এককালে সুর তাল ছন্দ মোটামুটি ঠিকঠাক বজায় রাখতে পারতাম বলে সেই ছোট থেকেই আমার কয়েকবার স্টেজে গান গাইবার অল্পবিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে। মনে আছে, তখন অনেকটাই ছোট। বছর ছয় সাত হবে হয়তো। বা আরো ছোট। গানের দিদিমণির স্কুলের ফাংশান হবে। আমি তখন সবে উনা বিনা কছুনা সো আর বিলাবল ভূপালির আরোহণ অবরোহণ ছেড়ে এক পিস রবীন্দ্রসংগীত শিখেছি। মজার ব্যাপার, সেটা কিন্তু 'আলো আমার আলো' না। বরং সেটা ছিল দুই লাইনের একটি গান। 'ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে'। যখন গানের দিদিমণি এটা শেখাতেন, বা আমি রেওয়াজ করতাম, আমার ঠাকুমার সে কী হাসি। নাতনি নাকি গান গাইছে। তাও এসব কীসব গান। সে যাই হোক, দিদিমণির বাড়ি নিয়মিত গিয়ে তবলচির সাথে প্র্যাকটিস করতে করতে (এবং প্রচুর বকাও খেয়েছি) শেষমেশ কোনো এক সন্ধ্যায় ঢাকুরিয়ার সি এল টি মঞ্চে গানটা গেয়ে দিদিমণি, মা বাবা এবং আমি নিজে, সকলকে উদ্ধার করেছিলাম। শুনেছি নাকি টুকটাক প্রশংসাও কুড়িয়েছিলাম নাকি সেদিন। মনে নেই।
আজকে বিশেষ করে দুটি স্টেজ পারফরমেন্সের গল্প বলবো।
১।
২০১১র জানুয়ারি। তখন যাদবপুরে এম এস সি সেকেন্ড ইয়ার চলছে। একদিন ঠিক হলো, ডিপার্টমেন্টের রিইউনিয়ন হবে। এপ্রিলে। হাতে এই চার মাসের কম সময়। এর মধ্যেই সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেলতে হবে। মোটামুটি হুজুগে থাকতে ভালোবাসি। ব্যস। দায়িত্ব নিয়ে নিলাম। ফার্স্ট আর সেকেন্ড ইয়ার মিলেই সমস্ত অনুষ্ঠান হবে। বাজেট নেই। তাই বাইরের শিল্পী আসবে না। আর বড় চ্যালেঞ্জ। অনুষ্ঠানের মান রাখতে হবে। ম্যাগাজিন বের করা, স্পন্সর জোগাড়, পুরোনো ছাত্র ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করা.. সব চলছে। কালচারাল এ কী কী হতে পারে, কে কী পারে, এসবের একটা লিস্ট তৈরি হলো। ঠিক হলো আলাদা করে কিছু সমবেত, একক গান তো হবেই, নাচ হবে, এছাড়া যেটা মূল আকর্ষণ, সেটা হলো"শাপমোচন"।
সুমেধা আর আমি দায়িত্ব নিয়ে নিলাম। ও নাচাটা সামলে দেবে। আমি গান। এরপর শুরু হলো হৈ হৈ করে রিহার্সাল। রোজ বিকেলে থিয়োরি প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের শেষে সবাই ফাঁকা ক্লাসরুম দখল করে হারমোনিয়াম তবলা ঘুঙুরের সাথে নাচ গান। অনেকদিনের পুরোনো ও অব্যবহৃত হারমোনিয়ামটা যে তখনও চলছে, ভেবেই কী খুশি।
পুরো দেড় ঘন্টার নাটককে ৪৫ মিনিটে আনতে গেলে পুরোটা করা সম্ভব না। তাছাড়া সব গান সবাই জানিনা। তাই বসা হলো একদিন ধ্রুব ঈপ্সিতার সাথে স্ক্রিপ্ট নিয়ে। মোটামুটি আলাপ আলোচনার পর গান ঠিক হলো কী কী হবে। "জাগরণে যায় বিভাবরী", "রাঙিয়ে দিয়ে যাও", "দে পড়ে দে আমায় তোরা", "এসো আমার ঘরে", "যখন এসেছিলে", "মোর বীণা ওঠে"। ফিমেল ভয়েস পাওয়া কঠিন না। অনেককেই পেয়ে গেলাম। সমবেত, সোলো সবের জন্যই। রানীর রোলে ছিল আমার তৎকালীন বেস্ট ফ্রেন্ড, দেবাঞ্জনা। ওর আর আমার ইচ্ছে, ওর সবচেয়ে পছন্দের গান, "এসো আমার ঘরে"টা আমি গাই। আমিও খুব খুশি। প্রথিতযশা শিল্পী স্বর্গীয় প্রসাদ সেন, আমার দাদু হন সম্পর্কে। বাড়ির কাছাকাছিই থাকতেন। একদিন ফোন করে ছুটলাম। গান তুলতে। দে পড়ে দে আর রাঙিয়ে দিয়ে যাও। এই দুটো আমি সমবেততে গাইবো।
কিন্তু যা বলছিলাম, অনেক নারী কন্ঠ পেলেও, রাজার কণ্ঠে কে গাইবে, তার আর লোক খুঁজে পাইনা। যাকে পারছি, জিজ্ঞেস করছি। গান গাইবে? গান গাইবি? মনে আছে তখন শিল্পী খোঁজার জন্য এমনই অবস্থা, নীলয়দাকে ডেকে বলছি একদিন, "তোমায় দেখলেই মনে হয় ভালো গান গাও। প্লিজ দুটো গান গেয়ে দাও।"
শেষমেশ অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফার্স্ট ইয়ারের তন্ময়কে পাওয়া গেলো। সে ব্যান্ডের গান গায়। নিজেকে রূপম ইসলাম ভেবে টেবে নেয়। আর কেউ নেই, অগত্যা ওকেই ধরো। যেহেতু আমি গানের ইন চার্জ, আমার ঘাড়েই দায়িত্ব পড়লো ব্যান্ড গায়ককে দিয়ে শুদ্ধ (ওই যতটা সম্ভব) রবীন্দ্রসংগীত গায়কীতে গান গাওয়াতে হবে। তখন টিভিতে "গানের ওপারে" সিরিয়ালটার দারুণ রমরমা চলছে। সবাই তারই রেফারেন্সে আমায় দিদি ঠাম্মি তকমা দিয়ে দিল। আর তন্ময় হলো আমাদের গোরা। রিহার্সাল বেশ ভালোই চলছে। সুমেধার নির্দেশনায় নাচের দল রেডি। বিদিশা অদিতি দেবাশিস তিশা এরা গান তবলা নিয়ে রেডি। এদিকে তন্ময়কে বকে বকেও আমি কিছুতেই আর সুর ঠিক করতে পারছিনা। ওর সাথে গলা মেলাতে হচ্ছে রোজ। অনুষ্ঠানের আগেরদিন পর্যন্ত। এদিকে ওর স্কেল খুব উঁচু। আমি সাধারণত খুব নিচু স্কেলে গাই। ব্যস। পড়লো গলায় স্ট্রেন। অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন আগে আমার গলা দিয়ে আর কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছেনা। কী মুশকিল। সমবেত নাহয় ম্যানেজ হয়ে যাবে। কিন্তু "এসো আমার ঘরে"?
বসলাম অদিতিকে নিয়ে। "শোন, গানটা তুলে নে। হয়তো তোকেই কাল গাইতে হবে।"
দেবাঞ্জনার মন খারাপ। ওর নাচে আমি গাইছিনা। আমার আরো মন খারাপ। অত্যন্ত প্রিয় গানটা গাইতে পারবো না। তারই মধ্যে ফাইনাল রিহার্সাল চলছে। সাথে চলছে ধ্রুবর দেওয়া হোমিওপ্যাথি ওষুধ। কস্টিকাম।
অনুষ্ঠানের দিন দুপুরবেলা যখন সবাই ব্যস্ত খাওয়া দাওয়া নিয়ে, আমার কী মনে হলো, ভাবলাম আচ্ছা একবার দেখি তো, মাইকে কতটা খারাপ শোনাচ্ছে আমার গান। দেবাঞ্জনাকে শ্রোতা করে গানটা গাইলাম। তোলা গান। বারবার প্র্যাকটিসের প্রয়োজন নেই। তাল ঠিক আছে। দেখলাম টেনে দিতে পারবো। নিশ্চিন্তে লাঞ্চ সারলাম। অনুষ্ঠান শুরু হলো।
পরপর নাচ। গান। তারপর শাপমোচন। কেউই পারফেক্ট করিনি। তবুও স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছিলাম। আজও শাপমোচনের গান শুনলেই, বিশেষ করে "এসো আমার ঘরে" গানটি গুনগুন করলেই ওই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। ওই একটি অনুষ্ঠানের দৌলতে ফার্স্ট ইয়ার সেকেন্ড ইয়ার পি এইচ ডির দাদা দিদিরা আর স্যার ম্যামেদের সাথে অদ্ভুত হৃদ্যতা স্থাপিত হয়। সেই সুসম্পর্ক এখনও রয়েছে।
২।
এবারের গল্পটা আরো একটু সাম্প্রতিক। ওই ২০১৫র। তখন আমি আমাদের ক্যাম্পাসের বেঙ্গলি এসোসিয়েশনের কালচারাল সেক্রেটারি। সহকারী অয়ন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বাড়ি গিয়েছে। ঋতেন্দু সাহায্য করছে আমায়। গোটা অনুষ্ঠানটা সাজাতে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের দুই তিনদিন আগে অবধি কোনো উদ্বোধনী গানের ব্যবস্থা হয়নি। সবাইকে বলছি, প্লিজ গেয়ে দে। কেউই সারা দেয়না। শেষমেশ ঠিক হলো আমিই গাইবো। কিন্তু পরেও আলাদা গান গাইতে হবে। তাই ভরসা হচ্ছিল না এক গাইবার। রাহুলকে বললাম। গাইবি? ও রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়না। বললো শিখিয়ে দে। মনোসিজ আর আমি দুজনে মিলে রাত্তিরবেলা প্রায় মেরেধরে ওকে দিয়ে গানটা তোলালাম। "প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে"। মোটামুটি রেডি। অনুষ্ঠানের দিন ট্র্যাক চালিয়ে গান গাওয়া হবে। যথাসময়ে ট্র্যকটি চললো। আমি রাহুলকে সাহস জোগাতে বলেছি, তুই চাপ নিস না। আমি শুরু করবো। তুই ধরিস তারপর। আর কী। ঝোলালাম আমি। ট্র্যাকের চেয়ে স্লো স্পিডে গাইলাম। মাঝে ট্র্যাকটা ভাগ্যিস বেগড়বাই করলো। মাঝামাঝি জায়গা থেকে যখন শুরু হয়েছে, ম্যানেজ দিয়ে ফেলেছি। খুব অভিজ্ঞ কান না হলে বোঝার কথা না তেমন। তাছাড়া হল খালি ছিল প্রায়।
তবুও, আজও ওই অটো প্রিয় গানটা এমন ছড়িয়ে লাট করেছিলাম, ভাবলেই লজ্জা লাগে। আক্ষেপ হয়। আজও ওই গানটা জনসমক্ষে গাইতে গেলে এখনও গলা কাঁপে।
Thursday, March 7, 2019
Wednesday, March 6, 2019
SONGএ আমার
ছেলেটি আর মেয়েটি একে অপরকে চেনে সেই ক্লাস টুয়েলভ থেকে। প্রচুর কমন
বন্ধুবান্ধব রয়েছে। স্কুলের পড়া, টিউশনের পড়া, নোটস এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি
ইত্যাদি দিব্যি চলতে থাকে দুজনের মধ্যে, দশজনের মধ্যে। তারপর একদিন
স্কুলজীবন শেষ হয়। কলেজে ঢোকার আগে ওই যে দুই তিন মাসের ছুটিটা, তখন
মেয়েটির বাড়িতে সদ্য ইন্টারনেট এসেছে। চারিদিকে তখন অরকুট আর ইয়াহু মেল
ইয়াহু চ্যাটের যুগ। সেও হুজুগে গা ভাসালো। ছেলেটির সাথে অরকুট, চ্যাট এসবে
তো যোগাযোগ ছিলই, তার সাথে সাথে খুব চলত চিঠি আদানপ্রদান।
মানে ওই ভারচ্যুয়ালিই। লম্বা লম্বা ইমেল। বিভিন্ন বিষয়ে কথা। সিনেমা, বই,
কেরিয়ার অপশন্স... আরো কত কিছু। কায়দা করে নানান রকমের সাবজেক্ট লাইন লেখা
হতো। বন্ধু থেকে ভালো বন্ধু হলো ওরা।
তবে ওই যে, যা হয়। কলেজে ঢুকে প্রায় সব যোগাযোগই ছিন্ন হয়ে যায়। হয়ে গেলোও
তাই। বেশ কয়েক বছর পর, ছেলেটি তখন চাকরিসূত্রে কলকাতার বাইরে, ধরে নিলাম,
চেন্নাইতে, মেয়েটি তখন মাস্টার্স করছে। হঠাৎ আবার যোগাযোগ হল। তখন
ওয়াটসঅ্যাপের যুগ শুরু হয়েছে সবে। ছেলেটি কোদাইকানাল যাচ্ছিল, বন্ধুদের
সাথে। সারা রাত জেগে জেগে বিরক্ত বোধ করছিলও। মেয়েটা অনেকদিন পর আড্ডা দিতে
বসে দারুণ খুশি। পুরনো দিনের কথা, পুরনো বন্ধুদের গল্প। কে কেমন আছে,
কোথায় থাকে, সব।
চলতে লাগল ওদের এই পুনরুজ্জীবিত বন্ধুত্ব। এবং এইখানে এসেই বিপত্তিটা ঘটল। মেয়েটা এইবারে প্রেমে পড়ল ছেলেটির। কোদাইকানাল ট্রিপের প্রায় আট নয় মাস পর ছেলেটার জন্মদিন। মেয়েটা ভাবল, প্রোপোজ করলে হয়। কীভাবে কী করা যায়, ভাবছে সে। অনেক রকম সংলাপও ভেবে চলেছে। সোজাসুজি বলবে? নাকি লিখে পাঠাবে? এস এম এস? না ফোন? আচ্ছা, কী ভালোবাসে ও? কীভাবে বললে খুশি হবে? এইসব ভাবতে ভাবতে মেয়েটি অর্কুট (নাকি ফেসবুক?) খুলল। যদি কোন হিন্টস পাওয়া যায়।
আর ব্যস। ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ল। মেয়েটি জানতে পারল, ছেলেটির সদ্য একটি বিশেষ বান্ধবী হয়েছে। কলিগ। আলাদা শহরে থাকলেও, মাঝে মাঝেই একে অপরের সাথে দেখা করতে এদিক সেদিক বেড়াতে যায়।
আমাদের মেয়েটির মন বড্ড ভেঙ্গে গেল। ভাগ্যিস প্রোপোজ করে বসেনি, কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। এখনও বেশ সেই আগের মতোই বন্ধুর অভিনয়ই চালিয়ে যেতে হবে।
"মুখে হাসি, চোখে জল" অবস্থা তখন মেয়েটির।
খুব গান শোনা অভ্যেস। এমন সময়ে একদিন রেডিওতে দুপুরবেলা আকাশবাণীর অনুষ্ঠানে শুনলও ইন্দ্রাণী সেনের কণ্ঠে একটি গান।
"আমার সকল নিয়ে বসে আছি, সর্বনাশের আশায়
আমি তার লাগি পথ চেয়ে আছি, পথে যে জন ভাসায়..."
বাকি দুটো লাইন অবধি আর পৌঁছতে হল না। এই দুইয়েই সাঙ্ঘাতিক কাবু। অঝোরে দুই চোখ বেয়ে জল নামল সেদিন। শহরে সেদিন ঘোর বর্ষা। মেয়েটি আর প্রকৃতি তখন একাকার...
আজ বহু বছর পর, ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছিল মেয়েটির। ওই গানটি আবার শুনে কোত্থেকে যে ল্যাক্রাইমাল গ্ল্যান্ডগুলো হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে গেলো...
চলতে লাগল ওদের এই পুনরুজ্জীবিত বন্ধুত্ব। এবং এইখানে এসেই বিপত্তিটা ঘটল। মেয়েটা এইবারে প্রেমে পড়ল ছেলেটির। কোদাইকানাল ট্রিপের প্রায় আট নয় মাস পর ছেলেটার জন্মদিন। মেয়েটা ভাবল, প্রোপোজ করলে হয়। কীভাবে কী করা যায়, ভাবছে সে। অনেক রকম সংলাপও ভেবে চলেছে। সোজাসুজি বলবে? নাকি লিখে পাঠাবে? এস এম এস? না ফোন? আচ্ছা, কী ভালোবাসে ও? কীভাবে বললে খুশি হবে? এইসব ভাবতে ভাবতে মেয়েটি অর্কুট (নাকি ফেসবুক?) খুলল। যদি কোন হিন্টস পাওয়া যায়।
আর ব্যস। ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ল। মেয়েটি জানতে পারল, ছেলেটির সদ্য একটি বিশেষ বান্ধবী হয়েছে। কলিগ। আলাদা শহরে থাকলেও, মাঝে মাঝেই একে অপরের সাথে দেখা করতে এদিক সেদিক বেড়াতে যায়।
আমাদের মেয়েটির মন বড্ড ভেঙ্গে গেল। ভাগ্যিস প্রোপোজ করে বসেনি, কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। এখনও বেশ সেই আগের মতোই বন্ধুর অভিনয়ই চালিয়ে যেতে হবে।
"মুখে হাসি, চোখে জল" অবস্থা তখন মেয়েটির।
খুব গান শোনা অভ্যেস। এমন সময়ে একদিন রেডিওতে দুপুরবেলা আকাশবাণীর অনুষ্ঠানে শুনলও ইন্দ্রাণী সেনের কণ্ঠে একটি গান।
"আমার সকল নিয়ে বসে আছি, সর্বনাশের আশায়
আমি তার লাগি পথ চেয়ে আছি, পথে যে জন ভাসায়..."
বাকি দুটো লাইন অবধি আর পৌঁছতে হল না। এই দুইয়েই সাঙ্ঘাতিক কাবু। অঝোরে দুই চোখ বেয়ে জল নামল সেদিন। শহরে সেদিন ঘোর বর্ষা। মেয়েটি আর প্রকৃতি তখন একাকার...
আজ বহু বছর পর, ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছিল মেয়েটির। ওই গানটি আবার শুনে কোত্থেকে যে ল্যাক্রাইমাল গ্ল্যান্ডগুলো হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে গেলো...
সংলাপ
দুপুরের অতি সাধারণ কথোপকথনের পর আবারও একটি অসাধারণ রকমের সাধারণ সংলাপ। বলা চলে, উপসংহার।
- মাথা ব্যথাটা কমলো?
- হুম। মনে হয়।
- কপালও ঠান্ডা। জ্বরটা নেমেছে মনে হয়।
- মাথায় মালিশটা কাজে দিয়েছে বেশ।
- কিন্তু সিনেমাটা আর দেখলি না তো। ঘুমিয়েই পড়লি।
- অন্তত দশবার দেখা ওই সিনেমা। একবার হাফ দেখলেও সমস্যা নেই। বরং তার চেয়ে অনেক বেশি এনজয় করেছি এই হেড ম্যাসাজ।
- গ্ল্যাড টু নো!
- থ্যাংক ইউ!
- লাভ ইউ!
- লাভ ইউ টু!
- মাথা ব্যথাটা কমলো?
- হুম। মনে হয়।
- কপালও ঠান্ডা। জ্বরটা নেমেছে মনে হয়।
- মাথায় মালিশটা কাজে দিয়েছে বেশ।
- কিন্তু সিনেমাটা আর দেখলি না তো। ঘুমিয়েই পড়লি।
- অন্তত দশবার দেখা ওই সিনেমা। একবার হাফ দেখলেও সমস্যা নেই। বরং তার চেয়ে অনেক বেশি এনজয় করেছি এই হেড ম্যাসাজ।
- গ্ল্যাড টু নো!
- থ্যাংক ইউ!
- লাভ ইউ!
- লাভ ইউ টু!
(লক্ষ্য করেছেন তো, আজ কিন্তু লাভ ইউএর উত্তরে মরণ টরণ কিছু নেই। আপাতত এদের আর ডিস্টার্ব করছি না।)
Tuesday, March 5, 2019
সংলাপ
সেই অসাধারণভাবে সাধারণ দম্পতির (রুমুন অগ্নি) আরেকটি অতি সাধারণ কথোপকথন।
- একটুও শরীর ভালো লাগছে না।
- হুম। টেম্পারেচার তো ১০২ দেখছি।
- মাথা ব্যথা করছে খুব।
- ক্যালপল খেলি তো। একটু টাইম দে। মিনওয়াইল, দেখি একটু মাথাটা টিপে দিই। আরাম পাবি।
- হ্যাঁ প্লিজ। তেল মালিশ করে দিবি প্লিজ?
- ঠিক আছে।
-তেলের বোতলটা আয়নার পিছনে শেলফে আছে। প্যারাশুট।
- ঠিক আছে। বলছি, কোনো সিনেমা দেখবি?
- মন্দ হয় না।
- কোনটা দেখবি?
- চল আজ কোন ক্যাওড়া সিনেমা দেখি।
- যেমন?
- দেবের কোনো সিনেমা?
- নাকি জিৎ?
- বা পাপস তাল?
- চিরঞ্জিত?
- পোসেঞ্জিত?
- অক্ষয় কুমার?
- সলমন খান?
- গোভিন্দা?
- সূর্যবংশম?
- গুন্ডারাজ?
- কুলি নাম্বার ১?
- বিবি নাম্বার ১?
- উত্তম সুচিত্রা?
- অগ্নিপরীক্ষা?
- ইন্দ্রাণী?
- সপ্তপদী?
- বিপাশা?
- হারানো সুর?
- চল, মৌচাক দেখি। লাইট মুভি।
- সেই ভালো। স্যুপ খাবি?
- বানাবি?
- অর্ডার করে দিচ্ছি।
- সি ফুড। বা ক্রিম এন্ড অনিয়ন।
- ডান।
- একটুও শরীর ভালো লাগছে না।
- হুম। টেম্পারেচার তো ১০২ দেখছি।
- মাথা ব্যথা করছে খুব।
- ক্যালপল খেলি তো। একটু টাইম দে। মিনওয়াইল, দেখি একটু মাথাটা টিপে দিই। আরাম পাবি।
- হ্যাঁ প্লিজ। তেল মালিশ করে দিবি প্লিজ?
- ঠিক আছে।
-তেলের বোতলটা আয়নার পিছনে শেলফে আছে। প্যারাশুট।
- ঠিক আছে। বলছি, কোনো সিনেমা দেখবি?
- মন্দ হয় না।
- কোনটা দেখবি?
- চল আজ কোন ক্যাওড়া সিনেমা দেখি।
- যেমন?
- দেবের কোনো সিনেমা?
- নাকি জিৎ?
- বা পাপস তাল?
- চিরঞ্জিত?
- পোসেঞ্জিত?
- অক্ষয় কুমার?
- সলমন খান?
- গোভিন্দা?
- সূর্যবংশম?
- গুন্ডারাজ?
- কুলি নাম্বার ১?
- বিবি নাম্বার ১?
- উত্তম সুচিত্রা?
- অগ্নিপরীক্ষা?
- ইন্দ্রাণী?
- সপ্তপদী?
- বিপাশা?
- হারানো সুর?
- চল, মৌচাক দেখি। লাইট মুভি।
- সেই ভালো। স্যুপ খাবি?
- বানাবি?
- অর্ডার করে দিচ্ছি।
- সি ফুড। বা ক্রিম এন্ড অনিয়ন।
- ডান।
সংলাপ
এলার্মের শব্দ।
- কীরে তখন থেকে এলার্ম বাজছে। বন্ধ কর।
- উমম।
- কীরে?
- হুম।
- উফ। সেই আমাকেই ওঠালি।
- উম।
- একী, সবে পাঁচটা বাজে। গাড়ি আসবে সাড়ে ছটায়। আর তুই এত আগের এলার্ম দিয়েছিস?!
- তুই যাতে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিস। সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তুই তৈরি হয়ে নে। আমি ততক্ষণ আরেকটু ঘুমিয়ে নিই।
- কী আহ্লাদ আবদার।
- শাড়ি পরাবি তো আমায়।
- শাড়ি পরাবো মানে?
- মানে কুচি আঁচল ধরে দিবি।
- শাড়ি পরবি কেন হঠাৎ? এই সাত সকালে আবার।
- এমনি। আমার ইচ্ছে হয়েছে। উফ।
- নিজে শাড়ি পরবি, তার জন্য আমার ঘুম নষ্ট।
- তারপরে তো গ্যালারি ভর্তি শুধু আমারই ছবি দেখব!
- বাজে বকিস না তো।
- এত কথা বলে বলে আমার ঘুমের পিন্ডি চটকাচ্ছিস তখন থেকে।
- নিজে সাজবি আর তার জন্য আমার ঘুম নষ্ট করবি... ইয়ার্কি?
- ধ্যাত্তেরিকা। সেই আমায় উঠিয়েই ছাড়লি।
- স্নান সেরে নে। তারপর যতক্ষণে আমি স্নান করবো, তুই শাড়িটা স্টার্ট কর। কুচি আঁচল ধরছি পরে। মিনওয়াইল আমি পনেরো মিনিট ঘুমিয়ে নিই।
- মরণ দশা আমার।
- চেকমেট!
- কীরে তখন থেকে এলার্ম বাজছে। বন্ধ কর।
- উমম।
- কীরে?
- হুম।
- উফ। সেই আমাকেই ওঠালি।
- উম।
- একী, সবে পাঁচটা বাজে। গাড়ি আসবে সাড়ে ছটায়। আর তুই এত আগের এলার্ম দিয়েছিস?!
- তুই যাতে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিস। সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তুই তৈরি হয়ে নে। আমি ততক্ষণ আরেকটু ঘুমিয়ে নিই।
- কী আহ্লাদ আবদার।
- শাড়ি পরাবি তো আমায়।
- শাড়ি পরাবো মানে?
- মানে কুচি আঁচল ধরে দিবি।
- শাড়ি পরবি কেন হঠাৎ? এই সাত সকালে আবার।
- এমনি। আমার ইচ্ছে হয়েছে। উফ।
- নিজে শাড়ি পরবি, তার জন্য আমার ঘুম নষ্ট।
- তারপরে তো গ্যালারি ভর্তি শুধু আমারই ছবি দেখব!
- বাজে বকিস না তো।
- এত কথা বলে বলে আমার ঘুমের পিন্ডি চটকাচ্ছিস তখন থেকে।
- নিজে সাজবি আর তার জন্য আমার ঘুম নষ্ট করবি... ইয়ার্কি?
- ধ্যাত্তেরিকা। সেই আমায় উঠিয়েই ছাড়লি।
- স্নান সেরে নে। তারপর যতক্ষণে আমি স্নান করবো, তুই শাড়িটা স্টার্ট কর। কুচি আঁচল ধরছি পরে। মিনওয়াইল আমি পনেরো মিনিট ঘুমিয়ে নিই।
- মরণ দশা আমার।
- চেকমেট!
সংলাপ
একটি সাধারণ দম্পতির আরও সাধারণ গার্হস্থ্য জীবনের কথোপকথন। চরিত্রদের নাম? রুমুন অগ্নি? যা ইচ্ছে ভেবে নিন।
- ভাবছি চাকরিটা এবারে ছেড়েই দেবো।
- আচ্ছা।
- এই চাকরিটা বেশিদিন টানা অসম্ভব।
- ঠিক আছে।
- এই চাকরির জ্বালায় জান কয়লা হয়ে গেল আমার।
- হুম।
- তখন থেকে ঘ্যানঘ্যান করে যাচ্ছি। একবার জিজ্ঞেস তো কর কী ব্যাপার কেন।
- ম্যানেজার ছুটি দেয়নি, তোর কাজ শ্বেতার চেয়ে ভালো, তাও তুই কম রেটিং পেয়েছিস। তোর ক্লায়েন্টটা বড্ড জ্বালাচ্ছে। সামান্য পান থেকে চুন খসলেই ডাইরেক্ট ম্যানেজারকে মেল করছে। কোনটা?
- সেকেন্ডটা। কিন্তু শ্বেতা না। শুভ্র।
- বুঝলাম।
- তুই কী করে জানলি?
- গত তিন বছর ধরে এই চাকরিটাতে আছিস। আমি তোকে চিনি আরো আগে থেকে। আর তোকে এই যাবৎ যা যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখেছি, তাকে রাফলি এই কটা ক্যাটেগরিতে ভাগ করা যায়।
- আর তাই আজও বুঝে গেলি।
- হ্যাঁ। সিম্পল বেসিক মেশিন লার্নিং এর গল্প এটা।
- উফ। আবার রিসার্চের কথা। মা গো। থাম প্লিজ।
- আমারই কি ভালো লাগে নাকি? এই দেখ না, পেপারটা ডিউ আছে নেক্সট উইক। তখন থেকে কোডটা রান করতে গিয়েও পারছিনা। আমিও চাকরিটা ছেড়ে দেবো ভাবছি।
- চল। তাই করি। দুজনেই চাকরি ছেড়ে দিই।
- তারপর কী করব?
- ভ্যারান্ডা ভাজব। গান গাইবো। বই পড়বো। সিনেমা দেখবো।
- খাবো কী?
- ভ্যারান্ডা। ভাজব যেটা।
- ভ্যারান্ডা কিনবার টাকা কোত্থেকে আসবে?
- ব্যাংক লুটব।
- কীভাবে?
- বন্দুক দিয়ে ভয় দেখাব।
- হুম। আপাতত চল স্পেনসার্স যাই।
- ওখানে বন্দুক পাওয়া যায় নাকি?
- জানিনা। তবে আমি কালকের রান্নার জন্য বাজারহাট করবো।
- হয়ে গেল?
- হ্যাঁ। মনে পড়ল, ফ্রিজ খালি।
- শালা কল্পনার জগতে থাকারও কত লিমিটেশন।
- সেই না সেই।
- চল।
- ভেলপুরির লোকটা থাকলে খেয়ে ঢুকবো।
- আমি ফুচকা।
- ভাবছি চাকরিটা এবারে ছেড়েই দেবো।
- আচ্ছা।
- এই চাকরিটা বেশিদিন টানা অসম্ভব।
- ঠিক আছে।
- এই চাকরির জ্বালায় জান কয়লা হয়ে গেল আমার।
- হুম।
- তখন থেকে ঘ্যানঘ্যান করে যাচ্ছি। একবার জিজ্ঞেস তো কর কী ব্যাপার কেন।
- ম্যানেজার ছুটি দেয়নি, তোর কাজ শ্বেতার চেয়ে ভালো, তাও তুই কম রেটিং পেয়েছিস। তোর ক্লায়েন্টটা বড্ড জ্বালাচ্ছে। সামান্য পান থেকে চুন খসলেই ডাইরেক্ট ম্যানেজারকে মেল করছে। কোনটা?
- সেকেন্ডটা। কিন্তু শ্বেতা না। শুভ্র।
- বুঝলাম।
- তুই কী করে জানলি?
- গত তিন বছর ধরে এই চাকরিটাতে আছিস। আমি তোকে চিনি আরো আগে থেকে। আর তোকে এই যাবৎ যা যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখেছি, তাকে রাফলি এই কটা ক্যাটেগরিতে ভাগ করা যায়।
- আর তাই আজও বুঝে গেলি।
- হ্যাঁ। সিম্পল বেসিক মেশিন লার্নিং এর গল্প এটা।
- উফ। আবার রিসার্চের কথা। মা গো। থাম প্লিজ।
- আমারই কি ভালো লাগে নাকি? এই দেখ না, পেপারটা ডিউ আছে নেক্সট উইক। তখন থেকে কোডটা রান করতে গিয়েও পারছিনা। আমিও চাকরিটা ছেড়ে দেবো ভাবছি।
- চল। তাই করি। দুজনেই চাকরি ছেড়ে দিই।
- তারপর কী করব?
- ভ্যারান্ডা ভাজব। গান গাইবো। বই পড়বো। সিনেমা দেখবো।
- খাবো কী?
- ভ্যারান্ডা। ভাজব যেটা।
- ভ্যারান্ডা কিনবার টাকা কোত্থেকে আসবে?
- ব্যাংক লুটব।
- কীভাবে?
- বন্দুক দিয়ে ভয় দেখাব।
- হুম। আপাতত চল স্পেনসার্স যাই।
- ওখানে বন্দুক পাওয়া যায় নাকি?
- জানিনা। তবে আমি কালকের রান্নার জন্য বাজারহাট করবো।
- হয়ে গেল?
- হ্যাঁ। মনে পড়ল, ফ্রিজ খালি।
- শালা কল্পনার জগতে থাকারও কত লিমিটেশন।
- সেই না সেই।
- চল।
- ভেলপুরির লোকটা থাকলে খেয়ে ঢুকবো।
- আমি ফুচকা।
Saturday, March 2, 2019
সংলাপ
- কীরে, সারাদিনে একবারও ফোন করলি না যে?
- তুইও তো করিসনি।
- ব্যস্ত ছিলাম।
- আমিও।
- তোর ব্যস্ততা জানা আছে।
- কীরকম?
- ওই তো দেবুর ছবিতে বসে বসে লাইক আর কমেন্টের বন্যা বইয়ে দিলি। রীতিমত পঞ্চায়েত বসে গেল।
- তোকে কে বলল?
- দেখলাম। কে আবার বলবে।
- এই নাকি এত ব্যস্ত, এত ফেসবুক করার সময় পাস কী করে?
- তুই কি ঝগড়া করবি বলে ঠিক করলি?
- তুইও কি ঝগড়া করতে ফোন করলি?
- অন্তত সেই সুবাদে তো ফোন করার সময় হলো।
- ইচ্ছে হলে তো তুইও করতে পারতি।
- আমরা কি ঝগড়াটা কন্টিনিউ করবো?
- আর ভালো কি করতে পারি অন্যথায়?
- সাউথ সিটিতে নাইট শো কেটে ফেলি? তার আগে নাহয় ওয়াও মোমোতে এক প্লেট করে চিকেন চিজ স্টিমড আর কে এফ সি তে ভার্জিন ময়িতো হয়ে যাবে।
- সেই ভালো। এক সপ্তাহ প্রচুর ঝেলেছি। উইকেন্ড শুড বি ফান!
- ঠিক হ্যাস! পিক আপ করে নেব সাড়ে ছটায় তোর অফিসের বাইরে থেকে।
- ওকে। বাই।
- লাভ ইউ টু।
- ঢং যতসব।
- তুইও তো করিসনি।
- ব্যস্ত ছিলাম।
- আমিও।
- তোর ব্যস্ততা জানা আছে।
- কীরকম?
- ওই তো দেবুর ছবিতে বসে বসে লাইক আর কমেন্টের বন্যা বইয়ে দিলি। রীতিমত পঞ্চায়েত বসে গেল।
- তোকে কে বলল?
- দেখলাম। কে আবার বলবে।
- এই নাকি এত ব্যস্ত, এত ফেসবুক করার সময় পাস কী করে?
- তুই কি ঝগড়া করবি বলে ঠিক করলি?
- তুইও কি ঝগড়া করতে ফোন করলি?
- অন্তত সেই সুবাদে তো ফোন করার সময় হলো।
- ইচ্ছে হলে তো তুইও করতে পারতি।
- আমরা কি ঝগড়াটা কন্টিনিউ করবো?
- আর ভালো কি করতে পারি অন্যথায়?
- সাউথ সিটিতে নাইট শো কেটে ফেলি? তার আগে নাহয় ওয়াও মোমোতে এক প্লেট করে চিকেন চিজ স্টিমড আর কে এফ সি তে ভার্জিন ময়িতো হয়ে যাবে।
- সেই ভালো। এক সপ্তাহ প্রচুর ঝেলেছি। উইকেন্ড শুড বি ফান!
- ঠিক হ্যাস! পিক আপ করে নেব সাড়ে ছটায় তোর অফিসের বাইরে থেকে।
- ওকে। বাই।
- লাভ ইউ টু।
- ঢং যতসব।
Subscribe to:
Posts (Atom)