মন খারাপ ভারী অভদ্র। হুটহাট যখন তখন এসে হামলে পড়ে। এক্কেবারে যেন ওই "বিন বুলায়ে মেহমান।" বেশ তো একটা সুন্দর উইকেন্ড চলছিল। ছিল পর্যাপ্ত প্ল্যানস, এদিকে দেখো। কেমন বেহায়া নির্লজ্জর মতো এসে সব ভেস্তে দিয়ে যাবে।
মন খারাপ ভারী অসভ্য। এই এত্ত ডেডলাইনস। এত এত কাজ। এদিকে দেখো, ঠিক এসে সমস্ত বিবেক বিবেচনা বুদ্ধি সব হাইজ্যাক করে নেবে। একটা পারমিশন পর্যন্ত নেবে না?
মন খারাপ ভারী খামখেয়ালি। কারণে অকারণে সেই কোন প্রি হিস্টোরিক যুগের কোন এক ফালি "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত"র জেরে মস্তিষ্কের যে মালিকানা নিয়ে বসে আছে, ব্যাটা হৃৎপিন্ডটাকে হৃদয় না করে ছাড়বেই না।
মন খারাপ ভারী নাছোড়বান্দা। ওরে, বাঁ দিকের ওই চিনচিনটা নিয়ে মন তো সেই কবে থেকে কন্ডিশন্ড হয়ে আছে। তবুও, মাঝে মধ্যেই এসে নিজের উপস্থিতিটা জানিয়ে দিয়ে যাবেই যাবে।
মন খারাপ বড্ড অভিমানী। সে আসবে। তাকে আপ্যায়ন করতে হবে। নইলে... নইলে তাকে (দুঃখ)বিলাসের দিনে হাজার ডাকলেও, ফিরেও তাকাবে না।
মন খারাপ চিরকালীন। শাশ্বত।
Sunday, June 16, 2019
Friday, June 14, 2019
তুয়ার হিজিবিজি ১০
আজ তুয়ার এই অফিসে ইন্টার্নশিপের শেষ দিন। তবে কাজের ছুটি কিন্তু না। আজও শ্রীময়ী ওকে ভালো মতোই এসাইনমেন্ট দিয়েছেন। এই মাসের ম্যাগাজিনের ফাইনাল লে আউট আর প্রুফ দেখার। শ্রীময়ী খুব খুঁতখুঁতে এইসব বিষয়ে। আর এ যাবৎ মোটামুটি ভালো ট্র্যাক রেকর্ড বজায় রেখে এসেছে। তাই জন্যই তো এই শেষবেলায় এসেও এমন গুরুগম্ভীর দায়িত্ব ওর ঘাড়ে পড়েছে। আজকেও কাজটা সুষ্ঠুভাবেই মেটাতে চায় তুয়া। তাই মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপ খুলে বসে আছে। সাড়ে দশটার দিকে মনিরুলদা এসে রোজের মতোই কফির কাপ ধরিয়ে দিয়ে গেল ওকে। তুয়া কৃতজ্ঞ হাসি হাসলো। মনিদা এত ভালো কফি বানান, এটাও খুব মিস করবে তুয়া। সাড়ে বারোটার দিকে এইচ আর ডিপার্টমেন্ট থেকে একটা মেসেজ পেলো ও। বিকেল পাঁচটায় ওর জন্য একটা ছোট ফেয়ারওয়েলের ব্যবস্থা হয়েছে। ও যেন অবশ্যই আসে। মুহূর্তে তুয়ার মনটা অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতিতে ভরে গেল। বিদায়ের কষ্ট। এদিকে এতটা ভালোবাসা পাওয়ার আনন্দ।
সময়মতো দীপান্বিতা ওকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া এলো। দীপুর অবশ্য ছ'মাসের ইন্টার্নশিপ। ও এক্ষুণি যাচ্ছেনা। তাই জুনিয়রমোস্ট হিসেবে ওর আজ অনেক দায়িত্ব। গোটা ফেয়ারওয়েলটা ও আর এইচ আরের কিছু ইন্টার্নরা মিলে আয়োজন করেছে। গোটা ক্যাফেটেরিয়া বেলুন দিয়ে সাজানো। ওর পছন্দের নীল আর লাল কম্বিনেশনে। স্পিকারে গান চলছে। পার্টি মিউজিক। যথাসময়ে সব লোকজনও এসে উপস্থিত। শোভন স্যার ফ্রিজ থেকে একটা ইয়া বড় কেক বের করে আনলেন। দীপুকে ডেকে বললেন, "নে। আমার কাজ করে দিয়েছি। এবার ঝটপট শুরু কর।" যেন এই সিগ্নালেরই অপেক্ষায় ছিল ওরা। এইচ আরের ইন্টার্ন দেবাদিত্য হাত ধরে তুয়াকে কেকের সামনে নিয়ে এলো। জুনিয়ররা মিলে হইহই করতে করতে কেক কাটালো তুয়াকে দিয়ে। প্রথম পিসটা তুয়া ওর প্রিয় শ্রীময়ী ম্যামকেই খাওয়ালো। ম্যাম অল্প একটু কামড় দিয়ে বাকিটা ওর মুখের পুরে দিলেন। এরপর একে একে তুয়া বাকি ইন্টার্ন ও অন্যান্য স্টাফদের কেক কেটে দিলো। দীপু এই ব্যাপারে সাহায্য করলো খুব। গান বাজনার ভলিউম বেড়ে গিয়েছে। হালকা নাচ শুরু হয়েছে একদিকে। তুয়া লাজুক। ও চুপ করে বসে আছে একটা কোণায়। ওর জন্যই এই পার্টি, এদিকে ও আড়ালে। মনিরুলদা ট্রে হাতে সবার জন্য একে একে কোল্ড ড্রিংক আর স্ন্যাকস নিয়ে এলো। তুয়া চুপচাপ বসে। মাঝে মাঝে কেউ কেউ এসে ওর পিঠ চাপড়ে দিয়ে যাচ্ছে।
আটটার দিকে পার্টি ভাঙল। এবার সবার ফেরার পালা। তুয়া অনেক উপহার পেয়েছে। অফিস থেকে ওকে বেশ কতগুলো বই, একটা পেনড্রাইভ, একটা ব্লু টুথ হেডফোন তো দিয়েইছে, এ ছাড়া বন্ধুরা, মানে ব্যাচের অন্যান্য ইন্টার্নরা মিলে ফুলের তোড়া আর হ্যান্ডব্যাগ দিয়েছে। এত কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরবে কী করে, ভাবছে। এমন সময় শ্রীময়ী ম্যাম ওর কাছে এসে বললেন, "দীপান্বিতা বা কেউ কি তোমায় পৌঁছে দেবে?" তুয়া না তে মাথা নাড়লো। শ্রীময়ী তখন বললেন, "ঠিক আছে। আমি তোমায় আজ ড্রপ করে দেবো। বাড়ি পৌঁছনোর তাড়া আছে?" তুয়া ওর দশটার কারফিউয়ের কথা বলতে ম্যাম বললেন, "ও ঠিক আছে। ম্যানেজেবল। চলো আমরা আজ একসাথে ডিনার করি। তুমি ইন্টার্নশিপে খুব ভালো কাজ করেছো। ইউ ডিজার্ভ আ ট্রিট। বলো কী খাবে, চাইনিজ না থাই নাকি মোগলাই?" তুয়া একটু কিন্তু কিন্তু করছে দেখে শ্রীময়ী ওর কাঁধে হাত রেখে বললেন, "শোনো, ডোন্ট হেজিটেট। এখন কিন্তু আমি আর তোমার বস নই। আমায় দিদির মতোই ভাবতে পারো।"
সেদিন ওরা একটা থাই রেস্টুরেন্টে ডিনার সারলো। তুয়ার বাড়ির কাছেই। খেতে খেতে অনেক গল্প হলো। ডিনার শেষে তুয়া যেন অনেকটাই সহজ। যেন শ্রীময়ীকে এক নতুন রূপে পেলো। একজন প্রিয় সিনিয়র, একজন মেন্টর। ঠিক বাড়ির সামনে ওকে নামিয়ে দিয়ে গেলেন। তুয়া ফিরে শ্রীময়ীকে গুডনাইট জানাতে গেলে, শ্রীময়ী বললেন, "স্টে ইন টাচ। আমি যেখানেই জয়েন করি না কেন, তোমার জন্য ইন্টার্নশিপের দরজা সবসময় খোলা। আর কখনো কোনো প্রয়োজন হলে, নির্দ্বিধায় আমায় ফোন করবে। ঠিক আছে?"
এই আশ্বাসটুকুই অনেকটা। তুয়া মনে মনে ভাবে, আড়াই মাস বাড়ি না যাওয়ায় অনেক কিছু মিস হলেও, এগুলোই তো ওর প্রাপ্তি, থেকে যাবে সর্বক্ষণ।
সময়মতো দীপান্বিতা ওকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া এলো। দীপুর অবশ্য ছ'মাসের ইন্টার্নশিপ। ও এক্ষুণি যাচ্ছেনা। তাই জুনিয়রমোস্ট হিসেবে ওর আজ অনেক দায়িত্ব। গোটা ফেয়ারওয়েলটা ও আর এইচ আরের কিছু ইন্টার্নরা মিলে আয়োজন করেছে। গোটা ক্যাফেটেরিয়া বেলুন দিয়ে সাজানো। ওর পছন্দের নীল আর লাল কম্বিনেশনে। স্পিকারে গান চলছে। পার্টি মিউজিক। যথাসময়ে সব লোকজনও এসে উপস্থিত। শোভন স্যার ফ্রিজ থেকে একটা ইয়া বড় কেক বের করে আনলেন। দীপুকে ডেকে বললেন, "নে। আমার কাজ করে দিয়েছি। এবার ঝটপট শুরু কর।" যেন এই সিগ্নালেরই অপেক্ষায় ছিল ওরা। এইচ আরের ইন্টার্ন দেবাদিত্য হাত ধরে তুয়াকে কেকের সামনে নিয়ে এলো। জুনিয়ররা মিলে হইহই করতে করতে কেক কাটালো তুয়াকে দিয়ে। প্রথম পিসটা তুয়া ওর প্রিয় শ্রীময়ী ম্যামকেই খাওয়ালো। ম্যাম অল্প একটু কামড় দিয়ে বাকিটা ওর মুখের পুরে দিলেন। এরপর একে একে তুয়া বাকি ইন্টার্ন ও অন্যান্য স্টাফদের কেক কেটে দিলো। দীপু এই ব্যাপারে সাহায্য করলো খুব। গান বাজনার ভলিউম বেড়ে গিয়েছে। হালকা নাচ শুরু হয়েছে একদিকে। তুয়া লাজুক। ও চুপ করে বসে আছে একটা কোণায়। ওর জন্যই এই পার্টি, এদিকে ও আড়ালে। মনিরুলদা ট্রে হাতে সবার জন্য একে একে কোল্ড ড্রিংক আর স্ন্যাকস নিয়ে এলো। তুয়া চুপচাপ বসে। মাঝে মাঝে কেউ কেউ এসে ওর পিঠ চাপড়ে দিয়ে যাচ্ছে।
আটটার দিকে পার্টি ভাঙল। এবার সবার ফেরার পালা। তুয়া অনেক উপহার পেয়েছে। অফিস থেকে ওকে বেশ কতগুলো বই, একটা পেনড্রাইভ, একটা ব্লু টুথ হেডফোন তো দিয়েইছে, এ ছাড়া বন্ধুরা, মানে ব্যাচের অন্যান্য ইন্টার্নরা মিলে ফুলের তোড়া আর হ্যান্ডব্যাগ দিয়েছে। এত কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরবে কী করে, ভাবছে। এমন সময় শ্রীময়ী ম্যাম ওর কাছে এসে বললেন, "দীপান্বিতা বা কেউ কি তোমায় পৌঁছে দেবে?" তুয়া না তে মাথা নাড়লো। শ্রীময়ী তখন বললেন, "ঠিক আছে। আমি তোমায় আজ ড্রপ করে দেবো। বাড়ি পৌঁছনোর তাড়া আছে?" তুয়া ওর দশটার কারফিউয়ের কথা বলতে ম্যাম বললেন, "ও ঠিক আছে। ম্যানেজেবল। চলো আমরা আজ একসাথে ডিনার করি। তুমি ইন্টার্নশিপে খুব ভালো কাজ করেছো। ইউ ডিজার্ভ আ ট্রিট। বলো কী খাবে, চাইনিজ না থাই নাকি মোগলাই?" তুয়া একটু কিন্তু কিন্তু করছে দেখে শ্রীময়ী ওর কাঁধে হাত রেখে বললেন, "শোনো, ডোন্ট হেজিটেট। এখন কিন্তু আমি আর তোমার বস নই। আমায় দিদির মতোই ভাবতে পারো।"
সেদিন ওরা একটা থাই রেস্টুরেন্টে ডিনার সারলো। তুয়ার বাড়ির কাছেই। খেতে খেতে অনেক গল্প হলো। ডিনার শেষে তুয়া যেন অনেকটাই সহজ। যেন শ্রীময়ীকে এক নতুন রূপে পেলো। একজন প্রিয় সিনিয়র, একজন মেন্টর। ঠিক বাড়ির সামনে ওকে নামিয়ে দিয়ে গেলেন। তুয়া ফিরে শ্রীময়ীকে গুডনাইট জানাতে গেলে, শ্রীময়ী বললেন, "স্টে ইন টাচ। আমি যেখানেই জয়েন করি না কেন, তোমার জন্য ইন্টার্নশিপের দরজা সবসময় খোলা। আর কখনো কোনো প্রয়োজন হলে, নির্দ্বিধায় আমায় ফোন করবে। ঠিক আছে?"
এই আশ্বাসটুকুই অনেকটা। তুয়া মনে মনে ভাবে, আড়াই মাস বাড়ি না যাওয়ায় অনেক কিছু মিস হলেও, এগুলোই তো ওর প্রাপ্তি, থেকে যাবে সর্বক্ষণ।
Thursday, June 13, 2019
তুয়ার হিজিবিজি ৯
এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে শ্রীময়ী ম্যাম আর সৌরভদার মধ্যে সেই ফাটাফাটি ঝগড়াটার। সেদিনের পর থেকেই কেমন যেন একটা থমথমে পরিবেশ অফিসে। তুয়ার বেশ অস্বস্তিই হয়। আগে দিব্যি সবাই ওর সাথে কথা বলতো, এর তার খুচরো ফাই ফর্মাস খেটে দিত, হাসি মুখেই। এখন সকলেই কেমন একটা এড়িয়ে এড়িয়ে চলে ওকে। দীপান্বিতার অবশ্য কোনো হেলদোল নেই এই ব্যাপারে। ওর সাথে সবাই আগের মতোই আছে। তুয়া মনমরা হয়েই থাকে সারাক্ষণ। ভাবে, সবাই বুঝি আড়ালে ওকেই দোষ দিয়েছে ঝগড়াটা নিয়ে। কানাঘুষো যা শুনেছে, এমনটাই তো মনে হয়েছে ওর। অথচ কী অদ্ভুত দেখো, ও কিছুই করলো না। সৌরভদা, শ্রীময়ী ম্যাম সবার কথামতো কাজ ঠিক করে দিলো, এদিকে কেমন একটা মার্কামারা হয়ে আছে।
ইন্টার্নশিপের আর এক সপ্তাহ মতো বাকি। তুয়া জানে, এই এক সপ্তাহ ওর দিব্যি কেটে যাবে। টুকটাক যা কাজ রয়েছে, পেন্ডিং, তাও মিটিয়ে ফেলবে। শ্রীময়ীর কড়া স্বভাবের জন্য আজ অবধি কোনো কাজই ফেলে রাখার জো পায়নি তুয়া। একদিকে ভালো। আর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশিই কাজ ও করেছে এই দুই মাসে। শিখেছে অনেকটাই। শ্রী ম্যামের বকুনি ও শাসনের মধ্যেও কেমন একটা প্রচ্ছন্ন স্নেহ অনুভব করতো তুয়া। ঠিক হাই স্কুলের বৃন্দাদির মতো। তুয়া বরাবর অঙ্কতে খুব কাঁচা। সিলি মিসটেকের বন্যা বইয়ে দিত। এই বৃন্দদির বকুনি আর চেষ্টার জেরে সেই তুয়াই মাধ্যমিকে অঙ্কে ৮৫ পেয়েছিল। শ্রী ম্যামকে তুয়া ভারী শ্রদ্ধা করে। শুরুর দিকে রাগী এই ম্যামকে আড়ালে হিটলার নাম দিলেও এখন ম্যাম অন্ত প্রাণ না হলেও, ইন্টার্নশিপ শেষ হয়ে গেলে ভালোই মিস করবে। তুয়ার এই অফিসটা এমনিতে বেশ ভালোই লেগেছে। মোটামুটি এই শেষের কটাদিন বাদ দিলে, আনন্দেই কেটেছে। আর তাই ও ঠিক করেই রেখেছিল। সেকেন্ড ইয়ারেও এখানেই ইন্টার্নশিপ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কথাটা কারুর কাছে বলতে পারেনি ও। আজ ভেবেছে একবার ম্যামকেই বলে রাখবে। আজ অন্তত সারাদিনে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি। তুয়ার কাজের প্রেশার কমের দিকেই ছিল। দুটো ইন্টারভিউ রেকর্ডিং শুনে টাইপ করতে হলো। দুজনেই টলিউডের তারকা। একজন আবার ওর প্রিয় অভিনেত্রী। তাই বিশেষ উৎসাহ নিয়েই কাজটা শেষ করেছে তুয়া। ভাবলো ম্যামকে মেল করে দিয়ে একবার দেখা করেই আসবে। বলবে যে কাজটা হয়ে গেছে। আর সেই সময় যদি দেখে ম্যামের মুড ভালো, তাহলে বলবে পরের বছরের কথা।
ম্যামের অফিসে এলো তুয়া। একটু গম্ভীর যেন আজ। কিছু একটা দেখছিলেন কম্পিউটারে। তুয়াকে দেখে বসতে বললেন। "বলো। তোমার মেলটাই দেখছিলাম। ভালোই কাজ শিখেছো এর মধ্যে। গুড। ইউ আর আ প্রমিসিং ইন্টার্ন।" তুয়া তো গদগদ। আড়াই মাসে এই প্রথম এরকম প্রশংসা। মনে মনে এক রাউন্ড নেচে নিলেও বাইরে একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করে ও থ্যাংক ইউ জানালো। বলবে কি বলবে না করছে, এমন সময়ে শ্রী বললেন, "আর কিছু বলবে?" ও এবার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই ফেললো। বললো, "ম্যাম, আমার এখানে এই আড়াই মাস কাজ করে খুব ভালো লেগেছে। অনেকটা শিখেছি। আমি তাই ভাবছিলাম, আগামী বছরও এখানেই আসবো।" শ্রীময়ী মাথা নেড়ে বললেন, "তা ভালো তো। শোভনের সাথে যোগাযোগ রেখো। ওই তো মনে হয় হেড হবে এখানকার।" তুয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "কেন ম্যাম, আপনি?"
শ্রীময়ী নির্বিকার মুখ করে উত্তর দিলো, "ও। তোমায় জানানো হয়নি। আমি ডিজাইন করেছি। আর দুই সপ্তাহ আমার এখানে মেয়াদ। সেদিনের পর থেকে আমার এখানে ঠিক পোষাচ্ছেনা। এই পরিবেশে আমি অন্তত ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারি না। হাওড়া স্টেশনে বসেও আমায় বলো, আমি ফিচার লিখে দেব। বাট নট হিয়ার। দের ইজ নো পিস। আই ক্যানট ওয়ার্ক লাইক দিস।"
তুয়া স্তম্ভিত। এ কী শুনলো? আড়াই মাসের ইন্টার্নশিপে এইটুকু বুঝেছিল যে শ্রীময়ীর অফিস অন্ত প্রাণ। আর এই ম্যাগাজিন হাউজের জন্য শ্রীময়ী কতটা ইম্পরট্যান্ট। এবার তাহলে এই হাউজের কী হবে? আর ম্যাম? তিনিই বা কোথায় যাবেন? তুয়াই বা কী করবে? শ্রীময়ীর কাছে কাজ না করতে পারলে কি ও এতটাই শিখবে? এনজয় করবে? তাহলে কি পরের বছর অন্যত্র কাজ খুঁজবে? খুব মুশকিল। খুব খুব কঠিন প্রশ্ন। মুহূর্তেই তুয়ার হাসি খুশি মনটা ভারী হয়ে যায়। কী বিচিত্র এই জীবন।
ইন্টার্নশিপের আর এক সপ্তাহ মতো বাকি। তুয়া জানে, এই এক সপ্তাহ ওর দিব্যি কেটে যাবে। টুকটাক যা কাজ রয়েছে, পেন্ডিং, তাও মিটিয়ে ফেলবে। শ্রীময়ীর কড়া স্বভাবের জন্য আজ অবধি কোনো কাজই ফেলে রাখার জো পায়নি তুয়া। একদিকে ভালো। আর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশিই কাজ ও করেছে এই দুই মাসে। শিখেছে অনেকটাই। শ্রী ম্যামের বকুনি ও শাসনের মধ্যেও কেমন একটা প্রচ্ছন্ন স্নেহ অনুভব করতো তুয়া। ঠিক হাই স্কুলের বৃন্দাদির মতো। তুয়া বরাবর অঙ্কতে খুব কাঁচা। সিলি মিসটেকের বন্যা বইয়ে দিত। এই বৃন্দদির বকুনি আর চেষ্টার জেরে সেই তুয়াই মাধ্যমিকে অঙ্কে ৮৫ পেয়েছিল। শ্রী ম্যামকে তুয়া ভারী শ্রদ্ধা করে। শুরুর দিকে রাগী এই ম্যামকে আড়ালে হিটলার নাম দিলেও এখন ম্যাম অন্ত প্রাণ না হলেও, ইন্টার্নশিপ শেষ হয়ে গেলে ভালোই মিস করবে। তুয়ার এই অফিসটা এমনিতে বেশ ভালোই লেগেছে। মোটামুটি এই শেষের কটাদিন বাদ দিলে, আনন্দেই কেটেছে। আর তাই ও ঠিক করেই রেখেছিল। সেকেন্ড ইয়ারেও এখানেই ইন্টার্নশিপ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কথাটা কারুর কাছে বলতে পারেনি ও। আজ ভেবেছে একবার ম্যামকেই বলে রাখবে। আজ অন্তত সারাদিনে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি। তুয়ার কাজের প্রেশার কমের দিকেই ছিল। দুটো ইন্টারভিউ রেকর্ডিং শুনে টাইপ করতে হলো। দুজনেই টলিউডের তারকা। একজন আবার ওর প্রিয় অভিনেত্রী। তাই বিশেষ উৎসাহ নিয়েই কাজটা শেষ করেছে তুয়া। ভাবলো ম্যামকে মেল করে দিয়ে একবার দেখা করেই আসবে। বলবে যে কাজটা হয়ে গেছে। আর সেই সময় যদি দেখে ম্যামের মুড ভালো, তাহলে বলবে পরের বছরের কথা।
ম্যামের অফিসে এলো তুয়া। একটু গম্ভীর যেন আজ। কিছু একটা দেখছিলেন কম্পিউটারে। তুয়াকে দেখে বসতে বললেন। "বলো। তোমার মেলটাই দেখছিলাম। ভালোই কাজ শিখেছো এর মধ্যে। গুড। ইউ আর আ প্রমিসিং ইন্টার্ন।" তুয়া তো গদগদ। আড়াই মাসে এই প্রথম এরকম প্রশংসা। মনে মনে এক রাউন্ড নেচে নিলেও বাইরে একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করে ও থ্যাংক ইউ জানালো। বলবে কি বলবে না করছে, এমন সময়ে শ্রী বললেন, "আর কিছু বলবে?" ও এবার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই ফেললো। বললো, "ম্যাম, আমার এখানে এই আড়াই মাস কাজ করে খুব ভালো লেগেছে। অনেকটা শিখেছি। আমি তাই ভাবছিলাম, আগামী বছরও এখানেই আসবো।" শ্রীময়ী মাথা নেড়ে বললেন, "তা ভালো তো। শোভনের সাথে যোগাযোগ রেখো। ওই তো মনে হয় হেড হবে এখানকার।" তুয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "কেন ম্যাম, আপনি?"
শ্রীময়ী নির্বিকার মুখ করে উত্তর দিলো, "ও। তোমায় জানানো হয়নি। আমি ডিজাইন করেছি। আর দুই সপ্তাহ আমার এখানে মেয়াদ। সেদিনের পর থেকে আমার এখানে ঠিক পোষাচ্ছেনা। এই পরিবেশে আমি অন্তত ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারি না। হাওড়া স্টেশনে বসেও আমায় বলো, আমি ফিচার লিখে দেব। বাট নট হিয়ার। দের ইজ নো পিস। আই ক্যানট ওয়ার্ক লাইক দিস।"
তুয়া স্তম্ভিত। এ কী শুনলো? আড়াই মাসের ইন্টার্নশিপে এইটুকু বুঝেছিল যে শ্রীময়ীর অফিস অন্ত প্রাণ। আর এই ম্যাগাজিন হাউজের জন্য শ্রীময়ী কতটা ইম্পরট্যান্ট। এবার তাহলে এই হাউজের কী হবে? আর ম্যাম? তিনিই বা কোথায় যাবেন? তুয়াই বা কী করবে? শ্রীময়ীর কাছে কাজ না করতে পারলে কি ও এতটাই শিখবে? এনজয় করবে? তাহলে কি পরের বছর অন্যত্র কাজ খুঁজবে? খুব মুশকিল। খুব খুব কঠিন প্রশ্ন। মুহূর্তেই তুয়ার হাসি খুশি মনটা ভারী হয়ে যায়। কী বিচিত্র এই জীবন।
Wednesday, June 12, 2019
তুয়ার হিজিবিজি ৭
ঠিক নিয়মমাফিক দুটো নাগাদ মায়ের ফোন এলো। তুয়া কাজে হাবুডুবু খাচ্ছে। একবার ফোনটা বেজে বেজে থেমে গেলো। ও রিসিভ করলো না। আর একবার বাজলো। এবারও ধরলো না। পাশ থেকে দীপান্বিতা বললো, "কীরে, ধর? কাকিমা তো?" তুয়া মাথা নাড়লো। "এখন নিশ্বাস ফেলার সময় নেই। মা খালি খাওয়া নিয়ে বলবে।" দীপু কিছু বললো না। একটু কাঁধ ঝাঁকিয়ে নিজের ডেস্কে ফিরলো। তুয়া কাজে মন দিলো। মায়ের ফোন আর আসেনি। এটা ওর খুব কমন ব্যাপার। মা পরে বিকেলে আবার ফোন করবে। তখন তুয়া খায়নি শুনে বকুনি দেবে। কিন্তু ওর কিছু করার নেই। শ্রী ম্যাম এত কাজ চাপিয়ে দিয়েছে। সকালে যেই গেল, অমনি ম্যাম এক বান্ডিল ফাইল ওকে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, " শোনো, এতে সমস্ত পাঠকদের পাঠানো চিঠি আছে। দেখো এখান থেকে ঝাড়াই বাছাই করে গোটা পনেরো বের করো। বর্তমানের সাথে যা রেলভেন্ট। সেগুলো আগামী সংখ্যায় ছাপা হবে। " তুয়া একটু অবাক। সাধারণত এইসব কাজ শ্রী ম্যাম নিজেই করেন। বলেন, পাঠকের চিঠির কোয়ালিটি নাকি অনেকটাই ম্যাগাজিনের কোয়ালিটির মাপকাঠি। কাজেই ঠিকমতো বেছে চিঠি ছাপা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বহু মান্ডে মিটিংয়ে এই কথা ও শুনেছে। ইন্টার্নশিপের দু মাসের মধ্যেই এমন গুরু দায়িত্ব। খুশি তো হয়েছে। তবে সাথে একটু বুক দুরদুরও করছে। বিকেলের মধ্যে রেডি করে দিতে হবে। ওর বাছা পনেরো থেকে ম্যাম পাঁচে নামাবেন। তুয়াকে rank দিতে হবে চিঠিগুলো। ম্যাম বলেছেন, যদি দুজনের চয়েস মোটামুটি মিলে যায়, তাহলে কফি ট্রিট। যদিও কফি খাওয়ার জন্য তুয়া লালায়িত না, তাও, শ্রীময়ীকে ও খুব ভক্তি শ্রদ্ধা করে। তাই ম্যামের গুড বুকসে থাকতে সদা ইচ্ছুক।
সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ম্যামকে লিস্ট দিয়ে একটু করিডোরে দাঁড়িয়ে তুয়া মায়ের সাথে কথা বললো। খেয়াল করেনি, পাশ দিয়ে একবার শ্রী ম্যাম গেলেন। কে জানে, ওর কথা শুনলেন কি না। সাতটায় একবার ডাক পড়লো ম্যামের ঘরে। বেশ প্রশংসা করলেন তুয়ার কাজের। আড়াই মাসের ইন্টার্নশিপের পক্ষে খুবই নাকি স্যাটিসফ্যাক্টরী পারফরমেন্স। আর ফাইনাল ভারডিক্ট? ম্যামের পাঁচের সাথে তুয়ার তিনটে মিলে গেছে। তুয়া বেরোতে যাচ্ছে ঘর থেকে, ম্যাম বললেন, " সারাদিন তো কিছুই খাওনি? চলো, ক্যাফেটেরিয়া। কিছু খেয়ে নেবে। আমারও কফি তেষ্টা পাচ্ছে।" তুয়া অবাক হয়ে তাকালো। শ্রী বললেন, "ভাবছো কী করে জানলাম? আরে, তখন ফোনে কথা বলছিলে, শুনেছি। আর শোনো, মায়ের ওপর ওই বকাবকি করো না। মা তো ঠিকই বলেন। কাজ থাকবেই। তা বলে শরীরের যত্ন নেবে না? উঁহু। কর্পোরেট লাইফে টিকতে গেলে মন ও শরীর দুইই শক্ত পোক্ত করতে হবে তো। ব্যালেন্স রেখে চলবে। অলওয়েজ। বুঝেছো?"
তুয়া একটু হেসে মাথা নাড়ে। শ্রী ম্যামের থেকে ও আজ পেলো একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ লাইফ লেসন। ওকে সব সময় মেনে চলতেই হবে। এই রেসে সারভাইভ করতে হবে তো!
তুয়ার হিজিবিজি ৮
দিনটা মোটেই ভালো যাচ্ছেনা তুয়ার। অফিসে আসা ইস্তক ঝুট ঝামেলা। বম্বের কোন ক্লায়েন্ট অফিস থেকে বুঝি কেউ আসছেন মিটিংয়ে। তিনি বেশ হোমরা চোমরা কেউকেটা বোধহয়। ব্যস। সুকুমার স্যার সকাল থেকে হন্তদন্ত হয়ে এদিক সেদিক করে বেড়াচ্ছেন। এর ডেস্ক নোংরা, ওর ডেস্কে পাইল্ড আপ ওয়ার্ক, তমুকের ফাইল ক্যাবিনেট ধুলো এসব চলছিলোই। হাউজকিপিংকে ডেকে সমস্ত পরিষ্কার করানো হচ্ছে। সবের দায়িত্ব পড়েছে সৌরভদার ওপর। সৌরভদা আবার বিশ্ব কুঁড়ে। এবং বীভৎস রকমের শেয়ানা পাব্লিক। ঠিক নিজের কাজ এবং ভুল ত্রুটি অন্যের ঘাড়ে চাপাতে ওস্তাদ। কী কুক্ষণে যে তুয়া তখন ওখানে ছিল। অমনি নজরে পড়েছে সৌরভদার। আর কাজে লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি নিজে দিব্যি ক্যাফেটেরিয়ার কফির পর কফি শেষ করে যাচ্ছেন। আর এদিকে ওর আর দীপান্বিতার ওপর চলছে এই জুলুম। মাঝে মাঝে এসে আবার দেখে যাচ্ছে, ঠিকঠাক চলছে তো সব? সবে সবদিক সামলে ওরা একটু নিজেদের "সীটে" এসে বসেছে, অমনি পিওন লক্ষ্মণদা এসে বলে গেল, "দিদিমণিরা, শ্রীময়ী ম্যাডাম ডাকছেন তোমাদের। যাও দেখো আবার কী হলো। বেশ রেগে আছে কিন্তু। সাবধানে যেও। এই এতক্ষণ মনোজদা খুব বকা খাচ্ছিল।" তুয়া ভীতু বরাবরের। এইটুকু শুনেই নার্ভাস। দীপান্বিতা বরং অনেক মাথা ঠাণ্ডা। অ ওকে "কুল" থাকতে উপদেশ দিলো। দুজনে ছুটলো শ্রীময়ীর ঘরে।
ঢুকতেই বকার বন্যা শুরু। ব্যাপারটা কিছুই না। শ্রীময়ী ওদের দুজনকে সকাল এগারোটায় একটা কাজ দিয়ে মেইল করেছেন। সেটার ওইর প্রগ্রেস রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল একটায়। এখন একটা পনেরো। কেন ওরা কাজ সম্পর্কে জানায়নি। তুয়া একটু আমতা আমতা করে বলল সৌরভদার নির্দেশে ওরা কাজ করছিল। ব্যস। সঙ্গে সঙ্গে শ্রীময়ী ম্যাম রেগে লাল। সৌরভদাকে নিজের কেবিনে ডেকে এক প্রস্থ চিৎকার চেঁচামিচি। কেন শ্রীময়ী আর শোভনের ইন্টার্নদের দিয়ে কাজ করাবে। সৌরভদাও অনড়। ডিপার্টমেন্টের ইন্টার্ন। যে কেউ কাজ দিতে পারে। এই নিয়ে শেষ মেশ এমন ফাটাফাটি চিৎকার হচ্ছিল, শোভন স্যার এসে তখন মধ্যস্থতা না করলে যে কী হত, তুয়া ভাবতে পারেনা। ঘন্টাখানেকের এই ঝগড়াঝাঁটির পর যা ঠিক হল, যেহেতু তুয়া শ্রীময়ীর কাছে রিপোর্ট করে, সেহেতু ওকে দিয়ে কোন কাজ করাতে গেলে আগে শ্রীর অনুমতি নিতে হবে। শোভনের এমন কোন দাবী নেই। তাই দীপান্বিতাকে যে কেউ কাজ দিতে পারবে। দীপান্বিতা একটু কাঁচুমাচু মুখ করে এবড়োতে যাচ্ছিলো, শ্রী ওকেও তুয়ার সাথে থেকে যেতে বললেন। "শোনো, কাজটা যেটা দেওয়া আছে, সেটা করে আমায় সাড়ে তিনটের মধ্যে পাঠাও। অনেক টাইম ওয়েস্ট হয়েছে। আর পারা যাচ্ছে না। নাউ গো, গেট গোয়িং।" ঘড়ি দেখল তুয়া। সয়া দুটো বেজে গেছে। মানে আজও লাঞ্চ গেলো। শুকনো মুখে একবার শ্রীময়ীর দিকে তাকিয়ে বললও, "ঠিক আছে ম্যাম। ঝটপট লাঞ্চ করে আমরা করে দিচ্ছি কাজটা।" শ্রীময়ী একবার তাকালেন ওদের দিকে। তারপর ঠাণ্ডা গলায় বললেন, "এটা অফিস। এখানে ইন্টার্নশিপ করতে এসেছও। পিকনিক নয়। যে কাজটা দেওয়া রয়েছে, ফিনিশ ইট ফার্স্ট অ্যান্ড দেন ডু ওয়াটেভার ইয়ু ওয়ান্ট। বি প্রফেশনাল।"
তুয়া স্তম্ভিত। এই শ্রীময়ী ম্যামই দুদিন আগে ওকে ক্যাফেটেরিয়াতে নিয়ে গিয়ে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স নিয়ে কত কথা বললেন। সময়মতো খাওয়াদাওয়া নিয়ে বললেন। আর আজই এই উল্টো বচন? মাথা নিচু করে বেরিয়ে এলো ও। পাশে দীপান্বিতা। ডেস্কে ফিরে দীপু ওকে বললও, "চল ক্যাফেটেরিয়া। খেয়ে আসি। তারপর কাজটা নিয়ে বসবো।" তুয়া অবাক হয়ে বলল," শুনলই না ম্যামের কথা? এরপর ক্যাফেটেরিয়াতে দেখলে সর্বনাশ।" দীপু অভয় দিয়ে বলল, "ল্যাপটপ আর রাইটিং প্যাড নিয়ে চল। স্যান্ডুইচ খেতে খেতে কাজ করব। ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স। বুঝলি? সব সময় অত লিটারালি সব কথা নিতে হয় না। আর হ্যাঁ, বসকে সব কথা বলবি না। বিশেষ করে উইকনেসগুলো নিজের। বস ইস ইয়োর বস, নট অ্যা ফ্রেন্ড। মাথায় রাখবি।
সত্যিই, এই কর্পোরেট জীবন যে কতই বিচিত্র, তুয়া অবাক হয়ে ভাবে। সব কথা ফেস ভ্যালুতে নেওয়াও মুশকিল।
ঢুকতেই বকার বন্যা শুরু। ব্যাপারটা কিছুই না। শ্রীময়ী ওদের দুজনকে সকাল এগারোটায় একটা কাজ দিয়ে মেইল করেছেন। সেটার ওইর প্রগ্রেস রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল একটায়। এখন একটা পনেরো। কেন ওরা কাজ সম্পর্কে জানায়নি। তুয়া একটু আমতা আমতা করে বলল সৌরভদার নির্দেশে ওরা কাজ করছিল। ব্যস। সঙ্গে সঙ্গে শ্রীময়ী ম্যাম রেগে লাল। সৌরভদাকে নিজের কেবিনে ডেকে এক প্রস্থ চিৎকার চেঁচামিচি। কেন শ্রীময়ী আর শোভনের ইন্টার্নদের দিয়ে কাজ করাবে। সৌরভদাও অনড়। ডিপার্টমেন্টের ইন্টার্ন। যে কেউ কাজ দিতে পারে। এই নিয়ে শেষ মেশ এমন ফাটাফাটি চিৎকার হচ্ছিল, শোভন স্যার এসে তখন মধ্যস্থতা না করলে যে কী হত, তুয়া ভাবতে পারেনা। ঘন্টাখানেকের এই ঝগড়াঝাঁটির পর যা ঠিক হল, যেহেতু তুয়া শ্রীময়ীর কাছে রিপোর্ট করে, সেহেতু ওকে দিয়ে কোন কাজ করাতে গেলে আগে শ্রীর অনুমতি নিতে হবে। শোভনের এমন কোন দাবী নেই। তাই দীপান্বিতাকে যে কেউ কাজ দিতে পারবে। দীপান্বিতা একটু কাঁচুমাচু মুখ করে এবড়োতে যাচ্ছিলো, শ্রী ওকেও তুয়ার সাথে থেকে যেতে বললেন। "শোনো, কাজটা যেটা দেওয়া আছে, সেটা করে আমায় সাড়ে তিনটের মধ্যে পাঠাও। অনেক টাইম ওয়েস্ট হয়েছে। আর পারা যাচ্ছে না। নাউ গো, গেট গোয়িং।" ঘড়ি দেখল তুয়া। সয়া দুটো বেজে গেছে। মানে আজও লাঞ্চ গেলো। শুকনো মুখে একবার শ্রীময়ীর দিকে তাকিয়ে বললও, "ঠিক আছে ম্যাম। ঝটপট লাঞ্চ করে আমরা করে দিচ্ছি কাজটা।" শ্রীময়ী একবার তাকালেন ওদের দিকে। তারপর ঠাণ্ডা গলায় বললেন, "এটা অফিস। এখানে ইন্টার্নশিপ করতে এসেছও। পিকনিক নয়। যে কাজটা দেওয়া রয়েছে, ফিনিশ ইট ফার্স্ট অ্যান্ড দেন ডু ওয়াটেভার ইয়ু ওয়ান্ট। বি প্রফেশনাল।"
তুয়া স্তম্ভিত। এই শ্রীময়ী ম্যামই দুদিন আগে ওকে ক্যাফেটেরিয়াতে নিয়ে গিয়ে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স নিয়ে কত কথা বললেন। সময়মতো খাওয়াদাওয়া নিয়ে বললেন। আর আজই এই উল্টো বচন? মাথা নিচু করে বেরিয়ে এলো ও। পাশে দীপান্বিতা। ডেস্কে ফিরে দীপু ওকে বললও, "চল ক্যাফেটেরিয়া। খেয়ে আসি। তারপর কাজটা নিয়ে বসবো।" তুয়া অবাক হয়ে বলল," শুনলই না ম্যামের কথা? এরপর ক্যাফেটেরিয়াতে দেখলে সর্বনাশ।" দীপু অভয় দিয়ে বলল, "ল্যাপটপ আর রাইটিং প্যাড নিয়ে চল। স্যান্ডুইচ খেতে খেতে কাজ করব। ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স। বুঝলি? সব সময় অত লিটারালি সব কথা নিতে হয় না। আর হ্যাঁ, বসকে সব কথা বলবি না। বিশেষ করে উইকনেসগুলো নিজের। বস ইস ইয়োর বস, নট অ্যা ফ্রেন্ড। মাথায় রাখবি।
সত্যিই, এই কর্পোরেট জীবন যে কতই বিচিত্র, তুয়া অবাক হয়ে ভাবে। সব কথা ফেস ভ্যালুতে নেওয়াও মুশকিল।
Monday, June 10, 2019
তুয়ার হিজিবিজি ৬
আজ তুয়ার অফিস ঢুকতে একটু দেরিই হয়েছে রোজের তুলনায়। সোমবারের সকাল তো, রাস্তাঘাটে বাড়তি যানজট ছিল। অন্যান্য দিন সোয়া নটার মধ্যে ঢুকে গেলেও আজ পৌনে দশটা বেজেছে। এবং কপাল খারাপ হলে যা হয়, পড়বি তো পড়, লিফ্টে মুখোমুখি শ্রীময়ী ম্যামের। ম্যাম আজকে অন্যান্যদিনের তুলনায় আগেই এসেছেন। তুয়াকে দেখে এক রাশ বিরোক্তিসহ বললেন, "এত লেট?" তুয়া কিছু বলতে যাচ্ছিল, উনি হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে বললেন, "মিট মি ইন মাই অফিস ইন টেন মিনিটস।" আর ঠিক তখনই লিফ্ট ওদের বারোতলায় এসে থামল। তুয়ার হ্যাঁ না শোনার আগেই শ্রীময়ী গটগট করে বেরিয়ে গেলেন। তুয়া দু সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর ফোনটা ব্যাগ থেকে বের করে মাকে পৌঁছ সংবাদ জানিয়ে অফিসে ঢুকলো। তুয়া সহ অন্যান্য ইন্টার্নদের কোনো নির্দিষ্ট বসার জায়গা নেই। ওয়ার্কিং ডেস্ক নেই। ও আর দীপান্বিতা নামের আরেকটি ইন্টার্ন, সিঁড়ির নীচে একটা ছোট্ট কর্নারে প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল জোগাড় করে ওখানেই বসে। প্যান্টরির মনিরুলদাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তুয়া দেখলো, দীপান্বিতা এখনো এসে পৌঁছয়নি। অবশ্য ওর বস, শোভন স্যার নিজেই আসেন লাঞ্চের পরে। আর এমনিতে বেশ হাসিখুশি দিলদরিয়া মানুষ। বকাঝকা করেন না। কাজ দিয়ে ডেডলাইন দেন। তার মধ্যে করে ফেললেই হলো। মাঝে মধ্যে চোদ্দবার এসে প্রোগ্রেস জানতে চান না। দীপান্বিতা অনেক স্বস্তিতে কাজ করতে পারে তাই। তুয়ার এই সুবিধে নেই। শ্রীময়ী ম্যাম ডেডলাইনগুলো দেন খুবই কম সময়ের। প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়। তারই মধ্যে প্রায় ঘন্টায় ঘন্টায় প্রোগ্রেস দেখাতে হয়। বিরক্ত লাগে। তবে কাজের দিক থেকে ওর নিজের এসাইনমেন্টগুলো দীপান্বিতার চেয়ে ঢের বেশি ইন্টারেস্টিং লাগে। এই যেমন গত সপ্তাহে ওকে বাংলার হারিয়ে যাওয়া কিছু লোকসংস্কৃতির ওপর রিসার্চ করতে হয়েছিল। বেশ ভালো লেগেছিল তুয়ার। অনেক অনেক অজানা তথ্য জেনেছিল। ম্যাম ওকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বসে সাহায্য করেছেন। ম্যাগাজিনের কোনো এক সংখ্যায় এই বিষয়ে আর্টিকল লেখা হবে। ৫০০০ শব্দের লেখার জন্য দুজনের এক সপ্তাহব্যাপী রিসার্চ। সত্যিই, কতটা এফর্ট যায় একটা লেখার পিছনে, ভাবতেও অবাক লাগে। অথচ তুয়া যখন এইসব ম্যাগাজিন নিজে পড়তো, কখনো এত তলিয়ে ভাবেনি। সব সময় মনে হতো, এ বুঝি লেখক বা লেখিকার সহজাত জ্ঞান। এই ম্যাগাজিন হাউজে কাজ করতে এসে তুয়া অনেক কিছু শিখছে। জানছে। শ্রীময়ী ম্যাম কড়া ধাঁচের হলেও, ওঁর কাছে কাজ করলে অনেক জানা যায়, শেখা যায়। তুয়া জানে, এতে আখেরে ওরই কেরিয়ারে উন্নতিতে কাজে লাগবে। তাই মুখ বুজে বকুনি হজম করে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তুয়া দেখলো, আট মিনিট হয়েছে। তাড়াতাড়ি এক ঢোক জল খেয়ে হাতে রাইটিং প্যাড আর কলম নিয়ে ছুটলো ও শ্রীময়ীর কেবিনের দিকে। ম্যাম খুব সময়ের ব্যাপারে কড়া। একটু দুরুদুরু বুকে তুয়া নক করলো দরজায়। কে জানে, কী নতুন কাজ আসে। এ সপ্তাহটা কেমন যায়, দেখাই যাক।
নতুন সপ্তাহ। নতুন কাজ। নতুন করে জীবনযুদ্ধ।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তুয়া দেখলো, আট মিনিট হয়েছে। তাড়াতাড়ি এক ঢোক জল খেয়ে হাতে রাইটিং প্যাড আর কলম নিয়ে ছুটলো ও শ্রীময়ীর কেবিনের দিকে। ম্যাম খুব সময়ের ব্যাপারে কড়া। একটু দুরুদুরু বুকে তুয়া নক করলো দরজায়। কে জানে, কী নতুন কাজ আসে। এ সপ্তাহটা কেমন যায়, দেখাই যাক।
নতুন সপ্তাহ। নতুন কাজ। নতুন করে জীবনযুদ্ধ।
Sunday, June 9, 2019
তুয়ার হিজিবিজি ৫
রবিবার। বাকি লোকজনের জন্য এই দিনটা খুব আনন্দের হলেও তুয়ার কাছে এটা সবচেয়ে খাটাখাটুনির দিন। সারা সপ্তাহের বাজার করা চারটিখানি কথা না। তার ওপর জামা কাপড় কাচাকাচি এসব তো আছেই। তবে একটা কাজ যেটা খুব পছন্দ করে তুয়া সেটা হলো ওর টুকরো বারান্দাটাতে গাছপালার পরিচর্যা। প্রতিদিন সকালে গাছে নিয়মিত জল দিলেও, যত্ন আত্তি হয় এই একটা দিন। ছোট্ট এক ফালি বারান্দা। তাতেই টবে টবে ভরিয়ে দিয়েছে তুয়া। রঙ বেরঙে বাহারি সমস্ত টব। কোনো কোনটা আবার ঝুলছে গ্রিল থেকে। মানি প্লান্ট, চাইনিজ টগর, তুলসী, এলো ভেরা, মর্নিং গ্লোরি, নয়নতারা, দোপাটি - এসব আছেই। তার সাথে আবার লঙ্কা গাছ। নিয়মিত লঙ্কা হয়। তুয়া জেঠিমাদের দেয়। নিজে খায়। এবার ভেবেছে বর্ষায় একটা লেবু গাছের চেষ্টা করবে। সারাদিনের ব্যস্ততার শেষে বা সক্কাল সক্কাল, যে কোনো সময় এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বড্ড ভালো লাগে।
সারা সপ্তাহে মোটামুটি কী কী রান্না বান্না করাবে, তার একটা মোটামুটি ধারণা করে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরোয় তুয়া। সমবয়সীরা সুপার মার্কেট শপিং মল থেকে বাজার করলেও তুয়া এখনো সাধারণ পাড়ার বাজার থেকে কেনাকাটা করতেই ভালোবাসে। হাঁটু গেড়ে বসে সবজি চিনে চিনে বাছাই করে কেনা, কানকো টিপে মাছ কেনা এসবে আলাদা মজা। ছোটবেলা থেকেই রবিবার রবিবার বাবার হাত ধরে পাড়ার বাজার থেকে কেনাকাটা করতে যেত তুয়া। সেই অভ্যেসটা এখনো রয়ে গেছে। আর মোটামুটি এই বাজারের যারা ক্রেতা, তাদের তুলনায় তুয়াই সর্ব কনিষ্ঠ। তাই বাজার কাকুরা সবাই ওকে খুব খাতির যত্ন করে। মোটামুটি ভালো শাক, সবজি সব ওর জন্য আলাদা প্যাক করা থাকে। ফল কিনতে অবশ্য তুয়া ভালোবাসে না। এই সুন্দর ফলের মরসুম। বাজার ছেয়ে গেছে আম জাম জামরুল লিচুতে। কিন্তু তুয়ার সেসবে ঠিক ঝোঁক নেই। তাও মাঝে মাঝে কিনে ফেলে।
বাজার করে ফিরতে গিয়ে বাড়ির সামনেই দেখা হয়ে গেল ভুলুর সাথে। ধবধবে সাদা গায়ের রঙ। মধ্যে মধ্যে খয়েরি ছোপ। তুয়াকে দেখলেই খালি ল্যাজ নাড়তে থাকে। তুয়ার সাথে এত ভাবের কারণ আছে অবশ্য। দেখলেই বিস্কুট, রুটি কিছু না কিছু খাওয়াবেই খাওয়াবে। বিস্কুট দিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে তুয়া বলে, " হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু। আজ রবিবার স্পেশাল চিকেন কারি ভাত দেবো। দেড়টা নাগাদ চলে আসবি। ঠিক আছে সোনা?" ভুলুকে দেখলেই পাড়ার কালু লালুদের কথা মনে হয়। ওদের যে ভালোবাসতো, সেই ভালোবাসার পাত্র এখন ভুলু।
আস্তে আস্তে তুয়া গেট খুলে বাড়ি ঢোকে। কলকাতার রবিবারগুলো আসানসোলের মতো পুরো এক না হলেও, এই সব ছোট ছোট ব্যাপারে সেই সাবেকিয়ানা বজায় রেখেছে। এইটুকুই প্রাপ্তি।
সারা সপ্তাহে মোটামুটি কী কী রান্না বান্না করাবে, তার একটা মোটামুটি ধারণা করে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরোয় তুয়া। সমবয়সীরা সুপার মার্কেট শপিং মল থেকে বাজার করলেও তুয়া এখনো সাধারণ পাড়ার বাজার থেকে কেনাকাটা করতেই ভালোবাসে। হাঁটু গেড়ে বসে সবজি চিনে চিনে বাছাই করে কেনা, কানকো টিপে মাছ কেনা এসবে আলাদা মজা। ছোটবেলা থেকেই রবিবার রবিবার বাবার হাত ধরে পাড়ার বাজার থেকে কেনাকাটা করতে যেত তুয়া। সেই অভ্যেসটা এখনো রয়ে গেছে। আর মোটামুটি এই বাজারের যারা ক্রেতা, তাদের তুলনায় তুয়াই সর্ব কনিষ্ঠ। তাই বাজার কাকুরা সবাই ওকে খুব খাতির যত্ন করে। মোটামুটি ভালো শাক, সবজি সব ওর জন্য আলাদা প্যাক করা থাকে। ফল কিনতে অবশ্য তুয়া ভালোবাসে না। এই সুন্দর ফলের মরসুম। বাজার ছেয়ে গেছে আম জাম জামরুল লিচুতে। কিন্তু তুয়ার সেসবে ঠিক ঝোঁক নেই। তাও মাঝে মাঝে কিনে ফেলে।
বাজার করে ফিরতে গিয়ে বাড়ির সামনেই দেখা হয়ে গেল ভুলুর সাথে। ধবধবে সাদা গায়ের রঙ। মধ্যে মধ্যে খয়েরি ছোপ। তুয়াকে দেখলেই খালি ল্যাজ নাড়তে থাকে। তুয়ার সাথে এত ভাবের কারণ আছে অবশ্য। দেখলেই বিস্কুট, রুটি কিছু না কিছু খাওয়াবেই খাওয়াবে। বিস্কুট দিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে তুয়া বলে, " হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু। আজ রবিবার স্পেশাল চিকেন কারি ভাত দেবো। দেড়টা নাগাদ চলে আসবি। ঠিক আছে সোনা?" ভুলুকে দেখলেই পাড়ার কালু লালুদের কথা মনে হয়। ওদের যে ভালোবাসতো, সেই ভালোবাসার পাত্র এখন ভুলু।
আস্তে আস্তে তুয়া গেট খুলে বাড়ি ঢোকে। কলকাতার রবিবারগুলো আসানসোলের মতো পুরো এক না হলেও, এই সব ছোট ছোট ব্যাপারে সেই সাবেকিয়ানা বজায় রেখেছে। এইটুকুই প্রাপ্তি।
Subscribe to:
Posts (Atom)