তত জিজ্ঞেস করবি তো কি হল, চোট পেলাম কিনা। বেঁচে আছি কি মরে গেছি তাতে তো তোর কোন যায় আসেনা।
- এক নম্বরঃ বেঁচে না থাকলে তোর ফোন পেতাম না। অবশ্য তুই ভূত, থুড়ি শাঁকচুন্নি হয়েও আমায় যে জ্বালাবি না, তার কোন গ্যারান্টি নেই। দুই নম্বরঃ পড়ে গেলে কম বেশী চোট তো পাবিই। তা অত বড় শরীর বানিয়েছিস, ধপাধপ করে পড়বিই। কতবার বলি একটু এক্সারসাইজ কর, তা না। উনি খালি খেয়েই যাবেন।
- তোকে ফোন করাটাই আমার ভুল হল। আর কক্ষনও করবও না। আড়ি।
- কি fickle minded রে তুই? এই বললি আর কথা বলবি না, আর ওমনি ফোন within an hour? একটু ভাও খা, তা না। কিছুই শিখলি না।
- ন্যাকা। By the way, thank you for the momos. কি করে জানলি আমার এখন মোমো খেতে ইচ্ছে করছে?
- Dil ka connection madam
- আর তাও আবার pan fried.. I love you পুচু।
- হ্যাঁ হ্যাঁ, me too। যা এবার খা। তোর তো pan fried momo ঠাণ্ডা একদমই রোচে না। আর হ্যাঁ, পেনকিলারটা খেতে ভুলিসনা। Fitness level বাড়া! আমি ফেরত আসি সামনের মাসে, দেখ কী দৌড় করাব।
- কচু পোড়া। দৌড়ে দৌড়ে ওই ফুচকাওয়ালা অবধি ঠিক আছে। হুহ।
Subscribe to:
Posts (Atom)