- এ ভাই ব্যাস্ত আছিস?
- না। বসে বসে ইউটিউবে ঢিনচ্যাঁক পূজার ভিডিও দেখছি।
- চল একটু ফিনিক্স মল থেকে হাওয়া খেয়ে আসি। হোস্টেলে হেব্বি গরম লাগছে।
- আরে না, ৫০টা এসাইনমেন্ট আছে কারেক্ট করতে হবে। গাইডগুলো তো ব্যাটারা করতে দিয়েই খালাস। বাচ্চাকাচ্চাগুলোর উইকেন্ড মারে। তারপরে আমাদের মারে। আর ওদিকে দেখো, নিজেরা এই রিসোর্ট সেই পার্ক করে বেড়াচ্ছে। যতসব। জালি সিস্টেম।
- ভাই ওইসব কাঁদুনি গেয়ে কোন লাভ নেই। মাস গেলে ওই যে স্টাইপেন্ডটি ঢোকে, তার জন্য একটু ঘাম ঝড়াতেই হবে।
- শালা মাথা গরম করিস না আমার। কাজ করতে দে।
- আরে এসে কাজ করবি। চল ফিনিক্সে। চোখের আরাম করে আসবি। সারাক্ষণ ওই #include <stdio.h> আর #include<math.h> করে করে তো পচছিস। একটু বসন্তের হাওয়া বাতাস খা। মন মেজাজ ফুড়ফুড়ে হয়ে যাবে।
- তুই শালা বহুত ঘ্যানরঘ্যানর করিস ভাই। আচ্ছা আসছি দশ মিনিটে। গেটে দাঁড়া।
(মলে গিয়ে)
- ভাই আজ এত ভিড় কেন? চারিদিকে তো শুধু ক্যাচর ম্যাচর।
- আরে End of season sale চলছে কিনা।
- সব কিছুতেই ডিস্কাউন্ট দিচ্ছে নাকি?
- আরে একটু ভালো করে খুঁজলে পরে সেলেও ভালো আইটেম পাওয়া যায়। চল ভাই ফুড কোর্টে বসি। মন ভরে খাই।
- ভাই ছটা কুড়ি দেখ।
- আরিব্বাস, এ তো পুরো ঝিঙ্কু!
- তাহলে? হে হে। এমনি এমনি আসতে বললাম এখানে?
- ভাই KFC'র সামনেটা একবার দেখ। পুরো বৌদি!
- চোখ ভালোই ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে দেখছি!
- তা গুরুদেব থাকলে শিষ্য একটু আধটু শিখবে না?
- বুকে আয় ভাই, বুকে আয়।
Tuesday, July 11, 2017
Monday, July 10, 2017
বিরিয়ানির দম
- ভাই চ অন্ধ্র মেস যাই। বিরিয়ানি খাব।
- এই না ভাই, আজ হবে না। হেব্বি বাইরে খাওয়া হয়ে যাচ্ছে রোজ রোজ।
- তা কি হয়েছে?
- না শুক্র শনি রবি সোম চারদিন পরপর ডিনার বাইরে খেয়েছি। আজ আর না। তুই যা।
- ভালোই তো, আজও খাবি। নাকি তুই আবার মঙ্গল-শনি কেস?
- আরে ধুস, তা কেন হতে যাবে। আসলে একগাদা টাকা খরচা হয়ে যাচ্ছে। একাউন্ট গড়ের মাঠ।
- ধুর কোথা থেকে এসেছে আমার বাল গণেশ। টাকা টাকা করে কি হবে। কুবের হয়ে যাবি তো দুদিনে। তারপর যপযন্ত্র বেরোবে তোর ভুঁড়ির ছবিকে লোগো বানিয়ে!
- এই ভাল আইডিয়া কিন্তু, রয়াল্টি পাব।
- তাহলে? চল চল। উফ দম বিরিয়ানির সরু চাল আর সুস্বাদু মাংস। ভাই তার এগেন্সটে ভাব মেসের ওই "আলুহীন কাঁচা কাঁচা আলুর পরোটা", সাথে রাজমা।
- উফ, কেন যে লোভ দেখাস। জানিস ইকো পার্কের ছবিগুলি দেখে পারমিতা কি ক্ষেপে গেছে। বলেছে পুজোয় যখন বাড়ি যাব, যেন ভুঁড়ি কমিয়ে যাই। নইলে বলেছে আমার সাথে নাকি ঘুরতে যাবেনা।
- আলবাত যাবে। ওসব ভাই কথার কথা। চ মেলা সময় নষ্ট না করে। ফেরত এসে আমায় ল্যাব যেতে হবে। ডেডলাইন আছে।
- আবার খরচা।
- টাকা টাকা করে কি হবে বল তো? টাকা মাটি। শ্রী শ্রী বলে গেছেন না!
- জানিস আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড, চাকরীর এক বছরের মাথায় একটা সিডান কিনে ফেলেছে।
- ও মাল নিশ্চয়ই পি এইচ ডি করে না?
- না। ও আই টি তে আছে।
- ওই জন্যই। শালা আমাদের গাড়ি হবেনা এই আঠাশ হাজারে। কিন্তু কুছ পরোয়া নেই। আস্ত গাড়ি না হোক, অন্তত মধ্য প্রদেশে দু তিনটে টায়ার তো রেডি!
- চল। তাহলে অন্তত দুই চাকা থেকে চার চাকায় নামি। দরকার হলে স্টেপ্নিও রেডি করে ফেলব।
- পথে এসো বাপধন!
- এই না ভাই, আজ হবে না। হেব্বি বাইরে খাওয়া হয়ে যাচ্ছে রোজ রোজ।
- তা কি হয়েছে?
- না শুক্র শনি রবি সোম চারদিন পরপর ডিনার বাইরে খেয়েছি। আজ আর না। তুই যা।
- ভালোই তো, আজও খাবি। নাকি তুই আবার মঙ্গল-শনি কেস?
- আরে ধুস, তা কেন হতে যাবে। আসলে একগাদা টাকা খরচা হয়ে যাচ্ছে। একাউন্ট গড়ের মাঠ।
- ধুর কোথা থেকে এসেছে আমার বাল গণেশ। টাকা টাকা করে কি হবে। কুবের হয়ে যাবি তো দুদিনে। তারপর যপযন্ত্র বেরোবে তোর ভুঁড়ির ছবিকে লোগো বানিয়ে!
- এই ভাল আইডিয়া কিন্তু, রয়াল্টি পাব।
- তাহলে? চল চল। উফ দম বিরিয়ানির সরু চাল আর সুস্বাদু মাংস। ভাই তার এগেন্সটে ভাব মেসের ওই "আলুহীন কাঁচা কাঁচা আলুর পরোটা", সাথে রাজমা।
- উফ, কেন যে লোভ দেখাস। জানিস ইকো পার্কের ছবিগুলি দেখে পারমিতা কি ক্ষেপে গেছে। বলেছে পুজোয় যখন বাড়ি যাব, যেন ভুঁড়ি কমিয়ে যাই। নইলে বলেছে আমার সাথে নাকি ঘুরতে যাবেনা।
- আলবাত যাবে। ওসব ভাই কথার কথা। চ মেলা সময় নষ্ট না করে। ফেরত এসে আমায় ল্যাব যেতে হবে। ডেডলাইন আছে।
- আবার খরচা।
- টাকা টাকা করে কি হবে বল তো? টাকা মাটি। শ্রী শ্রী বলে গেছেন না!
- জানিস আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড, চাকরীর এক বছরের মাথায় একটা সিডান কিনে ফেলেছে।
- ও মাল নিশ্চয়ই পি এইচ ডি করে না?
- না। ও আই টি তে আছে।
- ওই জন্যই। শালা আমাদের গাড়ি হবেনা এই আঠাশ হাজারে। কিন্তু কুছ পরোয়া নেই। আস্ত গাড়ি না হোক, অন্তত মধ্য প্রদেশে দু তিনটে টায়ার তো রেডি!
- চল। তাহলে অন্তত দুই চাকা থেকে চার চাকায় নামি। দরকার হলে স্টেপ্নিও রেডি করে ফেলব।
- পথে এসো বাপধন!
Sunday, July 9, 2017
আমি কৌশাণি বলছি।
আমি কৌশাণি। কি বললেন, চিনলেন না? আরে এই যে আজ বিকেলে অর্ণব লিখল না শুভ বিবাহ? ওই সপ্তম জন...আমি! অর্ণবের লেখাটা পড়ে নিশ্চয়ই প্রথম প্রথম ভেবেছিলেন যে কি ডাঁটিয়াল মেয়ে রে বাবা! এত চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলে। হলফ করে বলতে পারি, আপনার জায়গায় থাকলে আমিও এরকমই ভাবতাম। আপনাদের একটা সত্যি কথা বলি। আসলে বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে তো, তাই একটু প্যাম্পারড। ছোট থেকে বড় হয়েছি কায়ামাত সে কায়ামাত তক, রাজু বন গয়া জেন্টিল্ম্যান, মেয়নে প্যার কিয়া, দিল তো পাগল হ্যায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায় দেখে। এরেঞ্জড ম্যারেজের এক্কেবারে বিপক্ষে ছিলাম। খালি মনে হত সিনেমার মত বেশ মিষ্টি মিষ্টি প্রেম হবে আমার, শাহরুখ-জুহির মত জুটি হবে। তবে কি বাজে ভাগ্য আমার, আমার দ্বারা প্রেমটা হয়ে উঠল না। বাবা আর্মিতে ছিলেন যখন, তখন আমি স্কুলের গন্ডি টপকাইনি। তাই সর্বক্ষণ বাড়িতে একটা মিলিটারি রেজিম চলত। প্রেম করার বয়সে তাই শুধু মাত্রই বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে হত। দেখতে, বলতে নেই, জুহির মত অত সুন্দরী না হলেও, প্রীতি জিন্তার মত এক খানা মিষ্টি টোল পড়ে বাঁ গালে। জন্ম আমার কাশ্মীরে, তাই বোধহয় গায়ের রঙও পেয়েছিলাম ওদের মত। মানে সোজা কোথায়, লাখো দিওয়ানে থে হামারে, কিন্তু মিলিটারি বাবার কল্যাণে প্রেমের ঝুলি সেই শূন্য।
মাসিমণির ২৫ বছরের anniversaryতে গিয়ে যখন ওই কমল বাবুর সাথে মা বাবার বেশী রকমের ফুসুর ফুসুর গুজুর গুজুর শুরু হল, তখনই বুঝেছিলাম যে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। নইলে মেসোর খুড়তুতো বৌদির মাসতুতো ভাইঝির দেওরের সাথে তো মা বাবার এত গপ্প ঠিক স্বাভাবিক না। আমার সন্দেহ যে ভুল না, তার হাতেনাতে প্রমাণ পেলাম দুইদিন বাদে। সবে ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরেছি, ওমনি মা বাবা পাকড়াও করল। নাকি বিশাল কেউকেটা ছেলের বাড়ির থেকে সম্বন্ধ এসেছে, কারটেসি কমল বাবু। আমি যেন একবার দেখা সাক্ষাতে রাজী হই।
এতদিন অবধি এই ছেলে দেখা মেয়ে দেখা ব্যাপারটা নিয়ে ভীষণ হাসাহাসি করতাম। কলেজের কিছু ক্লাসমেটদের গ্র্যাজুএশনের পরপরই বিয়ে হয়ে যায়। কারুর দাদা দিদির বিয়ে এরকম "দেখেশুনে" হয়। এদের সকলের থেকে নানান অভিজ্ঞতার গল্প শুনে যেমন খিল্লি ওড়াতাম, তখন মনে হয় ওপর থেকে একজন মিটকি মিটকি হাসতেন। ওই সেই ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে কেস আর কি। কস্মিনকালেও ভাবিনি যে আমায়ও এই পথের পথিক হতে হবে। তখনো মনের কোনে ক্ষীণ আশা ছিল যে যাদবপুরে পড়ছি যখন, নিশ্চয়ই একটা প্রেম করবই করব। সে আশায় জল ঢেলে কমল ভিলেন একখানা সম্বন্ধ আনল। ফটোটা দেখে প্রথমে তো একচোট হাসলাম, কি বিটকেল ছবি। পুরো জিতেন্দ্র মার্কা সাদা ট্রাউজার আর গোভিন্দা মার্কা ফুল ছাপ শার্ট। বাঁকা হাসি। ইশ। ছবি দেখেই তো আমি নাকচ করতে যাচ্ছিলাম। বাবা একটা কড়া বকুনি দিল। নাকি এরকম চেহারা দেখে বিচার করা ভালোনা। বাবার ব্যাঙ্কে নাকি এমন অনেকে আসেন যাদের পরনের বেশভূষা অত্যন্ত সাধারণ, অথচ এদের একাউন্টে নাকি কয়েক কোটি টাকা। মা শুরু করল নিজের জাস্টিফিকেশন, বাবার ছবি দেখে নাকি মা ভিলেন ভেবেছিলেন প্রথমবার, অথচ এত দিলদরিয়া লোক তো দুটো নেই (হ্যাঁ এটা আমিও মানি, মাই ড্যাডি ইজ দা বেস্ট)। এরপরে আর আমার কাছে কোন অপশন ছিলনা। রাজী হলাম "ছেলে দেখতে"। মনে মনে ভাবলাম, এই ছেলে দেখার ফ্রীডমটা যদি ঠিক বয়সে পেতাম তো আজ এরকম একটা ভুলভাল লোকের সামনে সং সেজে বসতে হত না।
কলেজের বন্ধুদের থেকে শলাপরামর্শ যে নেব, তারও উপায় নেই। হেল্প করা তো দুরের কথা, শুধু আমার পিছনে লেগে গেল। অরকুট খুলে অর্ণবের ছবি দেখে খালি হেসেই কুটিপাটি। ওর আগ্রার সামনে বোকাবোকা পোজের ছবি দেখে তো একেবারে এমন হাসি শুরু হল যে গোটা রিসেস কেটে গেল, হাসি আর থামেনা। শেষে এস বি বির কটমটে টনক নড়ল। তা যাই হোক, অবশেষে সেই ডি-ডে এল। আমার হাজার বারণ সত্ত্বেও সেই আমায় শাড়ী পড়তেই হল। গত পুজোয় কেরলে গিয়ে যেই সিল্কটা মা কিনেছিল, সেইটা। যে মেয়ে সালওয়ার কামিজ পড়তে চায়না ওড়না সামলাতে পারবেনা বলে, তাকে নাকি পড়তে হচ্ছে শাড়ী। সাঙ্ঘাতিক রাগ উঠছিল ওই জিতেন্দ্র-গোভিন্দা হাইব্রিডের ওপর। কেন রে বাপু, সুখে থাকতে ভুতে কিলোয় কে জানে এদের। দিব্যি দিল্লির মত জায়গায় আছিস নিজের মত, চাকরি করিস, এঞ্জয় করবি, তা না। ওমনি একেবারে বিয়ে করতে হবে। উফ, এই করেই বাঙালি ছেলেগুলো গোল্লায় গেল। লাইফে কোন আডভেঞ্চার নেই। ঠিক করেই রেখেছিলাম, এ ছেলেকে ক্যান্সেল করতেই হবে। তবে বাবা মায়ের যা পছন্দ হয়ে গেছে অলরেডি একে, আমি সহজে জিতবনা। অগত্যা, ওই পক্ষ থেকে ক্যান্সেল করাতে হবে।
মিলিটারি মেজাজের বাবা কে এক্কেবারে ইম্প্রেস করে তেনারা বাড়িতে ঢুকলেন ঠিক কাঁটায় কাঁটায় এগারোটায়। আমি আমার নিজের ঘরে বসেছিলাম, কান খাড়া করে শুনবার চেষ্টায় যে কি হচ্ছে ওঘরে। মিনিট পনেরো পরে মা এসে আমায় তো নিয়ে গেল ড্রয়িং রুমে। আমার বাবা মা খুব মডার্ন, তাই ওই চায়ের ট্রে হাতে কামধেনুর মিষ্টি আর শিঙাড়া কে নিজের বানানো বলে চালিয়ে এন্ট্রি নিতে হয়নি। একদম নর্মাল ভাবেই এলাম। সেদিন আবারও একটা বিটকেল কম্বিনেশন পড়ে এসছিল অর্ণব। উফ। ব্রাউন স্ট্রাইপ প্যান্টের সাথে কেউ সাদা ব্রাউন স্ট্রাইপ শার্ট পড়ে?? একী শাড়ী ব্লাউজ নাকি এরকম ম্যাচ করতে হবে? ওই জন্যই কোয়ালফায়েড হয়েও বিয়েটা প্রেম করে করতে পারেনি। বরং ওর মা বাবাকে অনেকটাই স্বাভাবিক লেগেছিল, মানে ওই আর কি। মুখে স্মিত হাসি রাখতে হচ্ছে, কোথায় কোথায় ন্যাকা ন্যাকা লজ্জা লজ্জা মুখ করে ঘাড় কাত করতে হচ্ছে পদে পদে। ওদিকে তো ভিতরে ভিতরে আমি তখন নার্ভাস, না জানি কি প্রশ্ন করবেন ওনারা। শুক্তোয় কি ফোড়ন পড়ে জিজ্ঞেস করলে না হয় রাঁধুনি বলব (এটা আমার হাজার হাজার সপ্তাহ ধরে সানন্দা পড়ার ফল), কিন্তু আনকমন প্রশ্ন হলে? এই সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কানে এল বাবার গলা। "মা অর্ণবকে তোর ঘরে নিয়ে যা"। এই রে, মা পইপই করে বলা সত্ত্বেও সেই চেয়ারের ওপরে আমার আঁকার খাতা আর রঙ তুলি ফেলে রেখেছি। মা জানতে পারলে না বড্ড বকা খাব। টুক করে দিমাগ কি বত্তি জ্বলে গেল। হ্যাঁ, এটাকে নিজের সুবিধার্থে ব্যাবহার করতে হবে। আশা করি এরকম অগোছালো ঘর দেখলে আমায় অপছন্দ হবে (তখন কি আর জানতাম যে এ ছেলে আমার চেয়েও বেশী অগোছালো)।
প্রীতি জিন্টা টোলটা ডিস্প্লে করে মিষ্টি করে বললাম "আসুন"। তারপরের গল্প তো অর্ণব যা লিখেছে, এক বর্ণও মিথ্যে লেখেনি। সামনাসামনি দেখলাম যখন, হুম, মন্দ না দেখতে। শাহরুখ না হলেও আবীর বলা যেতেই পারে। আর ওই ড্রেসিং সেন্স, সামলে নেব। তবে পর মুহূর্তেই মনে পড়ল কেয়ার সাবধান বাণী, "যার হিস্ট্রি ভাল, তার জিওগ্রাফি ভাল হয়না এন্ড ভাইস ভারসা"। এর যেহেতু জিওগ্রাফিটা ৯০ আপ না হলেও লেটার মার্কস, তাই হিস্ট্রিটা বাজিয়েই নিতে হল। কিন্তু ওই পি জে টা যখন ক্র্যাক করল না, আমার ইচ্ছে হল বলি যে ও মশাই ইহারে পিজে নয়, ডিজে বলে। ডাউন মারকেট জোক। পুরো কপিল শর্মা স্ট্যান্ডারড। ঘষে মেজে বিগ ব্যাং থিয়োরির লেভেলে আনতে গেলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অত ঝক্কি কি নেব? ডিসাইড করতে পারছিলাম না। কোথাও যেন ওই ক্যাবলাপনা ভাবটাই খুব টানছিল জানেন। তাই ভাবলাম যে যা আছে কপালে। আমি কিচ্ছু বলব না। ওপরওালার হাতেই ছেড়ে দিই। ড্রয়িং রুমে আবার ওই টিপিকাল পোসেঞ্জিত মার্কা ফিল্মি লাইন শুনে কিরকম গা পিত্তি জ্বালা করে উঠবে ভেবেছিলাম, তা কিন্তু হলই না! আমি নিজেই অবাক, বরং উলটে কিরকম একটা অজানা ভালো লাগা হল। ওরা চলে যাওয়ার পরে সারাদিন আমি নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে শুয়ে শুয়ে প্রচুর ভাবলাম। সানন্দার টিপ্স দেখে প্রোজ অ্যান্ড কন্সের লিস্ট করলাম। ফাইনালি যা দেখলাম, জাস্ট এক নম্বরের জন্য পাস করে গিয়েছেন। ট্রাস্ট মি, যখন টোটাল করছিলাম, প্রোজে দেখলাম ১৩ আর কন্সটা গুণছি, খালি ভাবছিলাম যে হে মা কালী প্লীজ যেন ১৩টা আমার জীবনে গেঁড়ো না হয়। কন্সটা যেন ১২.৯৯ এর ওপরে না ওঠে। উফ। প্রোজ গ্রেটার দ্যান কন্স দেখে যে আনন্দ হয়েছিল, সেটা মনে হয় মাধ্যমিকে অঙ্কে পাস করেও হয়নি!
আর কি, বাবা মা কে জানিয়ে দিলাম। তারাও খুশি খুশি ও বাড়িতে খবর দিল। অর্ণব তো তার পরে পরে দিল্লি চলে গিয়েছিল। এয়ারপোর্টে গিয়ে একটু ফিল্মি ইস্টাইল রোম্যান্স হল। এরপরে ওই এস টি ডি কল আর এস এম এস প্যাক আমাদের প্রেমের সাক্ষী। তারপরে অঘ্রাণে বিবাহ। মা ষষ্ঠীর কৃপায় এখন দুইটি অতি বিচ্ছু অথচ ভারী মিষ্টি ছেলে মেয়ের আমি গর্বিত জননী।
পুনশ্চঃ ওই যে হাম দো হামারে দো তে বিশ্বাস করিনা লিখেছে না ও? ওটি কিন্তু ডাহা মিথ্যে। রাত বিরেতে উঠে যখন তাতান আর তিতিরের জন্য ফর্মুলা মিল্ক রেডি করতে বসতে হয়, তখন মনের আসলি কথা বেরিয়ে আসে।
মাসিমণির ২৫ বছরের anniversaryতে গিয়ে যখন ওই কমল বাবুর সাথে মা বাবার বেশী রকমের ফুসুর ফুসুর গুজুর গুজুর শুরু হল, তখনই বুঝেছিলাম যে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। নইলে মেসোর খুড়তুতো বৌদির মাসতুতো ভাইঝির দেওরের সাথে তো মা বাবার এত গপ্প ঠিক স্বাভাবিক না। আমার সন্দেহ যে ভুল না, তার হাতেনাতে প্রমাণ পেলাম দুইদিন বাদে। সবে ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরেছি, ওমনি মা বাবা পাকড়াও করল। নাকি বিশাল কেউকেটা ছেলের বাড়ির থেকে সম্বন্ধ এসেছে, কারটেসি কমল বাবু। আমি যেন একবার দেখা সাক্ষাতে রাজী হই।
এতদিন অবধি এই ছেলে দেখা মেয়ে দেখা ব্যাপারটা নিয়ে ভীষণ হাসাহাসি করতাম। কলেজের কিছু ক্লাসমেটদের গ্র্যাজুএশনের পরপরই বিয়ে হয়ে যায়। কারুর দাদা দিদির বিয়ে এরকম "দেখেশুনে" হয়। এদের সকলের থেকে নানান অভিজ্ঞতার গল্প শুনে যেমন খিল্লি ওড়াতাম, তখন মনে হয় ওপর থেকে একজন মিটকি মিটকি হাসতেন। ওই সেই ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে কেস আর কি। কস্মিনকালেও ভাবিনি যে আমায়ও এই পথের পথিক হতে হবে। তখনো মনের কোনে ক্ষীণ আশা ছিল যে যাদবপুরে পড়ছি যখন, নিশ্চয়ই একটা প্রেম করবই করব। সে আশায় জল ঢেলে কমল ভিলেন একখানা সম্বন্ধ আনল। ফটোটা দেখে প্রথমে তো একচোট হাসলাম, কি বিটকেল ছবি। পুরো জিতেন্দ্র মার্কা সাদা ট্রাউজার আর গোভিন্দা মার্কা ফুল ছাপ শার্ট। বাঁকা হাসি। ইশ। ছবি দেখেই তো আমি নাকচ করতে যাচ্ছিলাম। বাবা একটা কড়া বকুনি দিল। নাকি এরকম চেহারা দেখে বিচার করা ভালোনা। বাবার ব্যাঙ্কে নাকি এমন অনেকে আসেন যাদের পরনের বেশভূষা অত্যন্ত সাধারণ, অথচ এদের একাউন্টে নাকি কয়েক কোটি টাকা। মা শুরু করল নিজের জাস্টিফিকেশন, বাবার ছবি দেখে নাকি মা ভিলেন ভেবেছিলেন প্রথমবার, অথচ এত দিলদরিয়া লোক তো দুটো নেই (হ্যাঁ এটা আমিও মানি, মাই ড্যাডি ইজ দা বেস্ট)। এরপরে আর আমার কাছে কোন অপশন ছিলনা। রাজী হলাম "ছেলে দেখতে"। মনে মনে ভাবলাম, এই ছেলে দেখার ফ্রীডমটা যদি ঠিক বয়সে পেতাম তো আজ এরকম একটা ভুলভাল লোকের সামনে সং সেজে বসতে হত না।
কলেজের বন্ধুদের থেকে শলাপরামর্শ যে নেব, তারও উপায় নেই। হেল্প করা তো দুরের কথা, শুধু আমার পিছনে লেগে গেল। অরকুট খুলে অর্ণবের ছবি দেখে খালি হেসেই কুটিপাটি। ওর আগ্রার সামনে বোকাবোকা পোজের ছবি দেখে তো একেবারে এমন হাসি শুরু হল যে গোটা রিসেস কেটে গেল, হাসি আর থামেনা। শেষে এস বি বির কটমটে টনক নড়ল। তা যাই হোক, অবশেষে সেই ডি-ডে এল। আমার হাজার বারণ সত্ত্বেও সেই আমায় শাড়ী পড়তেই হল। গত পুজোয় কেরলে গিয়ে যেই সিল্কটা মা কিনেছিল, সেইটা। যে মেয়ে সালওয়ার কামিজ পড়তে চায়না ওড়না সামলাতে পারবেনা বলে, তাকে নাকি পড়তে হচ্ছে শাড়ী। সাঙ্ঘাতিক রাগ উঠছিল ওই জিতেন্দ্র-গোভিন্দা হাইব্রিডের ওপর। কেন রে বাপু, সুখে থাকতে ভুতে কিলোয় কে জানে এদের। দিব্যি দিল্লির মত জায়গায় আছিস নিজের মত, চাকরি করিস, এঞ্জয় করবি, তা না। ওমনি একেবারে বিয়ে করতে হবে। উফ, এই করেই বাঙালি ছেলেগুলো গোল্লায় গেল। লাইফে কোন আডভেঞ্চার নেই। ঠিক করেই রেখেছিলাম, এ ছেলেকে ক্যান্সেল করতেই হবে। তবে বাবা মায়ের যা পছন্দ হয়ে গেছে অলরেডি একে, আমি সহজে জিতবনা। অগত্যা, ওই পক্ষ থেকে ক্যান্সেল করাতে হবে।
মিলিটারি মেজাজের বাবা কে এক্কেবারে ইম্প্রেস করে তেনারা বাড়িতে ঢুকলেন ঠিক কাঁটায় কাঁটায় এগারোটায়। আমি আমার নিজের ঘরে বসেছিলাম, কান খাড়া করে শুনবার চেষ্টায় যে কি হচ্ছে ওঘরে। মিনিট পনেরো পরে মা এসে আমায় তো নিয়ে গেল ড্রয়িং রুমে। আমার বাবা মা খুব মডার্ন, তাই ওই চায়ের ট্রে হাতে কামধেনুর মিষ্টি আর শিঙাড়া কে নিজের বানানো বলে চালিয়ে এন্ট্রি নিতে হয়নি। একদম নর্মাল ভাবেই এলাম। সেদিন আবারও একটা বিটকেল কম্বিনেশন পড়ে এসছিল অর্ণব। উফ। ব্রাউন স্ট্রাইপ প্যান্টের সাথে কেউ সাদা ব্রাউন স্ট্রাইপ শার্ট পড়ে?? একী শাড়ী ব্লাউজ নাকি এরকম ম্যাচ করতে হবে? ওই জন্যই কোয়ালফায়েড হয়েও বিয়েটা প্রেম করে করতে পারেনি। বরং ওর মা বাবাকে অনেকটাই স্বাভাবিক লেগেছিল, মানে ওই আর কি। মুখে স্মিত হাসি রাখতে হচ্ছে, কোথায় কোথায় ন্যাকা ন্যাকা লজ্জা লজ্জা মুখ করে ঘাড় কাত করতে হচ্ছে পদে পদে। ওদিকে তো ভিতরে ভিতরে আমি তখন নার্ভাস, না জানি কি প্রশ্ন করবেন ওনারা। শুক্তোয় কি ফোড়ন পড়ে জিজ্ঞেস করলে না হয় রাঁধুনি বলব (এটা আমার হাজার হাজার সপ্তাহ ধরে সানন্দা পড়ার ফল), কিন্তু আনকমন প্রশ্ন হলে? এই সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কানে এল বাবার গলা। "মা অর্ণবকে তোর ঘরে নিয়ে যা"। এই রে, মা পইপই করে বলা সত্ত্বেও সেই চেয়ারের ওপরে আমার আঁকার খাতা আর রঙ তুলি ফেলে রেখেছি। মা জানতে পারলে না বড্ড বকা খাব। টুক করে দিমাগ কি বত্তি জ্বলে গেল। হ্যাঁ, এটাকে নিজের সুবিধার্থে ব্যাবহার করতে হবে। আশা করি এরকম অগোছালো ঘর দেখলে আমায় অপছন্দ হবে (তখন কি আর জানতাম যে এ ছেলে আমার চেয়েও বেশী অগোছালো)।
প্রীতি জিন্টা টোলটা ডিস্প্লে করে মিষ্টি করে বললাম "আসুন"। তারপরের গল্প তো অর্ণব যা লিখেছে, এক বর্ণও মিথ্যে লেখেনি। সামনাসামনি দেখলাম যখন, হুম, মন্দ না দেখতে। শাহরুখ না হলেও আবীর বলা যেতেই পারে। আর ওই ড্রেসিং সেন্স, সামলে নেব। তবে পর মুহূর্তেই মনে পড়ল কেয়ার সাবধান বাণী, "যার হিস্ট্রি ভাল, তার জিওগ্রাফি ভাল হয়না এন্ড ভাইস ভারসা"। এর যেহেতু জিওগ্রাফিটা ৯০ আপ না হলেও লেটার মার্কস, তাই হিস্ট্রিটা বাজিয়েই নিতে হল। কিন্তু ওই পি জে টা যখন ক্র্যাক করল না, আমার ইচ্ছে হল বলি যে ও মশাই ইহারে পিজে নয়, ডিজে বলে। ডাউন মারকেট জোক। পুরো কপিল শর্মা স্ট্যান্ডারড। ঘষে মেজে বিগ ব্যাং থিয়োরির লেভেলে আনতে গেলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অত ঝক্কি কি নেব? ডিসাইড করতে পারছিলাম না। কোথাও যেন ওই ক্যাবলাপনা ভাবটাই খুব টানছিল জানেন। তাই ভাবলাম যে যা আছে কপালে। আমি কিচ্ছু বলব না। ওপরওালার হাতেই ছেড়ে দিই। ড্রয়িং রুমে আবার ওই টিপিকাল পোসেঞ্জিত মার্কা ফিল্মি লাইন শুনে কিরকম গা পিত্তি জ্বালা করে উঠবে ভেবেছিলাম, তা কিন্তু হলই না! আমি নিজেই অবাক, বরং উলটে কিরকম একটা অজানা ভালো লাগা হল। ওরা চলে যাওয়ার পরে সারাদিন আমি নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে শুয়ে শুয়ে প্রচুর ভাবলাম। সানন্দার টিপ্স দেখে প্রোজ অ্যান্ড কন্সের লিস্ট করলাম। ফাইনালি যা দেখলাম, জাস্ট এক নম্বরের জন্য পাস করে গিয়েছেন। ট্রাস্ট মি, যখন টোটাল করছিলাম, প্রোজে দেখলাম ১৩ আর কন্সটা গুণছি, খালি ভাবছিলাম যে হে মা কালী প্লীজ যেন ১৩টা আমার জীবনে গেঁড়ো না হয়। কন্সটা যেন ১২.৯৯ এর ওপরে না ওঠে। উফ। প্রোজ গ্রেটার দ্যান কন্স দেখে যে আনন্দ হয়েছিল, সেটা মনে হয় মাধ্যমিকে অঙ্কে পাস করেও হয়নি!
আর কি, বাবা মা কে জানিয়ে দিলাম। তারাও খুশি খুশি ও বাড়িতে খবর দিল। অর্ণব তো তার পরে পরে দিল্লি চলে গিয়েছিল। এয়ারপোর্টে গিয়ে একটু ফিল্মি ইস্টাইল রোম্যান্স হল। এরপরে ওই এস টি ডি কল আর এস এম এস প্যাক আমাদের প্রেমের সাক্ষী। তারপরে অঘ্রাণে বিবাহ। মা ষষ্ঠীর কৃপায় এখন দুইটি অতি বিচ্ছু অথচ ভারী মিষ্টি ছেলে মেয়ের আমি গর্বিত জননী।
পুনশ্চঃ ওই যে হাম দো হামারে দো তে বিশ্বাস করিনা লিখেছে না ও? ওটি কিন্তু ডাহা মিথ্যে। রাত বিরেতে উঠে যখন তাতান আর তিতিরের জন্য ফর্মুলা মিল্ক রেডি করতে বসতে হয়, তখন মনের আসলি কথা বেরিয়ে আসে।
Saturday, July 8, 2017
সরপুঁটি ৬
পুঁটিঃ খাওয়া শেষ হয়েছে আধ ঘণ্টা আগে, এখনো তুমি একটু এসে বসতে পারলেনা মা?
সরযূঃ দাঁড়া, কাজগুলো সেরে নিই, তারপরে বসব।
পুঁটিঃ কি কাজ? বাসন তো মেজেও দিয়ে গেল।
সরযূঃ আরে তরকারি পাতি তুলে রাখতে হবে না ফ্রিজে?
পুঁটিঃ পরে তুললে কি হয়?
সরযূঃ নষ্ট হয়ে যাবে।
পুঁটিঃ ওই করেই গেলে তুমি।
সরযূঃ কটা বাজল? ও সোয়া দুটো বেজে গেল? একটু DD Banglaটা দে না। আজকের রান্নাটা দেখব।
পুঁটিঃ কেন একটু তারক মেহতা দেখছি, দেখিনা।
সরযূঃ আরে সারাদিন তো দেখছিস একই। আর বল এটা আগে দেখিসনি?
পুঁটিঃ হ্যাঁ দেখেছি, তাও বারবার ভালো লাগে।
সরযূঃ ঠিক আছে, আবার দেখিস। আমায় দশ মিনিট ছেড়ে দে। প্লীজ?
পুঁটিঃ ঠিক আছে। দেখো। যদিও দেখেও তো কোন লাভ হয়না। কখনো তো করোনা।
সরযূঃ Ingredients easily available হলে করব!
পুঁটিঃ আজকেই দেখি যা শেখায়, তা কর কি না। Baked fish croquetএর তো সমস্ত ingredientsই বাড়িতে আছে।
সরযূঃ এমন করছিস যেন কোনদিনও কিছু ভালো মন্দ রেঁধে খাওয়াই না। আর যতই গালভরা নাম দিক না কেন, করছে তো ওই সাবেকি মাছের চপ। যতসব।
(বলাই বাহুল্য যে রাত্রে কালোজিরা দিয়ে আলু পটলের পাতলা মাছের ঝোলই হয়েছিল, রোজের মত। মাঝখান থেকে পুঁটি মিস করে গেল ওর দশ মিনিট সিরিয়ালের। )
সরযূঃ দাঁড়া, কাজগুলো সেরে নিই, তারপরে বসব।
পুঁটিঃ কি কাজ? বাসন তো মেজেও দিয়ে গেল।
সরযূঃ আরে তরকারি পাতি তুলে রাখতে হবে না ফ্রিজে?
পুঁটিঃ পরে তুললে কি হয়?
সরযূঃ নষ্ট হয়ে যাবে।
পুঁটিঃ ওই করেই গেলে তুমি।
সরযূঃ কটা বাজল? ও সোয়া দুটো বেজে গেল? একটু DD Banglaটা দে না। আজকের রান্নাটা দেখব।
পুঁটিঃ কেন একটু তারক মেহতা দেখছি, দেখিনা।
সরযূঃ আরে সারাদিন তো দেখছিস একই। আর বল এটা আগে দেখিসনি?
পুঁটিঃ হ্যাঁ দেখেছি, তাও বারবার ভালো লাগে।
সরযূঃ ঠিক আছে, আবার দেখিস। আমায় দশ মিনিট ছেড়ে দে। প্লীজ?
পুঁটিঃ ঠিক আছে। দেখো। যদিও দেখেও তো কোন লাভ হয়না। কখনো তো করোনা।
সরযূঃ Ingredients easily available হলে করব!
পুঁটিঃ আজকেই দেখি যা শেখায়, তা কর কি না। Baked fish croquetএর তো সমস্ত ingredientsই বাড়িতে আছে।
সরযূঃ এমন করছিস যেন কোনদিনও কিছু ভালো মন্দ রেঁধে খাওয়াই না। আর যতই গালভরা নাম দিক না কেন, করছে তো ওই সাবেকি মাছের চপ। যতসব।
(বলাই বাহুল্য যে রাত্রে কালোজিরা দিয়ে আলু পটলের পাতলা মাছের ঝোলই হয়েছিল, রোজের মত। মাঝখান থেকে পুঁটি মিস করে গেল ওর দশ মিনিট সিরিয়ালের। )
Friday, July 7, 2017
সরপুঁটি ৫
সরযূঃ পুঁটি আজ তোর ক্লাস কখন শেষ হবে?
পুঁটিঃ ওই একটা নাগাদ। Environmental Scienceএর ক্লাস শেষ হলেই ছুটি।
সরযূঃ ও এই সপ্তাহে বুঝি তোর পালা প্রক্সি দেওয়ার?
পুঁটিঃ হুম।
সরযূঃ বলছি আজ তারপরে শপিং করতে যাবি?
পুঁটিঃ আজকে? ভিড় হবে তো দোকানে।
সরযূঃ তা হবে, কিন্তু আর সময়ই বা কখন বল? তুই বলছিলি যে কুর্তি বানাবি কয়েকটা। দর্জির দোকানে কিন্তু মনে হয় এই আর সপ্তাহ খানেক অর্ডার নেবে।
পুঁটিঃ সে তো month end অবধি নেবে। এখন তো সবে mid month ও না। এত তাড়া কেন?
সরযূঃ আরে যত দিন যাবে স্টক কমবে আর ভিড় বাড়বে। চল না প্লীজ, আমিও তাহলে আমার শপিং করতাম।
পুঁটিঃ আচ্ছা বেশ। কিন্তু বাইরে খাব তার আগে।
সরযূঃ কোথায়?
পুঁটিঃ আগে বল কোথায় যাব শপিংএ?
সরযূঃ নিউ মার্কেট? নাকি দেশপ্রিয়? বিষ্ণুপ্রিয়াতে কিন্তু ভালো মেটিরিয়াল পাবি। সেই সুবাদে গড়িয়াহাট চত্বরও covered হয়ে যাবে।
পুঁটিঃ ওকে। তাহলে দেশপ্রিয় হোক। কোথায় খাব বল? Do you have anything in mind? নইলে আমি zomato দেখব।
সরযূঃ হাতারি?
পুঁটিঃ ওহ মা কতবার বলব ওটা হাতারি না, হাটারি!!!
সরযূঃ ওই একই হল। চল ওখানেই যাই। চাইনীজ খেলে আমার হজমের কম প্রব্লেম হবে।
পুঁটিঃ চাইনীজ খাবে তো তাহলে কিমলিতে চল। একবার স্কুলের বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম, ভালোই ছিল।
সরযূঃ ওকে। তবে আমি exact locationটা জানিনা। তুই তাহলে গড়িয়াহাট মোড়ে চলে আসিস। I will meet you there. আনন্দমেলার সামনে।
পুঁটিঃ ঠিক আছে। আমি বাস পেয়ে তোমায় মেসেজ করে দেব।
সরযূঃ আচ্ছা। কটা কি কুর্তি বানাবি ভেবে রাখিস, সেই অনুযায়ী কাপড় নিতে হবে। আমিও আমার লিস্ট করে নেব।
পুঁটিঃ ওকে মা। আমি যাচ্ছি। বাই।
সরযূঃ উফফ, কতবার বলব, যাচ্ছি বলবি না। বল আসি।
পুঁটিঃ Whatever!
পুঁটিঃ ওই একটা নাগাদ। Environmental Scienceএর ক্লাস শেষ হলেই ছুটি।
সরযূঃ ও এই সপ্তাহে বুঝি তোর পালা প্রক্সি দেওয়ার?
পুঁটিঃ হুম।
সরযূঃ বলছি আজ তারপরে শপিং করতে যাবি?
পুঁটিঃ আজকে? ভিড় হবে তো দোকানে।
সরযূঃ তা হবে, কিন্তু আর সময়ই বা কখন বল? তুই বলছিলি যে কুর্তি বানাবি কয়েকটা। দর্জির দোকানে কিন্তু মনে হয় এই আর সপ্তাহ খানেক অর্ডার নেবে।
পুঁটিঃ সে তো month end অবধি নেবে। এখন তো সবে mid month ও না। এত তাড়া কেন?
সরযূঃ আরে যত দিন যাবে স্টক কমবে আর ভিড় বাড়বে। চল না প্লীজ, আমিও তাহলে আমার শপিং করতাম।
পুঁটিঃ আচ্ছা বেশ। কিন্তু বাইরে খাব তার আগে।
সরযূঃ কোথায়?
পুঁটিঃ আগে বল কোথায় যাব শপিংএ?
সরযূঃ নিউ মার্কেট? নাকি দেশপ্রিয়? বিষ্ণুপ্রিয়াতে কিন্তু ভালো মেটিরিয়াল পাবি। সেই সুবাদে গড়িয়াহাট চত্বরও covered হয়ে যাবে।
পুঁটিঃ ওকে। তাহলে দেশপ্রিয় হোক। কোথায় খাব বল? Do you have anything in mind? নইলে আমি zomato দেখব।
সরযূঃ হাতারি?
পুঁটিঃ ওহ মা কতবার বলব ওটা হাতারি না, হাটারি!!!
সরযূঃ ওই একই হল। চল ওখানেই যাই। চাইনীজ খেলে আমার হজমের কম প্রব্লেম হবে।
পুঁটিঃ চাইনীজ খাবে তো তাহলে কিমলিতে চল। একবার স্কুলের বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম, ভালোই ছিল।
সরযূঃ ওকে। তবে আমি exact locationটা জানিনা। তুই তাহলে গড়িয়াহাট মোড়ে চলে আসিস। I will meet you there. আনন্দমেলার সামনে।
পুঁটিঃ ঠিক আছে। আমি বাস পেয়ে তোমায় মেসেজ করে দেব।
সরযূঃ আচ্ছা। কটা কি কুর্তি বানাবি ভেবে রাখিস, সেই অনুযায়ী কাপড় নিতে হবে। আমিও আমার লিস্ট করে নেব।
পুঁটিঃ ওকে মা। আমি যাচ্ছি। বাই।
সরযূঃ উফফ, কতবার বলব, যাচ্ছি বলবি না। বল আসি।
পুঁটিঃ Whatever!
সরপুঁটি ৪
পুঁটিঃ কি করছ মা?
সরযূঃ এই একটু ফেসবুকটা খুললাম। পলি বলল ওর মেয়ের কাছে বেড়াতে গিয়েছিল, সেই ছবি নাকি পাঠিয়েছে আমায়। দেখব তাই।
পুঁটিঃ ও আচ্ছা।
সরযূঃ পুঁটি দেখ তো একবার। কি করে পাব ছবি?
পুঁটিঃ দাঁড়াও। কই তোমায় তো কোন মেসেজ করেনি।
সরযূঃ তাহলে যে বলল ফেসবুক দেখো, ছবি পাঠালাম?
পুঁটিঃ এই দেখো, পলি মাসী নিজের wallএ share করেছে। তুমি ফ্রেন্ড লিস্টে আছ, তাই দেখতে পাবে। not তোমায় privately পাঠানো।
সরযুঃ ও। অত বুঝিনা।
পুঁটিঃ তোমায় কতবার করে শেখাব বল তো? এই তো লাস্ট উইকেও বললাম। কারুর প্রোফাইলে কি করে যেতে হয়, কিভাবে লাইক কমেন্ট করে, কি করে নিজের ওয়ালে কিছু দিতে হয়। সব ভুলে যাও!
সরযূঃ আরে মনে থাকেনা। ধুর আমার একাউন্ট ডিলিট করে দে।
পুঁটিঃ প্র্যাকটিস করো, কিছু হাতি ঘোড়া না ফেসবুক। দিব্যি পারবে। জাস্ট নার্ভাস হোয়োনা।
সরযূঃ হুম। দেখি।
পুঁটিঃ এই যে দেখো, এই ছবিটা যেমন খুব সুন্দর। লাইক বা কমেন্ট করে দাও।
সরযূঃ এহ, না। পলিকে কিরকম একটা লাগছে। থাক।
পুঁটিঃ আহা দেখো সবাই কিরকম আহা উহু করেছে, তুমি করলেও মাসীর ভালোই লাগবে।
সরযূঃ থাক। তুই যা করছিস, কর।
(খানিকক্ষণ পরে)
পুঁটিঃ এ কি মা! পঞ্চাশটা নোটিফিকেশন!!!! আর সবই তোমার লাইক আর কমেন্ট।
সরযূঃ হ্যাঁ তো ভালো লাগল। ছোটবেলার ছবি তোর, কি মিষ্টি লাগছিলি। তাই লাইক ও কমেন্ট করলাম।
পুঁটিঃ উফফ মা। ওমনি দেখো সোমদত্তা উলটে কমেন্ট করেছে। ব্যাস, এবার গোটা ব্যাচ স্টার্ট করে দেবে।
সরযূঃ তা করুক!
পুঁটিঃ নাহ। কিরকম ক্যাবলা বোকা মার্কা লাগছে আমায়। এখনের আমির সাথে খাপ খায় না।
সরযূঃ তাহলে রেখেছিস কেন? ডিলিট করে দিলেই পারতি!
পুঁটিঃ আরে অনেক আগে দেওয়া। সবাই ভুলেও গিয়েছিল, including আমি। তুমি টেনে আনলে মহেঞ্জোদারো থেকে!!!
সরযূঃ তো ভালোই তো, দেখই না কোন archaeologistএর পছন্দ হয় কি না! By the way, Hemang Patelটি কে? সব ছবিতেই একেবারে heartএর বন্যা বইয়ে দিয়েছে দেখছি ইদানীং!!
পুঁটিঃ He is a classmate.
সরযূঃ ও। পাটেল। গুজরাতি। ডান্ডিয়া। এইবারে বুঝলাম!
পুঁটিঃ মা!!!!!!!
সরযূঃ এই একটু ফেসবুকটা খুললাম। পলি বলল ওর মেয়ের কাছে বেড়াতে গিয়েছিল, সেই ছবি নাকি পাঠিয়েছে আমায়। দেখব তাই।
পুঁটিঃ ও আচ্ছা।
সরযূঃ পুঁটি দেখ তো একবার। কি করে পাব ছবি?
পুঁটিঃ দাঁড়াও। কই তোমায় তো কোন মেসেজ করেনি।
সরযূঃ তাহলে যে বলল ফেসবুক দেখো, ছবি পাঠালাম?
পুঁটিঃ এই দেখো, পলি মাসী নিজের wallএ share করেছে। তুমি ফ্রেন্ড লিস্টে আছ, তাই দেখতে পাবে। not তোমায় privately পাঠানো।
সরযুঃ ও। অত বুঝিনা।
পুঁটিঃ তোমায় কতবার করে শেখাব বল তো? এই তো লাস্ট উইকেও বললাম। কারুর প্রোফাইলে কি করে যেতে হয়, কিভাবে লাইক কমেন্ট করে, কি করে নিজের ওয়ালে কিছু দিতে হয়। সব ভুলে যাও!
সরযূঃ আরে মনে থাকেনা। ধুর আমার একাউন্ট ডিলিট করে দে।
পুঁটিঃ প্র্যাকটিস করো, কিছু হাতি ঘোড়া না ফেসবুক। দিব্যি পারবে। জাস্ট নার্ভাস হোয়োনা।
সরযূঃ হুম। দেখি।
পুঁটিঃ এই যে দেখো, এই ছবিটা যেমন খুব সুন্দর। লাইক বা কমেন্ট করে দাও।
সরযূঃ এহ, না। পলিকে কিরকম একটা লাগছে। থাক।
পুঁটিঃ আহা দেখো সবাই কিরকম আহা উহু করেছে, তুমি করলেও মাসীর ভালোই লাগবে।
সরযূঃ থাক। তুই যা করছিস, কর।
(খানিকক্ষণ পরে)
পুঁটিঃ এ কি মা! পঞ্চাশটা নোটিফিকেশন!!!! আর সবই তোমার লাইক আর কমেন্ট।
সরযূঃ হ্যাঁ তো ভালো লাগল। ছোটবেলার ছবি তোর, কি মিষ্টি লাগছিলি। তাই লাইক ও কমেন্ট করলাম।
পুঁটিঃ উফফ মা। ওমনি দেখো সোমদত্তা উলটে কমেন্ট করেছে। ব্যাস, এবার গোটা ব্যাচ স্টার্ট করে দেবে।
সরযূঃ তা করুক!
পুঁটিঃ নাহ। কিরকম ক্যাবলা বোকা মার্কা লাগছে আমায়। এখনের আমির সাথে খাপ খায় না।
সরযূঃ তাহলে রেখেছিস কেন? ডিলিট করে দিলেই পারতি!
পুঁটিঃ আরে অনেক আগে দেওয়া। সবাই ভুলেও গিয়েছিল, including আমি। তুমি টেনে আনলে মহেঞ্জোদারো থেকে!!!
সরযূঃ তো ভালোই তো, দেখই না কোন archaeologistএর পছন্দ হয় কি না! By the way, Hemang Patelটি কে? সব ছবিতেই একেবারে heartএর বন্যা বইয়ে দিয়েছে দেখছি ইদানীং!!
পুঁটিঃ He is a classmate.
সরযূঃ ও। পাটেল। গুজরাতি। ডান্ডিয়া। এইবারে বুঝলাম!
পুঁটিঃ মা!!!!!!!
সরপুঁটি ৩
সরযূঃ পুঁটি আকাশের অবস্থা ভালো না, ছাতা নিয়ে বেরো বলছি।
পুঁটিঃ হুম ঠিক আছে, দেখছি।
সরযূঃ দেখছি আবার কি? ভিজে তারপরে জ্বর বাধাবি নাকি?
পুঁটিঃ আরে আজ ব্যাগ খুব ভারী। পিঠে ব্যাথা হয়ে যাবে।
সরযূঃ হাতে করে নিয়ে যাও।
পুঁটিঃ দেখছি।
সরযূঃ সেই নিয়ে গেল না। উফফ। মেয়েটাকে নিয়ে পারা যায় না আর।
SMS:
সরযূঃ পুঁটি খুব জোর বৃষ্টি আসছে মা, ছাতা নিয়ে যাসনি। আজ আর ক্লাস করতে হবেনা। চলে আয়।
পুঁটিঃ মা প্র্যাক্টিকাল আছে অনার্সের, কি করে বাঙ্ক করব?
সরযূঃ কিচ্ছু বলার নেই।
পুঁটিঃ তুমি কাজ করো, এত ভাবতে হবেনা। বাই। ক্লাসে আছি। Talk to you later.
সরযূঃ পইপই করে বললাম ছাতা নিয়ে বেরো, নিয়ে গেলিনা। আগে আসতে বললাম, এলি না। আমার কথার যেন কোন দাম নেই। এরপর ঠাণ্ডা লেগে বুকে কফ জমলে কে দেখবে? যত ঝামেলা তো আমাকেই পোহাতে হবে।
পুঁটিঃ সরি মা। শীত করছে। একটু প্লীজ কফি করে দাও, স্ট্রং বানিয়ো।
সরযূঃ যা আগে ভালো করে গরম জলে স্নান করে হাত পা মাথা শুকনো করে মোছ। Geyser চালিয়ে রেখেছি।
পুঁটিঃ আসছি মা।
সরযূঃ নে তোর স্ট্রং কফি। খেয়ে বল আর কফি add করতে হবে কিনা। বেগুনী দিয়ে শুরু কর, আমি পেঁয়াজি গুলো ভেজে আনছি।
পুঁটিঃ মা you are the best! Thank you. তুমিও এসো, একসাথে খাওয়া যাবে।
SMS:
সরযূঃ পুঁটি খুব জোর বৃষ্টি আসছে মা, ছাতা নিয়ে যাসনি। আজ আর ক্লাস করতে হবেনা। চলে আয়।
পুঁটিঃ মা প্র্যাক্টিকাল আছে অনার্সের, কি করে বাঙ্ক করব?
সরযূঃ কিচ্ছু বলার নেই।
পুঁটিঃ তুমি কাজ করো, এত ভাবতে হবেনা। বাই। ক্লাসে আছি। Talk to you later.
সরযূঃ পইপই করে বললাম ছাতা নিয়ে বেরো, নিয়ে গেলিনা। আগে আসতে বললাম, এলি না। আমার কথার যেন কোন দাম নেই। এরপর ঠাণ্ডা লেগে বুকে কফ জমলে কে দেখবে? যত ঝামেলা তো আমাকেই পোহাতে হবে।
পুঁটিঃ সরি মা। শীত করছে। একটু প্লীজ কফি করে দাও, স্ট্রং বানিয়ো।
সরযূঃ যা আগে ভালো করে গরম জলে স্নান করে হাত পা মাথা শুকনো করে মোছ। Geyser চালিয়ে রেখেছি।
পুঁটিঃ আসছি মা।
সরযূঃ নে তোর স্ট্রং কফি। খেয়ে বল আর কফি add করতে হবে কিনা। বেগুনী দিয়ে শুরু কর, আমি পেঁয়াজি গুলো ভেজে আনছি।
পুঁটিঃ মা you are the best! Thank you. তুমিও এসো, একসাথে খাওয়া যাবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)